• Home »
  • Higher-Study-in-Germany »
  • ধর্ষিত হয় কিন্তু পুরো জাতিঃ জার্মান প্রফেসরের ই-মেইল

ধর্ষিত হয় কিন্তু পুরো জাতিঃ জার্মান প্রফেসরের ই-মেইল

 

বছর দুয়েক আগে ইন্টার্নশিপের সুযোগ চেয়ে ভারতীয় এক ছাত্রের ই-মেইলের জবাবে জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির এক প্রফেসর ম্যাডাম আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে লিখেছিলেন,

“দুর্ভাগ্যবশত আমি ভারতীয় কোন ছাত্রকে এই ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনীত করবো না। ভারতের ‘ধর্ষণ সমস্যা’ নিয়ে আমরা অনেক শুনেছি, যা আমি সমর্থন করতে পারি না। আমার রিসার্চ গ্রুপে অনেক ছাত্রী কাজ করে, সুতরাং এ ধরনের আচরণ আমার গ্রুপেও হবার সম্ভাবনা থাকুক তা কাম্য নয়।“

সব ভারতীয়কে কেন এক কাতারে ফেলা হচ্ছে? – ছেলেটির এমন অভিযোগের জবাবে প্রফেসর লিখলেন, “এটা ঠিক যে কোন একক ব্যাক্তির উপর এটা প্রযোজ্য হওয়া বা সবাইকে এক কাতারে ফেলা উচিত নয়, কিন্তু এটা অবিশ্বাস্য যে কেন ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থা কয়েক বছরেও এই ধর্ষণ সমস্যার কোন সমাধান করতে পারছে না।“

তিনি আরও যোগ করেন, “সাম্প্রতিক গ্যাং-রেইপ গুলোই প্রমাণ করে যে নারীদের প্রতি সমগ্র ভারতের আচরন কেমন এবং এর প্রতিবাদেই তার এই প্রত্যাখ্যান“। (বঙ্গানুবাদ সূত্র: হাফিংটন পোস্ট, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে)।

বিষয়টা দিল্লিতে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত গড়ায়, প্রফেসর ক্ষমাও চান, কিন্তু ততক্ষণে পুরো বিশ্বমিডিয়া জুড়ে ভারত নামক দেশটির ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে।

rape2

জার্মানিতে কোন মেয়ের দিকে কু-দৃষ্টিতে তাকালে, কারো কাপড় টেনে ধরলে বা বিনা অনুমতিতে কোন যৌনকর্মীর গায়ে হাত দিলেও সেটা ধর্ষণ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। নববর্ষবরণ উৎসবের রাতে কোলন শহরের সেই ধর্ষকদেরকে এখনও হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছে জার্মান পুলিশ, ধরে এনে বিচার করে শাস্তিও নিশ্চিত করেছে অনেকের। নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে অভিযুক্ত বিদেশী শরণার্থীদেরকেও।

জার্মানির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য দেশের মতো টিউশন ফি নেই বলে অসংখ্য বাংলাদেশী, ভারতীয়, চাইনিজ ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে আসে এবং সংখ্যাটা দিনকে দিন বাড়ছেই। আমাদের দেশেও এমন খারাপ কোন সংস্কৃতি চালু হওয়া উচিত না যাতে বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগটা বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্রমশ রুদ্ধ হয়ে যায়। ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ের একসাথে ট্রেনের নীচে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যার খবরটা আজকেও শুনলাম এক কলিগের কাছ থেকে!!

ট্রেনে-বাসে গন-ধর্ষণ ছাড়াও মেয়ে ভ্রুন মেরে ফেলা, যৌতুকের কারনে আত্মহত্যা, গরুর চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্যহীনতা, খোলা মাঠে প্রাকৃতিক কাজ সারা, অর্থাভাবে লাশ কাঁধে নিয়ে দৌড়ানো – এগুলো বিদেশের মাটিতে আজও ভারতের কলঙ্ক। অবাধ মিডিয়ার কল্যাণে কিছুই আর চাপা থাকে না। পারমাণবিক বোমার অধিকারী দেশের অবস্থা দেখে জার্মান কলিগরা যেমন আফসোস করে, তেমন হাসাহাসিও করে।

তবে ভারতীয়রা কিন্তু কলঙ্কগুলো মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক আলোচিত ধর্ষণের বিচার তারা করেছে বা করছে। সেখানে টাকার কুমির অভিনেতাও বিরল প্রজাতির চিত্রল হরিণ মেরে আদালতে দৌড়ের উপরে থাকে, অস্ত্র-মামলায় ৫ বছর জেল খাটে আরেক বলিউড অভিনেতা, সাত বারের মুখ্যমন্ত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগে সংসদ অধিবেশন থেকেই গ্রেফতার করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।

নেইল-পলিশ থেকে শুরু করে পাখি ড্রেস আর বলিউডকে হুবহু নকল করতে পারলে যেকোন ধর্ষণ ঘটনার বিচারের দাবীতে সমগ্র ভারতের মতো কেন উত্তাল হতে পারে না বাংলাদেশ? কেন সবাই ধর্ষিতারই দোষ খুঁজতে ব্যস্ত?

বাংলাদেশের ‘কান্ট্রি ব্রান্ডিং’ হউক তৈরি-পোশাক দিয়ে, আইটি, কৃষি, ঔষধ, চামড়াজাত পণ্য দিয়ে, লঞ্চডুবির বা ধর্ষণের দেশ হিসেবে নয়, বিচারহীনতার দেশ হিসেবে নয়।

আর যারা মেয়েদেরকে ফার্নিচার, মিষ্টি, লোভনীয় ফল মনে করে ঢেকে রাখতে বলে, তারা যে প্রকারান্তরে নিজেদেরেকেই ময়লা, মাছি আর পোকার পর্যায়ে ফেলে তা কি তারা জানে? এরাই ধর্ষণের জন্য মেয়েদের ড্রেসকে দায়ী করে, এরাই পারলে দেশের সব মেয়েকে চালের ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে।

এই এরাই আবার বিদেশে পা দিয়েই খোঁজে নাইটক্লাব, ম্যাসাজ পার্লার, ন্যুড বিচ, সেলফি তোলে প্রস্রাবরত উলঙ্গ মূর্তির ফোয়ারার সামনে দাঁড়িয়ে, খুঁজতে থাকে মেয়ে-মহিলা-বৃদ্ধা যাতে বিয়ে করে হলেও স্থায়ী হওয়া যায়, বসে বসে খাওয়া যায় সোশ্যাল বেনিফিটের টাকা।

চোখ দিয়ে, মুখ দিয়ে এবং চিন্তাতেও যারা ধর্ষণ করে, তারাও ধর্ষক। আধুনিক শিক্ষাব্যাবস্থা আর আইনের কঠোর প্রয়োগেই আসবে সভ্যতা, মিলবে মুক্তির পথ।

খাজা রহমান, লাইপজিগ, জার্মানি
১২/০৫/২০১৭

Print Friendly, PDF & Email