• Home »
  • why-Germany »
  • ইউরোপের শ্রম বাজার অ্যামেরিকার চেয়ে পোক্ত!

ইউরোপের শ্রম বাজার অ্যামেরিকার চেয়ে পোক্ত!

 

বেকারত্বের হার দেখলে উল্টোই মনে হতে পারে, যা এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ছয় শতাংশের কিছু বেশি এবং ইউরো মুদ্রার দেশগুলিতে সামগ্রিকভাবে ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ৷ কিন্তু ‘প্রাইম এজ’ কর্মী এবং শ্রমজীবীদের সংখ্যা ইউরোপেই বেশি৷সহজ কথায় বলতে গেলে, ইউরোপে বেশিসংখ্যক মানুষ চাকরি করেন; প্রতিবন্ধীদেরও কাজের সুযোগ দেওয়া হয় এবং শ্রমিক জনতার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা করা হয়ে থাকে৷ যাকে বলা হয় ‘প্রাইম ওয়ার্কিং ইয়ার্স’ বা জীবনের মূল্যবান কাজের বছরগুলি, সেই ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সি ইউরোপীয়দের চাকুরি থাকার এবং চাকুরি করার সম্ভাবনা মার্কিনিদের চেয়ে বেশি৷


প্রাইম-এজ মার্কিনিদের ৭৭ শতাংশের চাকরি আছে – সে তুলনায় বেলজিয়ামে প্রাইম এজ কর্মীদের ৮০ শতাংশ, ফ্রান্সে ৮১ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডসে ৮২ শতাংশের চাকরি আছে – এ হলো ওএসসিই-এর পরিসংখ্যান৷ আর জার্মানির সঙ্গে তুলনা করতে হলে, ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সি মার্কিনিদের আরো ৮৩ লাখকে চাকুরি করতে হবে৷যদি বেকারত্বের হারেই আবার ফেরা যায়, তাহলেও বলতে হবে, ইউরো এলাকার গড় বেকারত্ব ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ হলেও, জার্মানি অথবা অস্ট্রিয়ায় বেকারত্বের হার তার চেয়ে অনেক কম – যেমন অস্ট্রিয়াতে মাত্র চার দশমিক নয় শতাংশ৷ অন্যদিকে পর্তুগাল, ইটালি, ফ্রান্স কিংবা বেলজিয়ামে বেকারত্বের হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার নির্ধারণের সমস্যা আছে৷মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার কমেছে অংশত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা কাজ না করার, এমনকি কাজ না খোঁজার ফলে৷ অথচ সরকারি পরিসংখ্যানে শুধু তাদেরই বেকার বলে গণ্য করা হয়, যারা সক্রিয়ভাবে চাকরির খোঁজ করছেন৷ বহু মানুষ যদি চাকরির খোঁজ ছেড়ে দেন, তাহলে মার্কিন মুলুকে বেকারত্ব – অন্তত খাতাপত্রে – কমতে পারে৷ কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সের মার্কিনিদের মধ্যে যাঁরা কাজ করছেন অথবা কাজের খোঁজ করছেন, তাঁদের অনুপাত ২০০৭ সাল যাবৎ ৭৫ দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমে ৭২ দশমিক সাত শতাংশ হয়েছে৷ঠিক একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে এই অনুপাত বেড়েছে ৭০ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে ৭২ দশমিক তিন শতাংশ৷যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে এই ফারাকটা কেন, তার অনেক কারণ থাকতে পারে৷ মার্কিন মুলুকে চাকরি খাওয়া, অর্থাৎ যাওয়াটা অনেক সোজা –যদিও তার একটা অর্থ হলো, মার্কিন মুলুকে চাকরি পাওয়াটাও অনেক সোজা৷ মার্কিন ডিজেবিলিটি প্রোগ্রাম, অর্থাৎ অক্ষমতা বা অযোগ্যতা কর্মসূচি অনুযায়ী মার্কিনিদের চাকরি করা অথবা সরকারি ভাতা পাওয়ার মধ্যে বেছে নিতে হয়৷ ইউরোপে সাময়িক, এমনকি আংশিক অক্ষমতার দরুণ কাজের পরিমাণ কমানো সম্ভব৷ তৃতীয়ত, ইউরোপে ৪৫ অথবা তার বেশি বয়সের মহিলাদের মধ্যে ক্রমেই আরো বেশিসংখ্যক মহিলা চাকুরি করছেন৷এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউরোপ জুড়ে একটি নতুন প্রবণতা: স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালির সরকারবর্গ পার্ট-টাইম ও টেম্পোরারি শ্রমিক নিয়োগের নিয়মাবলী কিছুটা শিথিল করেছেন৷ এভাবেই জার্মানিতে বিগত কয়েক বছরে বেকারভাতা প্রাপ্তির সময়কাল কমানো হয়েছে; এছাড়া বেকারদের দেখাতে হবে যে, তারা সক্রিয়ভাবে চাকরির খোঁজ করছেন৷ অপরদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবসরগ্রহণের বয়সও বাড়ানো হয়েছে৷ অর্থাৎ ইউরোপ আবার প্রমাণ করেছে যে, শ্রমসংস্থানের ক্ষেত্রে ইউরোপ গোঁড়া নয়, একগুঁয়ে নয়, ইউরোপ নিজেকে বদলাতে জানে৷এখন শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্কেল গজানো বাকি!

সূত্রঃ dw.de

Print Friendly, PDF & Email