• Home »
  • Visa-Interview »
  • অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট সংগ্রহ করার নতুন ব্যবস্থা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট সংগ্রহ করার নতুন ব্যবস্থা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 

দীর্ঘদিন নোটিশ দেবার পর অবশেষে ১৯শে মে ২০১৫ইং ঢাকার জার্মান দূতাবাস তাদের নতুন অনলাইন সাক্ষাৎকার তারিখ সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করল।
এখন থেকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না যে কবে তারিখ পরে বা কাজ শেষ করার আগেই তারিখ পরে কিনা। নতুন ব্যবস্থা যেমন সুবিধাজনক
তেমনি আছে বেশ কিছু সমস্যা। আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে একটু এই সমস্যা গুলো এড়িয়ে আমরা শুধু সুবিধাগুলো পেতে পারি।

নতুন ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য কিছু সুবিধা:

  • এখন থেকে আপনার সুবিধামত একটি তারিখে আপনি আপনার সাক্ষাৎকারটি দিতে পারবেন
  • আপনি নিজে নিজে অনলাইনে আপনার সাক্ষাৎকারের তারিখটি সংরক্ষণ করতে পারবেন
  • আপনি সাক্ষাৎকার তারিখ সংগ্রহ করার সময় দেখতে পারবেন কবে কবে তারিখ খালি আছে
  • আপনি সফল ভাবে একটি তারিখ সংরক্ষণ করার পর আপনাকে একটি অনুমোদনপত(confirmation) ইমেইলে দেয়া হবে
  • কোন সমস্যা থাকলে আপনি আপনার সংরক্ষণকৃত তারিখটি বাতিল করে দিতে পারবেন
  • যদি আপনি না পারেন তাবে আপনার বিশ্বস্ত অন্য কোন ব্যক্তি আপনার জন্য একটি সাক্ষাৎকারের একটি তারিখ সংগ্রহ করতে পারবে
  • আপনার কাঙ্ক্ষিত যাত্রার(flight) তারিখ হইতে আপনি সর্বোচ্চ ৩ মাস আগে সাক্ষাৎকারের তারিখ সংগ্রহ করতে পারবেন
  • অনূর্ধ্ব ৬ বসর বয়েসি শিশুরা শেঞ্জেন ভিসার জন্য তাদের পিতামাতা/অভিভাবকদের সাথে সাক্ষাৎকার দিবে, আলাদা আবেদনের প্রয়োজন নেই
  • অনূর্ধ্ব ১২ বসর বয়েসি শিশুরা জাতীয়(National/D-Visa) ভিসার জন্য তাদের পিতামাতা/অভিভাবকদের সাথে সাক্ষাৎকার দিবে, আলাদা আবেদনের প্রয়োজন নেই
  • অনলাইনে সাক্ষাৎকারের তারিখ সংগ্রহ করার পরিসেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়

আবেদনকারী তার পছন্দমত সাক্ষাৎকারের তারিখ সংগ্রহ করতে পারবে

নতুন ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা এবং আপনার করনীয়ঃ:

১. আপনি চাইলেই যে কোন দিন সাক্ষাৎকার দিতে পারেন কিন্তু আপনার কাঙ্ক্ষিতও তারিখটি খালি নাও থাকতে পারে
সমাধানঃ সাধারনত জুলাই থেকে অক্টোবর সর্বাধিক আবেদন জমা হয় তাই এই সময়টাতে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তারিখটি নাও পেতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার করনীয় হল আপনি আপনার সাক্ষাৎকারটি যত আগে সম্ভব দিয়ে দিবেন, অথবা আগে থেকে একটা তারিখ সংগ্রহ করুন যেদিন আপনি নিশ্চিত যে আপনি যেতে পারবেন।

২. আপনি একবার একটা তারিখ সংগ্রহ করে ফেল্লে পরে ওই তারিখ পার না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোন তারিখ সংগ্রহ করতে পারবেন না
সমাধানঃ এটা সবার(ভিসা আবেদনকারিদের) সুবিধার জন্য করা হেয়েছে যাতে করে কেউ ইচ্ছা/অনিচ্ছাকৃত ভাবে ২ বা ততাধিক সাক্ষাৎকার সংরক্ষণ করে অন্যদের জন্য যাতে বাধা না সৃষ্টি করতে পারে। এটা একটা সমস্যা বটে যদি কোন কারণে আপনি আপনার নির্ধারিত তারিখে না যেতে পারেন, এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার এপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দিন তাহলে সম্ভবত আপনি এক্তি নতুন তারিখ নিতে পারবেন না হলে আপনার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ পার না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

একবার একটা তারিখ সংগ্রহ করে ফেল্লে পরে ওই তারিখ পার না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোন তারিখ সংগ্রহ করা যাবে না

৩. আপনার বাতিল করা তারিখটি আপনি নতুন করে আবার সংরক্ষণ করতে পারবেন না
সমাধানঃ আপনি যদি কোন বিশেষ অসুবিধার কারণে আপনার পূর্বসংগৃহীত তারিখে উপস্থিত হতে না পারেন/পারবেন না তাহলে আপনি ওই তারিখটি বাতিল করে দিবেন এবং ওই তারিখটি আপনি আর পাবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনাকে নতুন একটি তারিখ সংগ্রহ করতে হবে। তাই তারিখ সংরক্ষণের আগে ভাল করে ভেবে নিন।

