• Home »
  • F.A.Q.s »
  • প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস জার্মানিতে আনতে হবে

প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস জার্মানিতে আনতে হবে

 

 

ভিসা হয়ে যাবার পর সবার চিন্তা কেমন করে ব্যাগ গুছাবো, কি কি নিতে হবে, কয়টা ব্যাগ নিতে পারবো। আসুন তাহলে এবার ব্যাগ গুছানো শুরু করি।

১) সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন জিনিস, লাগেজ। ফ্লাইটে ইকোনমি ক্লাসে সাধারনত ৪০ কেজির মতন জিনিস আনা যায়। তাই ২০ কেজি নেয়া যায় এমন দুইটা লাগেজ নিতে বলবো। কারন আপনাকে ভাবতে হবে ফ্লাইট থেকে নামার পর আপনাকে কিছুটা হাটতে হবে। বড় লাগেজ মাঝে মাঝে নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় চার চাকা দেখে কিনবেন এবং এটা কেনার সময় কিপ্টেমি করলে এখানে নেমে কষ্ট কিন্তু আপনাকেই করতে হবে। নিউমার্কেট থেকে কিনতে পারেন তবে চাইলে বসুন্ধরার মোস্তফা মার্টে বেশ ভালো মানের লাগেজ বা ট্রলি পাবেন। মনে রাখবেন এখানে আপনাকে ৪০ কেজি পরিমান জিনিস নিতে হবে। দেখে কিনবেন অবশ্যই।

২) ব্যাকপ্যাক/র‍্যাকস্যাক– একটা কিনবেন এটায় আপনি ৭ কেজির মতন জিনিস নিতে পারবেন। এই ব্যাগে যেন ল্যাপটপ ক্যারিয়ার থাকে কারন আলাদা করে আপনাকে আর একটা ব্যাগ নিতে দেবে না।

গুরুত্বপুর্ন দুইটা জিনিস কেনার পর এবার শুরু করা যাক এই গুলার মধ্যে কি কি নেবেন সেই লিস্ট করা যাকঃ

