মানহাইমঃ বর্গক্ষেত্রের শহর।

 

দ্বিতীয় দর্শনের প্রেম হল মানহাইম। সর্বপ্রথম আপনি এখানকার হিম ধূসর দেয়াল সমৃদ্ধ ভবনগুলো দেখে মুগ্ধ হবেন। তারপর আপনি শহরের চারুত্ত  এবং সৌন্দর্যে বিমোহিত হবেন। “Söhne Mannheims” ব্যান্ড তাদের গান “Meine Stadt”  (আমার শহর) এ গেয়েছেন “Believe me, I’m staying here” এবং আসলেই তাই।

Schloss Mannheim

Schloss Mannheim

মানহাইম শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যানঃ

অধিবাসীঃ ২৯১,০০০ জন

শিক্ষার্থীঃ ১৮,৯০০ জন

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ৫ টি

মাসিক ভাড়াঃ ৩০২ ইউরো

ওয়েবসাইটঃ www.mannheim.de

মানহাইম শহরে আপনাকে স্বাগতম

“মানহাইম২” শহরটি নিজেকে এভাবেই উপস্থাপন করে। মানহাইম এর সাথে গনিতের কোন সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আছে সিটি সেন্টারের  অনন্য বিন্যাসের সাথে। শহরের রাস্তা গুলো গ্রিড প্যাটার্নের। রাস্তার ব্লক গুলো ঘোড়ার ক্ষুরের আকৃতিতে একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ কে ঘিরে রয়েছে। বিখ্যাত প্রাসাদটি বর্তমানের সব বাসাবাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ঠিক মাঝখানে রয়েছে। এটি অস্বাভাবিক লাগতে পারে যে এই শহরের রাস্তার কোন নাম নেই, শুধু কতগুলো অক্ষর ও সংখ্যার মিলনে রাস্তার নাম রাখা হয়েছে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় রাস্তার নাম C1,L5 ইত্যাদি। এই পদ্ধতি রাস্তা খোঁজার জন্য বেশী উপযোগী কারন আপনাকে কঠিন কোন রাস্তার নাম মনে রাখতে হয় না।

Street sign

Street sign

মানহাইমের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে আপনার নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হবে। আপনি যদি কোন লেকচার ঐতিহাসিক প্রাসাদে পান, তাহলে এর চমৎকার হলগুলোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন। এটি একটি বিশেষ অনুভূতি। তবে আপনি অন্য সময়ও প্রাসাদটি দর্শন করতে পারবেন। শুধুমাত্র তখনই ফী দিতে হবে যখন আপনি জাদুঘরের ভিতর দেখতে চাইবেন।

শহরের মধ্য দিয়ে বেড়ানোর সময় একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন মানহাইম কতটা সবুজ। এখানে অনেক পার্ক রয়েছে, যেগুলো লোকজনদের আকর্ষণ করে, বিশেষ করে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে । স্থানীয়রা প্রায়ই শপিং করতে গিয়ে Wasserturm এর রাস্তা ধরে পায়চারি করে ।

Water tower

Water tower

Friedrichsplatz জায়গাটি Wasserturm এর পাশেই অবস্থিত। শহরে ঘোরাঘুরি করার পর আপনি এই ফোয়ারার সামনে এসে শীতল হতে পারেন। কিছুটা সামনেই অবস্থিত Luisenpark , যেটিকে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর পার্ক বলে বিবেচনা করা হয়। পার্কে  ঢোকার সময় কিছু প্রবেশমূল্য দিতে হয় । ঢোকার পর আপনি পার্কের সবুজ গাছপালা, চাইনিজ বাগান ও পশু-পাখি দেখে মুগ্ধ হবেন।

