আলোকিত মুখঃ শফিক ভাই

 

“আলোকিত মুখঃ শফিক ভাই………

একজন “শফিক ভাই….

shafiq

মানহাইমে বাস করেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ি সি এল এস কম্পিউটার সলিউশন এর কর্ণধার। বিসাগের ধারাবাহিক পরিক্রমায় আজকে আমরা তুলে ধরব শফিক ভাইয়ের কিছু প্রবাস জীবনের কথা আর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

প্রশ্নঃ জন্ম তারিখ, জেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়?

শফিক ভাইঃ 


প্রশ্নঃ
মাস্টার্স জার্মানির কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে?২ অক্টোবর ১৯৬৬ , ঢাকায় জন্মগ্রহন করি।

শফিক ভাইঃ ১৯৮৬ সালে ল্যাঙ্গুয়েজ, স্টুডেন্ট কলিগ শেষ করে ১৯৮৯ সালে এফা মানহাইম ইউনিভার্সিটিতে, দাতেন টেকনিক (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ) পড়া শুরু করি। ১৯৯৩ সেপ্টেম্বরে পড়া শেষ করেন।

প্রশ্নঃ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোন বিশেষ ঘটনা?

শফিক ভাইঃ রেজাল্ট ঘোষণার  দিনে সবার সামনে প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের মুখে আমার প্রশংসা শুনা এবং দাতেন টেকনিকে পড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া (২৮ জনের মাঝে ১০ জন অনুযোগ্য)।

“প্রথম সেমিস্টারে ২৮ জনের মাঝে সবচাইতে খারাপ করি আমি এবং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয় যদি নেক্সট সেমিস্টারে কেউ খারাপ করে তাহলে দাতেন টেকনিক (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ) পড়তে পারবে না। তারপর প্রচুর মন খারাপের মাঝে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নেক্সট সেমিস্টারের জন্য প্রস্তুতি নিই। দ্বিতীয় সেমিস্টারে রেজাল্ট ঘোষণার সময় যখন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বলেন ২৮ জনের মাঝে সবার রেজাল্ট প্রথম সেমিস্টারের মত শুধু একজন ব্যতিক্রম তিনি হলেন শফিক”

প্রশ্নঃ বর্তমান অবস্থা এবং এই পজিশনে আসার পথ পরিক্রমা?

শফিক ভাইঃ দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ালেখার সময় নিজের কম্পিউটার আপগ্রেড করার জরুরী হয়ে পড়ে তখন জার্মানিতে বাসায় বাসায় বিনামূল্যে বিতরন করা পুরানো জিনিস ক্রয় বিক্রয় করার  পেপার থেকে বিজ্ঞাপন দেখে নতুন কম্পিউটার কিনি আর নিজের পুরানো কম্পিউটার বিক্রয় করে দিয়। এই থেকে আমার এই ব্যবসায় আসা এবং ছাত্র জীবনে পুরানো  কম্পিউটার ক্রয় বিক্রয় করার মাধ্যমে স্টুডেন্ট অবস্তায় এই ব্যবসায় ঢুকে পড়ি। ১৯৯৩ সালে পড়ালেখার শেষ করার পর পুরানো কম্পিউটার বিক্রয় করার ব্যবসা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয় আর প্রাতিস্তানিক  ব্যবসার চিন্তা শুরু করি এরই নিমিত্তে ১৯৯৪ নভেম্বেরে মানহাইমে একটা কম্পিউটার শপ নিয়ে সি এল এস কম্পিউটার নাম দিয়ে শুরু করি পথ চলা। তৎকালীন সময়ে কম্পিউটার ব্যাবহারকারীদের কাছে পরিচিত নাম ছিল সি এল এস কারন এইটি মাইক্রোসফটের সাথে জড়িত।

প্রশ্নঃ শুরুর দিকের কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সফলতা?

শফিক ভাইঃ ১৯৯৭ সালের একদিন অনেক গ্রাহক আমাকে ফোন করে অভিবাদন জানায় আমি তাদের অভিবাদনের কারন জানতে চাই তারা বলে আমার সি এল এস কম্পিউটার প্রথম স্থান অর্জন যেই নিউজ ঐদিন নিউজ পেপারে আসে। উল্লেখ্য সি এল এস কম্পিউটার বাকি নামীদামী প্রতিষ্ঠানকে পিছনে ফেলে কম্পিউটার টেস্টে শীর্ষ অবস্থান দখল করে। হাজার দুয়েক কোম্পানির মাঝে শীর্ষ ৫ টি কোম্পানি ডাক পায় এই টেস্টে এবং প্রতিবারে সি এল এস কম্পিউটার তাদর তালিকায় থাকে যেটা আমার জন্য  অনেক গর্বের। এর ধারাবাহিকতায় সি এল এস কম্পিউটার এখনো তার সুনাম বজিয়ে রেখে চলছে। সরকারি স্কুল কলেজ এবং প্রাদেশিক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট  সহ ইউরোপের দেশ “ ইতালি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ডে” আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা প্রসারিত।

প্রশ্নঃ বর্তমানে সি এল এস কম্পিউটারের শাখা এবং অফিস সহযোগির সংখ্যা ?

