ইউরোপীয় ইউনিয়ন পেলো শান্তিতে নোবেল

 

কোনো বিরুদ্ধবাদী নন, নন মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন এমন কোনো ধর্মীয় নেতা, নোবেল শান্তি পুরস্কারের এবারের ঠিকানা ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ নরওয়ের পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছে৷

একটা মহাদেশকে এক করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখার জন্য ইইউ’কে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে, বলে জানিয়েছেন নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান টরবিয়র্ন ইয়াগলান্ড৷ তিনি ‘কাউন্সিল অফ ইউরোপ’ এরও মহাসচিব৷

ইয়াগলান্ড বলেন, ইউরোপকে যুদ্ধের মহাদেশ থেকে শান্তির মহাদেশে পরিণত করতে ইইউ মূল ভূমিকা পালন করেছে৷ সাবেক দুই শত্রুদেশ জার্মানি আর ফ্রান্সকে এক করার মাধ্যমে ইউরোপে ভবিষ্যতে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পথ বন্ধ করেছে ইইউ, বলেন তিনি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের পুনর্গঠনে এবং বার্লিন দেয়ালের পতনের পর ইউরোপে স্থিতিশীলতা আনয়নের ক্ষেত্রে ইইউ’র ভূমিকার প্রশংসা করেন ইয়াগলান্ড৷

ইইউ নোবেল পাওয়ায় বেশ খুশি জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোল৷ কেননা ইউরো চালুর মাধ্যমে ইউরোপকে একসূত্রে গাঁথার পেছনে তাঁর একটা জোরালো ভূমিকা ছিল৷ নোবেল কমিটির এই ঘোষণাকে তিনি ‘দূরদর্শী’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন৷

শুক্রবার বিকেল ৫টায় কাউন্সিল অফ ইউরোপের মহাসচিব জেনারেল থোরবজোয়ান জিগল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়। মহাদেশটিজুড়ে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে এই পুরস্কার প্রেরণা জোগাবে বলে শান্তি কমিটির বিবরণে বলা হয়।

[youtube_sc url=”http://www.youtube.com/watch?v=C3QPEmBBGUo”]

পুরস্কার ঘোষণা কালে নোবেল শান্তি কমিটির প্রধান জেনারেল থোরবজোয়ান জিগল্যান্ড জানান, এ সংস্থাটি ইউরোপ মহাদেশকে যুদ্ধের পথ থেকে শান্তির দিকে পরিচালিত করেছে। তিনি বলেন, এ পুরস্কার দিয়ে ইইউকে জানিয়ে দেয়া হলো তাদের অর্জনগুলো রক্ষা করেই সামনের দিকে এগুতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতন হলে তারা যে কি হারাবে তাও বলে দেয়া হলো এই পুরস্কারের মাধ্যমে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন ও ১৯৮৯ সালের বার্লিন দেয়াল ভাঙার পর স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় জিগল্যান্ড ২৭ জাতীর এই ইউরোপীয় ইউনিয়নের তারিফ করেন। আগামি ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বার লাখ ডলার দামের এই পুরস্কার ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে তুলে দেয়া হবে।

নারীর নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণের অধিকার আদায়ে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় গেলো বছর লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন-সারলিফ এবং স্বদেশী লেমা বোয়িসহ ইয়েমেনের নারী অধিকার ও গণতন্ত্রপন্থি কর্মী তাওয়াক্কুল কারমানকে এ পুরস্কার দেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি।

সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের সঙ্গে বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল
.

এই খবরে খুশি বর্তমান জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও৷ কেননা এই চরম ঋণ সংকটের সময়ে ইউরো’কে একক মুদ্রা হিসেবে চালু রাখার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি৷ তাই ইইউ’র নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবরকে ম্যার্কেল একটি ‘চমৎকার সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন৷ তিনি বলেন, ইউরো যে শুধু একক মুদ্রার চেয়েও বড় কিছু, তার পক্ষে একটা বড় সমর্থন হলো নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্ত৷

এদিকে, ইইউ প্রেসিডেন্ট হ্যারমান ফান রম্পয় বলছেন, এর ফলে ইইউ’কে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শান্তি প্রতিস্থাপনকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিলো নোবেল কমিটি৷

তবে যে দেশ থেকে শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে সেই নরওয়ে কিন্তু ইইউ’র সদস্য নয়৷ সেখানকার অনেকেই মনে করেন, সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্বাধীনতার জন্য একটা হুমকি হলো ইইউ৷ এজন্য ইইউ সদস্য হতে নরওয়েতে এখন পর্যন্ত দু’বার গণভোট আয়োজিত হলেও দু’বারই জনগণ তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে৷

উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এবার ২৩১ জনকে মনোনীত করা হয়েছিল৷ ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে এই পুরস্কার দেয়া হবে৷

জেডএইচ / এসবি (রয়টার্স, এএফপি, ডিপিএ)

সোর্সঃ dw.de, amaderprotidin.com

Print Friendly