• Home »
  • Beginners-Guide »
  • জার্মান ভিসার প্রস্তুতি, সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

জার্মান ভিসার প্রস্তুতি, সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

 

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই বিসাগকে যার জন্য আমার এবং আরও হাজারও বাংলাদেশীর

Germany-student-visa

জার্মানির যাত্রা অনেক সহজ এবং নিরাপদ হয়েছে।

আমি প্রথম ইমেইল এ আমার অফার জানতে পারি ৫ মার্চ’১৩ তারিখে, আমি ভিসার জন্য আবেদন করি ৪ এপ্রিল’১৩ আর রিপ্লে পাই ১৪ এপ্রিল। তারা আমাকে ২৬ জুন’১৩  ইন্টার্ভিউ-এর ডেট দেয়। আমি জুলাই মাসের ২৪ তারিখে ভিসা পাই।(অর্থাৎ ভিসা ইন্টার্ভিউ দেবার আবেদন করার ১০ দিন পর উত্তর পাই, এর ২ মাস ১২ দিন পর ইন্টার্ভিউ দিই। ইন্টার্ভিউ দেবার ২৮ দিনের মাথায় ভিসা পাই)। আমার ক্লাস শুরু ৬ই অক্টোবর এবং লাস্ট ডেট-অফ-এনরোলমেনট ২রা অক্টোবর।

বিসাগ এ একটি স্যাম্পল ভিসা ফর্ম দেয়া আছে, সেইটা দেখেই পূরণ করি। ভিসার জন্য যেসব কাগজ পত্র জমা দিয়েছি তা হলঃ

1.         পাসপোর্ট

2.         এমব্যাসি ফর্ম

3.         অফার লেটার

4.         ব্যাংক-সল্ভেন্সি সার্টিফিকেট

5.         হেলথ-ইনস্যুরেন্স পেপার

6.         ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট

7.         আইইএলটিএস সার্টিফিকেট

8.         নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট

9.         জব অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট

10.       এম এস সি সার্টিফিকেট

11.       এম এস সি সনদপত্র

12.       বি এস সি সার্টিফিকেট

13.       বি এস সি সনদপত্র

14.       বি এস সি মিডিয়াম-অফ-ইন্সট্রাকশন সার্টিফিকেট

15.       এইচ এস সি সার্টিফিকেট

16.       এইচ এস সি মার্কস সীট

17.       এইচ এস সি এডমিট কার্ড

18.       এইচ এস সি রেজিস্ট্রেশন কার্ড

19.       এস এস সি সার্টিফিকেট

20.       এস এস সি মার্কস সীট

21.       এস এস সি এডমিট কার্ড

22.       এস এস সি রেজিঃ কার্ড

উপরের ২ থেকে ২২ নম্বর পর্যন্ত প্রতিটি কাগজ দুটি করে কপি জমা দিয়েছি।

আমার ইন্টার্ভিউ-এর সময় দেয়া ছিল সকাল ৮.১৫ মিনিট, যদিও আমি প্রায় আধা-ঘণ্টা আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। দেখলাম প্রায় ৮.৩৫ মিনিটে এমব্যাসির ছোট গেট থেকে একজন সেন্ট্রি আমাদেরকে দেখল এবং নাম জিজ্ঞেস করলো । তারপর একজন একজন করে ভেতরে নিলো। সেন্ট্রি আমাকে চেক করার পর একজন মহিলা এমপ্লয়ী আমার সব অরিজিনাল কাগজ এবং দুই সেট ফটোকপি জমা নিয়ে আমাকে ভিতরের একটি ওয়েটিং রুম-এ বসতে বলল।এখানে ৩ টি কাউনটার আছে অস্বচ্ছ গ্লাসে ঘেরা। প্রায় ১০ মিনিট পর ঐ মহিলা এমপ্লয়ী আমার সব কাগজ একটি কাউনটার এ দিয়ে আসলেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর মাইক্রোফোনে আমার নাম বলা হোল এবং আমাকে ৩ নম্বর কাউনটারে যেতে বলা হোল। সেখানে একজন এমপ্লয়ী আমাকে বললেন যে এমব্যাসি ফর্মে ইউনিভারসিটির নাম, কোর্সের নাম, ইত্যাদি ঠিক আছে কিনা। তিনি বললেন যে, আমার কোর্স ইংরেজিতে কিন্তু অফার লেটারে তা উল্লেখ নেই। আমি বললাম আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে। তিনি আমার দুই হাতের ছাপ নিলেন (প্রথমে ডান হাতের ৪ আঙ্গুল, বাম হাতের ৪ আঙ্গুল, শেষে দু হাতের বুড়ো আঙ্গুল একসাথে)। এরপর তিনি আমাকে ব্যাংক রসিদ দিয়ে প্রথমে ইন্টার্ভিউ দেবার জন্য এমব্যাসির বড় গেটে যেতে বললেন। তারপর ব্যাংকে ফী জমা দিয়ে আবার এখানে এসে রসিদ জমা দিয়ে স্লিপ নিয়ে যেতে হবে।

