• Home »
  • Life-in-Germany »
  • বিদেশ ভালো: বন্ধুনং বিভ্রাটং ভজঘটং খট খটং

বিদেশ ভালো: বন্ধুনং বিভ্রাটং ভজঘটং খট খটং

 

germany-bidesh-valo-

‘মুরাদ টাকলা’ মার্কা এই বাংলায় কথা বলে আমার বন্ধু মার্সেল। আমি মজা করে ডাকি মার্সেলোওওওওও। ওর প্রিয় বাংলা গান- ও পাকি উড়ি উড়ি উড়ি আ আ যায়ে।

বৈদেশে বন্ধু বানানো বড় কঠিন কাজ। এর চেয়ে বর্ষাকালে কাঁথা সেলাই সোজা (আসলেই সোজা!)।

বাঙালি বন্ধুপ্রবণ জাতি। সবাই আমাদের বন্ধু। শুধু চেহারা চিনলেই হলো। যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ‘মুম্বাইতে থাকে। আপনি খুব ভালো করে চেনেন। কে সে?’

আমি বলবো- শাহরুখ খান। কিন্তু ভদ্রলোক আমাকে চেনেন কিনা সেটা ভিন্ন ব্যাপার।

যেখানে যাই সবাইকে বন্ধু মনে করাটাই আমাদের অভ্যাস। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম ‘যারেই দ্যাখে কালা ভাবে বাপের শালা’।

কিন্তু জার্মানিতে এটা বদঅভ্যাস! কেন বদঅভ্যাস?

এর প্রথম কারণ ভাষা। ধরেন, আপনার একজন নারী বন্ধু আছে। আপনি তাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন- ‘মাইনে ফ্রয়েন্ডিন’ বলে। এরপর আপনি নিজের ঠোঁটে হাসি ধরে রাখতে রাখতেই মুখের উপর একটা থাপ্পর আশা করতে পারেন। কারণ জার্মান ভাষায় ‘মাইনে ফ্রয়েন্ডিন’ শুধু প্রেমিকাকে বলা যায়। আপনাকে বলতে হবে ‘আইনে ফ্রয়েন্ডিন’, মানে হলো একজন বন্ধু।

যদি এই ভুল আপনি পুরুষ বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে করেন তবে লোকে ধরেই নিবে আপনি ‘পশ্চাতদেশের কারবারি’ (বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝে নেন)।

ও হ্যাঁ বন্ধু হওয়া নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আমার বন্ধু বানানোর শুরু টেগেল এয়ারপোর্টে পা দেয়ার পর থেকেই। প্রথম বন্ধু ইস্টার্ন ইউরোপিয়ান (হাসবেন না প্লিজ)। একটু নির্দিষ্ট করে বললে রুমানিয়ান।

দয়া করে বর্ণবাদী হবেন না। সব রুমানিয়ান একরকম না। তবে রুমানিয়ানদের ধান্দাবাজির মাত্রা দেখে বাঙালি‘র সাথে তাদের জাতিগত সর্ম্পকের বিষয়ে আমার একটা গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আছেন কোন দানবীর যিনি এই গবেষনায় বিনিয়োগ করতে চান ?

রুমানিয়ান‘রা সবাইকে বলে- মাই ফ্রেন্দ !! আমি আর স্টেফান বন্ধু হয়ে গেলাম -মাই ফ্রেন্দ‘র অমৃত বচনে। স্টেফানের বয়স প্রায় ৪৫। আমাদের ক্লাশের সবারতে বড়। তো আমি তারে ডাকতাম -বড় ভাই। স্টেফান বড় ভাই উচ্চারণ করতে  গিয়ে বলতো – ‘বড় খাই‘।

ওর ‘খাই’টা একটু বড়ই ছিলো। একদিন সে ক্লাশে একগাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম নিয়ে হাজির। আমি ভাবলাম-সে মহান। পরে ইন্টারনেট ঘেটে বুঝলাম প্রতিটা অ্যাকাউন্ট খোলাতে তার লাভ ৫০ ইউরো। আর ওই ব্যাংকটা হলো অনলাইন ব্যাংক।  যেটা আমাদের কাউকেই সে বলে নাই। ‘মাই ফ্রেন্দ’ হয়া গেলো নাই ফ্রেন্দ।

