• Home »
  • Cities-in-Germany »
  • লাইপজিগঃগতিশীল, বৈচিত্র্যময় এবং প্রগতিপন্থী

লাইপজিগঃগতিশীল, বৈচিত্র্যময় এবং প্রগতিপন্থী

 

লাইপজিগ স্যাক্সনি রাজ্যের একটি বৃহৎ, গতিশীল শহর, যেটি অনেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকে।বিখ্যাত সব প্রতিষ্ঠান, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং পুরো এলাকা ঘিরে অনেক হ্রদ, শহরটিকে শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।লাইপজিগ তরুণদের কাছে খুবই জনপ্রিয় এবং মনোমুগ্ধকর একটি শহর।সংবাদপত্রে বেশ কিছু সাংবাদিক লাইপজিগ শহর সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রবন্ধে একে “Hypzig” উপনাম দিয়েছেন, এই নামটি “hype” এবং “Leipzig” শব্দ দুটির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে, শহরটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি অনেক বার্লিনবাসী এই স্যাক্সন শহরে বসবাসের জন্য চলে এসেছে। লাইপজিগের অনেক বিস্ময়কর দর্শনীয় স্থান ও দৃষ্টিগোচর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য আছে।উদাহরণস্বরূপ, সেন্ট থমাস বয়েজ গায়কদল, বিশ্বের প্রাচীনতম গায়কদলের একটি।৮০০ বছরের বেশি সময় ধরে এর অস্তিত্ত্ব রয়েছে। সুরকার যোহান সেবাস্চিয়ান বাখ লাইপজিগে বসবাস এবং কাজ করতেন , এমনকি সেন্ট টমাস গায়কদলকেও পরিচালনা করতেন, এবং তারা এখনও কনসার্ট সঞ্চালন করে।

Unitower

Unitower

লাইপজিগ শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যানঃ

অধিবাসীঃ ৫১০,০০০ জন

শিক্ষার্থীঃ ৩৫,৪০০ জন

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ৬টি

মাসিক ভাড়াঃ ২৫১ ইউরো।

ওয়েবসাইটঃ www.leipzig.de

 

সেন্ট থমাস চার্চ

সেন্ট থমাস চার্চ

বিখ্যাত শিল্পীদের একটি সংখ্যা শহরে বসবাস এবং কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, চিত্রশিল্পী Neo Rauch লাইপজিগ Baumwollspinnerei (তুলা মিল)এ তার স্টুডিওতে কাজ করে। Lindenau জেলার সাবেক কারখানার ভবনগুলোতে এখন অনেক সৃজনশীল স্টুডিও এবং গ্যালারী গড়ে উঠেছে। আপনি গ্যালারিতে প্রদর্শিত শিল্পীদের বিখ্যাত শিল্পকর্ম সমূহ দেখতে পারেন।

শহরের কেন্দ্রস্থলে ঐতিহাসিক শহর হলের পাশেই, আপনি Naschmarkt এ Alte Börse (Old Stock Exchange) দেখতে পাবেন। বিলাসবহুল Mädlerpassage সরুগলি এবং আবৃত চত্বরের মধ্যে , আপনি বিখ্যাত “Auerbach’s Cellar” দেখতে পাবেন।জোহান উলফগ্যাং ভন গোথে এই বিখ্যাত জায়গাটি সাহিত্যিক ক্লাসিক “Faust I” এর একটি দৃশ্যের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করেছেন।আপনি যদি কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন তাহলে, শহর হলের কাছাকাছি একটি বড় পথচারী এলাকায় প্রচুর দোকানপাট রয়েছে, যেখানে আপনি কেনাকাটা করতে পারেন।

সেখান থেকে খুব কাছেই, আপনি সেন্ট নিকোলাস চার্চ , Contemporary ইতিহাস ফোরাম এবং “Runde Ecke” স্মৃতি জাদুঘর দেখতে পাবেন।এই তিনটি জায়গার সবখানে, আপনি লাইপজিগ এর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবেনঃ ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানির জীবনধারা, শান্তিপূর্ণ বিপ্লব এবং জার্মান পুনর্মিলন ইত্যাদি।

Monument to the Battle of the Nations

Monument to the Battle of the Nations

শহরের দক্ষিণাংশের দৈত্যাকার “Monument to the Battle of the Nations” স্মৃতিস্তম্ভ ১৮১৩ সালে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রধান যুদ্ধের স্মৃতিরক্ষা করে। আপনি স্মৃতিস্তম্ভে প্রবেশ করতে পারেন এবং সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারেন।সেখান থেকে, আপনি সমগ্র শহর এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের সব রাস্তা দেখতে পারেন।

