• Home »
  • Deutsche-Welle-Article »
  • বিদেশি ছাত্রদের দিকে ঝুঁকছে কাসেল ইউনিভার্সিটি

বিদেশি ছাত্রদের দিকে ঝুঁকছে কাসেল ইউনিভার্সিটি

 

জার্মানির হেসেন রাজ্যের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত কাসেল ইউনিভার্সিটি৷ জার্মান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও এই ইউনির্ভাসিটিতে পড়া যায়৷ এছাড়া টিউশন ফি দিতে হয় না ছাত্রদের, পার্ট টাইম কাজেরও সুযোগ অনেক৷

কয়েক বছর আগে কাসেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষানীতিতে আন্তর্জাতিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেয়৷ এর আওতায় এখন অনেকগুলো বিষয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায় যেগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান ছাড়াও ব্যবসা ও মানবিক বিষয়ও রয়েছে৷ এজন্য এখানে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে৷ যেসব বিষয়ে এখানে ইংরেজি ভাষাতেই মাস্টার্স করা যায় তার মধ্যে কয়েকটি হলো ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্লোবাল পলিটিক্যাল ইকোনমি, ইন্টারন্যাশনাল ফুড বিজনেস অ্যান্ড কনজিউমার স্টাডিজ, ইউরোপিয়ান মাস্টার ইন বিজনেস স্টাডিজ৷

প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন সেমেস্টারে এখানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়৷ বর্তমানে কাসেল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ হাজারের মতো৷ তাদের একজন বাংলাদেশ থেকে আসা মো. আসগর হোসাইন৷ তিনি এখানে ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন৷ তবে তাঁর মূল বিষয় ডিজিটাল কমিউনিকেশন৷ তিনি জানালেন, কাসেল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুবিধা হলো এখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ইচ্ছেমত বিষয়গুলো পছন্দ করতে পারে৷

 Md. Asgar Hossain, a Bangladeshi student of Kassel University in Kassel, Germany.Bild: Md Asgar Hossain, privatzugeliefert von Md Asgar Hossain 10/2012কাসেল ইউনাভার্সিটির ছাত্র মো. আসগর হোসাইন

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থীই দালালদের মাধ্যমে বিদেশে পড়তে আসার চেষ্টা করে৷ তবে আসগর জানালেন, তিনি তেমন কোনো পন্থা অবলম্বন করেননি, বরং জার্মানিতে পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নিয়েছেন৷

কাসেল ইউনিভার্সিটিতে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি ভাষাতে পড়াশোনার সুযোগ পেলেও তারা যে জার্মান জানে না, তা কিন্তু নয়৷ কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের জার্মান শেখানো হয় যাতে করে তারা জার্মান সমাজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে৷ আসগর জানান, বিনা পয়সাতেই তিনি জার্মান শিখছেন৷

কাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো টিউশন ফি নেই৷ গত ২০০৮ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবে প্রতি সেমেস্টারের জন্য ২৪২ ইউরো দিতে হয়৷ এছাড়া থাকা খাওয়ার যে খরচ সেটা ছাত্রছাত্রীরা পার্টটাইম চাকরি করেই পুষিয়ে নিতে পারে৷ বাংলাদেশি ছাত্র মো. আসগর হোসাইন নিজেও পার্টটাইম কাজ করে থাকেন৷

জার্মানিতে একজন নন ইউরোপিয়ান ছাত্র সাধারণ নিয়মে প্রতি বছর ১২০ দিন কাজ করার অনুমতি পায়৷ আর সেটা যদি পার্টটাইম হয় তাহলে তার পরিমাণ বছরে ২৪০ দিন৷ অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর কাজ করলে সেটি এই সময়সীমার মধ্যে পড়বে না৷ তাই ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে নিজের খরচ নিজেই চালানোটা খুব একটা কঠিন হয় না৷ সেই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আসগর, ‘‘ছাত্র হিসেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে৷ আমাকে এক সপ্তাহও বসে থাকতে হয় নি৷ তবে এর জন্য নিজের ওই বিষয়ে দক্ষতা দরকার৷ অন্যদিকে ঠিকমতো পড়াশোনা শেষ করতে পারলে এখানে চাকরি পেতে সমস্যা হবে না বলে আমার বিশ্বাস৷”

সব মিলিয়ে কাসেল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে৷ তাই পড়া শেষ করে এখানেই চাকরির সুযোগ খুঁজবেন বলে জানালেন বাংলাদেশি ছাত্র মো. আসগর হোসাইন৷

কাসেল শহর নিয়ে এই ডকুমেন্টরীটি দেখতে পারেনঃ

[youtube_sc url=”https://www.youtube.com/watch?v=biPcr_geUUM”]
Original Source: DW.de

Print Friendly, PDF & Email