ষোলোকলা জার্মানি

 

দুই জার্মানির পুনর্মিলনের ২৫তম বার্ষিকী আগামী ৩রা অক্টোবর৷ সেই উপলক্ষ্যে জার্মানির ১৬টি অঙ্গরাজ্যের একটি পরিচিতি থাকলো আজ-

বাভেরিয়া

 

বাভেরিয়া হলো জার্মানিতে পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় গন্তব্য৷ প্রত্যেক বছর সাড়ে সাত লাখ পর্যটক এই প্রদেশটিতে আসেন৷ বাভেরিয়া – জার্মানে ‘বায়ার্ন’ – তার ঐতিহ্যের জন্য খ্যাত: ‘ট্রাক্টেন’ নামধারী মহিলাদের পোশাক অথবা পুরুষদের ‘লেডারহোজেন’ এবং বিয়ার৷ বাভেরিয়ায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো মিউনিখ৷

বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ

দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে বাভেরিয়ার প্রতিবেশি হলো বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ প্রদেশ৷ এখানকার ভাষায় একটা আঞ্চলিক টান আছে, একবার শুনলেই বোঝা যায়৷ নয়ত প্রদেশটি সমৃদ্ধ, মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কোম্পানির হেডকোয়ার্টার্সও এই বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গে৷

বার্লিন

জার্মানির ১৬টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে আছে তিনটি নগর রাজ্য, তাদের মধ্যে একটি হলো ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বার্লিন৷ বার্লিনে ৩৪ লাখ মানুষের বাস৷ বার্লিন যেন বার বার তার ভোল পাল্টায় – পর্যটকরা ঠিক যে কারণে বার্লিনকে ভালোবাসেন৷

হামবুর্গ

আরো একটি নগর রাজ্য৷ হ্যানসিয়্যাটিক শহর হামবুর্গে মোট ১৭ লাখ মানুষের বাস৷ এই বন্দরনগরী যেন জার্মানির তোরণদ্বার৷ ব্যবসা-বাণিজ্য ভালোই বোঝেন হামবুর্গের মানুষেরা৷

ব্রেমেন

জার্মানির সবচেয়ে খুদে রাজ্য৷ মাত্র ৬ লাখ ৬৪ হাজার মানুষের বাস৷ বস্তুত একটি নয়, দু’টি শহর: ব্রেমেন আর ব্রেমারহাফেন৷ রাজ্যটিকে ঘিরে রয়েছে নিম্ন স্যাক্সনি৷ ব্রেমেন-এও হ্যানসিয়্যাটিক ট্র্যাডিশন আর বিশ্বকুটুম্বিতার ছোঁয়া পাওয়া যায়৷

নিম্ন স্যাক্সনি

শহর কম, প্রকৃতি বেশি৷ জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্যে বাস করেন মোট ৮০ লক্ষ মানুষ৷ রাজধানী হলো হ্যানোফার৷

নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া

রাইন নদের ধারের হাসিখুশি মানুষ আর কর্মঠ ‘ভেস্টফালেন’-দের নিয়ে এই রাজ্য৷ জনসংখ্যায় জার্মানির বৃহত্তম: মোট এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের বাস৷ কোলোন এখানকার বৃহত্তম শহর, কিন্তু রাজধানী হলো ড্যুসেলডর্ফ৷

রাইনল্যান্ড প্যালেটিনেট

এখানে তৈরি হয় ওয়াইন৷ সেই সঙ্গে আছে জঙ্গলে ঘোরা৷ রাইন, মোজেল, নাহে কিংবা ‘আর’ নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য যেমন মনোরম, তেমনই এই সব নদীর ঢালের আঙুরখেত থেকে তৈরি ওয়াইন সারা বিশ্বে খ্যাত৷ এই রাজ্যে বাস করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ৷ রাজধানী হলো মাইনৎস৷

হেসে

হেসে মানেই হলো ফ্রাংকফুর্ট আম মাইন, অর্থাৎ মাইন নদীর তীরে ইউরোপীয় ব্যাংকিং-এর কেন্দ্রবিন্দু৷ ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দরও অনুরূপ বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণ৷ হেসে রাজ্যে ৬১ লক্ষ মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো ভিজবাডেন৷

সারল্যান্ড

দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির এই ছোট্ট রাজ্যটির নাম ইতিহাসে বার বার লেখা আছে৷ কাছেই ফ্রান্স ও লাক্সেমবুর্গ৷ সারল্যান্ডের পরিবেশটা ইউরোপীয়৷ এখানে লাখ দশেক মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো সারব্রুকেন বা জারব্র্যুকেন৷

শ্লেসভিগ-হলস্টাইন

বালটিক সাগর আর উত্তর সাগরের মাঝে এই রাজ্যটির বেলাভূমি, বন্দর অথবা দ্বীপ, সবই আছে৷ এখানে ২৮ লাখ মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো কিল৷

মেকলেনবুর্গ-ফোরপম্যার্ন (বা পশ্চিম পমেরানিয়া)

রাজ্যটি বালটিক সাগরের তীরে৷ এককালে কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির অংশ ছিল৷ এখানে ১৭ লাখ মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো শোয়েরিন৷

ব্রান্ডেনবুর্গ

মেকলেনবুর্গ ফোরপমার্নের প্রতিবেশী রাজ্য, আগে পূর্ব জার্মানির অংশ ছিল৷ বার্লিনকে ঘিরে রয়েছে ব্রান্ডেনবুর্গ৷ রাজধানী পট্সডাম তার বিভিন্ন প্রাসাদ ও হৃদের জন্য বিখ্যাত৷ ব্রান্ডেনবুর্গে ২৫ লাখ মানুষের বাস৷

স্যাক্সনি

সাবেক পূর্ব জার্মানির এই রাজ্যটি আয়তনের দিক থেকে মাঝারি হলেও, রাজধানী ড্রেসডেনের ব্যারোক স্থাপত্য অথবা তথাকথিত ‘স্যাক্সনির সুইজারল্যান্ডের’ প্রাকৃতিক দৃশ্য একবার দেখলে ভোলবার নয়৷

স্যাক্সনি-আনহাল্ট

রাজ্যটিতে অষ্টাদশ শতাব্দীর উদ্যান থেকে শুরু করে স্থপতি ভাল্টার গ্রোপিউস-এর প্রখ্যাত ‘বাওহাউস’ শৈলীর নিদর্শন অবধি নানা বিচিত্র বস্তু দেখতে পাওয়া যাবে৷ এখানে মোট ২৪ লাখ মানুষের বাস৷ রাজধানী হলো মাগডেবুর্গ৷

ট্যুরিঙ্গিয়া

ট্যুরিঙ্গিয়া বা ট্যুরিঙ্গেন রাজ্যটি ঠিক জার্মানির মাঝখানে৷ লুথার, শিলার, গ্যোটের মতো কবি-দার্শনিক-ধর্মপ্রচারকদের দেশ৷ মোট ২৩ লাখ মানুষের বাস এই রাজ্যে৷ রাজধানী হলো এরফুর্ট৷

তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে

Print Friendly, PDF & Email