ভবিষ্যতের শহর তৈরি করছে জার্মান বিজ্ঞানীরা

 

গাড়ি কি পরিবেশ দূষণের বদলে পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যবহার সম্ভব? কিংবা বাড়ির ছাদে পশুপালনের কথা ভেবেছেন কখনো? জার্মান বিজ্ঞানীরা কিন্তু ভাবছেন এসব৷ তাঁদের গড়া ভবিষ্যতের শহরে গাড়ি করছে পরিবেশ সুরক্ষা, আর ছাদে থাকছে গবাদি পশু!

Screenshot Futurando 53 Stadt von morgen

 

স্টুটগার্টের ফ্রাউয়েনহোফার ইন্সটিটিউটে ভবিষ্যতের শহর নিয়ে গবেষণা চলছে৷ ভবিষ্যতের মহানগরীগুলো আরো বসবাসের উপযোগী এবং টেকসই করে গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা শহরগুলো কিভাবে আরো শান্ত, পরিষ্কার এবং পরিবেশবান্ধব করা যায় – সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ একটি সম্ভাব্য উপায় হচ্ছে, ভবিষ্যতের বাড়ি-ঘর এবং দালানকোঠাগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় শক্তি নিজেরাই তৈরি করবে৷

বাড়ির ছাদও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ সেখানে বাগান তৈরি হতে পারে৷ করা যেতে পারে চাষাবাদও৷ যা অনেক দূর থেকে নগরে খাবার পরিবহনের চাপ কমাতে সহায়ক হবে৷ ফ্রাউয়েনহোফার ইন্সটিটিউটের স্টেফেন ব্রাউন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বর্তমানে মিলিয়ন মিলিয়ন বর্গমিটার ছাদ শুধুমাত্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি রাখার কাজে ব্যবহার হচ্ছে৷ কিন্তু এসব ছাদের উপর ভরসা করে চাষাবাদের বিষয়গুলি শহরে নিয়ে আসা যায়৷ বর্তমানে অনেক প্রকল্পের মাধ্যমে ছাদের ছোট্ট জায়গায় চাষাবাদ কিংবা পশুপালনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে৷ এছাড়া জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ কিংবা নগরে নানা কিছু সরবরাহের জন্য এই জায়গা ব্যবহার করা যেতে পারে কিনা তাও বিবেচনা করা হচ্ছে৷”

ফ্রাউয়েনহোফার ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ভিলহেল্ম বাওয়ার কিছু সমস্যার কথা বললেন যা ভবিষ্যতের নগরে থাকা উচিত হবে না৷ তিনি বলেন, ‘‘যেমন রাস্তায় যানজট এবং অন্যান্য সমস্যা, ব্যয়বহুল জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যাসহ অনেক জটিলতা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে রয়েছে৷”

ভবিষ্যতের ভার্চুয়াল শহরে গাড়ি বাতাস বিশুদ্ধ করবে৷ বিভিন্নভাবে জ্বালানিও সাশ্রয় করা হবে, জানান ড. বাওয়ার৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভবিষ্যতের একটি মহানগরী তৈরির চেষ্টা করছি, যেখানে সবসময় উচ্চমানের জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে৷ আর এমন নগরের সুবিধা সবাই যাতে গ্রহণে সমর্থ হয় সেদিকটাও বিবেচনা করছি আমরা৷”

বলাবাহুল্য, ভবিষ্যতের মহানগরী এখনো টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ রয়েছে৷ তবে এসব ধারণা একদিন আমাদের মহানগরীগুলো আরো বসবাসযোগ্য এবং টেকসই করে তুলবে, এমন আশা করাই যায়৷

সূত্র : DW.DE

Print Friendly, PDF & Email