শফিক ভাইঃ অনলাইন শপ ছাড়া ও জার্মানির মানহাইম এবং কেফাহালেকে ২ টি শাখায় ২৯ জন অফিস সহযোগী তার মাঝে ৪ জন বাংলাদেশি সহ ২৭ জন আইটি বিশেষজ্ঞ বর্তমানে সি এল এস কম্পিউটারে কর্মরত। ইদানিং ৭ জন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে বাংলাদেশে ও সি এল এস কম্পিউটার কাজ শুরু করেছে।

প্রশ্নঃ বিসাগ এর মত (গত বছর প্রতি স্টুডেন্টকে ৫০ ইউরো দেওয়া ল্যাপটপ কেনার জন্য) সি এল এস কম্পিউটারে বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের জন্য কোন বিশেষ অফার আছে?

শফিক ভাইঃ সকল বাংলাদেশী ক্রেতাদের সব সময় ক্রয়মূল্যে কোন লাভ ছাড়া বিক্রয় করা হয়।

ব্যক্তিগত  জীবনঃ

প্রশ্নঃ আপনার পরিবার?

শফিক ভাইঃ এক সহধর্মিণী আর ২ মেয়ে একজনের বয়স ৭ আরেকজনের ৬, একজন ক্লাস ওয়ানে অন্য জন কে.জি তে । আমার স্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে পাস করেন। সবাইকে নিয়ে মানহাইমে বসবাস করছি।

প্রশ্নঃ শৈশব অনুপ্রেরনা?

শফিক ভাইঃ ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় কলেজ শিক্ষকের মুখে বাহিরে পড়ার গুরুত্তের কথা শুনে এখানে আসা।

প্রশ্নঃ একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা পেলে কি করতেন? শফিক ভাইঃ দুর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রশ্নঃ অন্য বিদেশীদের তুলনায় জার্মানিতে বাঙালীদের অবস্থান কেমন? শফিক ভাইঃ এককথায় ভাল।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশী স্টুডেন্টদের ব্যাপারে কোন সাজেশন  ?

শফিক ভাইঃ যারা আসতে চায় তারা যেন এজেন্সির মাধ্যমে না আসে, জার্মান প্রবাসী বাংলদেশি স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলে আসেন। আর যারা জার্মানিতে আছেন তারা যেন এমন কোন কাজ না করেন যার জন্য বাংলদেশের বদনাম হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জার্মানিতে আসার পথ বন্ধ হয়।

প্রশ্নঃ আপনার দৃষ্টিতে জার্মানদের কাছ থেকে শিক্ষণীয়  ? শফিক ভাইঃ সততা, দেশপ্রেম।

এক কথায় উত্তরঃ

প্রশ্নঃ প্রিয় মুখ? শফিক ভাইঃ আমার সন্তান। প্রশ্নঃ প্রিয় বই? শফিক ভাইঃ কোরআন শরীফ।

প্রশ্নঃ প্রিয় খেলা, খেলোয়াড়, দন? শফিক ভাইঃ ফুটবল, ম্যারাডোনা, আর্জেন্টিনা। প্রশ্নঃ প্রিয় রঙ? শফিক ভাইঃ সবুজ।

প্রশ্নঃ প্রিয় মুভি? শফিক ভাইঃ এই সব দিন রাত্রি।  প্রশ্নঃ প্রিয় গান? শফিক ভাইঃ দেশাত্মবোধক গান।

প্রশ্নঃ প্রিয় উক্তি, যদি থাকে? শফিক ভাইঃ জার্মানির একটা প্রবাধ আছেঃবিশ্বাস করা ভাল কন্ট্রোল আরও উত্তম।

প্রশ্নঃ প্রিয় খাবার? শফিক ভাইঃ মিষ্টি।

প্রশ্নঃ অবসরে প্রিয় কাজ? শফিক ভাইঃ রান্নাবান্না করা। প্রশ্নঃ প্রিয় ব্যক্তিত্ব? শফিক ভাইঃ ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস।

প্রশ্নঃ প্রিয় মুদ্রাদোষ? শফিক ভাইঃ মিষ্টি বেশি খায়। প্রশ্নঃ কোন জিনিসকে বেশি ভয় পান? শফিক ভাইঃ ভয় পায় না।

প্রশ্নঃ মানুষের কোন গুণ বেশি ঘৃণা করেন? শফিক ভাইঃ সমালোচনা করা।

প্রশ্নঃ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ গুণ? শফিক ভাইঃ সামনে পিছনে একই কথা বলার সাহস।

প্রশ্নঃ জার্মানিতে আপনার এই অবস্থানে আসার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?

শফিক ভাইঃ কয়েকজন আই বি এম এর ইঞ্জিনিয়ার।

প্রশ্নঃ সাফল্যের মূলমন্ত্র কি? শফিক ভাইঃ লক্ষ্য ও কঠিন পরিশ্রম।

কথোপকথনেঃ আদনান সাদেক, শফিক ইসলাম।

Print Friendly, PDF & Email