• Home »
  • Costs-and-Fundings »
  • জার্মানির পথেঃ১৪ জার্মানিতে স্কলারশীপ (পর্ব-১)

জার্মানির পথেঃ১৪ জার্মানিতে স্কলারশীপ (পর্ব-১)

 

কেন জার্মানিতে স্কলারশীপ, টিএ, ফান্ডিং সীমিত!

উন্নত বিশ্বের উচ্চশিক্ষার গন্তব্যগুলোর মধ্যে জার্মানিই সেরা। অন্য অনেক কারন গুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে পাওয়া যায় – এই একটা কারনই যথেষ্ট। হ্যাঁ, জার্মানির ৯৮ শতাংশ ইউনিভার্সিটি যারা কিনা সরাসরি স্টেটের ফান্ডিং দিয়ে চলে, সেখানে কোন ধরণের টিউশন ফি নেই। এই অভূতপূর্ব নিয়মের কারণে বলা যায় যে, সকল বিদেশী ছাত্রছাত্রী জার্মানিতে এক ধরণের স্কলারশীপ নিয়ে পড়াশোনা করে। এরপরেও অনেকে জার্মানিতে স্কলারশিপ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করে। এই পর্বে জার্মানিতে স্কলারশীপ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের উত্তর লিপিবদ্ধ করার আশা রাখছি।

অনেকেই বুঝতে পারে না কেন বিদেশী ইউনিভার্সিটিগুলো আদৌ স্কলারশীপ দেয়। আমি নিজেও একসময় ভাবতাম মেধাবী ছাত্র হলে, ফলাফল ভাল হলে কিংবা টোফেলের ভাল স্কোর হলে বিদেশ থেকে আদর করে প্লেনের ভাড়া দিয়ে নিয়ে যায়। অনেক বছরের অভিজ্ঞতায় এখন বুঝতে পারি যে, স্কলারশীপ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্য এক ধরণের বিজ্ঞাপন বৈ আর কিছুই নয়। বাজারে পণ্য বিক্রি করলে যেমন প্রথম দশটা লটারি করে বিনা পয়সায় দেয়া হয়, আর সেই লোভে অনেকেই সেই পণ্য কেনে, তেমনি স্কলারশীপ বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্য ছাত্র ছাত্রী আকর্ষণ করার একটি উপায় মাত্র। দশজনকে বিনামূল্যে পড়িয়ে সেই বিজ্ঞাপন দিয়ে বাকি কয়েক হাজার বিদেশী ছাত্রছাত্রীর থেকে মোটা অংকের টিউশন ফি হাতিয়ে নেয়ার একটি চমৎকার মোড়ক হল স্কলারশীপ।

জার্মানি সেই দিক থেকে একটু ভিন্ন। যেহেতু এই দেশে টিউশন ফি নেই, সুতরাং বেশি বিদেশী ছাত্র আসলে ইউনিভার্সিটির কোন আলাদা মুনাফা নেই। একই কারণে ইউনিভার্সিটিগুলো কোন ধরণের রঙচঙা স্কলারশীপ বা ফান্ডিং এর বিজ্ঞাপন দেয় না। আমাদের বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রীরা আমেরিকা কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপন দেখে „ফান্ডিং সহ উচ্চশিক্ষা“ নামক পণ্য খুঁজতে অভ্যস্থ। তারা অনেকেই „হতাশ“ হয় জার্মানিতে কেন স্কলারশিপ খুব সীমিত এই কারণে।

ঠিক একই কারণে জার্মানিতে প্রফেসররা সরাসরি কাউকে টিএ বা রিসার্চ এসিস্টেন্ট ইত্যাদি কাজের ফাঁদে ফেলার চেস্টা করেন না। প্রফেসরদের কাজ হল গবেষণা করা, ক্লাস নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বেশি বেশি ফান্ডিং, বেশি মুনাফা –এইসব নিয়ে মাথা ঘামাতে গেলেই যে শিক্ষাব্যবস্থা এক ধরণের পন্যে পরিণত হয় সেটা আমেরিকা, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতন দেশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। [অনেকেই জানে না যে, এই দেশ গুলোর রাজস্ব আয়ের প্রথম কয়েকটি উৎসের মধ্যে একটি হল বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের দেয়া টিউশন ফি]। এই দেশ গুলোতে প্রফেসররা অনেকটা মুনাফা ভিত্তিক একেকটি ইন্সটিটিউট পরিচালনা করেন, সেখানে বেশি ছাত্র না পেলে গবেষণার জন্য টাকা পাওয়া যাবে না। সুতরাং বেশি বিদেশী ছাত্র পাওয়া তাদের সফলতার জন্য আবশ্যক।

সহজ কথায় বলতে গেলে, জার্মানিতে পড়াশোনা ফ্রি, সুতরাং স্কলারশীপ বা ফান্ডিং অথবা টিএ বা রিসার্চ এসিস্টেন্ট দেয়া এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গবেষণার জন্য সকল ইউনিভার্সিটি নূন্যতম সরকারি ফান্ডিং পেয়ে থাকে, সেটা বিদেশী ছাত্রছাত্রী শুন্য হলেও যা, কয়েক হাজার হলেও তা। সর্বোপরি পড়াশোনা এখানে এখনও পণ্য নয়, বরং একটি অধিকার। তারপরেও জার্মানিতে বেশ কিছু সরকারী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের সীমিত পরিমাণে বৃত্তি প্রদান করে। এদের মধ্যে ডাড (www.daad.de) উল্লেখযোগ্য। পরের পর্বে লিখব ডাডসহ এইসকল প্রতিষ্ঠানের স্কলারশীপ সুযোগ নিয়ে।

আদনান সাদেক, ২০১৫

অন্যান্য পর্ব ও লেখকের কথা

Print Friendly, PDF & Email
Adnan Sadeque
Follow me

Adnan Sadeque

লেখকের কথাঃ
http://bsaagweb.de/germany-diary-adnan-sadeque

লেখক পরিচয়ঃ
http://bsaagweb.de/adnan-sadeque
Adnan Sadeque
Follow me