কেন জার্মান ভাষা!!

 

বিদেশে পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্য আসলে কি?

আসলে আমাদের নিজের কাছেই আমাদের কোন প্রশ্ন না থাকলেও উত্তর কিন্তু আমাদের কাছেই। সকল আশার শুরু আমাদের কাছে শুধুই অর্থ উপার্জন। প্রকৃত উদ্দেশ্য আমাদের সবারই একটা ভাল বেতনের চাকুরী। কিন্তু আদও কি আমারা যেই অবস্থান আশা করি আমরা তার যোগ্য? নতুন নিয়ম করেছে এমব্যাসি, সবার কাছেই তা অত্যন্ত কঠিন এবং এক কথায় অমূলক।

নিয়ম যত কঠিনই হোক, তারা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ছাত্র না নেওয়ার উদ্দেশে এমনটি করে নি! তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট, আসুক আরও ছাত্র কিন্তু যোগ্য ছাত্রটি। এখানে জার্মানিতে যোগ্যতা বলতে পুঁথি গত বিদ্যাকে অথবা রঙ বেরঙ্গের সনদকে বুঝায় না। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, বাংলাদেশ থেকে আ১ করে আশার পরেও কিন্তু আমাকে এখানে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে আ২ তে ভর্তি হতে হচ্ছে। আমার সম্পূর্ণ কোর্স ইংরেজিতে এবং আমি মাস্টার্স এর ছাত্র। হ্যাঁ! তবুও আমাকে জার্মান ভাষা জানতে হবে। এর কারণটা খুবই শক্ত, আর প্রয়োজনটাও আমারই। কারণটা আমার কাছে যেমনই হোক আপনাদের কাছে একটু আপনাদের মন মতই উপস্থাপন করি?

কারণ-১!

ধরুন আপনি দারুণ ছাত্র। SSC, HSC, B.Sc তথা বাংলাদেশের কোন পরীক্ষায় আপনি কখনও দ্বিতীয় হননি! তাই বলে বলছি না ৩য় বা ৪র্থ হয়েছেন!! আপনি সব সময় প্রথম ছিলেন। পড়া লেখা আপনার কাছে দাল-ভাত এর চাইতেও সহজ। অনেকটা ম্যাগির ২ মিনিটের নুডুস! আপনি সব প্রাতিষ্ঠানিক পড়া লেখা শেষ করে এখন একটা কোম্পানিতে খুব ভাল একটা পোস্টে চাকুরীজীবী! কিন্তু আপনি আপনার চাকুরী ক্ষেত্রে ভাল করতে পারছেন না!!! এতে কি এখন অন্য কেও বুঝাবে যে আপনি ভাল করে পড়েননি? আসলে ব্যাপারটা অন্য জায়গায়। আপনার অধীনস্থদের আপনি কাজের ব্যাপারে ঠিক মত বুঝাতে পারছেন না। এর কারণ অবশ্যই ২টি। প্রথম বলতে পারি আপনার কারি কারি সনদে গলদ অথবা দ্বিতীয় আপনার কথা কেও বুঝেনা! বাংলাদেশে কোন কোম্পানিতে কর্মরত সাধারণ মানের কর্মী কখনই নিশ্চয়ই আপনার টফেল করা ইংরেজি বুঝবেনা? ঠিক তেমনই জার্মানির সাধারণ কর্মীও আপনার অমন ষণ্ডা মার্কা ইংরেজি বুঝবে না। তাই যত ভাল কর্মকর্তাই হন আপনার জন্য কোম্পানি কিছুই করতে পারবে না। নোটিশ দিয়ে আপনার কথা বুঝতে পারে এমন IELTS এ ৬ পাওয়া ১০০০ কর্মী খোঁজার চাইতে আপনার স্থলে ১ জন জার্মান পারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনা অন্তত আমার মত ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ধারির কাছে সহজ মনে হচ্ছে!

কারণ-২!

দ্বিতীয় কারণে আমি শুধু প্রথম কারণটা উল্টো করে দেখতে বলবো। কেবল মাত্র আপনার জন্য একটা মিটিঙে নিশ্চয়ই কেও ইংরেজি বলতে চাইবেনা?

কারণ-৩!

