• Home »
  • Bachelors »
  • উইন্টার-২০১৩ এ যারা আসছেন/আসবেন তাদের জন্যে করণীয়

উইন্টার-২০১৩ এ যারা আসছেন/আসবেন তাদের জন্যে করণীয়

 

এই আর্টিকেলটি উইন্টার-২০১৩ এ যারা আসছেন সবার জন্যে প্রযোজ্য।

আমি প্রথমেই অভিনন্দন জানাই তাদের যারা ইতিমধ্যে অ্যাডমিশন পেয়ে গিয়েছেন উইন্টার-২০১৩ সেমিস্টারের জন্যে। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দেশ হিসেবে জার্মানী বেছে নেয়াটা খুবই চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে এটি নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন। আমি এই আর্টিকেলে এখন যারা অ্যাডমিশন ডিসিশন পেয়েছেন, যারা ডিসিশনের অপেক্ষা করছেন সবাইকেই অ্যাড্রেস করবো এবং সবশেষে যারা অ্যাডমিশন ডিসিশন পেলেও হতাশাজনক কিছু পেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবো।

অ্যাডমিশন ডিসিশন জানানোর সিস্টেমঃ

একজন অ্যাপ্লিক্যান্টকে তার অ্যাডমিশন ডিসিশন জানানোর সিস্টেম জার্মানীর ভার্সিটি-টু-ভার্সিটি আলাদা। তবে মূল জিনিস সবখানেই এক, যেটি হলোঃ আপনাকে ইমেইল করে বলা হবে আপনি অ্যাডমিশন পেয়েছেন কি পাননি এবং পরবর্তীতে অ্যাডমিশন পেলে তার অফিসিয়াল অ্যাডমিশন লেটার আপনাকে “মেইল” করে পাঠানো হবে। খেয়াল করবেন যে, এখানে “মেইল” মানে কিন্তু ইমেইল না, এরমানে পোস্টাল-মেইল বা ডাকযোগে পাঠানো। জার্মানীর বিভিন্ন ভার্সিটিতে যখন আপনারা যোগাযোগ করবেন তখন মেইল বললে বুঝবেন ডাকযোগে পাঠানো আর ইমেইল বললে বুঝবেন স্বাভাবিক ইমেইল। কোন কোন ভার্সিটি শুধু ইমেইল করে আবার কোন ভার্সিটি শুধু ডাকযোগে মেইল করে। আপনার উচিত হবে আপনার ভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অফিসকে ইমেইল করে সঠিক তথ্যটি জেনে নেয়া, আপনারা যেই ভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করছেন সেখানকার কোন অ্যালামনাইকে জিজ্ঞেস করেও জেনে নিতে পারেন।

সময়কালঃ

অ্যাডমিশন ডিসিশন সাধারনত মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত জানানো হয়। সঠিক তারিখ কারো পক্ষেই জানানো সম্ভব নয় কারণ এটা ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন কমিটির উপর নির্ভর করে। মোটামুটিভাবে ধরে রাখতে পারেন যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মাঝেই সব ভার্সিটিতে ডিসিশন জানানো হয়ে যায়। সুতরাং এর মাঝে ডিসিশন না পেলে ভার্সিটিকে ইমেইল করুন। সময়কালের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ন কারণ আমার জানা মতে গতবার একজন নিজের অ্যাডমিশন ডিসিশন জানার জন্যে মে মাসের শেষে ইমেইল করে জানতে পেরেছিলেন যে তার একমাস আগে অ্যাডমিশন হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি বাকিদের থেকে পিছিয়ে পড়েন ভিসা প্রসেসিংয়ের মত কাজে। অতএব, ভালোভাবে ট্র্যাক করুন নিজের অ্যাডমিশন টাইমলাইন।

