• Home »
  • Life-in-Germany »
  • স্টুটগার্টের (জার্মানী) বাংলাদেশীদের সংহতি প্রকাশ

স্টুটগার্টের (জার্মানী) বাংলাদেশীদের সংহতি প্রকাশ

 

স্টুটগার্টের (জার্মানী) বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানরতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ।

কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানরতদের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষে স্টুটগার্টের বাংলাদেশীরা মিলিত হয়েছিল স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। নতুন প্রজন্মের অপ্রতিরোধ্য শক্তি আর প্রবীণের অনুপ্রেরণা নিয়ে ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছে বাংলার বিবেকের পুনর্জাগরণ, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রতিটি কোনে। শাহবাগ যখন ধিরে ধিরে তৈরি হচ্ছিল প্রজন্ম চত্তরে তখন স্টুটগার্টের বাংলাদেশীরা ঘোষণা করল এই পুনর্জাগরনের সাথে সম্পৃক্ততা।

Cover page 2

শনিবার দুপুর ২ টা থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন স্লোগান যুক্ত পোস্টার তৈরির কাজ। বিকাল ৫ টায় জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী আরম্ভ হয় । বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্টুটগার্টের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৬০ জন বাংলাদেশী এতে অংশ নেয়। অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে ছিল রাজাকার বিরোধী পোস্টার, কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সরূপ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন। `তীর হারা এই ঢেঊয়ের সাগর পাড়ি দেব রে´ গানের সাথে সাথে শেষ হয় প্রথম পর্ব। এর পর শুরু হয় সাক্ষাৎকার গ্রহন। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ তাঁদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। সকলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে তাঁদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রত্যেকের বক্তব্য ভিডিও ক্যামেরায় ধারন করা হয়। পরবর্তীতে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। আলোচনার এক পরযায়ে একজন অতিথি বলেন- ´রায় শুনে এতোটাই হতাশ যে, কিছু বলার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছি। এতোগুলো হত্যা করেও যে ফাঁসির হাত থেকে বেঁচে যায়, কিভাবে সেই রায় আমরা মেনে নেই। কোন অবস্থাতেই এই রায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি´।

https://www.facebook.com/video/embed?video_id=10151407733281390

543637_10200825199415991_685025425_n[1]6541_10200825211016281_47002194_n[1]539750_10200825224496618_2137500825_n[1]223408_10200825264097608_84313925_n[1]61750_10200825269297738_216124864_n[1]73432_10200825586505668_881573293_n[1]

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে স্বাধীনতার এই ৪২ বছর পর এসে গোটা জাতি যখন দল-মত নির্বিশেষে সঙ্ঘবদ্ধ, গন মানুষের এই গনজাগরণ সম্পর্কে আর একজনের ধারনা এমন- ´´তরুণরা আজ জেগেছে, এই জাতিকে এখন আর কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ অন্যান্য সকল সমস্যা সমাধানে সবাই আগিয়ে আসবে। আসলে সবার মনেই আলাদাভাবে আন্দোলনের শিখা ধিক ধিক করে জ্বলছিল। আজ তরুণরা একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে তার পূর্ণতা এনে দিলো´´।

এর পর প্রজ্বলিত মোমবাতি হাতে নিয়ে মানব বন্ধনের মধ্যে দিয়ে ৭১ এর শহীদদের প্রতি স্রদ্ধা জানিয়ে সংহতি প্রকাশের কর্মসূচী শেষ করা হয়।
তরুণদের প্রতি স্টুটগার্ট বাসীঃ তরুন প্রজন্ম আবার ফিরিয়ে এনেছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে। আমরা দূরে থাকলেও তোমাদের পাশে আছি সব সময়। এই আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কোনো নেতার আহ্বান ও দলের আয়োজন ছাড়াই সর্বস্তরের মানুষ ঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ এক অভাবিত ঘটনা। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের একটি রায় গোটা বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সত্যের মুখোমুখি। এ থেকে আমাদের আর পেছনে ফেরার উপায় নেই। এই লড়াই কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আবার জেগে উঠুক । আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তরুণদের।

 

প্রতিবেদনঃ তৌহিদ রাসেল, ইউনিভার্সিটি স্টুটগারট।

Print Friendly