• Home »
  • Block-Account »
  • ব্লক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো – বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

ব্লক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো – বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

 

জার্মান শিক্ষাভিসা প্রার্থীদের জন্য ব্লক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো একটি বড় সমস্যা। অনেকে ঝামেলা এড়াতে অবৈধ পথ অবলম্বন করেন। কিন্তু একটু ধৈর্য ধরে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কোন ঝামেলা ছাড়াই পাঠানো যায় ব্লক অ্যাকাউন্টে টাকা।

আসুন আমরা যেনে নেয় কিভাবে Mutual Trust Bank Ltd আমাদের এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারে।

অধ্যায় ১. তথ্য সংগ্রহ

প্রথমে আপনি এই তালিকার সবগুলো কাগজপত্রের প্রিন্ট/ফটোকপি সংগ্রহ করুনঃ

  1. Certificate of Admission(Offer Letter)
  2. Statement of Living Cost – থাকা খাওয়া এবং যাবতীয় খরচের একটি অনুমানিক নমুনা
  3. জার্মান দুতাবাসের শিক্ষাভিসা আবেদনের নিয়মাবলী (Student-visa-instructions)
  4. Deutsche Bank থেকে প্রাপ্ত আপনার ব্লক অ্যাকাউন্টের(ইংরেজিটা) বিবরণী(Account Information)
  5. ব্লক অ্যাকাউন্ট ফর্মের প্রথম দুই পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় পৃষ্ঠার রিফান্ড নিয়ম হাইলাইট করা (DBA-Refund Policy)

Statement of Living Cost/Expense যদি না থাকে, তাহলে Admission Office এ চাইলেই, তারা একটি PDF পাঠিয়ে দিবে।

আপনার যদি বাবা/মা অথবা নিকট সম্পর্কের কারও MTBL অ্যাকাউন্ট না থাকে তাহলে নিম্নে উল্লেখিত কাগজপত্র এবং আপনার নমিনিকে(বাবা/মা/ভাই/বোন যে কোন একজন) সাথে নিবেনঃ

  1. আপনার ৩ টি পাসপোর্ট ছবি
  2. আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  3. আপনার নমিনির ১ থেকে ২ টি পাসস্পরত ছবি
  4. নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  5. প্রাথমিক আমানত (১০,০০০ নিলেই হবে, তবে কম/বেশি হতে পারে)

এবার এগুলো নিয়ে সরাসরি চলে যান ১২০. গুলশান এভিনিউ, Mutual Trust Bank Ltd.
গিয়ে রিসেপশানে বলতে পারেন যে আপনি বাইরে পারতে যাবেন এজন্য টাকা পাঠাতে চান। অথবা সোজাসুজি গিয়ে বলবেন আপেল ভাইয়ের সাথে দেখা করবেন অথবা সায়লা আপু।

অধ্যায় ২. একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা

আপনি আপেল ভাই বা অন্য যার কাছে যাবেন তাকে খালি বললেই হবে যে জার্মানি পড়তে যাচ্ছেন, এখন টাকা পাঠাতে চাচ্ছেন। দেখবেন উনি আগ্রহ সহকারে আপনার কাগজ গুলো দেখবেন এবং জিজ্ঞাস করবেন যে এই(MTBL) ব্যাংকে আপনার কারো অ্যাকাউন্ট আছে কিনা। থাকলে আপনি “অধ্যায় ৩” দেখুন, না হলে পড়তে থাকুন।

এবার উনি আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে বলবেন এবং “অধ্যায় ১” এর দ্বিতীয় তালিকার কাগজপত্র জমা দিতে বলবেন। যদি কোন কাগজ নিতে ভুলে যান বা কোন অতিরিক্ত কাগজ লাগে তাহলে আপনি ওগুলো আগামিকাল বা পড়ে জমা দিবেন, এই ওজুহাতে আপনার সঞ্চয়ী হিসাবটি খুলে ফেলবেন।

অধ্যায় ৩. স্টুডেন্ট ফাইল এর যাত্রা

আপনার অ্যাকাউন্ট খোলা শেষ, এবার জরুরী কাজ। প্রথমে আপনার স্টুডেন্ট ফাইল নিয়ে যত প্রশ্ন আছে সব জিজ্ঞাসা করে নিবেন। তারপর ওনাকে(অফিসার) বলবেন আপনাকে স্টুডেন্ট ফাইল এর জন্য কি কি জমা দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে। যেহেতু আপনার কাছে সব দরকারি কাগজপত্র আছে, আপনি এটার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্থুত।

এবার উনি আপনাকে “অধ্যায় ১” এর প্রথম তালিকার কাগজপত্রের সাথে নিচের অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলবেনঃ

  1. MTBL ম্যানেজার বরাবর একটি ‘Letter of Undertaking’
  2. বাংলাদেশ ব্যাংকের G.M. বরাবর একটি অনুমতির আবেদন
  3. আপনার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের(SSC/HSC/Bsc/Msc..) ফটোকপি
  4. আপনার IELTS পরীক্ষার সনদের ফটোকপি
  5. আপনার সাম্প্রতিক পাসপোর্টের ফটোকপি
  6. স্টুডেন্ট ফাইল খোলার ফি(এটা ব্যাংক থেকে যেনে নেয়া ভাল)

