• Home »
  • Agency-Hope-vs-Reality »
  • ফেসবুকে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক ফ্রি তথ্য যাচাই করে নিন

ফেসবুকে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক ফ্রি তথ্য যাচাই করে নিন

 

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি ছেলেমেয়েদেরকে সাহায্য করার জন্য ফেসবুকে ইদানীং আরও কিছু গ্রুপ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আমাদেরকে অনুসরণ করে আপাত দৃষ্টিতে অন্যদের সাহায্য করছে। এটা ভাল উদ্যোগ, এবং সবার জন্য ভাল হবারই কথা।fraud-agencies-study-germany

খুব সম্প্রতি কেউ আমাকে এমন একটা গ্রুপে যোগ করেছে (www.facebook.com/groups/BSFOG/)। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম গ্রুপটিতে দশ হাজারের বেশি সদস্য, এবং আমাদের এই গ্রুপের অনেকেই সেখানে যুক্ত আছে। সেখানে তারা বিভিন্ন ছেলেমেয়েদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে – সত্যি সত্যি বেশ ভাল লাগল।

তাদের ফাইল সেকশনেও অনেক তথ্য, কিছু আমাদের গ্রুপ থেকে নেওয়া। কিন্তু সেটা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই, আমরা তো চেয়েছিই যে এই তথ্যগুলো যেন সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। জার্মানি নিয়ে, বিশেষ করে এদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমার অতি সামান্য জ্ঞান। সেটা বিসাগের মাধ্যমে অনেক ছেলে মেয়েকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে গিয়ে ডাডসহ বিভিন্ন সাইটে পড়াশোনা করে হয়েছে। অন্য কেউ উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাউন্সিলিং করলে আগ্রহ নিয়ে দেখি, তারা কি বলছে। মনে হয়, হয়তো নতুন কিছু জানতে পারব।

গ্রুপটির ওয়ালে প্রশ্নোত্তর পড়া শুরু করলাম। সেখানে চমৎকার কিছু পোস্টের পাশাপাশি আছে অজস্র ভুল তথ্য। বিশেষ করে যারা এডমিন, তারা সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এডমিনদের ভুল ইংরেজি দেখেও একটু দৃষ্টিকটু লাগল।

একটা প্রশ্নে একজন এডমিন উত্তর দিয়েছে, জার্মানিতে স্টুডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে তিন মাসের ভিসা নিয়ে আসলে তিন মাস শেষ হবার আগে কোন কাজের অনুমতি যেমন নেই, তেমনি এই সময় শেষ হবার আগে নাকি ভিসাও বাড়ানো যায় না। ভিসা বাড়াতে হবে তিন মাস শেষ হলে।

এটা সঠিক তথ্য নয়, জার্মানিতে আসার পরদিনই ইচ্ছে করলে সব কাগজ যোগাড় করে ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যায়। তিন মাস বসে থাকার কিছু নেই। ভুল তথ্য দেখলে আমার অনেকদিনের বদভ্যাস সেটা শুধরে দেবার। সেটা ভদ্র ভাষায় শুধরে দেবার কিছুক্ষণ পরেই দেখি সেই গ্রুপে আমি “ব্যানড”! একটু কেমন সন্দেহ হল, শুধু সামান্য ভুল ধরিয়ে দিলে কেন কেউ গ্রুপ থেকে ব্যান করবে! অন্য একটা আইডি দিয়ে গ্রুপটা পর্যবেক্ষণ করলাম।

যা জানলাম, সেটা আমার ধারনার অতীত। এই গ্রুপের ছয়জন এডমিনের মধ্যে অন্তত চারজন সরাসরি জামাত শিবিরের সমর্থক অথবা কর্মী। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বিসাগ গ্রুপ থেকে রাজাকার হিসেবে বহিষ্কার করা হয়েছিল গত বছর। যুদ্ধাপরাধিদের স্বপক্ষে গত বছর এরা বার্লিনে রাজাকারদের জনসম্মেলন করেছিল। সেই ভিডিও এখনও ইউটিউবে জার্মানির বাংলাদেশীদের জন্য কলঙ্ক হয়ে আছে (www.youtube.com/watch?v=Pqx6MKUxp48)। শোনা যায়, এই অনুষ্ঠানের হল ভাড়া থেকে শুরু করে সব খরচ এসেছে জামাতের ব্যাংক থেকে।

তবে এই গ্রুপটি সরাসরি শিবির রাজাকার সমর্থকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, সেটাই আমার একমাত্র আক্ষেপ ছিল না। খবর নিয়ে জানলাম, এই গ্রুপটির ছয়জন এডমিনের ছয়জনই এজেন্সির মাধ্যমে জার্মানিতে এসেছে। এবং প্রত্যেকে এসেছে ভাষা শেখার ভিসা নিয়ে। এখনও এই ছেলেগুলোর অনেকেই মূল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতন যোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি। যারা নিজেরাই জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি, বা এখনও কোন ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি, তারাই যদি পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বাতলে দেবার দায় ভার নেয়, তাহলে একটু শঙ্কা জাগে বৈকি।

জার্মানিতে বাংলাদেশের এজেন্সিদের বেশ কিছু দালাল আছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা সবাই নিজেরাই দালালের মাধ্যমে এসেছে, তারা যে গ্রুপের আড়ালে এজেন্সিদের সাথে যোগসাজস করবে না- সেই গ্যারান্টি কে দেবে! শিবির এবং দালালি – দুইটার মধ্যে কেমন যেন ভাই ভাই গন্ধ।

এই নিয়ে কোন উপসংহার টানার ইচ্ছে বা রুচি আমার নেই। বিসাগ গ্রুপে উপদেশ দেবার লাইসেন্স থাকার পরও কাউকে একটা উপদেশ দেবার আগে অনেকক্ষণ চিন্তা করি। এই কথাটায় ছেলেটার বা মেয়েটার জীবনে কোন ক্ষতি যেন না হয়ে যায়। কাউকে জ্ঞান দেবার আগে নিজেকে মনে করিয়ে দেই, নিজে অতি সামান্য ক্যারিয়ার করেছি জার্মানিতে। এতগুলো ছেলেমেয়েকে উপদেশ দেয়া বা স্বপ্ন দেখানোর আগে যেন নিজেকে আগে যথার্থ ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করি।

বিনামূল্যে তথ্য পাওয়া যেমন সবসময় ভাল না, তেমনি সেই তথ্যের উপর খুব বেশি নির্ভর করতেও নেই। একই কথা আমাদের গ্রুপের দেওয়া তথ্যের জন্যও সত্যি। তথ্যের উৎস যাই হোক, তোমাদের ক্যারিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ন যেকোন তথ্যে পুরোপুরি নির্ভর করার আগে, যাচাই বাছাই করে দেখে নিও সেটা ঠিক কিনা। জার্মানে একটা কথা আছে, “Vertrauen ist gut, Kontrolle ist besser”। “বিশ্বাস করা ভাল, তবে যাচাই করে দেখা বেশি ভাল।”

আদনান সাদেক, ২০১৪

অন্যান্য লেখা ও লেখকের কথা

Print Friendly, PDF & Email