• Home »
  • Cities-in-Germany »
  • হাইডেলবার্গঃ আন্তর্জাতিক এবং কল্পনাবিলাসী

হাইডেলবার্গঃ আন্তর্জাতিক এবং কল্পনাবিলাসী

 

পুরনো দিনের বাড়ি-ঘর, সরুগলি ও পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া আকাবাকা রাস্তাগুলো হাইডেলবার্গকে দিয়েছে সৌন্দর্যের এক নতুন ছোয়া।Neckar নদীর তীরে হাইডেলবার্গ শহরটি অবস্থিত ।যেখানে রয়েছে বেশ কিছু পুরনো বাড়িঘর, সুসজ্জিত পার্ক ও দৃষ্টিনন্দিত বাগান। এই শহরে রয়েছে স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় যার চিকিৎসা বিভাগ খুবই জনপ্রিয়। হাইডেলবার্গে সবকিছু এতো কাছাকাছি যে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে পায়ে হেটে বা সাইকেলে চড়ে যেতে পারে।

Heidelberg Castle

Heidelberg Castle

হাইডেলবার্গ শহরের তথ্য ও পরিসংখ্যান:

মোট অধিবাসী: ১৪৮,০০০ জন।

ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা: ৩৭,৯০০ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়: ৬টি।

মাসিক ভাড়া: ৩১৪ ইউরো।

ওয়েবসাইট: : www.heidelberg.de

হাইডেলবার্গ শহরে আপনাকে স্বাগতম

হাইডেলবার্গে রয়েছে অনেক পুরনো সুন্দর টাউন যা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে অন্যান্য শহরের মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেজন্য এগুলো রয়েছে অক্ষত ও সংরক্ষিত। শহরের পুরাতন অংশে গেলে কিছু সরূ রাস্তা ও বাগানবাড়ি পাওয়া যাবে সেখানটাতে গেলে যেকেউ অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

Bicycles ath the university . © Konrad

Bicycles ath the university . © Konrad

তাছাড়াও, পাহাড়ের উপরে বরাবর একটি রাস্তা চলে গেছে, রাস্তা দিয়ে উপরে যাওয়ার পর আপনি দারুনভাবে পুরো শহরটিকে ও এর বিল্ডিংগুলোর পুরো ভিউটা দেখতে পারেন। এই জায়গাটি ভ্রমণ পিপাসু একজন মানুষকে চরমভাবে মুগ্ধ করবে।

ক্যাসেলের ধ্বংসাবশেষের জন্য হাইডেলবার্গের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শ্করা এখনে আসে সৌন্দর্য উপভোগের জন্য। বিল্ডিংগুলো এতোই উচু যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়, মাঝে মাঝে মনে হয় শহরটির ঠিক উপরে কোন এক রাজা সিংহাসনে বসে আছে। অন্য একটি আকর্ষনীয় জায়গা হচ্ছে “AlteBrucke” যেটি তার “Monkey Statue” এর জন্য বিখ্যাত। বানরের হাতে কয়েন রয়েছে এবং এটা মনে করা হয় যে যদি কেউ এই কয়েন স্পর্শ্ করে তাকে এটি সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। এখানকার সবচেয়ে পুরনো বিল্ডিংটি হচ্ছে হোটেল “Ritter” যেটি তৈরী করা হয়েছিল ১৫৯২ সালের দিকে। মজার বিষয় হলো যদি কেউ এই পুরনো বিল্ডিংটিতে থাকতে চায়, এখনো রুম বুক করে থাকতে পারে।

Hotel "Ritter"

Hotel “Ritter”

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিখ্যাত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৩৮৬ সালে।“Heidelberg University” জার্মনির প্রাচীনতম একটি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে চিকিৎসা বিভাগের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়। জার্মানির ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট Deutsches Krebsforschungszentrum (DKFZ) এর হেড অফিস হাইডেলবার্গে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক প্রাচীন হবার কারনে , এটার কোন কেন্দ্রীও ক্যাম্পাস নেই বরং ছড়িয়ে রয়েছে পুরো শহর জুড়ে।ন্যাচারাল সাইন্স এর ক্যাম্পাসটি তাদের নিজেদের জেলা “Neuenheimer Feld” এ অবস্থিত।। হাইডেলবার্গ এ বেশকিছু মেডিসিন ও সাস্থ্য সংস্থা রয়েছে যেগুলো শহরটির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে ও বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

