বিদেশ ভালো ২: বার্লিনের যৌনপল্লীতে বাঙালির এক রাত

 

আর তাতেই আমার বলতে যাওয়া গল্পের সঙ্গে প্রবাদের মিল খুঁজে পাবেন।

যাই হোক ভাই অ্যান্ড বোন লোক, আমার গল্প বলা শুরু করি। আজকের বিষয়টা একটু ভিন্ন। একটু ডেয়ারিং। ভদ্দরনোকেরা আদর করে নাম দিয়েছেন ‘রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট’ আমি বাংলায় নাম দিলাম ‘লাল বাতি পাড়া’।

‘পাড়া’র সাথে লাল ‘বাতি’র এই সংযোগ নিয়ে নানা জনের নানা রকম মত আছে। কেউ বলেন চীনারা যৌনকর্মী পাড়া বা ব্রোথেল বাইরের ল্যানটার্ন লাল কাগজে মুড়ে রাখতো তাই এর নাম লাল বাতি পাড়া হয়েছে।

কেউ কেউ বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স  তাদের সেনা কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট করা ব্রোথেল বোঝাতে ব্যবহার করতো নীল রঙের বাতির আর সৈনিকদের জন্য লাল।

হয়তো এভাবেই ‘রেড লাইট এরিয়া’ বা ‘লাল বাতি পাড়া’ নামের পথচলা শুরু। এর বেশিকিছু আমি জানি না। জানলে, জানাবেন..ই-মেইল অ্যাডড্রেস পদতলে সঁপিলাম।

বুঝতে পারছি এই পর্যন্ত গল্পটা একটু বোরিং লাগছে। কিন্তু কি করবো বলুন, লেখার মধ্যে প্রবাস পাতার সম্পাদক ‘অনেক অনেক তথ্য চাই টাইপ চাপ‘ দিচ্ছে আমাকে। তাই আমি চাপ সামলাই, আপনার তথ্য সামলান।

চাপের এই পর্যায়ে কিছু আত্মপক্ষ সমর্থন করা কথা বলা জরুরী। আমি একজন স্বঘোষিত সমাজবিজ্ঞানী।

জর্মনদেশে আমি আর্ন্তজাতিক সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চ এবং নিম্ন এই দুই শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশে এসেছি। আমার একটা কোর্সের নাম ‘জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’।

বঙ্গানুবাদে ‘লিঙ্গের উন্নতি’ নয়। বরং লিঙ্গ এবং উন্নয়নে এর প্রভাব নিয়েই মূলত এই কোর্স। এই কোর্সের ক্লাস ওয়ার্ক হিসাবে ছোটখাট একটা রিসার্চ করতে হয়।

আমি  যেহেতু একটু ‘মাকনা টাইপ’ তাই আমার রিসার্চ টপিক হিসাবে বেছে নিলাম ‘বার্লিনের রেড লাইট এরিয়া এবং সেখানকার সেক্স ওয়ার্কারদের জীবন’।

এখানে বলে নেয়া ভালো, ‘পতিতা’ শব্দটি ব্যবহারে আমার আপত্তি আছে। জর্মন দেশে সেক্স ওয়ার্কারদেরকে ‘লেবার’ হিসাবে মর্যাদা দেয়া হয়। জর্মন দেশের সেক্স বাণিজ্য এবং সেক্স ওয়ার্কারদের বিষয়ে কিছু চামড়া ছিলা তথ্য দেই (আবার তথ্য!!)।

ক. জার্মানিতে ব্রোথেল ব্রান্ডের চেইন আছে (অনেকটা বাংলাদেশের সুপার শপগুলোর মতো) যেমন, প্যারাডাইস। এর কোন কোনটা প্রায় ১০-১২ তলা বিল্ডিং নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

খ. টেলিগ্রাফের ২০১৩ সালের তথ্যমতে এই কন্টিনেন্টে সবচেয়ে  বেশি যৌনকর্মী আছে জর্মনদেশে। এমনকি এর সংখ্যা নেদারল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডের চেয়েও বেশি। দশ বছর আগে এর সংখ্যা ছিলো চার লাখ। আর  দৈনিক গড়ে অন্তত ১২ লাখ মানুষকে ‘যৌন সেবা’ নিতেন।

