জার্মান ঐক্য(Deutsche Einheit) কতদূর?

 


আজ ৩রা অক্টোবার, দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের ২২তম বার্ষিকী৷ এ বছরের মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে মিউনিখে৷ কিন্তু বাস্তবে দুই জার্মানির মিলন বা একীকরণে কতদূর প্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷

বিভক্ত জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পর জার্মানির পশ্চিমাঞ্চল থেকে পুবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হস্তান্তরিত হয়েছে, যাতে দুই জার্মানির অবকাঠামো, অর্থনীতি এবং সামাজিক সুযোগসুবিধায় যে বিশাল ব্যবধান ছিল, তা যথাশীঘ্র দূর করা সম্ভব হয়৷ সেই অর্থে পুবে রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছে, অনেক কিছু সারানো হয়েছে৷ কিন্তু এই আর্থিক সংকটের আমলে পশ্চিমের অনেক শহর এবং পৌর কর্তৃপক্ষের হাঁড়ির হাল৷ তাদেরও রাস্তা সারানো আছে, স্কুল কি পাবলিক সুইমিং পুল চালানোর কাজ আছে৷ তাদেরও তো পুবের মতোই ‘সংহতি সাহায্যের’ প্রয়োজন৷

অথচ পুনরেকত্রীকরণের ২২ বছর পরে পুব আর পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান আরো বেড়েছে৷ পুবের রাজ্যগুলির সামগ্রিক উৎপন্ন পণ্য ও সেবার পরিমাণ দুই শতাংশ কমে এখন পশ্চিমের ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷ পুবে মাইনেপত্র পশ্চিমের এক-চতুর্থাংশ কম৷ যে কারণে তরুণ প্রজন্মের পুব থেকে পশ্চিমে গিয়ে ভাগ্যান্বেষণের প্রবণতা বেড়েছে বৈ কমেনি৷

ওদিকে পশ্চিমে ঘটছে যাকে জার্মানে বলে ‘স্ট্রুকটুরভান্ডেল’, অর্থাৎ কাঠামোগত পরিবর্তন, যেমন রুর কয়লাখনি অঞ্চলে সব কয়লাখনি বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা যাচ্ছে৷ কাজেই দাবি উঠেছে, সরকারি সাহায্য যদি বিলোতেই হয়, তবে পশ্চিমই বা কি দোষ করল?

জার্মান ঐক্যের চ্যান্সেলর হেলমুট কোল: পূর্বাঞ্চলের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির কথা বলেছিলেন কিন্তু প্রাক্তন পূর্ব জার্মানিকে প্রায় নতুন করে গড়ার কাজে প্রথম দিকে ভুলচুক হতে বাধ্য৷ এছাড়া পুনরেকত্রীকরণের আসল লাভ তো পুবের মানুষদের মুক্তি, তাদের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা৷ তেসরা অক্টোবর, ১৯৯০ ছিল একটি ঐতিহাসিক, শ্বাসরুদ্ধকর নাটকের আবেগপূর্ণ শেষ অঙ্ক৷ তার পরে পূর্বাঞ্চলকে আধুনিক, খোলাবাজারের অর্থনীতির উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু হয়: কঠিন কাজ৷ সরকারি ‘ট্রয়হান্ড’ সংস্থাকে প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির ১৪,০০০ সরকারি কলকারখানা, শিল্পসংস্থা বেচে দিতে হয়৷ তথাকথিত ‘সলিডারপাক্ট’ বা সংহতি চুক্তি অনুযায়ী বিগত বিশ বছরে পশ্চিম থেকে পুবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইউরো হস্তান্তর করা হয়েছে৷

কিন্তু আজ যদি পশ্চিমের একাধিক অঞ্চলের একই রকম সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে? তবে কি তাদের – পুবের মতোই – সে সাহায্য পাবার অধিকার থাকবে না?

[youtube_sc url=”http://www.youtube.com/watch?v=RVE6sjS2jGo”]

প্রতিবেদন: মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাও/এসি
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ
সোর্সঃ dw.de

Print Friendly, PDF & Email