৪. জনপ্রতি শুধুমাত্র একটি সাক্ষাৎকার তারিখ সংগ্রহ করা সম্ভব।
সমাধানঃ এটা পূর্ব উল্লেখিত (সমস্যা ২) এর অংস। পূর্বের সমাধানটি এখানেও প্রযোজ্য।

৫. অসম্পূর্ণ আবেদন সরাসরি বাতিল করে দেয়া হবে এবং আবেদনকারীর নতুন একটি আবেদন ও সাক্ষাৎকারের তারিখ সংগ্রহ করতে হবে।
সমাধানঃ এ ক্ষেত্রে আপনাকে খুব যত্নসহকারে আপনার অনলাইন আবেদনটি পুরন করতে হাবে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ফর্মের যথাযথ ঘরে পূরণ করতে হবে।

৬. ফর্ম(অনলাইন) পূরণের সময় আবেদনকারীর দেয়া তথ্য তার পাসপোর্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
সমাধানঃ আপনি আপনার পাসপোর্টের দ্বিতীয় পৃষ্ঠা দেখে দেখে ফর্মটি পূরণ করবেন, এবং পূরণ করার পর অবশ্যই পরীক্ষার খাতার মত অন্তত একবার রিভিশন দিবেন এবং প্রয়োজনমত সংশোধন করবেন, কোন সমস্যা হবে না। 🙂

৭. ফর্ম(অনলাইন) পূরণের সময় আবেদনকারীর দেয়া ইমেইল ঠিকানাটি অবশ্যই সঠিক এবং সক্রিয় হতে হবে।
সমাধানঃ এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, আপনার নিজস্ব ইমেইল ঠিকানাটি দিবেন এবং এই ঠিকানাতেই দূতাবাস থেকে আপনার সাথে তথ্য আদান প্রদান করা হবে। মনে রাখবেন, এই ইমেইল ঠিকানাতে আপনাকে একটা অনুমোদনপত্র দেয়া হবে যেটা আপনাকে অবশ্যই সাক্ষাৎকারের দিন জমা দিতে হবে।

আবেদনকারী তার সঠিক ও সক্রিয় ইমেইল প্রদান করবে যেখানে একটি অনুমোদন পত্র পাঠানো হবে

৮. সফলভাবে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের তারিখ সংগ্রহের পর আবেদনকারী তার ইমেইল ঠিকানায় একটি অনুমোদনপত্র(confirmation) পাবে, এর একটি প্রিন্টেড কপি ভিসা সাক্ষাৎকারের দিন আবেদনকরী জমা দিতে না পারলে তার সাক্ষাৎকার নেয়া হবে না এবং তাকে নতুন করে আবার একটি তারিখ নিয়ে আসতে হবে।
সমাধানঃ এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই, আপনি নিজ দায়িত্বে আপনার অনুমোদন ইমেইলটি প্রিন্ট করে সাথে নিয়ে যাবেন।

৯. আবেদনকারী যথা সময়ে দূতাবাসে উপস্থিত না হলে/দেরিতে উপস্থিত হলে তার সাক্ষাৎকার নেয়ার সম্ভাবনা কম এবং তাকে আবার তারিখ নিয়ে আসতে হবে।
সমাধানঃ ভিসা সাক্ষাৎকার সকাল ৮.৩০ থেকে ৯.৩০ এর মধ্যে নেয়া হয়, আপনার সময় যত দেরিতে হোক আপনি চেষ্টা করবেন সকাল ৮.০০টায় দূতাবাসের waiting-room এ থাকতে।

১০. এমন কেউকে আপনার পাসপোর্ট নাম্বারটি দিবেন না যিনি আপনার জার্মানি যাওয়া নিয়ে ঈর্ষান্বিত বা আপনার ক্ষতি করতে আগ্রহী।
মানে? মানে হল যে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে কেউ যদি একটা তারিখ সংরক্ষণ করে, তাহলে আপনি বিপদে পরে যাবেন কারণ আপনার পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে আপনার আবেদনটি সংরক্ষণ করা হয় এবং এই নাম্বারটি সেই তারিখ পার না হওয়া পর্যন্ত আর আবেদন করার ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা যাবে না। তাই আপনার মূল্যবান পাসপোর্ট নাম্বারটি আপাতত গোপন রাখুন।

এই হল সব কথা। আমরা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এখনও নিশ্চিত নই, বিশেষ করে একটি এপয়েন্টমেন্ট বাতিল করার পরপরি কি আবার নতুন করে একটি তারিখ নেয়া যাবে না অপেক্ষা করতে হবে। আসা করা যায় যে বেশ কিছুদিন পর আমরা এসব বিষয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারব।

তথ্য সংকলন ও লেখাঃ আশরাফুল ইসলাম

তথ্যসূত্রঃ

http://www.dhaka.diplo.de/Vertretung/dhaka/en/02/0Einreise__Hauptbereich.html
https://service2.diplo.de/rktermin/extern/choose_realmList.do?locationCode=dhak&request_locale=en
https://service2.diplo.de/rktermin/extern/choose_category.do?locationCode=dhak&realmId=420&categoryId=944

Print Friendly, PDF & Email