  • টুথব্রাশ
  • টুথপেস্ট (যেন ১০ দিন ব্যবহার করা যায়)
  • ঘরে পরার জন্যে লুঙ্গি/শর্টস ৩ থেকে ৪ সেট
  • ঘরে পরার জন্যে টি শার্ট ২-৩ সেট
  • বাইরে পরার জন্যে জিন্স ৫-৬ সেট, চাইলে গ্যাভার্ডিন ও কিনে নিতে পারেন তবে সেটা যেন একটু ভারী হয়। তবে ছেলে মেয়ে দুই জনের জন্যেই বলি, প্যান্ট যেন খুব ভালো ভাবে ফিটিং হয় এবং আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • টিশার্ট/পোলো শার্ট/ শার্ট- কিছু ফুল হাতা টিশার্ট এবং কিছু হাফ হাতা সাথে কয়েকটা পোলো। সব মিলিয়ে ৬-৭টা।
  • জুতা এক জোড়া কিনবেন এবং সেটা যেন ওয়াটার প্রুফ হয়। স্নো বুট অথবা স্নিকার অথবা আরো ভালো জুতা দয়া করে এখানে এসে কিনবেন। কারন আপনি যে টাকা দিয়ে দেশ থেকে জুতা কিনে আনবেন সেই একি টাকায় এখানে ভালো ব্রান্ডের জুতা পাবেন।
  • স্যান্ডেলঃ দুই জোড়া ঘরে এবং বাইরে পড়ার জন্যে।
  • বেল্টঃ ট্রাঊজার অথবা জিন্সের জন্যে
  • মোজাঃ এখানে ৪ জোড়া কম দামে পাওয়া যায় তাই দেশ থেকে দুই জোড়া একটু ভালো দেখে কিনবেন। যদি নিউমার্কেট বা বঙ্গবাজার থেকে কেনেন তবে সেলাই ভালো করে দেখে কিনবেন।
  • মাফলারঃ ২টা একটু বড় দেখে এবং নরম দেখে কিনবেন।
  • মাংকি ক্যাপঃ ২টা যেন কান ঢাকা পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  • পাঞ্জাবী-পাজামাঃ পড়ার সুযোগ পাবেন না তবে ১/২ সেট আনতে পারেন নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী।
  • জায়নামাজ এবং কোরান শরীফ অথবা আপনার নিজের কোন ধর্মগ্রন্থ
  • তোয়ালেঃ একটা বড়, ছোট একটা।
  • গামছাঃ একটা (ইহা বড়ই প্রয়োজনীয় কারন তোয়ালে প্রতিদিন ধোয়া যায় না)
  • আন্ডার গার্মেন্টসঃ ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যে যতটা প্রয়োজন।
  • গরম কাপড়ঃ একটা এয়ার কাটার জ্যাকেট, উলের সোয়েটার অথবা হুডি যেন অভার কোট খুলে রাখলেও গরম কিছু পড়তে পারেন, থার্মোকল চাইলে আনতে পারেন।এক্টু ভারী দেখে একটা জ্যাকেট। আর কিছুই আনতে হবে না। কারন এখানের শীত বাংলাদেশের গরম কাপরে কাবু হবে না। এখানে এসে ভালো একটা গরম কাপড় কিনে নিলেই হয়ে যাবে।
  • বেডশিট, বালিশের কভার ২ সেট।
  • ফরমাল পোশাক যদি ইচ্ছে হয় আনতে পারেন।
  • অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রীঃ ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্যে যা লাগে তাই আনবেন। কারন বাংলাদেশের চেয়ে এখানের প্রসাধনী অনেক ভালো আর ব্যান্ডের জিনিস পাওয়া যাবে। আর এইসবের উপর আবহাওয়ার প্রভাব আছে তাই ১৫ দিনের জন্যে আনতে পারেন। চিরুনী,চুলের ব্যান্ড, সাবান এই গুলো আনতে আবার ভুলে যাবেন না।
  • হাত মোজাঃ নরম দেখে কিনবেন। এখানে এসে ওয়াটার প্রুফ কিনে নেবেন।
  • ঘড়িঃ একটা আলার্ম ঘড়ি, আর একটা হাত ঘড়ি।
  • মানি ওয়ালেটঃ ভালো দেখে কিনে নেবেন। কারন এখানে আপনাকে অনেক গুলো কার্ড আর পয়সা প্রতিদিন সাথে রাখতে হবে।
  • চশমাঃ যদি ব্যবহার করেন আসার আগে ডাক্তার দেখিয়ে ২ থেকে ৩ সেট চশমা নিয়ে আসবেন। কারন এখানে লেন্স ইন্সুরেন্স কভার করে না।
  • খাতা চাইলে একটা আনতে পারেন। কলম যদি নিজের একান্ত পছন্দের কিছু না থাকে তাহলে ৫ থেকে ৬ টা আনতে পারেন। আর সব কিছু এখানে বেশ ভালো পাওয়া যায়। হাইলাইটার কিনতে পারেন।
  • ক্যালকুলেটর
  • বইঃ গল্পের বই যদি পড়ার অভ্যাস থাকে আনতে পারেন।পড়ার বই এখানে অনেক পাবেন লাইব্রেরিতে তারপরেও প্রয়োজন মনে হলে নিয়ে আসবেন। সাথে নিজের থিসিস বইটা আনতে ভুলবেন না(যদি থাকে)
  • প্লেটঃ ১টা
  • নিজের প্রিয় কফি অথবা চায়ের কাপ ১ টা
  • চামচ একটা।
  • এয়ারফ্রুফ টিফিন বক্স – ছোট, বড়, মাঝারী। এইগুলো অভেন ফ্রুফও হয়। এখানে বক্সের দাম আসলেই বেশী মনে হয়েছে। ছোট বক্স মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে খাবার নিয়ে যেতে লাগবে (যদি পয়সা বাচানোর ইচ্ছে থাকে!!)
  • পানির বোতল ১ টা।
  • চামচ-বড়, চা চামচ, কাঁটা চামচ, ছোট ছুড়ি, আলু কাটার চাইলে আনতে পারেন তবে এই সব কিছু বড় লাগেজে। কোনভাবেই ছোট লাগেজে নেয়া যাবে না। ছুরি জাতীয় কিছু আনতে চাইলে কাপড়ে পেছিয়ে সুন্দর করে আনুন যেন অন্য জিনিসের ক্ষতি না হয়।
  • রাঊন্ড প্লাগ কনভার্টার ১ টা, স্ক্রু একটা
  • মশলা – হলুদ, জিরা, ধনে, গরম মশলা(আস্ত এবং গুড়া), তেজপাতা এই গুলো আপনি যে টিফিন বক্স কিনেছেন সেগুলোতে করে নিয়ে আসবেন। পরিমান যতটা পারা যায়। তবে এখানের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াই ভালো(সব খাবার না কিন্তু!)
  • কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আসবেন। আমি আসার সময় ১কেজি চাল, ১কেজি ডাল, চকলেট, বিস্কুট, একটু চিড়া, ৫০গ্রামের একটা দুধের প্যাকেট, স্যুপের প্যাকেট আর কিছু ইন্সট্যান্ট কফির প্যাকেট এনেছিলাম। সাথে অল্প লবন, এবং চিনি নিয়ে আসলে প্রথম কয়েকদিন না খেয়ে থাকার কষ্ট পেতে হয় না। কম করে হলেও ৩ দিন আরামে এইগুলা খেতে খেতে কোথায় কি পাওয়া যায় খুঁজে বের করে ফেলতে পারবেন। তবে কোন রকম আনপ্যাক করা খাবার আনবেন না।
  • ঔষধঃ প্যারাসিটামল, এসিডিটির ঔষধ, মেট্রোনিডাজল (পেট খারাপের জন্যে), ওর স্যালাইন একদম অল্প পরিমানে নিয়ে আসবেন। কারন আবহাওয়া বদলে গেলে ঔষুধ বিষে পরিনত হয়।
  • সিডি/ডিভিডি বড় লাগেজে করে নিয়ে আসতে পারেন। তবে কিনে আনলে কেনার রিসিপ্ট সাথে রাখবেন
  • আপনার সার্টিফিকেট ফটোকপি গুলো বড় লাগেজে রাখবেন এবং মেইন গুলো ব্যাগপ্যাকে রাখবেন।