গ. ১৯২৭ সাল হতে জার্মানিতে পেশা হিসাবে যৌন কর্ম এক ধরনের আইনি বৈধতার মধ্যে থাকলেও ২০০২ সালে ‘প্রস্টিটিউশন অ্যাক্ট বা প্রস্ট জি’  প্রণয়নের মাধ্যমে এই পেশাকে বৈধ পেশার মর্যাদা দেয়া হয়।

ঘ. এই পেশা’র কর্মীরা ইনকাম ট্যাক্স রেজিস্টার করতে পারেন । তাদের অ্যাপয়নমেন্ট লেটার মানে নিয়োগপত্র দিয়ে নিয়োগ দিতে হয়। রাষ্ট্রের যে কোন বেনিফিটের জন্য তারা আবেদন করতে পারেন, যদিও ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৪ জন যৌনকর্মী তাদের পেশাগত পরিচয় দিয়ে সরকারী বেনিফিটের জন্য আবেদন করেছেন।

ঙ. আপনি ‘যৌন সেবা’ নিয়ে পয়সা দিতে টালবাহানা করলে সেবাদাতা পুলিশ ডাকতে পারেন। আপনি পয়সা দিয়ে যথাযথ সেবা না পেলেও পুলিশ ডাকতে পারেন এবং বিচার হবে।

চ. ২০০২ সালে আইনি বৈধতা পাবার পর ধারণা করা হয়েছিলো সেক্স মার্কেটের সাইজ হয়তো হতে পারে পোর্শে কিংবা অ্যাডিডাসের সমপরিমান মানে ছয় বিলিয়ন ইউরো’র মত। কিন্তু ২০১৩ সালেই এটা ছিলো প্রায় ১৫ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি।

আসেন একটু দম নেই । তথ্য’র পালা শেষ।

কী ভাবছেন- ‘তো ভায়া এসব চলে বার্লিন গিয়া, না? বাসায় জানে?’

ভাই, আমি তো সমাজবিজ্ঞানী। তাই আমার ওইখানে তথ্য উপভোগের জন্য গমন জায়েজ। কোয়ালেটিটিভ রিসার্চের জন্য বেশকিছু ইন্টারভিউ আমি নিয়েছিলাম। এর মাঝে একটা ইন্টারভিউর এক্সপেরিয়েন্স নিয়েই আমার গল্পটি।

আমার রিসার্চের জন্য তথ্য লাগবে আর এজন্য একজন সঙ্গীও দরকার। আমার পছন্দ ছিলো একজন মেয়ে সঙ্গীর। কারণ মেয়ে থাকলে সেক্স ওর্য়াকারদের আমার ‘পবিত্র উদ্দেশ্য’ বোঝানো সহজ হবে।

কিন্তু বিধি বাম এবং ডান। ক্লাসের কোন মেয়েই রাজী হলো না। কারণ এরা তখনো নিজেদেরকে আমার লেভেলের সমাজবিজ্ঞানী ভাবতে পারে নাই। আমি এক বুক সাহস আর মাইর খাবার সম্ভাবনা নিয়ে বার্লিনের ‘কুরফুয়েরস্টেনস্ট্রাসে’তে গেলাম।

আবার একটু তথ্য দেই , এতো লিগালিটির পরও র্জামানির দুই হাজার ৬৪টি ছোট-বড় শহরের মাঝে মাত্র ২৩০টা শহরে এই পেশার আইনগত স্বীকৃতি‘র প্রয়োগ আছে। তাও আবার কিছু  রেস্টিট্রিকটেড এলাকায়।

এরকমই একটা রেস্টিট্রিকটেড এরিয়া বার্লিনের ‘কুরফুয়েরস্টেনস্ট্রাসে’। এখানে দেখা মিলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যৌনকর্মীদের।