এছাড়াও আপনি সেখান থেকে লক্ষ্য করতে পারবেন লাইপজিগ কতটা সবুজ। লাইপজিগ Auwald উত্তর থেকে দক্ষিণে পুরো শহর জুড়ে প্রসারিত এবং শহরের মাঝখানে বিনোদনের জন্য দারুন একটি জায়গা। একটি দৈত্যাকার জলপথের নেটওয়ার্ক ক্রুশাকারে শহরজুড়ে রয়েছে।বেশকিছু নদী আঁকাবাঁকা পথে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য এই জলপথ তৈরি হয়েছে।এই নদী এবং হ্রদসমূহ শহরের দক্ষিণে অবস্থিত মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন লেকে গিয়ে মিলিত হয়েছে, যেমন Cospudener লেক, লাইপজিগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাঁতার কাটার জায়গা।

লাইপজিগ শহরে বসবাস

লাইপজিগের সাংস্কৃতিক জীবনধারা প্রধানত শহরের কেন্দ্রস্থল ঘিরে এবং Südvorstadt জেলা সাথে Karl-Liebknecht-Strasse থেকে Connewitz জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রচুর শিক্ষার্থী এইসব এলাকায় বসবাস করে। গ্রীষ্মের সময়, উষ্ণ সন্ধ্যায় আপনি বাইরে Barfussgässchen এর অনেক বার এবং পাবে রিল্যাক্স করতে পারেন। Schauspielviertel এর Gottschedstrasse তে অনেক জনপ্রিয়,প্রচলিতো ক্লাব এবং ক্যাফে আছে।

Conne Island, Haus Auensee এবং Moritzbastei লাইপজিগের সবচেয়ে সেরা ক্লাব এবং কনসার্টের হল।যদি আপনি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাহলে,শহরের কেন্দ্রস্থলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত ক্লারা যেটকিন পার্কে যেতে পারেন।

Auerbachs Keller

Auerbachs Keller

আপনি সাহিত্য প্রেমী হন তাহলে, লাইপজিগ আপনার জন্য সঠিক জায়গা। শহরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মর্যাদাপূর্ণ লাইপজিগ বই মেলার আয়োজন করা হয়, এবং এছাড়াও এটি “বইয়ের শহর” হিসাবে পরিচিত। অনেক প্রকাশনা কোম্পানির সদর দপ্তর লাইপজিগে রয়েছে। জার্মান জাতীয় গ্রন্থাগারে আপনি ১৯১৩ সাল থেকে জার্মানিতে মুদ্রিত সকল মিডিয়ার প্রতিটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাবেন।

লাইপজিগ চিড়িয়াখানা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ একটি জায়গা। চিড়িয়াখানায় নতুন “Gondwana Land” (একটি বিশাল অত্যুষ্ণ হল) খোলার পর থেকে এটি দর্শকদের প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করে আসছে। চিড়িয়াখানা তার bonobo(বিরল প্রজাতির বানর) এর জন্য বিশেষভাবে গর্বিত। জীবজন্তুর প্রতি আপনার খুব বেশী আগ্রহ না থাকলেও , এই বিরল প্রজাতির বানর আপনার মনে একটি দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে।

ডমিনিক ব্রুগেমানের টিপস

New Lakeland লাইপজিগের প্রায় বেশ কয়েকটি হ্রদ নিয়ে গঠিত। এটি চিত্তবিনোদনের জন্য অসাধারণ একটি এলাকা। আপনি প্যাডেলবোট ভাড়া নিতে পারেন, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটতে পারেন বা শুধু বসে থেকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। হ্রদে যাবার সেরা উপায় হল সাইকেলে করে যাওয়া।

ইতালি সেরেনা সঙ্গে ডমিনিক ব্রুগেমানের সাক্ষাৎকার

২১ বছর বয়সী সেরেনা বিস্বোলো ইতালি থেকে এসেছেন এবং লাইপজিগে এক সেমিস্টারে জন্য একটি বিদেশী ভাষা হিসেবে জার্মান ভাষাশিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

ইতালির সেরেনা বিস্বোলো

ইতালির সেরেনা বিস্বোলো

ডমিনিকঃআপনি কেন লাইপজিগ অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নেন?

