• Home »
  • Deutsche-Welle-Article »
  • ডিজিটাল যুগেও টিকিয়ে থাকার পথ দেখাচ্ছে ফ্রাংকফুর্ট বইমেলা

ডিজিটাল যুগেও টিকিয়ে থাকার পথ দেখাচ্ছে ফ্রাংকফুর্ট বইমেলা

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০ থেকে ১৪ই অক্টোবর, জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট আম মাইন শহরে৷ ইলেকট্রনিক যুগে বইয়ের জগতের সর্বাধুনিক প্রবণতা দেখা যাবে এই মেলায়৷

দুনিয়ার ১০০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৭,৩০০ পুস্তক ব্যবসায়ী কয়েক দিনের জন্য মিলিত হচ্ছেন জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট আম মাইন শহরের মেলা প্রাঙ্গণে৷ ১০ থেকে ১৪ই অক্টোবর সেখানে প্রায় তিন লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এই ডিজিটাল যুগেও যে বইয়ের গুরুত্ব কমে নি, তা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলায় বার বার টের পাওয়া যায়৷ তবে শুধু বইয়ের সম্ভার নয়, অনেক পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে এই মেলা এক বৃহত্তর সাংস্কৃতিক মাত্রা অর্জন করেছে, যেখানে অন্যান্য মাধ্যমও গুরুত্ব পাচ্ছে৷

এখন জার্মানির পুস্তক ব্যবসায়ীদের বর্তমান অবস্থা মোটেই তেমন ভালো নয়৷ গত দশ বছর ধরে বইয়ের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পর গত বছর এই প্রথম বিক্রি কিছুটা কমে গেছে৷ এখনো মানুষ দোকানে গিয়ে বই কিনছেন বটে, কিন্তু জার্মানিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বই কেনার প্রবণতা বেড়ে চলেছে৷ ফলে অনেক প্রকাশনা সংস্থা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ ছাপা বইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘ই-বুক’এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷ অন্যদিকে অনেক লেখক প্রকাশনা সংস্থার দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি ইন্টারনেটেই নিজেদের রচনা প্রকাশ করছেন৷ ‘সেল্ফ পাবলিশিং’এর প্রবণতা বেড়ে চলেছে৷ তাই অনেকের মনে প্রশ্নঃ “বই” নাকি “এপ্লিকেশন”? এই ভিডিওটি দেখতে পারেনঃ

[youtube_sc url=”http://www.youtube.com/watch?v=9cCOfpLldzE”]

এই সব বিষয় এবারের ফ্রাংকফুর্ট বইমেলায় আলোচিত হবে, সন্দেহ নেই৷ পরিবর্তন ঘটছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই৷ কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে, সে বিষয়েও কারো স্পষ্ট ধারণা নেই৷ শুধু কিছু বাস্তব চিত্র নিয়ে সন্দেহ নেই৷ যেমন জার্মানিতে বইয়ের দোকানের সংখ্যা কমে চলেছে৷ অন্যদিকে অ্যামাজন সহ অন্যান্য ইন্টারনেট-ভিত্তিক সংস্থার রমরমা বেড়ে চলেছে৷ জার্মানির বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরে যে বইয়ের দোকান দেখা যায়, সেগুলির অস্তিত্বও সংকটের মুখে৷ নানা ধরণের ইলেকট্রনিক বইয়ের বাজার ফুলে ফেঁপে উঠছে৷

এ বছরের ফ্রাংকফুর্ট বইমেলার ৫ দিনে প্রায় ৩,০০০ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ প্রায় ১,০০০ লেখক-কবি-নাট্যকার মেলায় উপস্থিত থাকবেন৷ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখকদের নামের তালিকাও ছোট নয়৷ তাঁদের অনেকে গোলটেবিল বৈঠকে বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন৷ পুস্তক শিল্পের নানা দিক নিয়েও আলোচনাসভা বসবে৷ ২০১২ সালে শিশু ও কিশোর সাহিত্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ মেলার পরিচালক ইয়ুর্গেন বোস মনে করেন, অন্য কোনো ক্ষেত্রে ছাপা বই ও ডিজিটাল বইয়ের মধ্যে মেলবন্ধন এতটা জোরালো নয়, যেমনটা খুদেদের জগতে দেখা যায়৷ কমিকস’এর ভূমিকাও বেড়ে চলেছে৷ বইয়ের জগতে শোনা যাচ্ছে নতুন কিছু প্রবণতার কথাও৷ যেমন ‘ক্রো-ফান্ডিং’৷ অর্থাৎ লেখক তাঁর প্রকল্প ইন্টারনেটে প্রকাশ করার পর ব্যবহারকারীরাই তার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করছেন৷ আছে ‘ফ্যান-ফিকশন’৷ লেখক বন্ধ করে দিলেও হ্যারি পটারের মতো জনপ্রিয় সিরিজ ইন্টারনেটে চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে অনেকে৷

পথ চলতে ইলেকট্রনিক বই’এর কোনো কমতি নাই, ঘাটতি নাই, তার সংস্করণ কখনোই ফুরোয় না…

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ই-বুক ও ‘সেল্ফ পাবলিশিং’এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হচ্ছে৷ গত বছর সে দেশে ই-বুক বিক্রির মুনাফার মাত্রা চিরায়ত বইয়ের ব্যবসাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু জার্মানিতে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে বই বিক্রির রীতি চলছে৷ জার্মান পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান আলেক্সান্ডার স্কিপিস এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী৷ তাঁর মতে, যে কোনো পুস্তক বিক্রেতা অ্যামাজন’এর চেয়ে বেশি শক্তি রাখেন৷ ক্রেতাদের কাছে নিজেদের আকর্ষণ বাড়াতে তাদেরও নিজস্ব অনলাইন দোকান খুলতে হবে৷ এ ভাবে ছোট ছোট সংস্থাও বড় কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারে৷ তবে জার্মান পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি শুধু উৎসাহের কথা বলে হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ এই শিল্পক্ষেত্রকে ভবিষ্যতেও টিকিয়ে রাখার পথ খুঁজতে তারা একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল৷ তাতে একটি প্রকল্পের জয় হয়েছে৷ কীভাবে একটি বইকে ফেসবুক, চলচ্চিত্র ও কম্পিউটার গেমস’এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছে এই প্রকল্প৷

দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বের সঙ্গে তাল রেখে চলা পুস্তক শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ তবে অ্যামেরিকার প্রবণতা জার্মানিতেও ঠিক একই ভাবে দেখা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ যেমন জার্মানিতে ই-বুক’এর বাজার এখনো এক থেকে দুই শতাংশের মতো৷ তা সত্ত্বেও প্রকাশনা সংস্থাগুলি নিজেদের ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে৷

২০১২ সালের ফ্রাংকফুর্ট বইমেলার অতিথি দেশ নিউজিল্যান্ড৷ সে দেশের প্রায় ৭০ জন লেখক মেলায় উপস্থিত থাকবেন৷ এ বছর জার্মান পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির পুরস্কার পাচ্ছেন চীনের নির্বাসিত লেখক লিয়াও ইউ৷

প্রতিবেদন: ইয়খেন ক্যুর্টেন/এসবি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সোর্সঃ dw.de

Print Friendly