নানাদেশের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে লেখক

নানাদেশের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে লেখক

আমার দ্বিতীয় বন্ধু ছিলো কেনিয়ান। নাম যাবলন। আমি ডাকতাম স্যাভলন। সে আমার বন্ধু কাম রুমমেট ছিলো। ওর আর আমার বন্ধুত্ব টিকেছিলো মাত্র দুই রাত। তাও আবার আমি প্রথম রাতে টায়ার্ড ছিলাম। দুষ্টু কিছু ভাবার সুযোগ নাই। ওর নাক ডাকার গুনে দ্বিতীয় রাতে নিজেরে আবিস্কার করলাম গেস্ট রুমে। সেই রাতের পরদিন থেকেই ডাবল রুমে আমার সিঙ্গেল  লাইফ শুরু।

এরপর দেখা হলো মার্সেলের সাথে। পুরা নাম মার্সেল স্নাইডার। বাপ ব্রাজিলিয়ান। মা জার্মান। ওর মা-নানা কাপড় কাটা-কাটি করতো। তাই ও স্নাইডার। প্রথম পরিচয়েই ও ওর ফোন থেকে আমাকে দুই মিনিট ফ্রিতে কল করতে দিলো। তাও আবার লং ডিসটেন্স। আমি বুঝে গেলাম ওর কংকালে লোহা কম, মহব্বত বেশি। বন্ধু আমাকে নানা রকমভাবে সাহায্য করতো।

তবে ওর সাহায্য করার পেছনেও একটা নির্দোষ স্বার্থ ছিলো। একটা সাউথ ইন্ডিয়ান মেয়েকে মার্সেল অনেক পছন্দ করতো। ওর আব্দার ছিলো আমি যাতে ওকে একটু দক্ষিণ এশিয়ান কালচার শেখাই। ওর প্রেমিকাকে বলার জন্য শিখিয়েছিলাম- ‘ম্যা হু কামিনা, তু মেরা ইশক’।

কিন্তু ও একটু গুবলেট করে নিজেকে ইশক দাবি করেছিলো। এরপর আর যায় কই..  শাস্তি হিসাবে দুই দিন ওর লন্ড্রি আমাকে করতে হয়েছিলো।

এই মার্সেল ছিলো অনেকটা আমার জিপিএস’র মতো। যখনই অচেনা কোথাও যেতে হবে আমি ওর দরজায় এসে টোকা দিয়ে দু:খি দু:খি চেহারা নিয়ে দাঁড়াতাম। শপিং টু নতুন শহরের ক্রিসমাস মার্কেট সবই মার্সেল বাবার দয়ায় পার পেয়ে যেতাম।

তারপরও বন্ধুত্বের গ্যাপ বুঝতে সময় লাগতো না। একদিন লাঞ্চে পাঁচ ইউরো দিয়ে একটা ডোনাট কিনে দিতে চাইতেই, ও আমাকে অন্তত পঞ্চাশবার জিজ্ঞেস করেছিলো- আর ইউ শিওর? আমি বলেছিলাম ভাই আমি তোরে বিয়া করতে চাই নাই। জাস্ট একটু লাঞ্চ অফার করছি।

জার্মানরা যদি আপনাকে বলে- ‘ছলো বুন্ডু গুরে আসি, দুপুরের বাট কায়া আসি’। আর এতে যদি আপনি গলে গিয়ে গলায় গলা মিলিয়ে, বন্ধু লাঞ্চ করাবে ভেবে চলে যান। তবে আপনি শুধু শ্রীদেবী‘র শ্রী’ই দেখেছেন কাপুরের বনি দেখেননি।

রেস্টুরেন্টে আপনি বিল পে করার সময় জিজ্ঞেস করা হবে, সুযামেন অডের গেট্রেন্ট ? মানে- বিল কি একসাথে করা হবে নাকি আলাদা। আপনার জার্মান বন্ধু সহাস্যে বলবে গেট্রেন্ট। আর আপনি তখন গাইতে থাকবেন ভুল সবই ভুল, এ যে বন্ধুত্ব নয় আগাছা টাইপ চুল।

যাই  হোক পরদিন এই ঘটনা গোটা ক্যাম্পাসময় রাষ্ট্র হয়ে গেলো। পাঁচ ইউরো’তে এতো ভালো প্রচার আমি আসলে আশা করি নাই। কিন্তু এরপর থেকে কোন ট্যুরে গেলেই আমার সাথে খেতে বসার লোকের খুব একটা অভাব হতো না এবং যথানিয়মে আমার সঙ্গীজন আমার পকেটের দিকে কামনার দৃষ্টি দিতো। এতোদিনে এ বিষয়ে আমিও কিন্তু পুরোদস্তুর জার্মান।

