• Home »
  • বাংলা-আর্টিকেল »
  • শুভ জন্মদিন হে গল্পের জাদুকর, আজ ১৩ নভেম্বর, আমাদের সকলের প্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

শুভ জন্মদিন হে গল্পের জাদুকর, আজ ১৩ নভেম্বর, আমাদের সকলের প্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

 

হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে বলছেন তাঁর ভাগনি।

প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ভাগনি শবনম হায়দার শর্মি৷ যার কাছে এখনও হুমায়ূন আহমেদ রয়ে গেছেন একজন বড় মামা হিসেবে৷ মামার সাহিত্যের একজন ভক্তও তিনি৷ শর্মির স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে বড় মামার নানাদিক৷

পরিবারে হুমায়ূন আহমেদের পরেই ছিলেন তাঁর বোন সুফিয়া হায়দার, যাঁকে হুমায়ূন আহমেদ অনেক বইতে শেফু নামে উল্লেখ করেছেন৷ তাঁর মেয়ে শর্মি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘কাজিনরা আমরা প্রায় একই বয়সের৷ আর আমরা বড় মামার সঙ্গেই বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলাম৷ প্রতি ঈদে আমরা উপহার পেতাম৷ আমরা সবাই নোভা, শিলা প্রায় একসঙ্গেই থাকতাম৷ বড় মামা আমাদের বকা দিলে আমরা যদি কাঁদতাম তখন তিনি আমাদের খুব ভালো কোনো উপহার দিতেন৷ অবশ্য বড় মামা আমাদের খুব একটা দিতেনা না, তবে দিলে আমাদের খুশিই লাগতো কারণ আমরা জানতাম পরে তিনি আমাদের উপহার দেবেন৷ ঈদের সময় নোভা আর আমি একই রকম জামা পেতাম৷ ঈদের জন্য আমি সব কিছু নতুন কিনতাম, তাতে আমার একটি বাক্স থাকতো, আর মামা আমাদের সব কিছু কিনে দিতো৷ মজা হতো ঈদের সেলামি দেওয়ার সময়৷ মামা যার বয়স যত তার দ্বিগুন সেলামি দিতো, মানে আমার বয়স যদি ছয় হতো তাহলে আমি পেতাম ১২ টাকা সেলামি৷”

ঈদের দিন রাতের বেলায় নানার বাসায় যাওয়ার নিয়ম ছিলো বলে স্মরণ করেন জার্মান প্রবাসী শর্মি৷ তখন মামা হুমায়ূন আহমেদ একটি বক্সে সবার নাম লিখে রাখতেন আর একে একে নানু সেই নামগুলো তুলতো৷ সবশেষে যার নাম উঠবে সে একটি পুরস্কার পাবে৷ কোন সময় চকলেট, খেলনা কিংবা টাকা৷ এভাবে আমরা খুব মজা করতাম৷ নিজের বিয়ের সময় নুহাশ পল্লীতে অনুষ্ঠানের কথা মনে করতে গিয়ে শবনম হায়দার শর্মি বলেন, ‘‘সেই সময় মামা আমার জন্য পাল্কির ব্যবস্থা করেছিলেন৷ আমার বিয়ে উপলক্ষে সেই প্রথম আমার পালকিতে চড়া৷”

মামা হুমায়ূন আহমেদ যখন লিখতেন তখন তাঁকে দেখতেন কিভাবে তিনি একের পর পৃষ্ঠা লিখে রাখছেন৷ ‘‘আমি আর নোভা আগেই সব পড়ে ফেলতাম,” বলেন শর্মি৷ মামাদের সঙ্গে বসে ভূতের গল্প, এমনকি মাঝে মধ্যে প্ল্যানচেটও করা হতো বলে জানান তিনি৷

হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছেন শর্মি৷ তবে হুমায়ূন আহমেদ তার কাছে বড় মামাই হয়ে থেকেছেন, সাহিত্যিক হিসেবে নয়৷ যদিও তাঁর সব লেখা পড়েছেন শর্মি৷হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, ‘‘খুবই সহজ লেখা, কিন্তু তার ভেতরে অনেক গভীর কথা থাকে৷ তার লেখা আমার কাছে চুম্বকের মত লাগে৷”

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন এখানে

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডয়চে ভেলেরঃ রিয়াজুল ইসলাম

হুমায়ূন আহমেদের কিছু দুর্লভ ছবি

বাবা-মার সঙ্গে

0,,16962971_302,00

বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ৷ হুমায়ূনের বয়স যখন ২৩ বছর তখন ১৯৭১ সালের ৫মে পিরোজপুরের তৎকালীন এসডিপিও ফয়জুর রহমান আহমেদ পাক সেনাদের গুলিতে শহীদ হন৷

সম্প্রসারিত পরিবার

ফ

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে মা, বোন ও দুলাভাই সহ অন্যরা

ভাইবোনের সঙ্গে

s

বোন সুফিয়া হায়দার, যাঁকে হুমায়ূন আহমেদ অনেক বইতে শেফু নামে উল্লেখ করেছেন, এবং ছোট ভাই আহসান হাবীবের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ৷

গুলতেকিন যখন সঙ্গী

d

প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ৷ উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর নাতনি ছিলেন গুলতেকিন৷ প্রেম করার কয়েক বছর পর ১৯৭৩ সালে দুজন বিয়ে করেছিলেন৷ এরপর ২০০৩ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়৷

ভাগনির সঙ্গে

s

সুফিয়া হায়দারের মেয়ে শবনম হায়দার শর্মিকে নিয়ে বড় মামা হুমায়ূন আহমেদ৷

প্রিয় বড় মামা

s

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর শর্মি  বলেছিলেন, ‘‘ঈদের সময় বড় মামা যার বয়স যত তার দ্বিগুন সেলামি দিত, মানে আমার বয়স যদি ছয় হতো তাহলে আমি পেতাম ১২ টাকা সেলামি!’’

মায়ের সঙ্গে সব ভাইবোন

0,,16962967_302,00

মা আয়েশা ফয়েজের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর পাঁচ ভাইবোন৷

বিয়েতে পালকি

s

শর্মির বিয়ের সময় নুহাশ পল্লিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ৷ সেসময় পালকির ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি৷

নুহাশ পল্লী

s

নুহাশ পল্লীর অনুষ্ঠানে শর্মির স্বামী আদনান সাদেকের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ৷

শুভেচ্ছাপত্র

a

বিয়ে উপলক্ষ্যে ভাগনি শর্মিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হুমায়ূন আহমেদের লেখা চিঠি৷

এখন জার্মানিতে

a

ছোট্ট সেই শর্মি এখন অনেক বড় হয়ে গেছেন৷ শর্মির নিজেরই এখন তিনটি মেয়ে রয়েছে৷ স্বামী, সন্তান নিয়ে থাকেন জার্মানির লিওনবার্গ শহরে৷

 

সূত্রঃ ডয়চে ভেলে বাংলা

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email