জার্মানী পড়াশুনা এবং আমাদের করণীয়

 

আমি যখন প্রথম জার্মানী যাব বলে সিদ্ধান্ত নেই তখন আমার মাথায় যেই প্রশ্নগুলো প্রথমে আসছে তা হল:

০১. জার্মানী যাওয়ার প্রসিডিউর করব কিভাবে

০২. জার্মানী যেতে কত খরচ হবে?

০৩. জার্মানীতে জব পাওয়া যাবে কিনা?

০৪. জব করে মাসিক খরচ চালাতে পারব কিনা?

এ রকম বিভিন্ন প্রশ্ন আমার মাথায় এসেছে এবং আমার মনে হয় ৮০% ছাত্র/ছাত্রী প্রথমে এই প্রশ্নগুলো মাথায় আসে।বিসাগ গ্রুপে প্রশ্নগুলি যদি আমরা দেখি তাহলে দেখবো শতকরা ৮০ ভাগ দখল করে আছে এই প্রশ্নগুলি।যখন আমরা এই প্রশ্নগুলি উত্তর পেয়ে যাই তখন আমরা র্সাচ দেওয়া শুরু করি ইউনির্ভাসিটি। আর ইউনির্ভাসিটি দেখার সময় যা আমরা চাই তা হল ভালো র‌্যাংকিং, ভালো সাবজেকেট, ভালো জব।এত ভাল মাঝে আমরা একটা প্রশ্ন ভুলে যাই আর তা হল আমি কি পারব এই ভালো জিনিসগুলো ভালো ভাবে নিতে।আমরা একটা প্রশ্ন করতে ভুলে যাই আর সেইটা হল “জার্মানীতে পড়াশুনা কি রকম?’`।

অমি জার্মানী আসার পর বিভিStudy in Germanyন্ন ইউনির্ভাসিটি অনেক বড় ভাইদের সাথে এবং ২০১৪সালে আগত অনেক ছাত্র/ছাত্রী কথা বলেছি জার্মানী পড়াশুনা নিয়ে।তাদের মধ্যে অনেকে যা বলেছে তার একটা সারমম দেওয়া হল:

  • জার্মানীতে পড়াশুনা মাথার উপর দিয়ে যায়।আর এটা ধরতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।
  • পড়াশুনা আর জব এক সাথে করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
  • এমন একটা সাবজেকট আসছি যা আমি আগে কোন সময় পড়ি নাই।
  • ২ বছর র্কোস ৩ থেকে ৩.৫ বছর লাগবে।
  • ইউনির্ভাসিটি চেনজ করে অন্য ইউনির্ভাসিটি চাওয়া উচিত । এখানে পড়াশুনা অনেক কঠিন।
  • কোন ভাবে পাশ করে বের হতে পারলে হয়।
  • বাংলাদেশ থাকতে যদি বুঝতাম পড়াশুনা এ রকম তাহলে আরো পড়াশুনা করে আসতাম।

এ রকম অনেক হতাশজনক কথাবার্তা। জার্মানীতে আসার জন্য যারা চিন্তা করছিলেন তারা হয়ত এখন ভাবছেন জার্মানীতে আর অসবে না।আসলে এরকম চিন্তা করার কিছু নাই।আমাদেরকে বুঝতে হবে আমরা একটা টেকনলজি দেশে আসছি। এখানে পড়াশুনা আমদের দেশ থেকে অনেক ফাস্ট হবে।জার্মানীতে অনেক বাংলাদেশী আছে যারা পড়াশুনা করে বড় বড় কোম্পানীতে জব করছে।এদের সংখ্যাও কম না।আসলে যে সব বাংলাদেশী এখানে ভালভাবে ইস্টাবলিস্ট হয়েছে তাদের পিছে একটা জিনিস কাজ করেছে আর তা হল বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া।আমি আশা করি বাংলাদেশের যেকোন ছাত্র/ছাত্রী যদি বাংলাদেশ থেকে শুরু করে জার্মানী আশা পযর্ন্ত কিছু প্ল্যান করে চলতে পারে তাহলে সে অবশ্যই ভাল কিছু করতে পারবে।

