• Home »
  • Featured »
  • সুজনের মৃত্যু থেকে শেখাঃ সহানুভূতি নয়, নিজের দায়িত্ব নিজের

সুজনের মৃত্যু থেকে শেখাঃ সহানুভূতি নয়, নিজের দায়িত্ব নিজের

 

সুজন নামের বাংলাদেশের একটা ছেলের গল্প। দূরদেশে স্বপ্ন পূরন করতে এসে অকালে লাশ হয়ে ফিরে গেল। তার লাশ নিয়ে কি হবে, কিভাবে যাবে, এই নিয়ে বেশ কয়েকটা দিন লাশকাটা ঘরে পড়ে রইল ছেলেটার মরদেহ। এই নিয়ে অনেক মানুষ সামনে এগিয়ে এসেছে, তাদের সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। একটু দেরীতে হলেও সুজনের লাশ শেষ পর্যন্ত দেশে পৌঁছেছে। এই ঘটনা সবার জানা। তবে আমি সুজনকে সহানুভূতি জানানোর জন্য লিখছি না। শুধু মনে করিয়ে দিতে চাইছি, সুজনের মৃত্যু থেকে নেয়া শিক্ষা যেন আমরা ভুলে না যাই।  

সুজনের জন্য অনেক টাকা সাহায্য উঠেছে শুনেছি। তবে যতই সাহায্য আসুক, এমন অবস্থাতে সেধে কেউ যেতে চাইবে না। বুকে হাত রেখে কয়জন বলতে পারবে, আমি যদি মারা যাই, আমার লাশ মর্গে রেখে আমার জন্য আপনারা ফেসবুকে টাকা পয়সা তুলবেন! তারচেয়ে বরং এই পরিস্থিতি নিয়ে একটু আগে থেকেই ভেবে রাখলে খুব মন্দ হবে কি?

সুজনের ঘটনা আমাদেরকে শিখিয়েছে, বাংলাদেশের সরকার মোটামুটি এই জাতীয় ঘটনায় তেমন কোন দায়ভার নেন না। সুজনের ঘটনা আমাদের দেখিয়েছে যে, লাশ মর্গে রেখে টাকা তোলা, এবং তারপরে লাশ পাঠানোর মতন মর্মান্তিক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সুজনের ঘটনায় আমাদের শেখার কথা, সন্তানের মৃত্যুর ভারের পাশাপাশি দেশ থেকে ধার করে আনা ব্লক একাউন্টের টাকা শোধের দায়িত্বও তার পরিবারের কাঁধে চলে যাবে।

মরে যাবার পরে সহানুভূতি নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ এবং নিজের পরিবারের দায়ভার বেঁচে থাকতেই আমাদেরকে নিতে হবে। আমি সমাধান নিয়ে বেশ কয়েকদিন ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, এবং অবাক হয়েছি যে, এই ব্যাপারটা প্রায় সবারই হাতের মুঠোয়।  চাইলেই যেকোন ছাত্রছাত্রী একটি সামান্য বীমা করে রাখলে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।

জীবন বীমা বা লাইফ ইনস্যুরেন্স। এটা আমাদের সবারই জানা। যারা বিশেষ করে জার্মানিতে আসছে, বা বিদেশে যাচ্ছে, যাদের ব্লকের টাকাটা আত্মীয় বন্ধুদের থেকে ধার করে আনা, তাদের সবারই উচিত হবে একটি জীবন বীমা করে রাখা। এবং জার্মানিতে জীবন বীমার কাজগুলো খুব সহজে  করা সম্ভব। খরচ একেবারেই সাধ্যের মধ্যে।

আমি এখানে উদাহরণ স্বরূপ একটি বীমা কোম্পানির ইন্টারনেট সাইট থেকে কিছু স্ক্রিন শট দিচ্ছি। এখানে একজন ছাত্র, যে কিনা ধূমপান করে না, ১৯৯০ সালে জন্ম, এবং আগামী ৫ বছরের জন্য ২৫০০০ ইউরোর জীবন বীমা করতে চাইছে, তার জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ

আগামী ৫ বছর পর্যন্ত নিজের পরিবারকে অন্তত ২৫ হাজার ইউরো দিয়ে সুরক্ষা করার খরচ মাসে মাত্র ৮৪ সেন্ট!

আমি যেই ইনস্যুরেন্সের ওয়েবসাইটে দেখছিলাম, তারা আগামী ৪ দিনের মধ্যে এই বীমা অনলাইনে কন্ট্রাক্ট করলে ২৫ ইউরো ফ্রি দেবে। তারমানে দেখা যাচ্ছে, ৫ বছরে বীমাকারির নিজের পকেট থেকে খরচ হচ্ছে ৫*১২*০.৮৪ – ২৫ ইউরো= ২৫,৪০ ইউরো। অর্থাৎ মাত্র ২৫ ইউরো ব্যয় করে, (তাও আবার ৫ বছর ধরে) কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বীমাকারির পরিবার সব মিলিয়ে ২৫ হাজার ইউরো খরচ পাবে। বলা বাহুল্য যে, বীমার টাকার পরিমাণ বাড়ালে বা সময়সীমা বাড়ালে বীমার প্রিমিয়াম বাড়বে। তবে উপরের ৮৪ পয়সার প্রিমিয়াম দিয়ে একদম ব্যাসিক ধরণের সুরক্ষা চলবে বলে মনে করি।  Image result for life insurance quotes

সুজনের মতন ট্র্যাজিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, এই কামনা করি। তবে এই ধরণের ঘটনা আমাদের হাতে না থাকলেও নিজের দায়িত্বে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা কিন্তু আমাদের হাতেই আছে। সময়ে আমরা যেন সঠিক কাজগুলো করতে ভুলে না যাই।

পুনশ্চঃ নেট ঘাটলে অনেক ধরণের বীমার কোম্পানি পাওয়া যাবে, এবং সেখানে সম্ভবত আরো কয়েক পয়সা কমেও জীবন বীমা করা সম্ভব। উপরের উদাহরনে দেয়া বীমা কোম্পানির (নাম ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করেছি) সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন পরিচয় নেই, এবং বীমা করার সময় আমার নাম উল্লেখ করারও কোন আবশ্যকতা নেই।

 

আদনান সাদেক

লিওনবার্গ, জার্মানি

১৫.০২.২০১৭।

 

 

Print Friendly, PDF & Email