চিঠি

 

দেশে থাকতে অনেক গল্প শুনেছি অনেক কিছু পড়েছি জার্মানদের সম্পর্কে। তাঁরা অনেক ভদ্র-সভ্য জাতি, অনেক বন্ধু সুলভ, অনেক উপকারি। এখানে আসার প্রথম দিন থেকেই আমি এ গুলো বুজতে পেরেছি। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কানুন যার কোন কিছুই জানি না। চলা ফেরা করতে একটু অসুবিধা হওয়ার কথা, কিন্তু আমার কাছে সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না। দেশে থাকতে সাহায়্য চেয়ে ও পাওয়া যায় না, আর এখানে জার্মানদের কাছে সাহায্য চাওয়া লাগে, তাঁরা নিজেরাই এসে সাহায্য করে। এখন ও
পর্যন্ত কতবার সাহায্য নিয়েছি তা গুনে রাখি নি। খুব অবাক লাগে এই ধরনের ব্যাবহার। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ওদের কাছ থেকে যদি এটা শিখতে পারতাম তাহলে আমি ও কোন সাহায্য করার সুযোগ পেলে মিস করতাম না।

আজ একটা সুযোগ পেলাম। ক্যাম্পাসে যাব এমন সময় দেখি চিঠি ডেলিভার করতে এক মহিলা এসেছে ডরমে। সে রুম নাম্বার খুজতেছে। সব গুলো রুমের কলিং বেল এবং লেটার বক্স এক সাথে। নাম দেখে খুজে বের করতে তার একটু ঝামেলা হচ্ছিল। এটা বুঝতে পারার পর বললাম, আমি কি তোমাকে সাহায্য করতে পারি (ইংরেজিতে, জার্মান জানি না)। সে আমার নাম টা বিশ্রি ভাবে উচ্চারন করে বলল,আমি এর রুম খুজতেছি, ওর কলিং বেল বা লেটার বক্স কোন টা। বললাম তোমার হাতে যে চিঠি টা, ওটা আমাকে দিতে পার। আমার কথা শুনে মহিলা বেশ অবাক। এর মাঝেই আমি আমার আই ডি কার্ড টা বের করে দেখালাম এবং বললাম চিঠি টা আমার। এর পর মহিলা এক গাল হাসি দিয়ে কিছুক্ষন জার্মান বকতে থাকল। শেষের একটা লাইন বুঝলাম। গুটেন টাগ, চুস (শুভ দিন, বিদায়)।

এখানে আরেক টা ঘটনা ঘটতে পারত। আমি তাকে দেখে ও সোজা চলে গেলাম, মহিলা আমাকে কলিং বেল টিপে পেল না, এবং চিঠি টা লেটার বক্স এ ঢুকল না তাহলে আমাকে পোস্ট অফিস থেকে চিঠি টা আনতে হত। (যদি চিঠি টা লেটার বক্স এ ঢোকান যায় তাহলে কোন সমস্যা নেই) (চিঠি তে একটা হেডসেট+একটা ফিটনেস ব্যান্ড ছিল)।

আমাদের মনে রাখা উচিত আমাদের কাছে তাই ফিরে আসে যেটা আমরা দিয়ে থাকি।

#BSAAG_Life_in_Germany

 

Md Akter Hossain Badal

Zweibrucken, Germany

Print Friendly, PDF & Email