গাত্রবর্ণ অনুযায়ী পুলিশি তল্লাসি নিষেধ

 

জার্মানির কোবলেনৎস শহরের এক আদালত মানুষজনের গাত্রবর্ণ অনুযায়ী পুলিশি জেরা কিংবা খানাতল্লাস নিষিদ্ধ করেছে৷ কাসেল শহরের এক ছাত্র পুলিশের বিরুদ্ধে এ নিয়ে মামলা করে প্রায় দু’বছর আগে৷

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস৷ ২৫ বছর বয়সী এক স্থাপত্যশিল্পের ছাত্র – নাগরিকত্বে জার্মান – কাসেল থেকে ফ্রাংকফুর্ট যাচ্ছিলেন ট্রেনে করে৷ ফেডারাল পুলিশের দু’জন কর্মকর্তা ট্রেনে তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান, খুব সম্ভবত তিনি কৃষ্ণাঙ্গ বলে৷ ছাত্রটি বোধ করেন যে, তাঁর প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে এবং তাঁর পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকার করেন৷ শুধু তাই নয়, তিনি পুলিশের সামনেই এ কথাও বলেন যে, এ ধরণের ব্যাপার-স্যাপার তাঁকে নাৎসি আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়৷ পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা করে৷

কোবলেনৎসের প্রশাসনিক আদালত এ বছরের মার্চ মাসেও রায় দেয় যে, পুলিশ যে ছাত্রটির পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিল, তাতে ভুল কিছু করা হয়নি৷ অবৈধ অভিবাসন রোখার জন্য পুলিশ চেহারা অনুযায়ী এখানে-সেখানে কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারে বৈকি৷ জার্মানির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কিন্তু এবার সেই রায় পাল্টে দিয়েছে এবং ছাত্রটির যুক্তিই মেনে নিয়েছে৷ এই আদালতও কোবলেনৎস শহরেই অবস্থিত৷

রোমা ও সিন্টিদের ঢল ঠেকাতে চায় জার্মানি…
.
আদালতের নতুন রায় হল, আইডি কার্ড চেক করার জন্য শুধু গাত্রবর্ণ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করলে চলবে না৷ এ ধরণের পদ্ধতি সংবিধানের তিন নম্বর ধারার বিরোধী, যে ধারায় বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে: ‘‘লিঙ্গ, জন্ম, জাতি, ভাষা, স্বদেশ কিংবা বংশ, ধর্ম কিংবা ধর্মীয় মতবাদ বা রাজনৈতিক ধ্যানধারণার কারণে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধাদান অথবা তার বিরুদ্ধে বিশেষ অসুবিধা সৃষ্টি করা চলবে না৷
.
জার্মান পুলিশ শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রাইনের ভেন্ড কিন্তু আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট নন৷ ‘‘আদালতে আইন অনুযায়ী সুন্দর রায় দেওয়া হয়৷ কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম দাঁড়ায়”, বলেছেন তিনি৷ পুলিশের অন্য এক শ্রমিক সংগঠন থেকে ভেন্ডের মন্তব্য সম্পর্কে বলা হয়, ওটা সব জার্মান পুলিশের মনোভাব নয়৷ জার্মানিতে শুধুমাত্র গায়ের রঙের কারণে কারোকে পুলিশি তল্লাসি করা উচিত নয়৷

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, যত ভালোই জার্মান বলুক না কেন, জার্মানিতে কৃষ্ণাঙ্গ হলেই তাকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া হয়৷

Original Source: dw.de

Print Friendly