• Home »
  • Block-Account »
  • জার্মানিতে বাংলাদেশ থেকে ব্লক একাউন্টে টাকা পাঠানোর অভিজ্ঞতা

জার্মানিতে বাংলাদেশ থেকে ব্লক একাউন্টে টাকা পাঠানোর অভিজ্ঞতা

 

গত কয়েক মাস ধরে জার্মানিতে ব্লক একাউন্ট নিয়ে বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের উৎকণ্ঠার সীমা নেই! খুব সাধারন কিছু নিয়ম কানুন মেনে যোগাযোগ করলেই কিন্তু জার্মানিতে ব্যাংক একাউন্ট করা সম্ভব। কিন্তু আসল সমস্যাটা হয় তখন! যখন বাংলাদেশ থেকে জার্মান এম্বাসির নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা ক্রীত অর্থ জার্মান ব্যাঙ্কে পাঠাতে বলা হয়।

জার্মান এম্বাসি ঢাকা শাখার নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৮০৪০ ইউরোর সমপরিমান অর্থ দেখাতে হবে ছাত্র/ছাত্রীর জার্মান একাউন্টে, তাও ভিসা ইন্টারভিউ এর আগে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী আবার তারা এই অনুমতি দিবে ভিসা হবার পর। এই রকম অবস্থায়ও মুনশী আরিফ রশীদ সফল ভাবে জার্মান ব্যাঙ্কে টাকা পাঠাতে পেরেছেন এবং তাও ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে।

কিভাবে!

হ্যাঁ, তার ভাষ্য মতে তিনি মোটামুটি অনেক গুলো ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন এই ব্যাপারে, কিন্তু কোনো ব্যাংক তাকে সাহায্য করতে পারেনি। শেষমেশ কোনোএকভাবে তিনি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের গুলশান শাখার কর্তা ব্যাক্তিদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। এবং তিনি এবং তার এক বন্ধু মিলে গত ১০ই জানুয়ারী, ২০১৫ তারিখে গুলশানের ওই শাখায় যান, যেটা কিনা ওই ব্যাঙ্কের একটি এ/ডি শাখা। সেখানে তাকে বলা হয় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে এবং তারপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের ওই আবেদন পত্রটি বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে পাঠাবে অনুমোদনের জন্য।
মুনশী আরিফ রশীদ পরদিন ১১ই জানুয়ারী আবার যান ওই বাঙ্কে, গিয়ে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন এবং সাথে আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি প্রদান করেন। সেগুলো ছিলো-

  • বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের জি.এম বরাবর একটি আবেদন পত্র।
  • জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ভর্তির প্রমান পত্র।
  • এমব্যাসির স্টুডেন্ট ভিসার রিকোয়ারমেন্ট লিস্ট পেজ।
  • জার্মান ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফর্ম (রিফান্ড পলিসি লেখা যায়গাটা হাইলাইট করা)
  • জার্মান ব্যাঙ্কের বিস্তারিত বিবরন। যেটা জার্মান ব্যাংক পাঠয়েছিলো।
  • পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • আই.ই.এল.টি.এস এর সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।
  • সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।

এই কাগজ গুলো তিনি ব্যাঙ্কে প্রদান করেন। এবং তার পরদিন। অর্থাৎ ১২ই জানুয়ারী ব্যাংক মুনশী আরিফ রশীদের কাগজ পত্রের সাথে আরও একটি আবেদন পত্র যুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগের জি.এম বরাবর প্রেরন করেন। ঘুরতে ঘুরতে তার কাগজপত্রগুলো যখন জি.এম এর কাছ থেকে সহকারি পরিচালক এর কাছে যায় যাচাই করনের জন্য, তখন তারিখ ১৯শে জানুয়ারি। ২০শে জানুয়ারী সকালে ব্যাঙ্ক থেকে মুনশী আরিফ রশীদকে ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয় যে তার আরও কিছু কাগজ পত্র জমা দেয়া লাগবে। যেমন-

  • জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি এর তথ্য যেটা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে।
  • জার্মানিতে থাকা-খাওয়ার তথ্য যেটা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে।
  • মিউটুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের নিকট লেখা তার একটি অঙ্গীকার পত্র, যেটাতে ভিসা রিজেক্ট হলে টাকা ফেরত আনার ব্যাপারে মুনশী আরিফ রশীদকে অঙ্গীকার করতে হয়েছে।

তারা যত দ্রুত সম্ভব, এই সমস্ত কাগজপত্র যোগার করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কে নিয়ে দায়িত্তপ্রাপ্ত কর্মকরতাকে দিয়ে সত্যায়ন করে নিজেরাই বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের সহকারি পরিচালক এর কাছে চলে যান। যার কাছে তাদের ফাইল ছিলো। সেখানে যেয়ে নতুন কাগজপত্রগুলো প্রদান করার সাথে সাথে তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন করে বসলেন। সবকিছু সুন্দর করে গুছিয়ে বলার পরেও তিনি অনুযোগ করতে লাগলেন যে জার্মানির ইউনিভার্সিটির লোগোটা পরিস্কার না জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ভর্তির প্রমান পত্রে।। সাথে সাথে আরিফ রশীদ ইউনিভার্সিটির সাথে কথা বার্তা, এডমিশন লেটার এবং আরও যত কিছু যা ওই ইউনিভার্সিটির সাথে মেইলে আদান প্রদান হয়েছে সমস্ত ডকুমেন্ট তার মোবাইল থেকে দেখিয়ে দিলেন ভদ্র মহিলাকে। এতে তিনি একটু আশ্বস্ত হলেন এবং পরের দিন তাদের ফাইল ব্যাঙ্কের উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট অনুমোদনের জন্য স্থানান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

এরপর ২২শে জানুয়ারি, অর্থাৎ আরও দুই দিন পর আরিফ রশীদ  সেখানে যান এবং ওই ভদ্র মহিলার কাছে খোঁজ নিলে তিনি জানান তার কাছে ফাইল এখনও এসে পৌঁছায়নি। তিনি ২৫শে জানুয়ারি পুনরায় যেতে বললেন। তিনি ২৫শে জানুয়ারী গিয়ে জানতে পারলেন ডি.জি.এম সই করেছেন কিন্তু জি.এম এখনও সই করেননি। এরপর ২৬শে জানুয়ারী তারিখে তিনি বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে গিয়ে যানতে পারলেন যে, তার ফাইল জি.এম সই করেছেন। এবং তিনি সেখান থেকে ওই অনুমোদন পত্রটি নিয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যঙ্কে গিয়ে জমা দেন। সাথে সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার টাকা জার্মান ব্যাঙ্কে স্থানান্তরিত করেন। এবং পরের দিন তিনি তার ব্লক একাউন্টের সার্টিফিকেট পেয়ে যান।

এবং তিনি আরও ব্যাক্ত করেন, যদি তার ভিসা কোনো কারনে রিজেক্ট হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের অনুমদন পত্রে তাকে জার্মান ব্যাঙ্ক থেকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের হিসাবে টাকা ফেরত আনার অনুমোদনও থাকছে।

সর্বোপরি মুনশী আরিফ রশীদ তার ভিসার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

লিখেছেনঃ মুন্সী আরিফ রশিদ

এসিস্টান্ট ম্যানেজার, আই.টি.  মাছরাঙ্গা টেলিভিশন

অনুবাদঃ মিঠুন মজুমদার

Print Friendly, PDF & Email