বড় লাগেজ গুছানো শেষ। এবার ৭ কেজির ব্যাগপ্যাক।

  • ল্যাপ্টপঃ যদি কেনা থাকে নিয়ে আসবেন। না থাকলে এখানে এসে কিনে নিন। আমরা সবাই কম বেশী ক্যাম্পাস থেকে বিনামূল্যে অরিজিনাল উইন্ডোজ পেয়েছি।
  • মোবাইল ফোনঃ গুগল ম্যাপ, ওয়াইফাই যেন কাজ করে। কন্টাক্ট নাম্বার গুলো আসার আগে গুগোলে ব্যাকআপ রেখে দেবেন।
  • নিজের কয়েক কপি বায়োমেট্রিক ছবি।
  • অরিজিনাল সার্টিফিকেট।
  • ২ সেট কাপড়।
  • যদি খুব প্রয়োজনীয় কোন জিনিস থাকে অথবা দামি তাহলে অবশ্যই সেটা এই ব্যাগে নিতে হবে।
  • ডর্মের ইমেইল এবং ঠিকানা সহ ইমেইল প্রিন্ট করে নিয়ে নেবেন।
  • ডায়েরীঃ এটায় আপনার জার্মানির ঠিকানা, আপনার কো অর্ডিনেটরের ফোন নম্বর, ইমার্জেন্সি যদি কোন নম্বর থাকে সেটা, পাসপোর্ট নম্বর, বাংলাদেশে যোগাযোগের ঠিকানা ফোন নম্বর সহ লিখে নেবেন।

এই হল মোটামুটি আমাদের ব্যাগ গুছানো। তবে ব্যাগ বন্ধ করার আগে, বড় লাগেজে আপনি আপনার এয়ার টিকেটের একটা করে কপি রাখবেন এবং ব্যাগের উপরে আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেটার ঠিকানা লিখবেন। ব্যাগে এমন কোন চিহ্ন অথবা সুতা অথবা টেপ বেধে রাখুন যেন দূর থেকে দেখলে আপনি নিজের ব্যাগ অথবা লাগেজ চিনতে পারেন সহজে। এখানে আসার পর ব্যাগ নেয়ার সময় এটা কাজে লাগবে।

তারপরেও খুব গুরুত্বপুর্ন কথা। কোন কারনে যদি, লাগেজে বেশী ওজন হয়ে যায় তাহলে কিছু জিনিস ব্যাকপ্যাকে ট্রান্সফার করুন, একটা জ্যাকেট হাতে নিন , প্রয়োজনে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারকে বলুন যে আপনি প্রথমবার পড়তে দেশের বাইরে যাচ্ছেন কিছু ওজন কন্সিডার করা যায় কিনা, তবে তারা ১ থেকে ২ কেজির বেশি অতিরিক্ত নিতে দেয় না সাধারনত। ঢাকায় বিমানবন্দরে কোন রকম টাকার লেনদেন করবেন না, জার্মানিতে বিমানবন্দরে নেমে নিজের ব্যাগের দিকে খেয়াল রাখুন।
সব মিলিয়ে আপনার যাত্রা শুভ হোক।

* যদি কিছু বাদ পড়ে যায় তাহলে আপডেট করে দেয়া হবে।

লেখকঃ বিপাশা দেবনাথ

 

#BSAAG_Articles

#BSAAG_Higher_Study_in_Germany

#BSAAG_Miscellaneous

Print Friendly, PDF & Email