• Home »
  • Jobs-in-Germany »
  • কেন জার্মানি-২ “জীবনের জন্য কাজ, কাজের জন্য জীবন নয়”

কেন জার্মানি-২ “জীবনের জন্য কাজ, কাজের জন্য জীবন নয়”

 

সম্প্রতি একটা ইন্ডিয়ান ছেলে আমাকে ফোন করেছে ইন্টারনেট থেকে ফোন নম্বর পেয়ে। ক্রিকেট খেলতে চায় আমাদের ক্লাবে। সে আমেরিকা থেকে ডিগ্রী নিয়েছিল, এরপর কিছুদিন সেখানে চাকরি করেছে। সম্প্রতি হুট করে চাকরি চলে যাবার পর অনেকদিন ভাল কিছু খুঁজে না পাবার পর জার্মানিতে ব্লু-কার্ডের আওতায় ভাল একটা চাকরি পেয়ে এখানে এসেছে ছয় মাস আগে। ক্রিকেট খেলার নেশা ছিল অনেকদিনের, জার্মানিতে একটু সেটল হয়ে এখন ক্লাব খুঁজতে গিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ।

আমেরিকা থেকেও কেউ জার্মানিতে ব্লু-কার্ড নিয়ে এসেছে – এই প্রথম এমন কাউকে পেলাম। কৌতূহল বশত তার সাথে দুই দেশ নিয়ে অনেক কথা হল। জার্মানিতে ছয় মাস থেকে এখানের অনেক কিছুই তার কাছে অকল্পনীয় রকম ভাল মনে হচ্ছে।

তার কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে সবার সাথে শেয়ার করতে চাইঃ

১। আমেরিকায় চাকুরেরা দিনে ১০-১২ ঘন্টা পর্যন্ত অফিসে থাকে। অনেক সময়ই বাসা থেকেও অনলাইনে কাজ মনিটর করা বা ইমেইলের উত্তর দেয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। জার্মানিতে কেউ ৮ ঘন্টার বেশি কাজ করে না, করলেও সেটা অন্যদিন কম কাজ করে পুষিয়ে নেয়। বাসায় বসে কাজ করার প্রশ্নই আসে না, কেউ যদি করতেও হয়, তাহলে সেটা সাপ্তাহিক মোট কাজের থেকে ছাট করা হবে।

২। বছরে বেশি হলে ৮-১০ দিন ছুটি পাওয়া যায়, বেতনসহ। জার্মানিতে বছরে বেতনভাতাসহ ৩০ দিন ছুটি, সরকারি ছুটি ছাড়াও।

এই পর্যন্ত মনে হয়েছে, তাহলে আমেরিকায় কাজের আউটপুট অনেক বেশি হবার কথা? ছেলেটার পর্যালোচনা এমনঃ কর্মক্ষেত্রে প্রায় সবাইই ফেসবুক বা নেটে ব্রাউজিং করে, অথবা ফোনে অন্য বন্ধুদের সাথে আলাপ চারিতা চালায়। এটা জার্মানিতে সম্ভব নয়। হয়তো একারনেই জার্মানিতে মানুষ বেশি ছুটি নিয়ে, কম ঘন্টা কাজ করেও বেশি প্রোডাকটিভ।

তারচেয়েও মজার কথা, আমেরিকা থাকার সময় তাকে সবসময় দৌড়ের উপর থাকতে হতো। জার্মানিতে এসে অফিস শেষে তার অঢেল সময়, নইলে চাকরি করে ক্রিকেট খেলার কথা আমেরিকা থাকতে সে ভাবতেও পারত না।

৩। আমেরিকায় পড়ার খরচ বহন করার জন্য ছাত্রাবস্থাতেই প্রচুর পরিমাণ ঋণ করতে হয়, বিশেষ করে সহজে ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। জার্মানিতে কেন ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন কম, এটা ছেলেটি এখন বুঝতে পেরেছে। এখানে মানুষ ঋণী থাকা পছন্দ করে না। সেই ছেলে এখন তার ছোট ভাইদেরকে আমেরিকা বাদ দিয়ে জার্মানিতে বিনামূল্যে পড়ার উপদেশ দিচ্ছে। কারণ তার মনে হয়েছে, জার্মানিতে পড়ার মান আমেরিকার সমকক্ষ, অথচ ফ্রি।

৪। প্রতিটি মানুষ জার্মানিতে চিকিৎসা সুবিধে পায়, যারা বিমার টাকা দিতে পারে তারা যেমন পায়, তেমনি ছাত্র বা অল্প আয়ের মানুষরাদের জন্যও সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধে নিশ্চিত করা আছে। আমেরিকাতে অনেক লক্ষ মানুষের কোন সাধারণ চিকিৎসা নেই, অনেকেই বিনা চিকিৎসায় রোগ নিয়ে ভুগতে থাকে কোন ইনস্যুরেন্স না থাকায়। বিশেষ করে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই বিনা ইনস্যুরেন্সে থাকে। [ আমেরিকায় পড়াকালীন সময়ে এক ছেলে নাকি ক্যান্সার ধরা পড়ার পর ফেসবুকে হাত পেতেছে টাকা সাহায্য চেয়ে। অন্যদিকে জার্মানিতে পরিচিত অনেক ছাত্রদেরই বড় ধরনের অপারেশন হয়েছে ফ্রিতে। এক ছেলের তো ওপেন হার্ট হল, কয়েক লক্ষ ইউরো খরচের সবটাই ইনস্যুরেন্স বহন করল।]

জার্মানি বনাম ইউএসএ (চাকুরেদের গড় কাজের ঘন্টা)

৫। আমেরিকায় ধনী মিলিওনিয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু আবার বাসস্থানহীন পথে রাত কাটানোর সংখ্যা তার চেয়ে ঢের বেশি। প্রায় নাকি ৬-৭ লক্ষ মানুষ রাস্তায় ঘুমায়। জার্মানিতে কেউ রাস্তায় থাকলে সরকার তার জন্য বাসা ভাতা দিয়ে বন্দোবস্ত করে দেয়।

তবে অনেক ভালর মধ্যেও সে এরই মধ্যে টের পেয়েছে জার্মানিতে চলাফেরার জন্য জার্মান ভাষা দরকার। যদিও সে অফিসে শুধুমাত্র ইংরেজি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে, নিত্যদিনের প্রয়োজনে জার্মান না জানলে মুশকিলেই পড়তে হয়। একইসাথে তার মনে হয়েছে, জার্মানিতে জীবন যেমন অনেক বেশি নিরাপদের আমেরিকা থেকে, তেমনি এই দেশে অনেক অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয় প্রতি মুহুর্তে।

আদনান সাদেক, ২০১৪

#BSAAG_why_Germany

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email