অ্যাডমিশন কনফার্মেশন ডিসিশন পাওয়ার সাথে সাথে করণীয়ঃ
০) মিষ্টি খাওয়ান সবাইকে। 😉
১) যদি ইমেইলে আপনার অ্যাডমিশন ডিসিশন পান তাহলে প্রথমেই আপনার অ্যাডমিশন লেটারটি জার্মানে নাকি ইংরেজীতে দেখুন এবং ভালোভাবে সেটি পড়ে দেখুন। এই অ্যাডমিশন লেটারটিই আপনার অফার লেটার এবং এটা ইংরেজীতে হলে আপনার জন্যে পড়া খুবই সহজ। যদি আপনার অ্যাডমিশন লেটার জার্মানে হয় তাহলে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে অ্যাডমিশন লেটারটি পড়ুন এবং যেকোন প্রশ্নে BSAAG গ্রুপের সহায়তা নিন কনফিউশন ক্লিয়ার করার জন্যে।
যদি ইমেইল অ্যাডমিশন ডিসিশনের সাথে অফার লেটার না পান তাহলে অপেক্ষা করুন ডাকযোগে অ্যাডমিশন লেটার/অফার লেটার আপনার বাসার ঠিকানায় পৌছানো পর্যন্ত।
২) আপনার নিকটস্থ পোস্টম্যানকে বলে রাখুন যে আপনার জার্মানী থেকে কোন চিঠি আসলে সেটি যেন সঠিকভাবে আপনাকে পৌছে দেয়।
৩) অ্যাডমিশন লেটারের স্ক্যান্ড কপি অ্যাটাচ করে এবার এম্বাসীকে মেইল করুন এবং একটি ইন্টারভিউ ডেট দিতে অনুরোধ করুন। কিভাবে মেইল করবেন তার একটি টেমপ্লেট দেখতে পারেন এখানেঃ http://bsaagweb.de/student-visa-experience-germany/
৪) আপনি যদি একাধিক ভার্সিটি অ্যাপ্লাই করে থাকেন তাহলে একাধিক অ্যাডমিশন ডিসিশন পাবেন, কিন্তু ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্যে এম্ব্যাসীতে একবার ইমেইল করাই যথেষ্ঠ। একাধিক ভার্সিটি থেকে অফার লেটার পেলেও, ভিসা ইন্টারভিউয়ের দিন আপনি যেই ভার্সিটির ডকুমেন্ট জমা দিবেন ওই ভার্সিটির জন্যেই ভিসা পাবেন।

প্রথম প্রস্তুতিঃ

এখানে যেই জিনিসগুলো উল্লেখ করছি সেগুলো আপনার বাংলাদেশে/জার্মানীতে ২ জায়গাতেই কাজে লাগবে ভবিষ্যতের জন্যে।

আপনি ভিসা ইন্টারভিউ ডেট আপনি ইমেইল করার সাথে সাথেই পাবেন না, অনেক ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে ডেট পাওয়ার জন্যে। তবে এই ডেট পাওয়ার মাঝে আপনারা ইন্টারভিউয়ের সময় যেই ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে হবে ওগুলো তৈরী করে ফেলুন। কোন ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে আপনার এডুকেশন বোর্ডে গিয়ে সেটি তুলে ফেলুন এবং ব্লক অ্যাকাউন্ট করার মানসিক প্রস্তুতি নিন আপনার পরিবারের সাথে কথা বলে। ডকুমেন্টগুলো আপনার বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট পার হবার সময় সাথে রাখতে হবে তাই ভালো হয় একটা প্লাস্টিকের এয়ারটাইট ব্যাগে ( দাম বোধহয় ৩৫ টাকার মত) ওগুলো বহন করুন। এতে আরেকটা সুবিধা হবেঃ ডকুমেন্টগুলোতে ভাঁজ পড়বে না। লেমিনেটেড ডকুমেন্ট পারফেক্টলি ফাইন, অতএব লেমিনেশন তোলার প্রয়োজন নাই।