আমার আরেক প্রাণের বন্ধু থমাস। লম্বায় প্রায় ছয় ফিট আট’র কাছাকাছি। আমরা ডাকি ‘দেথমাজিইইইই‘। ও ছিলো আমার ফায়ার সার্ভিস মেইট। আর যতো আকামের সঙ্গী। দুজন মিলেমিশে রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতাম। ডালের সাথে আলু, ফুলকপি, টমেটো রান্না। ডাল দিয়ে সার্ডিন মাছ রান্না।

কারণ থমাসের যুক্তি ছিলো ডালও এক ধরনের সব্জি। তবে ওর স্পেশাল মেন্যু ছিলো ‘চিক পিস‘ মানে সাদা রঙের মটর দানা। ওর সাথে থেকে থেকে আমার এক জীবনের চিক পিস কয়েক মাসে খাওয়া হয়ে গেছে। আমাদের ক্যাম্পাসে চালু ছিলো, তুমি যদি চিক পিস খাইতে চাও তবে তোমার থমাসের পারমিশন লাগবে।

এই থমাসকে একদিন আমি কথায় কথায় বলেছিলাম, মামা আমার তো সাঁতারের অনেক শখ। তখন সবে শীতের শুরু। ও কইলো ভালোই তো, এ সপ্তাহ থেকেই আমাদের শীতকালে সপ্তাহে দুইদিন সাঁতার কাটার শুরু। তুমিও চলো। আমিও কথায় কথায় রাজি হয়ে গেলাম।

ও বললো- ঠিক সকাল পৌঁনে ছয়টায় রেডি থাকবা। সোয়া ছয়টায় আমরা সাঁতরাতে যামু।

আমি বললা- ওকে।

কিন্তু আমি এ কি করলাম !! আমি হলাম সে মানুষ কেউ যদি আমার কিডনি চায় কিডনি পাবে, কিন্তু সক্কাল বেলা আমার ঘুম পাবে না। আমার জীবনের কতো শতো প্রেম শুধুমাত্র প্রভাত বেলার ঘুমের সাথে সাংঘর্ষিক হবায় অঙ্কুরেই বিনষ্ট হইয়াছে…।  আর এই আমি..

যথা নিয়মে দেরি করে ঘুমাতে গেছি।  এখানে বলে রাখা ভালো আমরা কেউই আমাদের ডর্মের দরজা তালা বন্ধ করি না।  হঠাৎ আধো ঘুমে দেখি একটা লম্বাটে মুখ। চশমা পরা।

আমার ঠোঁটের খুব কাছে.. ভাবলাম হয়ে যাক.. কিন্তু না !! আমি চিৎকার করে উঠে বসলাম.. দেথমাসিইইই.. তুমি আমার রুমে এতো রাতে কি করো? ও ভয় পাইলো না।

বললো, তোমারে নিতে আসছি। সাঁতরাবা না।

আমি যতোই গাইগুই করি ও ততোই ছাই দিয়ে ধরে। তো আর কি করা। মানুষ অনুরোধে ঢেঁকি গেলে আমি গিলতে গেলাম সুইমিং পুল। সেখানে গিয়ে দেখি আরেক আজব কারবার।

সুইমিং পুলে সুইমিং বলতে আমি বুঝি ‘জাস্ট চিল‘। মানে গলা পর্যন্ত পানিতে ভাসো। জুস পান। আশেপাশে পরীমনি দর্শন ‘খুঁজে খুঁজে কে কতোটা স্বর্গীয় তা বাহির’  (চেক আউট)। কিন্তু এখানে কেউ এক মুহূর্ত রেস্ট নেয় না। অনর্গল সাঁতরে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছিলো এদের স্শ্রম ‘সাঁতার দণ্ড’ দেয়া হয়েছে।

আমি ইগনোর করলাম। চিল করে পার করে দিলাম এক ঘণ্টা।

থমাসের সাথে আমার গলায় গলায় খাতির। ওর বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে। ওর বউ‘র নাম ‘করিনা’। এই মহাবিশ্বে এমন কোন বাক্য আবিষ্কার সম্ভব নয়, যেটা বলে করিনা’র হাসি থামানো সম্ভব।

তোমার নাম কি?

করিনা (হা হা হা হা)- তুমি কাকে খুঁজো ? আমার জামাই থমাসেকে? ( হা হা হা হা) ।

ওর এই অট্টহাসির বিষয়টা একটা হাস্যকর রহস্য।

তো এই বন্ধুও কখনো কখনো বন্ধু নয়। দেশে যাবো থমাসের কাছে ওর ওজনে হালকা ট্রাভেল ব্যাগটা ধার চাইলাম। ও মুখের ওপরে বলে দিলো ১০০ ইউরো সিকিউরিটি ডিপোজিট দিতে হবে। পরে আমার আরেক জার্মান বন্ধু বললো এটা ওদের কালচার। বন্ধু সে যতোই বন্ধু হোক  কোথাও কোথাও জাস্ট ফ্রেন্ড। সোজা বাংলায়- মাই ফ্রেন্দ।

থমাসের বউ’র বাবা চকোলেট কোম্পানির অ্যাকউন্টেট। আমি বললাম ডিসকাউন্টে আমার কিছু চকোলেট চাই। ওর বাবা তখন ভ্যাকেশনে। জামার্নির বাইরে।

করিনা চকোলেট দিতে পারলো না।  কিন্তু বাবার কোম্পানি‘র চকোলেট দিতে না পারলেও, ও অদ্ভুত একটা ব্যবস্থা করলো। যাবার দু-তিন দিন আগে থমাস দৌঁড়ে আমার রুমে। বললো, চলো শপিং যাই।

আমি বললাম- কেন? ও যা বললো তা শুনে আমি মোটামুটি ব্যাঙ হয়ে গেলাম। ‘করিনা’ মানে থমাসের বালিকাবন্ধু’র (তখনো বিয়ে হয় নাই) নিদের্শ মতে- যেহেতু সে আমাকে তার বাবার কোম্পানির চকোলেট কিনে দিতে পারে নাই তাই আমি মার্কেট থেকে যতো খুশি ততো চকোলেট কিনবো এবং থমাসকে তার পয়সা দিতে হবে।

আমি তো শুনেই ব্যাঙ লাফ। গুনে গুনে সাড়ে চার কেজি চকোলেট কিনেছিলাম। পুরা টাকা থমাসের। কি ভাবছেন বন্ধুর পকেট কেটেছিলাম।  আমি কি ইন্দুর? আমি হলাম ঘোড়েল মাল। পকেট লুটেছিলাম। যাই হোক তাতে যে ওদের কোন ক্ষতি হয়নি তা ছবি দেখলেই বুঝবেন।

গল্পটা এখানেই শেষ করতে পারতাম। কিন্তু আমার এমন একটা বন্ধু আছে যার কথা না শোনালে, আপনাদের প্রতি অবিচার করা হয়। ড্যানিয়েল। বাবা আমেরিকান, মা প্যারাগুয়ান। এজন্যই ড্যানিয়েল আর দশটা আমেরিকানের মতো না।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে অন্তত ৬০ টি’র মতো দেশ ঘোরা শেষ। প্রায় ১৫টি ভাষায় গলগল করে কথা বলতে পারে। আমাদের সন্দেহ ব্যাটা সিআইএ’র এজেন্ট।  ইউক্রেনে’র ক্রিমিয়ায়  রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ। ডানিয়েল হাজির- ‘অ্যা বুন্ডু চলো ইউক্রেন।’

আমি বললাম- ওইটা যুদ্ধ মামা। পুতিনের গায়ে হলুদ না।

দেখি অলরেডি ওর ঘারে ইউক্রেন যাবার ভূত। আমিও দিন সাতেকের মধ্যে সে ভূতকে মাসতুতো ভাই বানিয়ে, কাউকে কিছু না জানিয়ে সোজা পোল্যান্ড হয়ে ইউক্রেন হয়ে ক্রিমিয়ায়। যুদ্ধ নামের উন্মাদনা দেখতে দুই উন্মাদ হাজির। এতো এতো ছবি তুলে ছিলাম।  সেই যুদ্ধের গল্প আরেক দিন।

কিন্তু ফেরার পথে মালির ঘাড়ে পরলাম। সব ভিডিও ফুটেজ আর ছবি নিয়ে গেলো একদল সৈনিক। এরা যে কোন পক্ষের ছিলো তা আজো বুঝি নাই। হয়তো আর এই লেখাটাই লেখা হতো না, যদি না সেদিন আমেরিকান পাসপোর্টধারী জেমস ড্যানিয়েল বন্ড আমার সাথে থাকতো।

বন্ধু মার্সেল স্নাইডারের সঙ্গে লেখক

বন্ধু মার্সেল স্নাইডারের সঙ্গে লেখক

মনে হচ্ছিলো ওরা আমাদের মেরেই ফেলবে। কিন্তু ওর চোস্ত রাশিয়ান, আর স্মার্টনেসের জোড়ে ওরা আমাদের  শুধু ক্যামেরা খালি করেই ছেড়ে দিলো। কি ভাবছেন ? ওর ম্যালা গুণ ? এসব কোন গুণ হইলো ?

শোনেন, প্রেমিকা আছে ? কিংবা স্ত্রী ? ভরসা সংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? ড্যানিয়েলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যদি এরপরও আপনার সঙ্গিনী আপনার সাথে থাকে তবে সে আসলেই আপনার। আর না হলে সে পিওর ক্যাসানোভা ড্যানিয়েলের। ড্যানিয়েলের সাথে সেই মেয়েই পটে নাই, যাকে ড্যানিয়েল পটাতে চায় নাই।

ক্যাম্পাসে নতুন সুন্দরী‘র আগমন!! তার নাম জানার আগে আমরা জানতে চাইতাম সে ড্যানিয়েল পার্লকে চেনে কিনা। যদি চেনে তাহলে অলাইকুমুসসালাম।

প্রতি উইকেন্ডে আমি আর ড্যানিয়েল একটা খেলা খেলতাম। আমি ওর রুমে বসে শিক্ষামূলক পানীয় পান করতাম ; কখনো ও আমার রুমে। খেলার নিয়ম ছিলো যার রুমে পান করা হবে সে তার রুমে গত কয়েক সপ্তাহ কী কী করেছে তা স্বীকার করবে।

আমার স্বীকারোক্তি বড়জোর কারো ফ্রিজ থেকে মুরগি চুরি করে রুমে এনে খাওয়া। কিংবা সবুজ পাতা বাদামী করা। কিন্তু ড্যানিয়েলের রুমের গল্প হয় দুই রকমের। একটা রুমের। আরেকটা রুমের ফ্লোরের। দুই গল্পের মধ্যে পার্থক্য জানিতে চাহিয়া লজ্জা পাবেন না।

এমন আরো কিছু বন্ধু আছে আমার। ওরা আছে বলেই জীবন এখানে এতো সুন্দর। আমরা ধর্ম-কর্ম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করি। কখনো সখনো তুমুল ঝগড়া। কিন্তু ডিনারে একসাথে ‘চিকপিস আর আলু ঝোল‘।

থমাস, মার্সেল, ড্যানিয়েল এরা সবাই কমবেশি বাংলা রাঁধতে পারে । একজন তো ‘মীনাক্ষোভাকুল কুবলয়’ উচ্চারণ করতে এবং এর বাংলা মানে পর্যন্ত বুঝিয়ে বলতে পারে।  আপনি জানেন এর মানে? (জানা জরুরি মনে করলে সেই পুরান তরিকা আজমান…মানে ই-মেইল করুন)।

শুনে গর্ব হচ্ছে তাই না? জ্বি ভ্রাতা এবং ভগ্নিগণ এইসব গর্ব ম্লান হয়ে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে যায়, যখন আমার বন্ধুরা বাংলাদেশে মুসলমানের হাতে হিন্দুর মন্দির ভাঙ্গার ঘটনার ডিটেইলস জানতে চায় ।

এই বিশ্ব চরাচর এখন নগন্য এক ব্যাসার্ধের জাম্বুরা। ধর্মের ফরমালিনে ডুবিয়ে ডুবিয়ে দেশকে তরতাজা জাহির না করে, চলেন একটু মানুষ হই। বন্ধু হই। বন্ধু হতে তো আর ধর্ম লাগে না।

লেখক: গবেষণা আর লেখালেখির চেষ্টা করেন;

রিনভী তুষার, জার্মানির বার্লিন থেকে

ইমেইল: kurchiphool@gmail.com

সুত্রঃ  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Print Friendly, PDF & Email