ভিসা ইন্টার্ভিউ অভিজ্ঞতা, নাজমুল হোসেন রাকিব, ২রা জুলাই, ২০১৪

 

আলহামদুলিল্লাহ, গত ২ জুলাই এর ভিসা ইন্টারভিউ ভালই হল। একজন মহিলা ভিসা অফিসার নাকি খুবই ঝামেলা করে। আল্লাহর রহমতে আমার ইন্টারভিউ উনি নেননি। আমি পেয়েছি একজন ৫০+ পুরুষ ভিসা অফিসার। লোকটা খুবই অমায়িক ছিলেন। আমাকে বিপদে ফেলার মত কোন প্রশ্নই তিনি করেন নি।এখন শুধু রেজাল্ট এর অপেক্ষা… সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন।

ইন্টারভিউ এর দিন প্রথমে আমাকে একটা লিস্ট দেয়া হল। সেখানে কি কি কাগজ জমা দিতে হবে আর কোনটার পরে কোনটা হবে তা লেখা ছিল। আমি সেই ভাবেই আমার মূল কপি আর ফটোকপি (দুই সেট) সাজিয়ে জমা দিলাম। কিছুক্ষন পর আমাকে ৩ নম্বর কাউন্টারে ডাকা হল। আমি ভেতরে গেলাম। কাচ এর এই পাশে আমি দাঁড়ানো আর অপর পাশে একজন অল্প বয়স্ক শ্যামলা মহিলা আমার কগজগুলো নিয়ে কম্পিউটারে কি কি যেন লিখছে। বুঝলাম আমার ডাটা এন্ট্রি হচ্ছে। উনি আমার মূল কপি গুলোর সাথে ফটোকপি গুলো মিলিয়ে দেখছিলেন আর এন্ট্রি দিচ্ছিলেন।

আমি একমোডেশন এর জন্যে ইয়োথ হোষ্টেল ১০% ডাউন পেমেন্ট এ ১৫ দিনের জন্যে বুকিং দিয়েছিলাম। মেইলে তারা আমাকে কনফার্মেশন পাঠায়। সেখানে ওনাদের ঠিকানাতে কোন পোষ্ট কোড দেয়া ছিল না। আমাকে জিজ্ঞেস করল ” Where is the post code?” আমি বললাম আমি মেইলে যা এড্রেস দেয়া আছে তাই লিখেছি। উনি একটু বিরক্ত হলেন। তারপর বললেন “This is not my responsibility to find out your post code.” যাই হোক উনি উঠে ভেতরে গেলেন তার কোথা থেকে যেন হোটেল এর পোস্ট কোড বের করে এনে আমার ফাইলে লিখে দিলেন। সব কাগজ গুলো চেক করে উনি আমাকে একটা টিস্যু পেপার দিয়ে আমার দুই হাত মুছতে বললেন। তারপর আমার ডানে রাখা একটি ফিংগার প্রিন্ট স্ক্যানারে প্রথমে আমার বাম হাতের চার আংগুল, তারপর ডান হাতের চার আঙ্গুল এবং সবশেষে দুই বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ নিলেন। এরপর আমার সব মূল কাগজ গুলো ফিরিয়ে দিয়ে সাথে ষ্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাঙ্ক এর ডিপোজিট স্লিপ (৬৫৭৫ টাকা) দিয়ে বাইরে বসতে বললেন।

কিছুক্ষন পর আমাকে আবার ৩ নাম্বার কাউন্টারে ডাকা হল। এবার বসে ছিলেন একজন পঞ্চাশোর্ধ, মাথায় আধা পাকা চুল এর একজন বাঙ্গালী লোক। উনি আমাকে কিছু প্রশ্ন করলেনঃ

১। আপনার ইউনিভার্সিটির নাম কী?
২। আপনার সাবজেক্ট কী?
৩। আপনার ইউনিভার্সিটি কোন ষ্টেটে?
৪। আপনার মাস্টার্স এর সাবজেক্ট সম্পর্কে বলুন। ( এখানে উনি আমাকে অনেক্ষন বলার জন্যে সুযোগ দিলেন। আমার সাবজেক্ট হচ্ছে কমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ার্ক সিস্টেমস)
৫। কমিউনিকেশন কী?
৬। নেটওয়ার্ক কী?
৭। কোর্স মোডিউল গুলো কী কী?
৮। আপনার বি,এস,সি, কী ছিল? (ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইজ্ঞিনিয়ারিং)
৯। ইলেকট্রিক্যাল আর ইলেকট্রনিক্স এর ভেতরে পার্থক্য কী? (আমি বললা ইলেকটিক্যাল হচ্ছে এনালগ সিগনাল অর্থাৎ কন্টিনিউওয়াস সিগনাল কন্ট্রোল এন্ড ইটস এপ্লিকেশন। আর ইলেকটেনিক্স হচ্ছে ডিসক্রিট সিগনাল অর্থাৎ ডিজিটাল সিগনাল কন্ট্রোল এন্ড ইটস এপ্লিকেশন।)
১০। বি,এস,সি তে কি কি সাবজেক্ট ছিল।
১১। আপনি কয়টা জব করেছেন? (যেই কয়টা জব করেছেন সব গুলোর এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট অবশ্যই দিতে হবে রানিং জব সহ। তা না হলে ডাইরেক্ট বের করে দিবে। আমার সামনে এক জন কে বের করে দিছে।)
১২ আপনি জব এত চেঞ্জ করেছেন কেন? (আমার সব জব প্রজেক্ট বেইজড ছিল। “No project, No job.” 
১৩। আর কোন কোন ভার্সিটিতে এপ্লাই করেছেন আর অফার লেটার পেয়েছেন।
১৪। আর কোন ভার্সিটিতে আপনার এই সাবজেক্ট আছে? (ক্যাসেল এ আছে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে ওনারা GRE বাধ্যতামূলক করায় এপ্লাই করতে পারিনি।
১৫। জার্মানী তে গিয়ে আপনি কী করবেন? ফিউচার প্লান কী? (পি,এইচ,ডি, করব)

সবশেষে উনি আমাকে ব্যাঙ্ক এ গিয়ে টাকা জমা ডিয়ে ওয়েটিং রুমে বসতে বললেন। আমি এম্বাসি থেকে বের হয়ে ষ্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাঙ্ক এ গেলাম। এম্বাসি থেকে হেটে যেতে ৭-৮ মিনিট লাগে। টাকা জমা দিয়ে আমি আবার এম্বাসিতে বসলাম। আমরা শেষ পর্যন্ত ৬ জন ছিলাম। প্রায় ১.৫ ঘন্টা পর দুপুর একটা নাগাদ আমাদের সবাই কে ৩ নাম্বার কাউন্টারে সেই শ্যামলা মহিলাটি ডাকল। উনি আমাদের কাছ থেকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ নিয়ে একটা ফাইল নাম্বার দিলেন আর রেজাল্ট ওয়েব সাইটে খোজ রাখতে বললেন।

নাজমুল হোসেন রাকিব

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

#BSAAG_VISA_Interview

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

 

Print Friendly, PDF & Email

ফেসবুক মন্তব্যঃ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.