জার্মানী পড়াশুনা ধরন:

এবার আসুন দেখি ওদের পড়াশুনাটা আসলে কি রকম:

  • এখানে একটা সাবজেকটকে কয়েকভাবে ভাগ করে দেয়: লেকচার, এক্সসারসাইজ,সেমিনার,লেব।
  • এক্সসারসাইজ,সেমিনার,লেব এইগুলোতে পাশ করতে পারলে শুধু মাত্র তখন ওই সাবজেকটা পরীক্ষা দিতে পারবেন।’
  • এখানে অনেক সাবজেকট নতুন টেকনলজি যা হয়েছে তা নিয়ে পড়ানো হয়।যা আমাদের দেশে চিন্তা করা যায় না।
  • এক্সসারসাইজ শুধু মাত্র অংক করায়।
  • আপনাকে লেকচার ক্লাসে কিছু সেলাইড পড়াবে যা আপনাকে পরে নেট,বই পড়ে বুজতে হবে। অনেক সময় নেট,বই পাওয়া যায় না তখন আপনাকে বিভিন্ন জারনাল,প্রোজেকট থেকে পড়তে হবে।
  • থিওরিটিকাল পড়াশুনা কম হয়। আপনাকে পরীক্ষা পাশ করতে হলে অবশ্যই যা পড়াবে তা সর্ম্পূন বুঝে পড়তে হবে।আপনি যদি ভালভাবে না বুঝে পড়েন তাহলে উত্তর দিতে পারবেন না।
  • রিটেন অথবা ওরাল এই দুইভাবে আপনার পরীক্ষা হতে পারে।Grading System
  • ওদের গ্রেডিং সিস্টেম আমাদের গ্রেডিং সিস্টেমর উল্টা।  
  • থিসিস এবং প্রোজেকট আপনাকে নতুন কিছু করতে হবে এবং একা করতে হবে। বাংলাদেশের মত গ্রুপ করে নয়।
  • ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু কপি করে দেওয়া যাবে না।অ্যাসেনম্টে, থিসিস এবং প্রোজেকট যদি কোন লেখা ইন্টারনেট থেকে ১০% বেশী হয় তাহলে এটা বাতিল হয়ে যাবে।
  • আপনি যদি কোন সাবজেকট ফেল করেন তাহলে আপনাকে আর দুইবার সুযোগ দেওয়া হবে পাশ করার জন্য।যদি এর মধ্যে পাশ না করতে পারেন তা হলে আপনার ভর্তি বাতিল করা হবে।

আমি এখানে যেই পড়াশুনা যেই ধরনগুলো বললাম তা অনেক ইউনির্ভাসিটি সাথে নাও মিলতে পারে।তবে বেশীর ভাগ এই রকম।

আমদের করণীয়:

আমি আগে বলেছি যদি একটু প্ল্যান করে চলতে পারেন তা হলে আপনি শুধু পাশ নয় ভাল রেজাল্ট করতে পারবেন। আর এই জন্য প্ল্যানটা শুরু থেকে করতে হবে যখন এপ্লাই করবেন।