আমার টার্গেট উনারা। আমার এক পকেটে শ’খানেক ইউরো। আরেক পকেটে রেকর্ডার। ব্যাগে ক্যামেরা। প্রথমে কিছুটা ভয়ে আর চাপা-কাঁপা উত্তেজনায় গোটা এলাকা ঘুরলাম। ঘুরে দেখলাম একটা অ্যাডাল্ট সিনেমা হল। সিনেমা হলের ভেতরে লাল আলো। বাইরে ফ্লুরোসেন্ট।

ছোট ছোট কেবিনে পয়সা ঢুকিয়ে শিক্ষামূলক ভিডিও (বুঝে নেন) দেখা যায় এবং সেই অর্জিত শিক্ষা প্রয়োগ করা যায়। নানা মুনির নানা মত নানা জনের নানা প্রাইস। দাম বুঝে কাম আই মিন কাজ। তো আমি একজনের দিকে কিছুটা ‘বন্ধু বন্ধু’ ভাব নিয়ে তাকাতেই সে আমাকে খানিকটা ভেংচি  কেটে সরে পরলো।

বুঝলাম যতো দোষ আমার চামড়ার। আরেকটু আগালাম। পেয়ে গেলাম এক জোড়া ধবধবে ইতালিয়ান। তারা উত্তেজিত হয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানালো, আমি আমার।

তাদের আমি নিরাশ করলাম। তারাও আমাকে নিরাশ করলো।  সেদিন আর কাজ হলো না। পরে জানলাম আমার টাইমিংটাই ভুল ছিলো।

কারণ সন্ধ্যা হতে রাত দশটা-এগারটা ‘উনা’দের ব্যস্ত সময়। আর শুক্র-শনি ওইদিকে যাবার নামও নেয়া যাবে না। কারণ, ওইটাই ব্যবসার সবচেয়ে উপযুক্ত দিন।

আমি এরপর একটু দিনক্ষণ বুঝে তথ্য আহরণের মহান ব্রত নিয়ে উপস্থিত হলাম ‘লাল পাড়ায়’। কথা হলো সোফিয়ার সাথে। এটা উনার আসল নাম (কারণ আমি নিশ্চিত ইহজনমেও সোফিয়া এই লেখা পড়বে না)।

সোফিয়ার বাড়ি তুরস্ক। সোফিয়া আধঘন্টা সময় কাটানোর জন্য ৫০ ইউরো চাইলো। আমি বললাম, না শুধু তোমার ইন্টারভিউ নিবো। এটা শুনেই সে সোজা হাঁটা দিলো। আমি কিছুটা বেকুব বনে গেলাম।

কিছু দূর গিয়ে সোফিয়া একটু দাঁড়ালো। তারপর আবারো হাঁটা । আমি বুঝলাম। কাজ হবে। আমিও ওকে ফলো করলাম। ফলো করে গিয়ে পৌঁছালাম একটা পোলিশ পাবে। ও পোলিশ ভাষায় কিছু একটা বলতেই আমার জন্য কোক আর ওর জন্য একটা জুস চলে আসলো। দাম চাইলো ১০ ইউরো।

ও একটু ঠোঁট ছুঁইয়েই গ্লাস ঠেলে দিলো। আমি বললাম, “দেখো, আমি শুধু কথা বলবো। কথা রেকর্ড করবো । একটু সময় দাও।”

সোফিয়া বললো, “ওকে ৪০ ইউরো। কেবিন ভাড়া ১০ ইউরো।”

আমি বললাম, “না এখানেই বলি।”

ও বললো, “না। এখানে কথা বললে পিম্পরা (দালাল) বিরক্ত করবে। চলো কেবিনে যাই । আমি বললাম সব মিলিয়ে আমি ৩০ ইউরো দিতে পারবো।”

ও বললো, “ইউ, চিপ ইন্ডিয়ান।”

আমি গালিটা নিলাম। কারণ আমি তো আর ‘ইন্ডিয়ান’ না। যাই হোক, কেবিনে গেলাম। মনে হলো গোটা বাংলাদেশ আমাকে তাকিয়ে দেখছে। কেবিন আর কি! ছোট্ট একটা জায়গা। টয়লেটের সাথে একটা বিছানা মতো।

সোফিয়া সিগারেট ধরালো। ব্যাগ থেকে একটা থামা ঘড়ি মানে স্টপ ওয়াচ বের করে বললো, “এই নাও শুরু।”

এটা ওর বিজনেস রুল। ‘স্টপ ওয়াচ’ বা ‘থামা ঘড়ি’ ধরে ব্যবসা। ঘড়ির চলা বন্ধ। অ্যালার্ম স্টার্ট। খেল খতম। তা খেলার লেভেল সপ্তমে থাকুক আর নবমে।

আমি গুনগুন করে গেয়ে উঠলাম- মন আমার দেহঘড়ি, সন্ধান করি.. কোন মিস্ত্রি সোফিয়ারে বানাইয়াছে.. ।

সোফিয়া আমাকে ওর পেশা সম্পর্কে যা জানালো তা শুনে আমি ‘একবার শূন্যে- একবার বার্লিনে আছাড় খেলাম’।

বার্লিন যেহেতু একটা মাল্টিন্যাশনাল প্লেস এখানে রাস্তার পাশে যৌন ব্যবসা করে টিকে থাকতে হলে অন্তত পাঁচটি ভাষা জানতে হয়।

সোফিয়া প্রায় সাতটি ভাষায় মোটমুটি অনর্গল কথা বলতে পারে- টার্কিশ, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, জার্মান, স্প্যানিশ, পোলিশ, পর্তুগিজ।

সে আরো বললো, “তুমি যে ভাষাই জানো না কেন বার্লিনের যৌনতার ভাষা কিন্তু ‘পোলিশ’ (পোল্যান্ডের ভাষা)।” কারণ মোটামুটি সব পাবের মালিক পোলিশ। আর পাবের ভেতরই রয়েছে বিছানাসহ কেবিন।

তাছাড়া পোলিশ জানলে কমিশন ভালো পাওয়া যায়। পাবে ঢুকতেই যে কোক আমাকে ধরানো হয়েছিলো তার অন্তত ৫০ পার্সেন্ট ওর পকেটে যাবে।

আরো মজার বিষয় হলো ওকে যেই জুসটি দেয়া হয়েছিলো এই একই জুস সারারাত ধরে ওকে পরিবেশন করা হয়।  মানে নতুন মক্কেল পুরান জুস।

আর ওর শুধু পানের ভান। আমার রেকর্ডার অন করার অনুমতি ছিলো না। তাই প্রবল বেগে নোট নিচ্ছিলাম।

সোফিয়া বললো লাংসাম  (আস্তে), “তোমার জন্য দশ মিনিট গিফট।” সাথে আমার গালে চকাশ করে একটা চুমা।

আমি সাথে সাথেই মনে করিয়ে দিলাম, “দ্যাখো ভাই, আমার ইউনিভার্সিটি কিন্তু বাজেটের বাইরে এক টাকাও দিবে না। তোমার জন্য বাজেট কিন্তু ৩০ ইউরোই।”

ও মিষ্টি করে হেসে সিগারেট ধরালো। আমাকেও অফার করলো। আমি খাই না শুনে অবাক হলো। সোফিয়া দিনে ঘুমায় মোস্ট অফ দা টাইম।

বিকালে রাঁধে। শপিং করে। সন্ধ্যায় সেজেঁগুজে কাজে আসে। সে প্রতি রাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় ১৯-২০ জনের সাথে সময় বিক্রি করে। তার দৈনিক আয় সব দিয়ে থুয়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ইউরো। কখনো তার চেয়ে কম বা বেশি।

সোফিয়ার একজন পার্টনার আছে। সে ভদ্রলোক কোন কাজ করেন না। প্রায়ই জুয়ায় হারাটাই তার পেশা ।

সে জানালো, তার পেশার অনেকেরই পাসপোর্ট নেই। দালালরা এই পেশায় আনার পর পাসর্পোট রেখে দেয়। পুলিশে জানালে সমস্যা বাড়ে, কমে না।

সোফিয়া অনেক প্রাকটিক্যাল। তার জীবনে বিয়ে-সংসারের কোন স্বপ্ন নেই। যেভাবে চলছে চলুক। যতোদিন ভালো লাগবে এই পেশায় থাকবে তারপর অন্যকিছু।

কথায় কথায় আমাদের ৪০ মিনিট শেষ। আমারা পাবের বাইরে আসলাম।

ও বললো, “এবার তোমার ইন্টারভিউ নিবো। তোমার ওরিজিন কোথায়?”

বাংলাদেশ শুনেই বললো, “আমি বালোবাসে..।”

আমি খানিকটা বাঁকা হয়ে গেলাম ওর বাংলা শুনে।  তার মানে সোফিয়ার কাছে বাঙালি কাস্টমারও আসে!! যদিও আমার রিসার্চের বিষয় নয়, তবুও ব্যক্তিগত আগ্রহের কারণে জানতে চাইলাম।

ও যা বললো, তার সারমর্ম হল- বাঙালি কাস্টমার হিসাবে খুব একটা ভালো না। অনেক দরদাম করে। ফ্রিতে সিগারেট খেতে চায়। পাবে এসে ড্রিংক খেতে চায় না। প্রচন্ড শীতের মধ্যেও পার্কে যেতে চায়। কারণ, কেবিনে নাকি দেশি ভায়াদের দম বন্ধ লাগে।

সবশেষে সোফিয়ার বাঙালি মূল্যায়ন হলো, “এরা রেসপেক্ট করে না। এক বাঙালি ব্যাগ থেকে আমার পারফিউম চুরি করছে কয়েক মাস আগে।”

আমি বোবা হয়ে গেলাম।

সোফিয়াকে সহজ করতে বললাম, “সব বাঙালি এক না। কেউ কেউ কোন কথা না বলেই ১০ ইউরোতে কোক কিনে খায়। আর অবশ্যই তোমার পারফিউম চুরি করা ঠিক হয় নাই।”

“আমি হইলে তো চুরি করতাম তোমার ‘থামা ঘড়ি’।”

সোফিয়ার ঘড়িতে তখন ভোর প্রায় তিনটা। ও বললো, “চলো তোমাকে লিফট দেই।”

ওর এমন আপ্যায়নে আমি ভয় পাইলাম।

আবারও ৩০ ইউরো বাজেটের কথা বলতেই ও বললো, “কাম অন এটা ফ্রি, গিফট, গিফট।”

গিফট হিসাবে লিফটের আইডিয়া খুব একটা পছন্দ হলো না।  ট্রেনে যাবো।

ও বললো, “এতো রাতে তো ট্রেন নাই। নাইট বাস লেইট হয়। ডরাও কেন ? আর আমি ফ্রি-তে কারো ইজ্জত লুটি না।”

সোফিয়ার গাড়িতে সওয়ার হয়ে বাসায় ফিরলাম। বিদায়ের সময় ‘হাগ’ করতে গিয়ে আবারও বললাম, “অল বেঙ্গালিজ আর নট সেইম..”

ও উত্তরে বললো, “নট এভরি বেঙ্গালিজ আর কামিং হিয়ার ফর ইন্টারভিউয়িং আ স্ট্রিট হোর…”

গল্পের শিক্ষা (পড়–ন অনুরোধ): শিক্ষামূলক কাজের বেলায় ভদ্রতা বজায় রাখুন, কারণ ‘ভদ্র শিক্ষা’ই জাতির মেরুদণ্ড।

 

লেখক: গবেষণা আর লেখালেখির চেষ্টা করেন;

রিনভী তুষার, জার্মানির বার্লিন থেকে

ইমেইল: kurchiphool@gmail.com

ছবি কৃতজ্ঞতা:শহীদুল্লাহ্ সৌরভ ও রয়টার্স

সুত্রঃ  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Print Friendly, PDF & Email

ফেসবুক মন্তব্যঃ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.