সেরেনাআমি ইতালির Trento বিশ্ববিদ্যালয়ে German as a Foreign Language (GFL), German Studies and English বিষয়ে পড়ালেখা করছি।ইরাসমাস প্রোগ্রামে লাইপজিগ আমার প্রথম পছন্দ ছিল। আমি Herder ইনস্টিটিউটের কারণে লাইপজিগকে বেছে নিয়েছিলাম।আপনি যদি একজন GFL শিক্ষক হতে চান,তাহলে এখানকার কোর্সগুলো সত্যিই খুব উন্নতমানের।আমি ভেরনার কাছাকাছি একটি ছোট শহর থেকে এসেছি এবং “বড় শহরের চাপ” খুব একটা পছন্দ করি না।তাই আমি ইরাসমাসের কয়েকটি রিপোর্ট পড়লাম এবং বুঝলাম যে লাইপজিগ তরুণদের জন্য খুবই ভালো, যারা বিশাল শহরে বাস করতে চান না,এবং সেটি অন্যান্য সংস্কৃতির সম্পর্কে জানার জন্য সবসময় উন্মুক্ত, গতিশীল এবং সর্বোপরি কৌতূহলী।

ডমিনিকঃ আপনি জার্মানিতে থাকার জন্য কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন?

Karl-Liebknecht-Straße

Karl-Liebknecht-Straße

সেরেনাকৌতূহলবশত, আমি ইন্টারনেট এবং বইয়ে জার্মানদের অভ্যাস সম্পর্কে পড়েছিলাম, কিন্তু আমি দেশটিতে গিয়ে বিস্মিত হতে চেয়েছিলাম।

ডমিনিকঃ জার্মানিতে বসবাস করার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন জিনিস কি ছিল? আপনি কিভাবে এটির মোকাবেলা করেছিলে?

সেরেনাআমি অপেক্ষাকৃত যোগাযোগমূলক দেশ থেকে এসেছি যেখানে মানুষ সর্বত্র একে অপরের সাথে কথা বলে। আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন এটা ভিন্ন ছিল।ট্রেনে, বেকারিতে-খুব কমই কেউ একে অপরের সঙ্গে কথা বলত।আমাকে এটার সাথে অভ্যস্থ হতে হয়েছিল।

ডমিনিকঃ আপনি কিভাবে আপনার বাসস্থান খুঁজে পেয়েছিলেন? একটি ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কোন পরামর্শ আছে কি?

সেরেনাআমি wg-gesucht.de ওয়েবসাইটে থাকার জায়গার সন্ধান পাই। আমি যেকোনো শিক্ষার্থীকে একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলবো যারা ফ্ল্যাট শেয়ারে রুমে নিতে আগ্রহী। কিন্তু বসবাসের জন্য শিক্ষার্থী হলও স্পষ্টভাবে এর ভাল একটি বিকল্প।

জার্মান জাতীয় গ্রন্থাগার

জার্মান জাতীয় গ্রন্থাগার

ডমিনিকঃ লাইপজিগের কোন বিষয়টা আপনি বিশেষ করে পছন্দ করেন?

সেরেনাআমি লাইপজিগের বৈচিত্র্য পছন্দ করি।আপনি সহজেই সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারেন যদি আপনার সাইকেল থাকে। Südvorstadt তরুণদের বিশেষ করে আকর্ষণ করে, এর বিকল্প দৃশ্যের জন্য। সুন্দর জাদুঘর এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে মার্জিত কেনাকাটার জায়গা এবং Zentrum-Ost এর অবিশ্বাস্য সুন্দর পার্ক। আপনি ২০ মিনিটের মধ্যে চারটি ভিন্ন হ্রদ পৌঁছাতে পারেন এবং আপনি অবিলম্বে অনুভব করতে পারবেন যে আপনি ছুটিতে আছেন।সুন্দর বায়ুমণ্ডল, সঙ্গীত, তাজা জল এবং প্রকৃতি। লাইপজিগে আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ক্লারা যেটকিন পার্ক। আপনি সেখানে রিল্যাক্স করতে পারেন এবং বন্ধুদের সাথে রৌদ্রে শুয়ে থাকতে পারেন।

 

ডমিনিকঃ লাইপজিগ অধ্যয়নের জন্য কেন একটি ভাল জায়গা?

সেরেনালাইপজিগ বসবাস এবং অধ্যয়নের জন্য দারুন একটি জায়গা।বিশ্ববিদ্যালয়টি খুবই সংগঠিত এবং প্রোগ্রাম গুলো বিশেষভাবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সাজানো।ছাত্র জীবন এখানে খুবই সক্রিয় এবং এখানে সবসময় কিছু না কিছু করার জন্য থাকে।সহজভাবে বলতে গেলে লাইপজিগের সংস্কৃতি খুবই সমৃদ্ধ, এবং সবচেয়ে ভাল জিনিস হল এর সংস্কৃতি বিকশিত ও তরুণদের দ্বারা চর্চা করা হয়।

সুত্রঃ study-in.de

অনুবাদকঃ সাজেদুর রহমান, রাজশাহী।

Print Friendly