জার্মানিতে শেষ ঠিকানা- হৃদয়ের বাগান

 

কবরস্থান শুনলেই কেমন যেন ভয়ে আঁতকে উঠি সবাই৷ তবে জার্মানির কোনো কবরস্থানে ঘুরে এলে ভয় খানিকটা কেটে যায় বৈকি! প্রতিটি কবর সুন্দর করে বাঁধানো এবং সুন্দর করে সাজানো এক একটি বাগান৷

মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে

কবিগুরু যেমন লিখেছিলেন, ‘‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানুষের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’’– এ কথা যে আমাদের সবারই৷ কিন্তু উপায় নেই, এক সময় এই সুন্দর ভুবন ছেড়ে আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে৷ তবে কার শেষ ঠিকানা কোথায়, কেউ কি জানে?

কবরস্থান মানেই ভয় নয়

কবরস্থান শুনলেই কেমন যেন ভয়ে আঁতকে উঠি সবাই৷ তবে জার্মানির কোনো কবরস্থানে ঘুরে এলে ভয় খানিকটা কেটে যায় বৈকি! প্রতিটি কবর সুন্দর করে বাঁধানো এবং সুন্দর করে সাজানো এক একটি বাগান৷

দেখতে ঠিক যেন পার্কের মতো

বিশাল এলাকা জুড়ে এক একটি কবরস্থান, ঢোকার সময় প্রথমেই মনে হবে চারিদিকে সবুজে ঘেরা কোনো পার্কে ঢুকছি৷ খানিকটা ভেতরে গেলে মনে হয় বিশাল পার্কে ছোট ছোট অনেক বাগান৷ একটি কবরস্থানে বড়দের এবং বাচ্চাদের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে৷

নাম ফলক

প্রতিটি কবরেই পাশেই নানা রংয়ের পাথরের ওপর প্রয়াতদের নাম, জন্ম এবং মৃত্যুর তারিখ লেখা থাকে৷ অনেক সময় দেখা যায় কোনো কবরে একটি নামফলক৷ শায়িত আছেন একজনই কিন্তু জায়গাটি বেশ বড় করে বাঁধানো৷ অর্থাৎ সেখানে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য জায়গা রাখা হয়েছে৷ তবে যিনি বেঁচে আছেন, তিনি তার পরিচর্যা করেন৷

ফুলের বাগান

কবরস্থানে যে কেউ ঢুকে পুরোটাই ঘুরে বেড়াতে পারে৷ এতে কোনো বাধানিষেধ নেই৷ ছোট ছোট জায়গা ভাগ করা আছে, তবে ভেতর দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে৷ অনেকে শুধু হাঁটাহাঁটি করার জন্যও কবরস্থানে যায়, অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গা৷ গ্রীষ্মে কোনো কবরস্থানকে ফুলের বাগান বললে ভুল হবেনা৷ প্রায় প্রতিটি কবরস্থানের কাছেই একটি করে ফুলের দোকান থাকে৷

পরিবার বা প্রিয়জনদের পরিচর্যা

জার্মানরা অনেকেই নিয়মিত কবরস্থানে যান তাদের প্রিয়জনের সমাধিতে ফুল দিতে৷ জ্বালিয়ে রাখেন মোমবাতি আর ছোট্ট বাগানটুকু করেন পরিষ্কার৷ তবে পুরো কবরস্থান পরিচর্যার জন্য থাকে বেতনভোগী আলাদা লোক৷

মুসলমানদের কবরস্থান

জার্মানিতে প্রথম মুসলমানদের কবরস্থান তৈরি করা হবে, আর তার আইন পাসও হয়ে গেছে৷ তৈরি হবে ভুপার্টাল শহরে৷ একই জায়গায় খ্রিষ্টান, ইহুদি এবং মুসলিম – এই তিন ধর্মের মানুষকে কবর দেওয়া হবে এবং একই গেট দিয়ে তিন কবরস্থানেই যাওয়া যাবে৷

তাজা ফুল

জার্মানিতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশিদিন বাঁচেন৷ আর তা কোনো কবরস্থানে গেলেও কারো দৃষ্টি এড়ায় না৷ অনেক বৃদ্ধাকেই দেখা যায় প্রতি সপ্তাহেই স্বামীর কবরে তাজা ফুল দিতে৷ শীত গ্রীষ্ম কখনো তার ব্যতিক্রম হয়না৷ এতো যত্ন করে কবরস্থানে ফুল দিতে দেখলে কবি জসীমউদ্দিনের … ‘‘এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দু’নয়নের জলে’’-র কথাই মনে করিয়ে দেয়৷

সূত্র~ ডয়েচে ভেলে বাংলা

#BSAAG_Miscellaneous

#BSAAG_DW_Articles

Print Friendly, PDF & Email