• Home »
  • BSAAG »
  • সায়েন্স স্ল্যাম : যেখানে বিজ্ঞান মানে আনন্দ

সায়েন্স স্ল্যাম : যেখানে বিজ্ঞান মানে আনন্দ

 

বিজ্ঞান অনেকের কাছে এত কঠিন এক বিষয় যে এর থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই পছন্দ তাঁদের৷ সায়েন্স স্ল্যাম তাঁদেরও টানছে৷ বিজ্ঞানীদের প্রতিযোগিতা দেখতে সদলবলে ছুটে আসছেন তাঁরাও৷

বিজ্ঞান নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রতিযোগিতা৷ দর্শকে ঠাসা অডিটোরিয়াম৷ হাজারখানেক দর্শকের কেউ গোমড়া মুখে বসে নেই৷ হাসিতে উজ্জ্বল মুখগুলো৷ বিজ্ঞানীদের কথা খুব মন দিয়ে শুনছেন তাঁরা, মাঝে মাঝেই ঘরের দেয়াল প্রায় ফাটিয়ে ফেলছেন হাততালিতে৷ ‘সায়েন্স স্ল্যাম‘ মানে বিজ্ঞান নিয়ে আনন্দ বিনিময়ের এমনই এক বাতাবরণ৷

সম্প্রতি কার্লসরুহেতে হয়ে গেল জার্মানির সায়েন্স স্ল্যামের ফাইনাল৷ জানেন তো সায়েন্স স্ল্যাম কিন্তু অনেকগুলো দেশেই হয় আজকাল৷ অস্ট্রিয়া, চিলি, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডে প্রতিবছরই হয় সায়েন্স স্ল্যাম৷ এর জনপ্রিয়তা এত দ্রুত বাড়ছে যে ভবিষ্যতে তালিকায় যে নতুন অনেক দেশের নাম যোগ হবে এ আপনি লিখে রাখতে পারেন৷

বিজ্ঞান অনেকের কাছে এত কঠিন এক বিষয় যে এর থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই পছন্দ তাঁদের৷ সায়েন্স স্ল্যাম তাঁদেরও টানছে৷

জনপ্রিয় হবে না কেন? সায়েন্স স্ল্যামে কঠিন বিষয় নিয়ে কঠিন কঠিন কথা বলতে মানা৷ দুটো খুব সহজ নিয়মে চলে এই প্রতিযোগিতা, এক, গবেষণাগুলো মৌলিক হতে হবে, দু্ই, কঠিন ভাষায় বেশি কথা বলা যাবেনা, সময় দশ মিনিট, এরই মধ্যে সবাইকে যতটা সম্ভব আনন্দ দিয়ে যা বলার বলে ফেলতে হবে৷

এবার জার্মানির সব অঞ্চল থেকেই কার্লসরুহেতে সায়েন্স স্ল্যাম দেখতে ছুটে এসেছিলেন হাজারেরও বেশি আনন্দপিয়াসী মানুষ৷ তাঁরা দর্শক, তাঁরাই বিচারক৷ বিজ্ঞানীদের কাজই হলো বিজ্ঞান খুব একটা না বোঝা এই মানুষগুলোকে মুগ্ধ করা৷ ফাইনালে ছিলেন সাতজন বিজ্ঞানী কাম কৌতুকাভিনেতা৷ বিজ্ঞানীদের কৌতুকাভিনেতার সঙ্গে মেলানোয় অবাক হবেন না৷ ফাইনালে পারফরম্যান্স সেরকমই ছিল তাঁদের৷ বিজ্ঞান নিয়ে তাঁরা এমনভাবে কথা বলেছেন যে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার জোগাড়৷

সবচেয়ে বেশি হাসিয়ে সবচেয়ে বেশি শ্রোতার মন জয় করার সুবাদে এবার সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞানী হেনিং বেক৷ পুরষ্কার নেয়ার সময় হেনিং বলছিলেন, ‘‘এভাবে মঞ্চে এসে বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি সবাইকে সহজ করে বুঝিয়ে বলা সত্যিই অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা৷ সব বিজ্ঞানীরই উচিত এমনভাবে কিছু করা যা সবার জন্য বোধগম্য হয়৷ আমরা তো সাধারণ মানুষের জন্যই গবেষনা করি৷”

জার্মান সায়েন্স স্ল্যামে এবার রানারআপ হয়েছেন পেটার ভেস্টারহফ৷ বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলে লোক হাসানোয় তিনিও খুব একটা কম যাননি!

[youtube_sc url=”http://www.youtube.com/watch?v=JUyipj7H_6M”]

এসিবি/এসি (ডিডাব্লিউ)

সোর্সঃ dw.de

Print Friendly, PDF & Email