আমার সোনার বাঙলা

 

আমার সোনার বাঙলা
আমার সোনার বাঙলা, আমি তোমায় ভালবাসি

কিছুদিন ধরে, আমার কেবলই মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় সংগীত আমার সবচেয়ে প্রিয় গান।

প্রিয় বাঙলাদেশ তোমাকে আমি এই প্রথম চিঠি লিখছি। লিখছি কষ্টে, লিখছি আনন্দে। কষ্ট হচ্ছে কারন আমাদের দেশে বাস করেও কিছু মানুষ অন্য দেশের মানুষ জন কে আপন ভাবে। তারা নিজের সংস্কৃতিকে ভুলে অন্য ভাষা সংস্কৃতিকে ধারন করে এমনকি তারা নিজের মাতৃভাষাকেও নিজের মনে করে না। প্রিয় বাঙলাদেশ আমি তোমার সেইব অসুস্থ সন্তানদের কথা বলছি। আমি সেইসব রাজাকার আলবদরদের কথা বলছি। যারা ক্ষতবিক্ষত করেছে তোমাকে, তোমার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের করেছে হত্যা, করেছে ধর্ষণ, করেছে লুটপাট করেছে ধংস। সবচেয়ে বড় কথা তারা নিজের দেশ, নিজের মাতৃভূমির সাথে করেছে প্রতারণা।

আমরা খুব দুঃখিত বাঙলাদেশ, তোমার সাথে, বাঙলাদেশের মানুষের সাথে এই অন্যায় এর কোনো প্রতিকার আমরা করতে পারিনি ৪২ বছরেও। আমি খুব কষ্টের সাথে তোমাকে বলছি। সেইসব রাজাকার আলবদর যারা আমাদের দেশের শত্রু তারা আজকে রাজার হালে আছে। আর সেই সব শ্রেষ্ঠ সন্তান যারা তোমার অপমানের বদলা নেবার জন্য অস্ত্র তুলে নিলো হাতে তারা আজকে পথের ফকির। কেন এমন হলো? এমন স্বপ্ন তো আমরা দেখিনি। এই বাঙলাদেশ তো আমরা চাইনি। বাঙলাদেশ, আমরা পারিনি বদলা নিতে যারা তোমার সাথে তোমার সন্তানদের সাথে বেইমানি করলো , তোমার বুকে রক্তের নদী বইয়ে দিলো আমরা পারিনি তাদের শাস্তি দিতে।

প্রিয় বাঙলাদেশ, আমি খুব আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, তোমার উপর অবিচার যারা করেছে ৪২ বছর পর হলেও আমরা সেই সব মানুষ রূপী পশুদের শাস্তির ব্যাবস্থা করতে যাচ্ছি। প্রিয় বাঙলাদেশ আমি শাহবাগের সেই সব মানুষের কথা বলছি, যারা অন্যায় সহ্য করতে না পেরে দীর্ঘ্য ৪২ বছর পর রুখে দাড়িয়েছে। বাঙলাদেশ, তুমি তাকিয়ে দেখো তোমার সত্যিকারের সন্তানদের যারা আজ তোমার অপমানের শোধ তুলবে, বিচার করবে তোমার কুলাঙ্গার সন্তানদের।

শাহবাগে অবস্থানরত ভাই বোনদের বলছি, বাঙলাদেশ থেকে শাহবাগ থেকে আমরা যোজন যোজন দুরে বসবাস করি। আমরা এখন জার্মানিতে অবস্থান গত কারনেই আমরা আজ স্বশরীরে শাহবাগে যেতে পারছি না তবে মনে প্রানে আমরা তোমাদের সাথে একাত্ম হয়ে আছি। আমরা জার্মানীর স্টুটগার্টের বাঙালিরা একাত্মতা ঘোষনা করছি । স্টুটগার্ট বাদেও অন্য শহর থেকে তোমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করছে। নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের বাংলাদেশিরাসহ ব্রেমেন, হামবুর্গ, ফ্রাইবুর্গ, ফ্রাঙ্কফুর্ট, কাইজারস্লাউটার্ন ইত্যাদি শহরেও হয়েছে রাজাকার বিরোধী সমাবেশ।

আমি সবশেষে এটাই বলতে চাচ্ছি, অনেক ত্যাগ তীতিক্ষার ৯ মাস লড়াই এর পর আমরা আমাদের বাঙলাদেশ কে স্বাধীন করেছি। কিন্তু আমরা স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারিনি। যে স্বপ্ন ছিলো আমার পূর্বপুরুষদের । সাধারন কথায় বাঙলাদেশীরা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলো সেই স্বপ্ন সফল হয় নাই দীর্ঘ্য ৪২ বছরেও । স্বপ্ন সফল করার দ্বায়িত্ব আজ আমাদের।

আসুন আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ হই । মনে প্রানে দেশের মানুষ কে ভালোবেসে আবার আমরা স্বাধীন করি আমাদের মাতৃভূমি বাঙলাদেশ কে। এইবার আমাদের বাঙলাদেশ স্বাধীন হলে আর কোনোদিন , দেশের সাথে বেইমানি যারা করবে তাদের ঠাই হবে না।

বাঙলাদেশ হবে রাজাকার মুক্ত।

– শবনম হায়দার শর্মি

Stuttgart, Germany

Print Friendly