আপনি মানহাইম শহরকে উপর থেকে দেখতে চাইলে টেলিভিশন টাওয়ারে যেতে পারেন। তখন আপনি শুধুমাত্র পুরো শহরটাই না রাইন নদী এবং নেকার নদীও নিজের পায়ের নিচে অনুভব করবেন। ক্ষণিকের জন্য হয়তো আপনি প্রতিবেশি শহর Heidelberg এবং Ludwigshafen এর দেখা পেতে পারেন।

mannheim-palace

Mannheim Palace

মানহাইম শহরে বসবাসঃ

আপনি যদি শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ শহর খুঁজেন তবে মানহাইম হচ্ছে একটি উপযুক্ত শহর।এখানে ২৩০ টিরও বেশি রেস্তোরাঁ আছে যেখানে মোটামুটি যুক্তিসম্মত দামে খাবার খাওয়া যায়। রেস্তোরাঁ এবং জলখাবার বারগুলো প্রায়ই শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় দেয়। আপনি একটি ডোনার কাবাব অথবা সালাদ নিতে পারেন ৩ ইউরোর কম দামে। নিরামিষ ভোজীরা সিটি সেন্টারের Vogelfrei ক্যাফেতে সাক্ষাৎ করে যেখানে অনেকসময় সুস্বাদু মধ্যাহ্ন ভোজ মাত্র ২.৫০ ইউরোতে পাওয়া যায়।

ক্যাফে Sammo  অথবা ক্যাফে Vienna তে ভরাট খাবার খাওয়ার পর আপনি কেনাকাটা করবেন যতক্ষণ না আপনি Planken এর সব দোকান এবং বুটিক গুলো দেখে শেষ করছেন এবং Jungbuschviertel পুরপুরি দেখে শেষ করছেন।

Jungbuschviertel

Jungbuschviertel

উদ্যমী সংগীত শিল্পীরা এখানের Popakademie তে অধ্যয়ন করে এবং শহরের এই অংশে বসবাস করে। আপনি এখানে একটি কক্টেল পার্টি উপভোগ করতে পারেন এখানের অনেকগুলো বারের যেকোনো যেকোনো একটিতে যেমন Hagestolz এবং Hagestolz; সাথে শুনতে পারেন  ব্যান্ড এর নতুন গান গুলো।

যদি আপনি আরও বড় কোন অনুষ্ঠান পছন্দ করেন তাহলে আপনি পাশের বড় শহরে যেতে পারেন। সেখানে আপনি কনসার্ট, চলচ্চিত্র এবং সরাইখানার সন্ধ্যার নাচ গান এ উপস্থিত হতে পারেন।

মানহাইম শহরের মানুষ রাইন বা নেকার নদীতে সময় কাটাতে ভালবাসে। বেড়ানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। আপনি এখানে আপনার বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং নদীর বিপরীত দিকের শিল্প কেন্দ্র গুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।একদিকে প্রকৃতি ও পাবলিক পার্ক অন্যদিকে শ্রমিকরা জাহাজে মাল উঠাচ্ছে, এই বৈপরীত্য শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।মানহাইম এ অনেক ক্রীড়া প্রেমির দেখা পাওয়া  যায় বিশেষত সপ্তাহিক ছুটির সময়। শহরটির মানুষগুলো আইস হকির জন্য পাগল তারা তাদের প্রিয় দলকে SAP এরিনা তে উৎসাহ দেয়।

সান্দ্রা ফ্রাদ্রাইশ এর টিপসঃ

আপনার অবশ্যই Schneckenhof এ পার্টি করা উচিৎ, যেখানে মানহাইম এর কিংবদন্তী বিশ্ববিদ্যালয় এর পার্টি গুলো উদযাপন করা হয়। আপনাকে টিকেটগুলো আগে থেকে নিশ্চিত করতে হবে কেনোনা উন্মুক্ত পার্টি গুলোর টিকেট খুবই তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে যায়।

তুর্কির সেভিলে আহান এর সাথে সান্দ্রা ফ্রাদ্রাইশ এর সাক্ষাৎকার

২২ বছর বয়সী সেভিলে আলহান মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিয়য়ে অধ্যয়ন করছেন।

 Sevilay Alhan

Sevilay Alhan

সান্দ্রাঃ আপনি কেন ম্যানহাইমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ?

সেভিলেঃ আমি আসলে ইটালি তে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম ইটালিতে টিউশন ফি আছে কিন্তু জার্মানিতে নেই তখন আমি জার্মানিকে বেছে নেই বিশেষত মানহাইম কে। এছাড়া জার্মানি ও তুর্কির দূরত্ব কম যেটি আমার পরিবারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সান্দ্রাঃ আপনি কোন সমস্যায় পড়েছিলেন যখন আপনি প্রথম ম্যানহাইমে এসেছিলেন?