তাঁর কথা মতো আমি এমব্যাসির বড় গেটে আসলে আমার ব্যাংক রসিদ দেখতে চাইল এবং আমি বললাম স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এসেছি। তারা আমার নাম লিখে নিলো একটি সাদা কাগজে। এরপর আবার আমাকে চেক করার পর সেন্ট্রি আমাকে ভিজিটর নেম-প্লেট লাগিয়ে আরেক ঘরের সামনে এক মহিলা এমপ্লয়ীর কাছে নিয়ে যায়। তিনি আমাকে একটি ঘরে বসতে বললেন। মিনিট ১০ পরে মাইক্রোফোনে আমার নাম বলা হোল এবং আমাকে নতুন একজন এমপ্লয়ী অন্য একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। বুঝলাম এইখানে খেলা শুরু হবে।

{ আমি ২ বছর মেয়াদি ডিরেক্ট মাষ্টার কোর্স এর জন্য আবেদন করি যার মিডিয়াম-অফ-ইন্সট্রাকশন ইংরেজিতে, সেলফ-ফিনান্সে, আমি বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করলে নো-অবজেকসন সার্টিফিকেট দরকার নাই }

মিনিট ২ পরে ঐ ভদ্রলোক আবার আসলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করা শুরু হলঃ তাঁর স্টাইল ছিল আন্তরিক, শার্প এবং আক্রমণাত্মক। আমি খুব স্বাভাবিক থাকি এবং সততার সাথে উত্তর দিই। আমার প্রশ্নগুলো নিচে দেয়া হলঃ

1.         আপনার কোর্স কি ইংরেজিতে?

2.         আপনি কি করেন?

3.         কত দিন হোল চাকরী করছেন?

4.         ওখানে কি পদে চাকরী করেন?

5.         আপনার কর্মস্থল সম্পর্কে বলুন

6.         এর আগে কি করতেন?

7.         আপনি কত সালে বি এস সি পাস করেছেন?

8.         কোথা থেকে?

9.         কোন সাবজেক্টে ?

10.       আপনি কোন সাবজেক্টে যেতে চাইছেন?

11.       আপনি কোন ইউনিভারসিটিতে যেতে চাইছেন?

12.       আর কোন কোন ইউনিভারসিটিতে আবেদন করেছেন?

13.       আপনি কেন এইখানে যেতে চাইছেন?

14.       আপনি কীভাবে খরচ চালাবেন?

15.       আপনি কি জানেন আপনার কত খরচ হবে?

16.       আপনার বাবা কি করেন?

17.       আপনারা কই ভাইবোন?

18.       আপনি কি জানেন আপনার কত খরচ হবে?

19.       আপনি তখন কীভাবে টাকা জোগাড় করবেন?

20.       আপনি কি কোনও স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করেছিলেন?

21.       কোন স্কলারশিপ এর জন্য?

22.       সেটার রেজাল্ট কি?

23.       আপনার কোর্স সম্পর্কে কি আপনি জানেন?

24.       এটার DURATION কত?

25.       এটার শেষ সেমিস্টারে কি করতে হবে আপনি কি টা জানেন?

26.       আপনার বি এস সি তে কি আপনি এই সম্পর্কে কোনও কাজ করেছেন?

27.       আপনার কোনও RESEARCH WORK/ PUBLICATION আছে কি?

28.       সেগুলো কোথায় প্রকাশিত ?

29.       আপনি কি কোনও INTERNATIONAL/NATIONAL CONFERENCE এ অংশগ্রহণ করেছেন?

30.       সেগুলো কোথায় হয়েছিল?

