• Home »
  • Bachelors »
  • ইউরোপে ‘সীমান্তবিহীন শিক্ষা’

ইউরোপে ‘সীমান্তবিহীন শিক্ষা’

 

ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পড়াশুনা করতে আসা অতীব জটিল৷ ইউরোপীয় কমিশন এবার ভিসা প্রদান প্রণালী একীকরণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে৷ কিন্তু তার ফলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না৷

ভিসা প্রদান প্রণালী যে কত বিচিত্র হতে পারে, তার প্রমাণ: আফ্রিকার বেনিন থেকে একজন ছাত্রের বেলজিয়ামে পড়তে আসার ভিসা পেতে তিন মাস সময় লেগে যায়, যদিও সেই একই দেশ থেকে কোনো ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার ভিসা পেতে লাগে দু’সপ্তাহ৷

প্রতিবছর প্রায় দু’লাখ ছাত্র-ছাত্রী এবং বিজ্ঞানী-গবেষক ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলি থেকে সীমিত সময়ের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে আসেন৷ কিন্তু ইউরোপে আসার ভিসা পেতে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়, কেননা সব ইইউ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া কিংবা ভিসা প্রদান করার নীতি একরকম নয়৷ আবার একটি দেশ থেকে ইইউ-এর অপর কোনো দেশে পড়তে যাওয়াটাও দুঃসাধ্য৷

শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যা-তে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতোই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় কমিশন ভিসা প্রদানের নিয়মাবলী একীকরণের ব্যবস্থা করতে চায়৷

ইইউ সব দেশ থেকে ভিসা প্রদান প্রণালী এক করতে চায়

ইইউ-এর সদস্যদেশগুলিকে ভবিষ্যতে ভিসার আবেদন জমা পড়ার ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ একটি সদস্যদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটি সদস্যদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলিও সহজ করা হবে৷ এছাড়া বিদেশি ছাত্রদের সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা করে কাজ – অর্থাৎ অর্থোপার্জন করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷

তবে ইউরোপে পঠনপাঠনের একটি সমস্যা যে ভাষা, সেটা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক ছাত্রছাত্রীই জানেন৷ বলতে কি, জার্মানিতেও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আরো বেশি পাঠক্রম ইংরিজিতে হওয়া উচিত বলে কিছু বিশেষজ্ঞর মতো৷ সেই সঙ্গে রয়েছে বিদেশি স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি-ডিপ্লোমা স্বীকৃতির সমস্যা: এগুলিকে দেশ হিসেবে বিচার করা চাই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ নয়ত একজন মার্কিন ছাত্র স্কুল থেকে পাশ করে বেরনোর পর স্বদেশে এবং সম্ভবত বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির আবেদন করতে পারে – কিন্তু জার্মানিতে নয়!

ইউরোপীয় সংসদ এবং ইউরোপীয় পরিষদ এবার প্রস্তাবগুলি বিবেচনা করে দেখবে৷ ইউরোপীয় কমিশনের আশা, ২০১৬ সালের মধ্যেই সেগুলি কার্যকর করা সম্ভব হবে৷

Source: DW.de

Print Friendly