 

Panorama of Heidelberg

Panorama of Heidelberg

হাইডেলবার্গের প্রতিটি জায়গাতেই সাইকেলে বা হেটে ভ্রমন করতে পারেন। Königsstuhl পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জায়গাগুলো খুব উচু নিচু, তাই আপনি যেদিকেই যেতে চান না কেন, হয় আপনাকে পাহড়ের উপর দিয়ে যেতে হবে আর ভাগ্য ভাল হলে নিচ দিয়ে যেতে পারেন। এই পাহাড়গুলো হাইডেলবার্গ শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। Philosophenweg এর আশেপাশে সন্ধ্যায় ঘুরে বেড়ানোর সময় শহর এবং দুর্গের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা দারুণ একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে! যদি আপনি হাটতে পছন্দ না করেন তাহলেও সমস্যা নেই, এখানে রযেছে প্রচুর বাস, ট্রাম যেগুলো শহরের প্রতিটি যায়গাতে পৌছে দিবে আপনাকে।

 

এই শহরটিতে বেশ কিছু “English-speaking” জেলা রয়েছে, এর কারন হলো বহু বছর ধরে আমেরিকান মিত্রবাহিনী এখানে অবস্থান করেছিল।আপনি জেলা গুলোর নাম দেখলে সহজেই তাদের বসবাসের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পারবেন, যেমন: The Patrick Henry Village

হাইডেলবার্গ শহরে বসবাস

হাইডেলবার্গের মানুষের কাছে “Bismarckplatz” জায়গাটি হচ্ছে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ্ অংশ। তাই প্রায় প্রতিটা বাস ও ট্রাম এখানে দাড়ায়, যেকোন জায়গার বাস বা ট্রাম এখান থেকে পাওয়া যায়। আর ঠিক ডান পাশ দিয়ে দুইটি শপিং সেন্টার রয়েছে তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য ভাল জায়গা। এখান থেকে “Hauptsrasse” যাওয়া যায়। এটি প্রায় ১.৬ কি:মি: লম্বা ও ইউরোপের সবচেয়ে বড় পথচারী এলাকা এবং এখানে সব ধরনের দোকান এবং রেস্টুরেন্ট পাবেন।

যদি সন্ধ্যার সময়টা বিনেোদনের মাধ্যমে কাটাতে চান তাহলে খুব তাড়াতাড়ি খেয়াল করবেন যে হাইডেলবার্গ খুব ছোট একটি শহর। আপনার শেষ ট্রেন ধরার জন্য চিন্তিত হবার কোন প্রয়োজন নেই কারণ এখানকার প্রতিটা যায়গাতেই হেটে বা সাইকেলে চড়ে পৌছুতে পারবেন। হাইডেলবার্গে অনেকগুলো বার এবং পাব রয়েছে ,এগুলোর বেশিরভাগই Untere Street এ অবস্থিত। স্থানিয়রা সহজ ভাষায় একে “Die Untere” নামে ডাকে। এটি ছুটির দিনে বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে কাটানোর জন্য খুব ভাল একটি জায়গা। আপনি এখানে সব ধরণের বার এবং পাব পাবেন, উদাহরণস্বরূপ “Absinthbar” এ আপনি ভিন্ন স্বাদের পানীয় পাবেন।

গ্রীষ্মকালে হাইডেলবার্গের মানুষ “Neckar” নদীর তীরে সন্ধ্যায় একে অপরের সাথে দেখা করতে পছন্দ করে। আপনি এখানে বন্ধুদের সাথে বিয়ার খেয়ে সময় কাটাতে পারেন বা পায়ে চালানো নৌকা ভাড়া করতে পারেন বা বারবিকিউ এর আয়োজন করতে পারেন। এখানে একটি ভলিবল খেলার জায়গাও রয়েছে, আবার কেউ কেউ সবসময় ফুটবলও খেলতে থাকে। যদি নতুন কেউ তাদের সাথে খেলায় অংশ নেয় স্থানীয় লোকজন খুবিই খুশি হয়। “Neckar” নদীর পাসের জায়গাটা জগিং করার জন্য খুবই চমৎকার।