ডকুমেন্ট বহন করার ফাইলে আরেকটা জিনিস যোগ করুনঃ আপনার ২০ কপি ছবি (কিভাবে ছবি তুলবেন তার গাইডলাইন এখানেঃ http://bsaagweb.de/german-visa-photograph-requirements/)। ২ কপি ভিসা অ্যাপ্লাইতে লাগবে আর বাকিগুলো জার্মানীতে এসে লাগবে। জার্মানীতে ৪ কপি ছবি তুলতে ১২ ইউরো লাগবে (১ইউরো = ১০০টাকা), আর আপনার কাছে যদি সফটকপি থাকে ছবির তাহলে ৬ ইউরো লাগবে। সুতরাং আপনার ছবি বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসাই শ্রেয়। এটা এখানে বললাম কারণ চলে আসার আগে ব্যাগ গুছানোর চাপে সবাই এটার কথা ভুলে যায় তাই এখনি এটা করে ফেলুন।

এখন বাংলাদেশে ইউরোর দাম তুলনামূলক কম এবং সাধারনত জুন মাসের পরে এর দাম বেড়ে যায়। অতএব কিছু ইউরো কিনে রাখতে পারেন সম্ভব হলে।

দ্বিতীয় প্রস্তুতিঃ

নিয়মিত BSAAG গ্রুপের আয়োজনগুলিতে যোগ দিন এবং জার্মানী সম্পর্কে ধারণা নিন। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে তা উপস্থাপন করুন এবং নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। মনে রাখবেন, অনেকেই “আমাকে বিদেশ যেতেই হবে” চিন্তা করে দেশের বাইরে যায় এবং পরবর্তীতে ভাষা/কালচার এগুলোর সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে নিজের দেশকে, নিজের ভাগ্যকে গালাগালি করে। বাইরে পড়তে আসা আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তগুলোর একটি, অতএব ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

যারা অ্যাডমিশন পেলেন নাঃ

এইটা “এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” না। জার্মানীতে অপরচুনিটি আছে তা যেমন ঠিক তেমনি এখানে টাকা উড়ে না এটাও ঠিক। এখানে আপনি যদি আপনার একাডেমিক ক্রেডিনশিয়ালে আসতে না পারেন, তাহলে প্রবলেম নেই কারণ জার্মানী এখন প্রচুর জব ভিসা দিচ্ছে। নিজের ফিল্ডে নিজেকে সুদক্ষ করে তুলুন। (ব্যাচেলরদের স্টুডেন্টদের জন্যেঃ বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে এখানে মাস্টার্স করতে এসে থেকে যাওয়া সবচেয়ে ভালো অপশন। এখানকার বেশিরভাগ ব্যাচেলরস ডিগ্রী কোর্স জার্মানে) আপনি যদি রিসার্চার হয়ে থাকেন তাহলে সরাসরি জার্মানীর প্রফেসরদের ইমেইল করে অ্যাপ্রোচ করুন। রিসার্চের জন্যে জার্মানী নয়, আমেরিকাতেও চেষ্টা করুন সমানভাবে কারণ রিসার্চ ফ্যাসিলিটি কোন দেশের বাউন্ডারিতে সীমাবদ্ধ নয়। জব/রিসার্চ যেটাই বলেন না কেন আপনার ধৈর্য্যহারা হওয়া চলবে না, কারণ যদি হাল ছেড়ে দেন ক্ষতিটা শুধু আপনারই হবে।

শেষ কথাঃ

এখানে সেইসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো এই মুহুর্তে আপনাদের প্রয়োজন। আমরা অবশ্যই অবগত সামনে আপনাদের কি কি তথ্য প্রয়োজন হবে সেই বিষয়ে এবং পরবর্তী নিউজলেটারগুলোতে আমরা সেটা নিয়েও লিখবো। জার্মানীতে আপনাদের অগ্রীম স্বাগতম জানাই।

ভাল থাকবেন।

লেখকঃ  সিউল রায়হান, আখেন

#BSAAG_Higher_Study_in_Germany

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email