আমারা বাংলাদেশের ছাপোষা গোত্রের লোক। যত দিন একটা ভাল চাকরি না পাব ততদিন অড অথবা অপ্রাসঙ্গিক কাজের মাধ্যমে জীবন ধারণ করতে হবে! কিন্তু এই নিন্ম মানের কাজের জন্য ভাষা খুব প্রয়োজন। কারণ আপনার উপরের জন কি পরিমাণ ইংরেজি জানতে পারে তার অনুমান আশা করি আমার বলে দেওয়া উচিৎ নয়।

কারণ-৪!

এখন যেই কথাটা বলবো শুনলে আপনাদের কিন্তু গাঁ শিউরে উঠবে, এবং সেটাই স্বাভাবিক। জার্মানরা খুবই উন্নত এটা কথা সত্য। আমেরিকান রাও অনেক উন্নত! জাপানিজ রাও। শুধু মাত্র ইংরেজি ভাষা ভাষীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই কিন্তু এখনও জার্মানিতে কিছু ইংরেজিতে পঠিত কোর্স আছে। আমদের দেশে যেমন ইংরেজি পারা না পারার উপর শিক্ষিতের হার নির্ভর করে জার্মানিতে তেমন আপনার মগজের তীক্ষ্ণতা আর হাতের কারুকার্যের উপর আপনার জ্ঞ্যানের প্রাচুর্যটা নির্ভর করে। সুতরাং আপনি যদি নিউটন অথবা রবি ঠাকুর হতে পারেন তবে আপনার ইংরেজিরও দরকার নেই, যে ভাষাতেই আপনি কথা বলুন তারা নিজেরা পরিবর্তন আনবে তাদের মাঝে আপনাকে গুঁতবে না জার্মান শিখতে। কিন্তু আপনি কে সেটা আমার চাইতে আপনিই ভাল জানেন। স্বপ্নে নিউটন হওয়ার চাইতে বাস্তবে শিক্ষিত কর্মী হওয়াই আমার কাছে শ্রেয়। ওহ! তাই বলে দয়া করে এই কর্মী হওয়ার ইচ্ছায় শুধু নিজেকে উজাড় করবেন না। জগদীশ চান্দ্র বসু কিন্তু বাংলাদেশেরই সন্তান!!!

কারণ-৫!

৫ম কারণটা খুবই সাদামাটা! কিন্তু আমার কাছে সবচাইতে গুরুত্ব পূর্ণ। মানুষ সামাজিক জীব। জার্মানিতে আপনি থাকবেন, এখানে থাকতে অবশ্যই আপনাকে দৈনিক অনেক মানুষের সাথে চলতে হবে। আর দৈনিক পথে, আপনার কাজের সহকর্মী অথবা আপনার জার্মান প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগের জন্যও জার্মান জানাটা খুবই দরকার। সুতরাং জার্মান শিখুন, সামাজিক হন জার্মানিতে। অথবা জার্মান না শিখে বোবার মত বাস করুন পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশে!!! পছন্দ আপনার।

উপরের আলোচনা থেকে আমার কাছে কিন্তু জার্মান শিখার উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পরিষ্কার। এখন জার্মানি এসে জার্মান ভাষা শিখবেন নাকি দেশ থেকে শিখে আসবেন সেটা আপনার ইচ্ছে। আর আমাদের কাছে জানতে চাইলে বলবো নিজেকে প্রশ্ন করুন কোনটা আপনার জন্য ভাল?

৪ লক্ষ টাকা এর বিনিময়ে ২ বৎসরের কোর্স এখানে মাসে ৫০ হাজার টাকা থাকা খাওয়ায় খরচ করে করবেন? নাকি মায়ের আঁচলের নিচে থেকে ১ লক্ষ টাকায় গয়েথে থেকে করবেন মাসে থাকা খাওয়ার খরচ ৫ হাজার টাকা দিয়ে???

আর আমরা হলাম বাঙ্গালি, সব গরম গরম খাওয়ার ধান্দায় থাকি! সুতরাং এই অপেক্ষা, নিজেকে যোগ্য করার প্রয়াস, অন্য বাংলাদেশিদের থেকে দ্রুত সংক্ষিপ্ত পথে উপরে (!) উঠার সিঁড়ি যদি ধরতে চান……। তবে বলবো,

জার্মানি আমাদের জন্য নয়!!

বিঃদ্রঃ লেখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজের চিন্তা। এটি শুধুই আপনার জ্ঞান কে ধাক্কা দিতে।দয়া করে শরীরে কেও বা মনে কেও ব্যথা পাবেন না!!!

লেখক: মোহাম্মাদ অলি আল ইসলাম

Print Friendly, PDF & Email