31.       আপনার কি জার্মানিতে কোনও বন্ধু আছে?

32.       তারা কোথায় থাকে/ পড়ে ?

33.       আপনার ইউনিভারসিটিতে কি আপনার কোনও বন্ধু আছে?

34.       সে কি আপনার স্কুল-ফ্রেন্ড ?

35.       আপনি কি জানেন যে জার্মানরা ইংরেজিতে কথা বলতে পছন্দ করে না?

36.       আপনি জার্মান কতটুকু জানেন/ আপনি কি কোনও জার্মান কোর্স করেছেন?

37.       সেটা আমাকে দেখান। আপনি কেন জার্মানি যেতে চান ?

38.       আপনি কখন থেকে জার্মানি যাবার কথা ভাবলেন ?

39.       আপনি কি বাসস্থান ঠিক করেছেন? আমি কি সেই কাগজটা দেখতে পারি?

“ঠিক আছে, আমরা আপনার প্রফেসর এর সাথে যোগাযোগ করবো, আপনি ২/৩ সপ্তাহের মাঝে আপনার রেজাল্ট পেয়ে যাবেন।”- এই কথা বলে তিনি আমাকে এগিয়ে দেন। আমি এরপর বের হয়ে যাই, সোজা ব্যাংক এ টাকা জমা দিয়ে আবার এমব্যাসির ছোট গেট দিয়ে আগের কাউনটার এ গিয়ে ব্যাংক স্লিপ জমা দিলাম। তিনি আমাকে একটি জার্মান ভাসায় লেখা কাগজ প্রিন্ট করে দেন যাতে আমার ভিসার নাম্বার এবং নাম ছাড়া সবই দুর্বোধ্য মনে হয় আমার কাছে।

আমি এই ফাইল এ আমার উত্তর গুলো দিলাম না, কারণ সেই গুলো subjective, person specific। কিন্তু প্রশ্নগুলো কমন আসতেই পারে। তবে নিয়মিত আপডেট প্রশ্ন জেনে রাখা ভালো।

পুরো ক্রিয়া কর্মে ৩/৪ জন জার্মান দেখতে পাই। আমার সাথে যাদের কথা হয়েছে(+ যিনি ইন্টার্ভিউ নিয়েছেন) সব্বাই বাঙালি। ( ভাইরে, মনে হয় জার্মানরা শুধু অবসারভেসনের কাজ করছে। )

পূর্ব কথা-১ “স্টুডেন্ট ফাইল”

আমি ইস্টার্ন ব্যাংক এর রাজশাহী শাখা থেকে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করেছিলাম। রাজশাহীতে আমার বাড়ি তাছাড়া ঐ শাখাতে আগে থেকেই আমার অ্যাকাউন্ট ছিল তাই সেখানেই গিয়েছিলাম প্রথমে। ওরা আমাকে জানালো যে তারা স্টুডেন্ট ফাইল সার্ভিস দেয় এবং আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ নানা দেশে টাকা পাঠায়। ঐ শাখার ফারজানা ইনাম (enamf@ebl-bd.com, 01743 44 13 32), কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার বেশ হেল্প ফুল এবং ফ্রেন্ডলি । তিনি আমার পাসপোর্ট, অফার লেটার, এবং সকল সনদপত্র ও নম্বর পত্র দেখতে চান। আমার অফার লেটারটা ছিল সম্পূর্ণ জার্মান এবং আমি আগে থেকেই একটা নোটারী ইংরেজি কপি করে রেখেছিলাম। এইখানে সেটা কাজে লাগে। ঐ অফিসার আমার সকল মূল কাগজ নিয়ে ফটোকপি করে নেন এবং আমাকে একটি স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করার এপ্লিকেশনে সই নেন। আমার ৫৭৫০ টাকা লাগে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করার জন্য সার্ভিস চার্জ হিসেবে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি তাদের ওয়েব সাইটে বিভিন্ন সংখ্যা লিখে যেমন ৮০৪০ ইউরো, ইত্যাদি। কিন্তু আমি জার্মান এমবাসির সর্ত মতো ৭৯০৮ ইউরো ব্লক করি। বিসাগে একবার জানতে পারি যে, জুন মাসের পরে ইউরোর দাম বেড়ে যায় অনেক। যাই হোক আমার ১০৩.৩৩ টাকা হারে মোট ৮১৭১৩৩.৬৪ টাকা পরবর্তী ১২ মাসের জন্য ব্লক করা হয়। আমাকে পরের দিনই সার্টিফিকেট দেয়া হয়। *** এরই কয়েকদিন পর জুলাই মাসে আমার এক ফ্রেন্ড স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করে কিন্তু তার প্রায় ৫৫০০ টাকা বেশি লাগে ইউরো এর দাম বেড়ে যাবার কারণে। আমার কাছে এই ব্যাংকের সার্ভিস খুব ফ্রেন্ডলি মনে হয়। তারায় আমাকে বলে দেয় যে, ভিসা পেলে আবার তাদের সাথে দেখা করতে। তখন তারা আমার সিংগেল অ্যাকাউন্টকে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করে দেবে যেন আমার বাবা আমাকে টাকা পাঠাতে পারেন। আমাকে জার্মানিতে গিয়ে এই শাখাতে আমার জার্মানির ব্যাংক স্টেটমেন্ট স্ক্যান করে পাঠাতে হবে ইমেইল করে। তাহলেই ওরা টাকা ট্রান্সফার করে দিতে পারবে। নতুনদের জন্য পরামর্শ হোল আপনারা “ব্লক অ্যাকাউন্ট” শব্দটি ব্যাঙ্কে বলবেন না, তারা “স্টুডেন্ট ফাইল” হিসেবেই ব্যাপারটা জানে।পারলে আগেই “স্টুডেন্ট ফাইল” খুলুন, চিন্তা মুক্ত থাকবেন।