আবারও উল্লেখ্য যে উপরের শবগুলো বা বেশি/কম লাগতে পারে, কিন্তু এগুলাই লেগেছিল।

নমুনাঃ

  • Letter of Undertaking – এই লিংক (Sample: Letter of Undertaking) থেকে আপনি একটি নমুনাপত্র পাবেন, যেটায় আপনার তথ্য দিয়ে প্রিন্ট করলেই হবে, বাকি প্রয়োজনীয় বিষয়াদি আগে থেকেই লিখা আছে। একটি পূরণ করা নমুনা এই লিংকে দেয়া হল – Filled: Letter of Undertaking
  • বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন – এই লিংক (Sample: Application to BD Bank) থেকে নমুনাপত্রটি নামিয়ে, আপনার তথ্য দিয়ে প্রিন্ট দিন। একটি পূরণ করা নমুনা এখানে আছে – Filled: Application to Bangladesh Bank
  • স্টুডেন্ট ফাইল দুয়ে টাকা পাঠাতে একটি বিশেষ ফর্ম পূরণ করা লাগে, যা আপনাকে ব্যাংক থেকে দেয়া হবে। এই ফর্মের নমুনা এখানে দেখতে পারেন – (Sample: Student File Money Transfer Form)

এবার আপনার সব কাগজপত্র তৈরি, এগুলো ব্যাংকে জমা দিলে, ব্যাংক এগুলো একটি ফাইল করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁঠিয়ে দিবে। এবার প্রহর গোণার পালা। যদি সব(কাগজপত্র) ঠিক থাকে, তাহলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার অনুমতি এসে যাবে। মোটামুটি ১০ দিন পর ব্যাংকে(MTBL) ফোন দিয়ে জেনে নিবেন আপনার কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পাঠিয়েছে কিনা।

অধ্যায় ৪. টাকা তুমি কৈ যাও?

এবার আপনার কাজ হল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে কত টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা করবেন তা জেনে নেয়া। অনেকে ভাবেন, কি দরকার, xe.com থেকে ওইদিনের রেট দেখে ৮০৯০ এর সমপরিমাণ টাকা জমা করলেই হবে। কিন্তু বিষয়টা এরকম না। ব্যাংক প্রতিদিনের এক্সচেঞ্জ রেটের উপর আরও ১ থেকে ২ টাকা যোগ করে। কারণ হল, ব্যাংক আপনার কাছে ইউরো বিক্রয় করতেছে, তাই তাদের এক্সচেঞ্জ ফি ও নিজস্ব লাভ হিসেবে একটু বাড়িয়ে ধরে, নাহলে ব্যাংককে নিজের পকেট থেকে এগুলো দিতে হবে।

যাইহোক, যে অফিসার আপনার স্টুডেন্ট ফাইল খুলেছেন তার কাছ থেকে যেনে নিবেন কত টাকা জমা করতে হবে। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে একেকজন একেক দিন একেক পরিমান জমা দিচ্ছেন, যেমন ধরেন আমাদের এক বড় ভাই জমা দিয়েছিলেন ~৮,০৯,০০০, আবার আমরা দিয়েছি ~৭,৫০,০০০। তাই আগে অন্যরা কত জমা দিয়েছিলেন তা চিন্তা না করেই ভাল। তো আপনাকে অফিসার যে পরিমাণটি জমা দিতে বলেছেন, সেটা জমা দিয়ে অফিসার কে জানালে উনি আপনাকে একটি চেক বা ত্রান্সফার অর্ডার দিতে বলবেন। তারপর কিছুক্ষণ বসে থেকে সব কাজশেষ করে একটা স্থানান্তর স্লিপ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসবেন। আপনার আর কোন কাজ নাই। ঠিক ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপনি Deutsche Bank AG থেকে একটি টাকা প্রাপ্তি স্বীকারক্তি ফাইল পাবেন আপনার ইমেইলে। এটা দেখতে কেমন তার একটি নমুনা এখানে দেখুন – Letter of Confirmation for Block Money। এটা সযত্নে প্রিন্ট করে ভিসা সাক্ষাৎকারের দিন নিয়ে যাবেন।

এই হল সব কথা। বিষয়টা অতো কঠিন নয়, একটু শ্রম ও সময় দিলেই সম্ভব।

কৃতজ্ঞতাঃ

১. মুন্সী আরিফ রশিদ ভাই – উনি আমাদের উপরে দেয়া আবেদনপত্র গুলোর Template দিয়েছেন
২. নাজিয়া আপু – নমুনা তথ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য
৩. পল্লব ভাই – আমাদের দুর্দিনে MTBL এর খোঁজ দেয়ার জন্য
৪. আপেল ভাই – ইনিই আমাদের মহৎ ভাই যিনি MTBL এ আমাদের স্টুডেন্ট ফাইল নিয়ে সাহায্য করে গেছেন
৫. সায়লা আপু – ইনি আমাদের আপু সমাজের স্টুডেন্ট-ফাইল নিয়ে সাহায্য করেন MTBL এ।
৬. আরও অনন্যা যাদের নাম ভুলে গেছি।

Print Friendly, PDF & Email