যদি আপনি সংস্কৃতিপ্রেমী হোন তাহলে কিছু সময় “poetry slam” কাটাতে পারেন। এখানকার পরবর্তী অনুষ্ঠানের সময়সূচি Word-Up HD ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। “Villal Nachttanz” এর মাঠে Open-Air-Slams অনুষ্ঠিত হয় যেটি গ্রীষ্মকালীন বিশেষ আকর্ষন।

 

ফ্লোরিয়ান সুবার্টের টিপস

 

গ্রীষ্মকালের সন্ধ্যায় Philosophenweg এর পাশে গেলে আপনি বিস্মিত হবেন। বিশেষ করে সূর্য্ অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটা অভুতপূর্ণ্ এক অভিজ্ঞতা দিবে। তাছাড়াও মেয়ে বা ছেলে বন্ধুর সাথে আনন্দময় সময় পার করতে পারবেন।

 

জাপানের মেয়েকুর সাথে ফ্লোরিয়ানের সাক্ষাৎকার

২২ বছর বয়সি “Mayuko Arita” জাপান থেকে জার্মানীর হাইডেলবার্গে কোর্স করতে এসেছেন। এখন সে হামবুর্গ শহরে পিয়ানো মিউজিকের উপর একটি মাস্টার্স কোর্স করছে।

Mayuko from Japan

Mayuko from Japan

ফ্লোরিয়ান: কেন তুমি হাইডেলবার্গে পড়াশোন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ?

মেয়েকু: আামি হাইডেলবার্গে বা জার্মানীর অন্যান্য ভার্সিটিতে মিউজিক অডিশনে অংশ নিয়েছিলাম। তাছাড়াও আমি জার্মান ভাষার কোর্স করতে চেয়েছিলাম। সেজন্য আমি ইন্টারনেটে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের জন্য সার্চ করি, এতে প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে হাইডেলবার্গের টির রেটিং ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু এখানে কোন মিউজিক ইউনিভার্সিটি নেই, তবে অন্যান্য শহরগুলোতে রয়েছে যেমন ফ্রাঙ্কফুট বা নুরেমবার্গ। তাই একই সাথে আমি খুব ভাল একটি জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সে ভর্তি হয়েছি ও অন্যান্য শহরগুলোতে ঘুরাঘুরির ‍সুযোগ ও পেয়েছি।

 

 

ফ্লোরিয়ান: হাইডেলবার্গের কোন জিনিসটা তোমাকে খুব মুগ্ধ করেছে ?

মেয়েকু: এখানে প্রচুর জাপানি রয়েছে। জাপানি বেশকিছু নিদর্শনও রয়েছে। যেগুলো আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।

ফ্লোরিয়ান: হাইডেলবার্গের কোন জিনিসটা খুব পছন্দ করো ‍তুমি ?

At the Neckar

At the Neckar

মেয়েকু: আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে কোন দূর্গ নেই, তাই এখানকার এই জিনিসগুলো খুবই সুন্দর লাগে। আর আমি দূর্গ খুবই পছন্দ করি।

ফ্লোরিয়ান: তোমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি ?

মেয়েকু: আমি Neckar নদী খুবই পছন্দ করতাম। Neckarwiesen এ প্রচুর পরিমাণে ফুল রয়েছে। এই জায়গাটি খুবই সুন্দর তাই ওখানে আমি আমার হোমওয়ার্ক্ গুলো করতাম। সেজন্য আমি মনে করি ওটাই আমার প্রিয় জায়গা।

ফ্লোরিয়ান: জার্মানিতে পড়াশোনা করার সুবিধা কি ?

মেয়েকু: নতুন সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার ‍সুযোগ পাওয়া যায়। তাছাড়াও সেখানে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক খুবই প্রাণবন্ত পৃথিবীর যেকোন জায়গার চেয়ে। এখানে প্রচুর অপেরা ও কনসার্ট হল রয়েছে। যেগুলো আমি খুবই পছন্দ করি।

 

সূত্র: ‍study-in.de

অনুবাদক: রাসেল নীল, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email