সেভিলেঃ আমি জার্মানিতে আসি ফেব্রুয়ারী মাসে। সেটি ছিল আমার জীবনের অনুভব করা সবচেয়ে  ঠাণ্ডা  আবহাওয়া। তাই আপনি যদি কোন উষ্ণ দেশ থেকে আসেন, আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে, D`vniY¯^iƒc সাথে গরম কাপড় আনতে হবে।

সান্দ্রাঃ বাসস্থান খুঁজে পাওয়াটা কি কঠিন ছিল?

সেভিলেঃ এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে যেটি শিক্ষার্থীদের বাসস্থান খুজতে সাহায্য করে। আমিও সেভাবেই পেয়েছিলাম।

সান্দ্রাঃ আপনার কি কোন পার্ট-টাইম চাকরি ছিল?

সেভিলেঃ আমি কোন চাকরি করি নাই যখন আমি জার্মানিতে পড়ছিলাম। যদি আপনি জার্মানির শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি চাকরি করার জন্য অনুমতি পাবেন। যদি আপনার সময় থাকে তাহলে আপনি নিজের খরচ চালাতে পারবেন চাকরি করে, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে খোঁজ রাখতে পারেন কাজের জন্য।

View on the city

View on the city

সান্দ্রাঃ ম্যানহাইমে থাকার সময় কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে?

সেভিলেঃ আমি বিস্মিত হয়েছিলাম মানহাইম এর মার্কেটগুলো দেখে। স্থানীয়রা একে ছোট স্তানবুল বলে ডাকে, যেটি আমার কাছে অনেক মজাদার লেগেছিল। অনেক তুর্কীর অধিবাসী এখানে বাস করে এবং বেশিরভাগ দোকানগুলো তাদের। আমি আগেই জানতাম যে প্রচুর তুর্কীর জার্মানিতে বাস করে, তবে আমি কল্পনাও করি নাই যে ম্যানহাইমে এত সংখ্যক থাকবে। একজন তুর্কি হওয়ার দরুন এটা আমার জন্য অনেক সুবিধা ছিল, কেনোনা আমি সব কিছু খুঁজে পেতাম যা আমি বাড়িতে বসে পেতাম।

সান্দ্রাঃ আপনি মানহাইম এর কোন ব্যাপারটিকে সব চেয়ে বেশি পছন্দ করেন?

সেভিলেঃ মানহাইম হল সংস্কৃতির শহর। এখানে অনেক অভিবাসীরা বসবাস করছে এখন, মানহাইম এর জনগন বিদেশীদের সাথে থাকতে অভ্যস্ত। আমি মনে করি এটা সত্যিই দারুণ। তাই এটা কোন সমস্যাই না যদি তুমি জার্মান বলতে না পারো। প্রচুর মানুষ ইংরেজিতে কথা বলতে পারে।

সান্দ্রাঃ আপনি কি মনে করেন মানহাইম বিদেশীদের পড়ার জন্য একটি আদর্শ জায়গা?

সেভিলেঃ মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয় অনেক কিছু করে, বিশেষত ইরাসমাস শিক্ষার্থীদের জন্য। এখানে আপনি কম খরচে অনেক অনুষ্ঠানে যেতে পারেন। পার্টি থেকে শুরু করে পুরো দেশ ভ্রমণের, সব কিছুর অফার দেওয়া হয়। আমি মনে করি মানহাইম পড়ার জন্য সবচেয়ে ভাল জায়গা। আমি অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছি সেখানে এবং আমি অনেক মিস করি।

সান্দ্রাঃ উপসংহারে আপনি জার্মানিতে থাকার ব্যাপারে কি বলবেন?

সেভিলেঃ জার্মানিতে অধ্যয়ন এক কথায় অসাধারণ! আমার জন্য জার্মানি এমন একটি দেশ যেখানে আমি সব সময় ফিরে যেতে চাইব।

 

 

সূত্র: ‍study-in.de

অনুবাদক: আকিব রেজওয়ান অয়ন, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email