• Home »
  • Jobs-in-Germany »
  • জার্মানিতে চাকুরী পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

জার্মানিতে চাকুরী পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

 

জার্মানিতে যদি পড়াশোনা শেষ করার পর কেউ চাকরি না পায়, তার বিশেষ কিছু কারণ আছে, সেটা বোধকরি ব্যাখ্যার একটু প্রয়োজন আছে।

এই মুহূর্তে জার্মানির চেয়ে অর্থনৈতিক দিক, বিশেষ করে চাকরির বাজার দেখলে, এর থেকে ভাল অবস্থায় পৃথিবীর আর কোন দেশ? ছোট কিছু দেশ বাদ দিলে আর যে কারও থেকে এই দেশে চাকরির পরিমাণ অনেক বেশি। পয়েন্টটা হল, এখানে চাকরি নেই দেখে চাকরি পাচ্ছে না কেউ, এটা একদম ভুল ধারণা। মন্দার সময়ও এখানে যোগ্য ছেলেরা চাকরি পেয়েছে। এখানে যারা চাকরি পাচ্ছে না, তাদের মধ্যে দুইটা দিক লক্ষণীয়। একটি হল জার্মান ভাষা না জানা, আর আরেকটা হল এই দেশের সংস্কৃতির সাধারণ ধারনার অভাব।

এখানকার মানুষদের সাথে মিশতে হলে জার্মান লাগবে, ইংরেজি দিয়ে আর যাই হোক খুব স্বল্প পরিসরের পর আর আগানো যাবে না। জার্মানরা আশা করে যে, যারা এখানে মাস্টার্স করবে, তারা এই সময়ের মধ্যে ব্যাসিক জার্মান ভাষা শিখে নেবে। এটা কেউ সরাসরি বলবে না, তবে অনেক দিন এখানে থেকে এটা এখন স্পষ্ট বুঝতে পারি। এই দেশের বেশিরভাগ কোম্পানি চিন্তা করে একজন নতুন লোক কে নেওয়া হলে সে থাকবে বাকি জীবনভর। সুতরাং তার সাথে মিশমাশ হবে কিনা, এই কারণে আবেদনকারীর সামাজিকভাবে চলাফেরার গুণটা অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এইখানে আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছেলে ধরা খায়, কারণ তারা প্রথমত ভাষা শেখেনি। দ্বিতীয়ত, এখানকার কালচারে তারা ঠিক অভ্যস্ত হয়ে ওঠে নি।

এই দুই জিনিস যদি এক না হয়, তাহলে এই দেশে চাকরি পাওয়া খুব কঠিন মনে হতে পারে। আরেকটা ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানরা প্রফেশনাল এবং পারফেকশনিস্ট জাতি। চাকরির ক্ষেত্রে এরা সবসময় প্রফেশনাল লোক খোঁজে। এবং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে যে, এরা কোনমতে কাজ চলবে এমন লোকদের পারত পক্ষে নিতে চায় না। তার চেয়ে যদি পদটা খালি থাকে, তাহলেও তাদের জন্য ভাল।

কালচার বলতে এখানে চাকরির বা প্রফেশনালিসমের কালচার বোঝানো হয়েছে, তার মধ্যে পড়ে সময়ানুবর্তিতা, কমিটমেন্ট রক্ষা, সততা ইত্যাদি। । আর এই দেশে অন্যের স্বাধীনতা প্রকাশের চমৎকার সুযোগ আছে, সেটা ধর্মীয় বা সামাজিক যেটাই হোক না কেন।

যেমন একটা উদাহরণ দেই। একটা ইন্ডিয়ান ছেলে ইন্টার্নশিপের সময় তাকে দেয়া যেকোনো কাজের উত্তরেই বলত, সমস্যা নেই, সে পারবে। না বলাটা তার মধ্যে নেই, সে সবসময় বসকে খুশি করতে চায়। কিন্তু আসলে সে সময় মতন শেষ করতে পারত না কখনই, এক আধটু দেরি হতোই। শেষ মেষ ছেলেটা আসল চাকরি পেল না, যদিও তার ডিগ্রী এবং রেজাল্ট বেশ ভাল ছিল। এবং কাজও সে খারাপ পারত না। আমাদের ছেলেদের মধ্যেও এইরকম মন রাখা কথা বেশ দেখেছি।

আমাদের অনেক ছেলেদের মধ্যে আরও কিছু ঘাটতি দেখেছি। সেগুলো এই সুযোগে বলি, হয়তো কারও কাজে দিতে পারে। প্রথমত স্ট্রাকচার্ড ভাবে (একে গুছিয়ে কাজ করাও বলা যেতে পারে।) কাজ করার বড্ড অভাব। যেকোনো বড় প্রজেক্টকে ছোট ছোট অসংখ্য ইউনিটে ভাগ করে এক্সিকিউট করা হয়। ইন্টার্ন শিপ বা মাস্টার্স থিসিসের সময় এই ব্যাপারটা খুব লক্ষ্য করা হয়।

প্রেজেন্টেশনে আমাদের ছেলেমেয়েদের লজ্জা কাটানো আরেকটা দিক। ছেলে মেয়েরা অনেক জানে, তারপরও কথা বলতে জড়তা অনেক বেশি। আমি যত ছেলে মেয়েকে এখানে দেখেছি, বেশির ভাগই শুদ্ধ ইংরেজি বলতে পারে না। একটা বাক্য বলতে তাদের অনেক বার বিরতি নিতে হয়। জার্মান তো অনেক দুরের কথা। এই গ্রুপেও অনেক ছেলে পেলে ভুল গ্রামারে ইংরেজি লেখে, এই সমস্যা গুলো আমাদের দূর করা ভীষণ জরুরী।

আরেকটা হল আত্মবিশ্বাসের অভাব। ইন্ডিয়ান ছেলে পেলেরা মনে হয় যেন এই দিকে আমাদের চেয়ে বেশ এগিয়ে, যদিও মেধায় তারা সমমানের। “আমি যোগ্য হলে জব আমি পাবই” – এমন একটা বিশ্বাসের কেমন যেন অভাব বোধ করি ছেলেপেলের মধ্যে। আর শুধু আত্মবিশ্বাসের জোরে অনেক ছেলেকে দেখছি দাঁড়িয়ে যেতে।

আদনান সাদেক, ২০১৪

‪#‎BSAAG_Career_in_Germany ‪#‎BSAAG_Student_Job‬

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মানভাষাঅনুশীলনএবংপ্রশ্নোত্তেরজন্যযোগদিনফেসবুকেবিসাগেরজার্মানভাষাশিক্ষাগ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email