আমার কিংবা তোমার নয়, আমাদের

 

গাড়ি কিংবা কম্পিউটার থেকে শুরু করে বই এবং অ্যাপার্টমেন্ট অবধি সবকিছুই এখন ‘শেয়ার’ হচ্ছে৷ ঠিক যেমন স্কুলে শিখেছিলাম আমরা, অন্যের সঙ্গে শেয়ার করাটাই ভালো৷ ব্যবসায়ীরাও এখন বুঝতে পারছেন, শেয়ার লাভজনক৷

‘এমনকি আমরা সাগরও দেখতে পেয়েছি’, উচ্ছ্বসিত গলায় বলছিলেন টোমাস কোলমান৷ ডয়চে ভেলের এই সাংবাদিক বাস করেন কোলন শহরে৷ মাঝেমাঝেই তিনি ভিনদেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর বাড়িটি কিছুদিনের জন্য বদল করেন৷ এই বদলাবদলির অংশ হিসাবে ইটালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বাড়িতে চার সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে এসেছেন তিনি৷ সেই বাড়ি থেকে সাগর দেখা যায়৷ হোটেলের চেয়ে অনেক সস্তায় থাকা যায় এভাবে৷

আরেকজনের কথা বলি৷ ব্রিটা মায়ার এবং তাঁর স্বামীও থাকেন কোলনে৷ তাঁরা একটি গাড়ি তাঁদের আরেক বন্ধুর সঙ্গে ‘শেয়ার’ করেন৷ ব্রিটা সপ্তাহান্তে গাড়িটি চালান৷ আর সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে সেটি ব্যবহার করেন তাঁর বন্ধু৷ অনলাইন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ব্রিটা মায়ারের কথা হচ্ছে, ‘‘কোলনে গাড়ি পার্ক করা খুব কঠিন৷ তাই এটি ভাগ করে চালানো আমাদের জন্য লাভজনক৷”

বলাবাহুল্য, শেয়ারের এই চর্চা শুধু টোমাস বা ব্রিটার মধ্য সীমাবদ্ধ নয়৷ বরং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ ধরনের শেয়ারের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করে থাকে৷ গাড়ি, বাড়ি থেকে শুরু করে বই পর্যন্ত সবই এখন অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা যায় খুব সহজেই৷ একজন কৃষকের পক্ষে এতবড় যন্ত্র ক্রয় সম্ভব নয়, কিন্তু শেয়ারের নীতিতে অনেকে মিলে একটি ব্যবহার করতে পারেন।

জার্মানির ভুপার্টালে অবস্থিত টেকসই ব্যবহার এবং উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান সিএসসিপি’র প্রধান মিশায়েল কুন্ডেট এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ইন্টারনেটের কারণে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খরচ এখন কমে যাচ্ছে৷ অনেকে স্মার্টফোনে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে জানতে পারছেন, তাদের প্রতিবেশিরা গাড়ি শেয়ার করে৷ অথচ বাস্তব জীবনে, প্রতিবেশিদের সঙ্গে হয়ত তাদের কখনো কথাই হয়নি৷”

অন্যের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য এবং সেবা শেয়ার করার এই চর্চা ইউরোপে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে৷ বিশেষ করে গ্রিসের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই চর্চা খুব বেশি৷ কুন্ডেট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য এবং সেবা শেয়ার ও বেচাকেনার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে বর্তমানে দু’শোর মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷

শেয়ারের এই চর্চা বেশ দ্রুতই বাড়ছে৷ ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, জার্মানিতে গাড়ি শেয়ারে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা এক লাখ নব্বই হাজার৷ অবস্থা এমন নয় যে, যারা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে, মানে ইন্টারনেটভিত্তিক ছোটখাট প্রতিষ্ঠানগুলো, শুধু তারাই এথেকে লাভ করছে৷ বরং বড় বড় ব্র্যান্ডও এখন যোগ দিচ্ছে শেয়ার বাণিজ্যে৷

মিশায়েল কুন্ডেট এই বিষয়ে বলেন, ‘‘বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই পথে নিম্ন-আয়ের মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছে, যাদের কাছে অন্য কোন উপায়ে হয়ত পৌঁছানো সম্ভব নয়৷ ফলে তারাও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, বিএমডাব্লিউ’র কথা৷ প্রতিবেশীদের গাড়ি শেয়ারিং প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে তারা৷”

২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, জার্মানিতে গাড়ি শেয়ারে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা এক লাখ নব্বই হাজার
.
অবশ্য শেয়ার বাণিজ্যের উত্থানের ফলে ক্ষতির আশঙ্কা করছে কোনো কোনো মহল৷ জার্মান হোটেল অ্যাসোসিয়েশন আইএইচএ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পর্যটকরা ব্যক্তি পর্যায়ে আবাসন শেয়ার করায় হোটেল ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমে যেতে পারে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান হোটেলগুলোতে পর্যটকরা প্রতিবছর গড়ে ৮৭ মিলিয়ন রাত কাটান৷
.
আইএইচএ প্রধান মার্কুস ল্যোথে আরো একটি কথা বললেন৷ সেটি হচ্ছে, ব্যক্তিপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াদাতা এবং অতিথি উভয়ের ঝুঁকি রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘যারা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেন, তাঁদের অধিকাংশই এক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় আনেন না, অথচ হোটেলে এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা হয়৷ অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা থাকে না বললেই চলে৷”
.
Source: dw.de
Print Friendly, PDF & Email

ফেসবুক মন্তব্যঃ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.