পূর্ব কথা-২ “ছবি”

ছবি নিয়ে বেশ চিন্তা করেছিলাম কারণ ওরা specefic size আর specefic resolution চায়। আমি এমবাসির ওয়েব থেকে পাওয়া তিনটি ফাইল প্রিন্ট করে নিয়ে যাই গুলশান-২ এর Photo Park নামের একটি স্টুডিও তে। কিন্তু ওদেরকে জার্মান ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম এর কথা বলতেই ওরা আর কোনও ফাইল দেখতে চাইল না, আমাকে প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় ছবি তুলে দিয়ে দেয়। পরে বুঝলাম ওরা পারফেক্ট। ভিসা পাবার পর ওদের কাছ থেকেই ৪৬ কপি ছবি নিয় ৪০০ টাকাতে।

পূর্ব কথা-৩ হেলথ ইনস্যুরেন্স

আমি প্রগতি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড , হেড অফিস, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০-২১, কাওরান বাজার, ঢাকা থেকে ৯০ দিনের ইনস্যুরেন্স করি, মোট টাকা লাগে ৪৫৯৩ টাকা, কাগজ-পত্র বলতে কেবল পাসপোর্ট এবং সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট। ইনস্যুরেন্স বেশি টাকা বা অনেক উন্নত না করাই ভালো কেননা আপনার এই হেলথ ইনস্যুরেন্স জার্মানিতে invalid এবং ওখানে আপনাকে নতুন করে হেলথ ইনস্যুরেন্স করতে হবে।

শেষ কথাঃ বন্ধুরা, ফেসবুকে প্রতিদিন আপডেট জানবেন, কমেন্ট পড়বেন, কমেন্ট দিবেন, আর হ্যাঁ- জার্মান এমবাসি বাংলাদেশ যেন অবশ্যই লিঙ্ক করা থাকে।(যেমন আমার যেদিন ভিসার রেজাল্ট দিলো তার পর দুই দিন এমবাসির ভিসা সেকশন বন্ধ ছিল।)। নতুনদের অনেকেই প্রশ্ন করে যার ৯০ ভাগ উত্তর বিসাগ ফাইল গুলোতে আছে। তাই আগে সব ফাইল পড়েন, তারপর প্রশ্ন করেন। 

আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি শুধু মাত্র বিসাগ এর ডকুমেন্ট পড়ে। কারো কোনও হেল্প নেবার আমি প্রয়োজন অনুভব করিনি।

সকলের জন্য শুভ কামনা রইলো।

মুনতাসির আহমেদ 

ইনফরমেশন টেকনোলোজি, ফাখোখশুলে ফ্রাঙ্কফুর্ট।

[ভিসার অভিজ্ঞতা~ ২রা জুলাই, ২০১৩]

 

#BSAAG_VISA #BSAAG_VISA_Interview

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email