• Home »
  • Travel »
  • ডাইনোসরদের রাজা আছেন বার্লিনে

ডাইনোসরদের রাজা আছেন বার্লিনে

 

টিরানোসরাস রেক্স-এর সাজানো কঙ্কাল সারা বিশ্বে বেশি নেই, বড়জোর ৫০টি৷ এবার ইউরোপেও: টি-রেক্স আসছে বার্লিনের ‘মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্টরি’-তে, আগামী তিন বছরের জন্য৷

সুবিশাল মাথা1

টিরানোসরাস রেক্স-এর মাথাটা তার বাকি দেহের তুলনায় এত বেশি ভারী যে, সেটা আলাদা করে একটি ডিসপ্লে কেস-এ দেখাতে হয়! ওদিকে টি-রেক্স-এর দেহটাই হলো লম্বায় ১২ মিটার৷ দেড় মিটার লম্বা মাথার খুলিটির প্রায় ৯৮ শতাংশ অক্ষত ছিল, কাজেই এটা টি-রেক্স-এর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মাথার খুলি বলা চলে৷

এক্সপ্রেস ডেলিভারি

বার্লিনের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সংগ্রহশালার কর্মীরা মাত্র এক মাস সময় পেয়েছিলেন টি-রেক্স-এর কঙ্কালটি জোড়া দেবার জন্য৷ আদত কঙ্কালটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যে৷ পরে সেটি বাক্স করে সাগরপাড়ি দিয়ে বার্লিন পাঠানো হয়৷2

টি-রেক্স সুপারস্টার

সাড়ে ছ’কোটি বছর আগে টিরানোসরাস রেক্স বিলুপ্ত হয় – তা সত্ত্বেও সে হাল আমলের পপ সংস্কৃতির এক সেলিব্রিটি! বিশেষ করে ‘জুরাসিক পার্ক’ ফিল্মটির কল্যাণে৷ তবে গবেষকদের ধারণা যে, টি-রেক্স যত না শিকারি ছিল, তার চেয়ে বেশি পচা মাংসের খোঁজে থাকত৷3

বার্লিনের এই টি-রের্ক্সটির নাম ট্রিস্টান হলো কী করে

ডেনমার্কের বাসিন্দা নিলস নিলসেন চিরকালই ডাইনোসরদের ফ্যান৷ পরে হন লন্ডনের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার – এবং এতই সফল যে, টি-রেক্স-এর সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত কঙ্কালটি কিনতেও তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি৷ নিলসেন কঙ্কালটির নাম রাখেন নিজের ছেলের নামে: ট্রিস্টান৷4

দৈত্যাকার জিরাফ

ব্রাকিওসরাস ব্রাঙ্কাই সবচেয়ে অতিকায় ডাইনোসরদের মধ্যে গণ্য৷ গণ হিসেবে সরোপড৷ তারও একটি কঙ্কাল রাখা আছে বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়ামে৷ এই জীবটিও জুরাসিক আমলের৷5

যে টিকটিকিকে ধরা যায় না

ডাইসালোটোসরাস মানে হলো ‘যে টিকটিকি-কে ধরা যায় না’৷ টি-রেক্স-এর মতো অতটা খ্যাত না হলেও, এই পাঁচ মিটার লম্বা জীবটিও ছিল টি-রেক্স-এর মতোই সর্বভূক, বিশেষ করে ছোট থাকাকালীন – অন্তত বিজ্ঞানীরা তাই বলেন৷6

জীবাশ্ম-বিজ্ঞানের পথিকৃৎ

বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়াম বহুদিন ধরেই ডাইনোসরদের হাড়গোড়ের খোঁজ চালাচ্ছে৷ বিংশ শতাব্দীর সূচনায় এই মিউজিয়াম থেকে বর্তমান তানজানিয়ার তেঙ্গাদুরু হিল এলাকায় একটি অভিযাত্রী দল পাঠানো হয়, যারা বার্লিনে মোট ২৫০ টন ‘ফসিল’ পাঠায়৷ সেই সব ফসিলের মধ্যে বেশ কিছু এখনও মিউজিয়ামের সেলারে রয়েছে ও তা নিয়ে গবেষণা চলেছে৷7

বার্লিনের একটি নতুন আকর্ষণ

বার্লিনের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সংগ্রহশালা খোলা হয় ১৮৮৯ সালে৷ এটি জার্মানির বৃহত্তম ন্যাচারাল হিস্টরি মিউজিয়াম৷ টি-রেক্স-কে নিয়ে নতুন প্রদর্শনীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সক্রিয় বিবর্তন’৷ বিশ্বের বৃহত্তম ডাইনোসর কঙ্কালের পাশাপাশি রাখা হয়েছে ছোট ছোট পোকামাকড় ও মাছ, যার সব কিছুই বিবর্তনের প্রতীক৷ প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ দর্শক আসেন এই মিউজিয়ামে৷8

 

তথ্য সুত্রঃ ডয়েচে ভেলে বাংলা

Print Friendly, PDF & Email