  • প্রথমে সাবজেকট চয়েজ করবেন। সাবজেকট চয়েজ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে আপনি যেই সাবজেকট চয়েজ তা যেন অবশ্যই আপনার পূর্বের পড়ার সাথে মিল খাকে।্মনে কোন সাবজেকট চয়েজ করবেন না যেই বিষয় আপনি কিছু আগে জানেনে না।
  • চেষ্টা করবেন অন্য কোন সাবজেকট এপ্লাই না করার।যদি অন্য কোন সাবজেকট এখানে আসন আপনার জন্য হয়ত পড়াশুনাটা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
  • যখন আমরা এপ্লাই করা শুরু করি প্রথমে যেইটা করি তা হল ইউনির্ভাসিটি র‌্যাংকিং দেখে ভাল ভাল ইউনির্ভাসিটিতে এপ্লাই করি। তখন আমরা চিন্তা করি না আমি এটা পড়তে পারব কিনা।আসলে জার্মানী সকল ইউনির্ভাসিটি একই রকম।তাই শুধু র‌্যাংকিং না আপনি পড়তে পারবেন এবং ওবারওল(বিষয়,শহর,জব) ভাল এরকম ইউনির্ভাসিটি চয়েজ করেন।
  • সাবজেকট এবং ইউনির্ভাসিটিতে চয়েজ করার পর সাবজেকটের বিস্তারিত (মডিউল,কি পড়াবে,এই সাবজেকট এ্র ভবিষ্যৎ ইত্যাদি) জানার জন্য আপনি ওই ইউনির্ভাসিটি ওয়েব সাইট,ফেসবুক গ্রুপ, বাংলাদেশী ছাত্র/ছাত্রী,প্রোফেসারদের মেইল দিয়ে জানার চেষ্টা করুন।
  • এই সব কিছু যখন আপনার পূর্বের পড়ার সাথে মিল থাকবে এবং ওবারওল(বিষয়,শহর,জব) মিলবে তখন ওই ইউনির্ভাসিটিতে এপ্লাই করার জন্য সিদ্ধান্ত নিন।
  • যদি এডমিশন পাওয়ার পর আপনি বাংলাদেশে সময় পান তাহলে সাবজেকটার ভিসিকটা ভালভাবে পড়ে আসতে পারেন।এটা আপনার জন্য অনেক সহায়ক হবে এখানে এসে প্রথমে পড়াশুনাটা ধরতে।
  • আপনি যদি ভিসা ক্লাস শুরু আগে পেয়ে যান তাহলে চেষ্টা করবেন ক্লাস শুরুর ৭ দিন আগে জার্মানীতে আসতে।এখানে আসার পর কিছু কাজ আছে যেমন সিটি রেজির্স্টেসন, ইনসিওরেন্স,ব্যাংক ওপেন করা এগুলো।তাহলে আপনি ভালভাবে ক্লাস শুরু করতে পারবেন।তাহলে কোন ক্লাস মিস হবে না এবং মনোযোগ দিয়ে করতে পারবেন।
  • ক্লাসের যেই লেকচারটা দিবে সেই লেকচার সেলাইডটা আগের দিন ওয়েব দিয়ে দেয়।যদি সম্ভব হয় আগের দিন একটু পড়ে যান।তাহলে ক্লাসটা করে মজা পাবেন্ । ক্লাসে যদি কিছু না বুঝেন দেখবেন ক্লাস করতে ইচ্ছা করবে না।
  • আপনার সাবজেকট বাংলাদেশী সিনিয়র কাছ থেকে একটু বুঝে নেন কিভাবে পড়বেন।আর বেশী বেশী অন্য দেশের ছাত্র/ছাত্রী সাথে যোগাযোগ রাখেন পড়াশুনা নিয়ে।
  • প্রতিটি লেকচার আগে রেকচার সিট প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন।যাতে রেকচার সময় আপনি ইমপরটেন্ট গুলো মার্ক করে রা্খতে পারেন।
  • ক্লাস বুঝেন আর না বুঝেন ক্লাস মিস দিবেন না।তাহলে অনেক ভাল ভাল ইনফরমেশন হারাতে পারেন।
  • যদি সম্ভব হয় প্রথম সেমিস্টার জব না করে ভালভাবে পড়াশুনা করাটা ভাল হবে। তাহলে দেখবেন আপনার জন্য পরে লোড কম পড়বে।
  • মনে রাখবেন যত তাড়াতাড়ি আপনি শেষ করতে পারবেন তত আপনার জন্য ভাল। আপনি পড়ার সময় আপনার মাসিক খরচ হবে এ রকম একটা জব করে তাড়াতাড়ি বের হতে পারলে আপনি তখন ফুল টাইম জব করে অনেক কিছু করতে পারবেন।

আসলে উপরে যা লেখেছি তা সর্ম্পূন আমার মতামত। এখানে অনেক কিছু অন্য কারো সাথে না মিলতে পারে।

এস এম রনি
মাইক্র এন্ড নেনো সিস্টেম
টেকনোলজি ইউনির্ভাসিটি কেমনিস্ট

#BSAAG_Finding_the_Right_Study_Programme

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামে:   www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃwww.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly