জার্মানিতে শুধু মেয়েদের জন্য ‘হটলাইন’ হেল্প

 

জার্মানির পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সম্প্রতি একটি বিশেষ টেলিফোন ‘হটলাইন’ সেবা চালু করেছেন৷ নির্যাতনের শিকার নারীরা এই নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাইতে পারেন৷ তবে এই হটলাইনের চেয়েও ভালো সেবা জার্মানিতে রয়েছে৷

শুধু নারীর জন্য বিশেষ আশ্রয়৷ জার্মানির বন শহরে আছে মেয়েদের জন্য আছে এরকম এক ঠিকানা৷ সেখানে চাইলেই মেয়েরা গিয়ে থাকতে পারেন৷ অনেকে এটাকে তুলনা করেন স্বর্গের সঙ্গে৷ এই স্বর্গে আশ্রয় নেওয়াদের একেক জনের গল্প একেক রকম৷ এদের কেউ হয়ত স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে চিৎকার করেছিলেন৷ সেই চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ফোন করেছেন পুলিশকে৷ এরপর পুলিশ তাকে পৌঁছে দিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে৷

আবার কেউ হয়ত স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন৷ এরপর সেখান থেকে ছাড়া পেয়েছেন৷ কিন্তু স্বামী নামক পুরুষটি যাতে আবারো তাকে হাসপাতালে পাঠাতে না পারেন, এজন্য হাজির হয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে৷ এমনও ঘটেছে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ফোন করেছেন পুলিশকে, কেননা তিনি শিশুর আতঙ্কগ্রস্ত চেহারা দেখে বুঝেছেন তার বাড়িতে কিছু ঘটেছে৷

ARCHIV - Eine Frau sitzt in dem Zimmer, das sie mit ihren Kindern in einem Frauenhaus des Caritasverbandes in Berlin bewohnt, am Tisch, aufgenommen am 27.02.2009. Die Berliner und Brandenburger Frauenhäuser bieten Frauen und ihren Kindern, die von häuslicher Gewalt betroffen sind, Schutz, Unterkunft und Beratung. Foto: Stephanie Pilick dpa/lbn (zu lbn-KORR Frauenhaus - Notausgang für Opfer von Gewalt vom 13.01.2012) +++(c) dpa - Bildfunk+++ নারীর জন্য বিশেষ আশ্রয়, জার্মানির বন শহরে আছে মেয়েদের জন্য আছে এরকম এক ঠিকানা

নিরাপত্তা এবং পরামর্শ

‘‘তারা এখানে বিভিন্নভাবে এসেছেন”, ডয়চে ভেলেকে বলেন এলসা ব্লেক৷ এই শান্ত নারী ‘ফ্রাউয়েন হেল্ফেন ফ্রাউয়েন’ বা ‘নারীর সহায়তায় নারী’ নামক সমিতিতে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন৷ এই সমিতি বনে একটি পরামর্শ এবং আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা করে৷ মূলত বাড়িতে সহিংসতার শিকার নারীদের আশ্রয় এবং পরামর্শ প্রদান করেন ব্লিকরা৷

বনের আশ্রয়কেন্দ্রটিতে ২২টি শয্যা রয়েছে৷ এটির ঠিকানা সবার কাছে প্রকাশ করা হয়না৷ শুধু আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মী এবং সেখানে বসবাসরতরা জানেন ঠিকানা৷ সেখানে একজন নারী নিজের সন্তানসহ যতদিন খুশি থাকতে পারেন৷ এই বিষয়ে এলসা ব্লেক বলেন, ‘‘আমাদের এখানে আসতে একজন নারীর চোখের পর উপর নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন থাকার দরকার নেই৷ একজন পুরুষ যদি তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেন, তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন কিংবা তাকে কোন কাজে বাধা দেন, তাহলেও তিনি আমাদের এখানে আসতে পারেন৷”

হটলাইন

জার্মানির পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ক্রিস্টিনা শ্র্যোডার সম্প্রতি একটি নতুন টেলিফোন ‘হটলাইন’ সেবা চালু করেছেন৷ বাড়িতে নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার নারীরা এই হটলাইনে ফোন করে তাৎক্ষণিক সেবা নিতে পারবেন৷ ২৪ ঘণ্টাই এই নম্বরে চালু রয়েছে৷ শ্র্যোডার একটি জার্মান দৈনিককে এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমরা ঝামেলামুক্তভাবে বিনা পয়সায় এই সেবা দিচ্ছি, যা যেকোন সময়, যেকোন জায়গা থেকেই নেয়া যাবে”৷

ক্যাথলিন নারী কল্যাণ সেবা ইন্টারনেটে ‘গেভাল্টলোস.ডিই’ নামক একটি ফোরাম পরিচালনা করে৷ এই ফোরামও নির্যাতনের শিকার নারীদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ প্রদান করে থাকে৷ সুবিধা হচ্ছে, এখানে পরিচয় গোপন রেখেও যে কোনো নারী পরামর্শ চাইতে পারেন৷ এরপর চ্যাটের মাধ্যমে চাইলে সরাসরি একজন পরামর্শকের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন আক্রান্ত নারী৷

গেভাল্টলোস.ডিই-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আঙ্গেলিকা ভিডেনাউ এই বিষয়ে বলেন, অনেক তরুণীর পক্ষে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা মুখে বলা কষ্টকর৷ কিন্তু চ্যাটরুমে তারা সহজে সে সব কথা লিখতে পারেন৷

Auf der Wippe © Edgar Monkey #15173496 - Fotolia.comMutter mit Kind auf einem Spielplatz, Deutschland, Undatierte Aufnahme, Eingestellt 09.05.2012এখানে অবস্থানের পর শিশুরা আর নিজেদের অনিরাপদ ভাবেনা

যথেষ্ট নয়

পরামর্শক এলসা ব্লেক মনে করেন, নারীর নিরাপত্তায় হটলাইন এবং চ্যাটরুম ছাড়াও আরো অনেক কিছু করার আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘নির্যাতনের শিকার মেয়েদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে৷ টেলিফোনে পরামর্শ প্রদান ‘নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের’ বিকল্প হতে পারে না৷ আশ্রয় কেন্দ্রে একজন নারী নিরাপদে ঘুমাতে পারেন, প্রয়োজনে তাঁর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে থাকতে পারেন৷”

নিজের ২৫ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্লেক স্মরণ করেন তিন নারীর কথা, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পরও তাদের স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি এখানে কাজ শুরুর পর এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রের তিন নারী খুন হন৷ তবে তারা যখন আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তখন তারা কেন্দ্রের বাইরে ছিলেন৷ ফলে আমাদের পক্ষের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি৷”

নতুন জীবনের সূচনা

আশ্রয়কেন্দ্রের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছেন ব্লিক৷ তিনি বলেন, ‘‘নারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে ইতিবাচক অনেক অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে৷ বিশেষ করে এখানে অবস্থানের পর শিশুরা আর নিজেদের অনিরাপদ ভাবেনা৷” ব্লিক বলেন, ‘‘শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক মাস থাকার পর বুঝতে পারে, তাদের আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ কেউ আর দরজা খুলে তাদেরকে ভয় দেখাবে না৷ এই আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের উন্নতি দেখে আমি আনন্দ পাই৷”

বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য৷ ব্লিকের কথায়, ‘‘এখানে যারা আসেন, তাদের জীবনে অনেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা থাকে৷ কিন্তু আমাদের সঙ্গে অবস্থানের পর তারা বুঝতে পারেন জীবন ভিন্নও হতে পারে৷”

Source: DW.de

Print Friendly