পাসপোর্ট এবং দালালের খপ্পর

 

ভাই বিদেশে যামু। কিন্তু আমার পাসপোর্ট নাই। ধুর ঐই XYZ কে ১০০০০ / ১২০০০ টাকা দিলেই আপনার পাসপোর্ট রেডি করে দিবে।খুব সুন্দর লাগে কথা গুলো শুনতে। টাকা দিলেই সব পাওয়া যায়। আর টাকার পরিমানও অল্প। তাইলে কষ্ট করার কি দরকার। ভাই থামেন।আপনে যে টাকাকে অল্প ভেবে দালালের হাতে দিবেন পাসপোর্ট এর বানিয়ে দেয়ার জন্য এর অর্ধেক টাকাও লাগে না পাসপোর্ট বানাতে আর দালালের হাতে দিলেই যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন কিংবা টাকা ধরা খাবেন না এর গেরান্টি কেউ দিবে না আপনাকে। আর আপনে দালালকে টাকা দিয়েও যে কষ্ট করতে হবে নিজে বানালেও সমান কষ্ট করতে হবে।কারন বর্তমানে বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বানাতে নিজেকেই নিজ নিজ এলাকার আওতাভুক্ত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কাগজ জমা দেয়া,ফিংগার প্রিন্ট দেয়া এবং ফটো তুলতে হয়। কোন দালালের পক্ষে সম্ভব না এই কাজ গুলো করে দেয়া। সুতরাং আপনি নিজে আপনার পাসপোর্ট বানাতে পারেন যদি এই বিষয়ে আপনার কিছু সাধারণ ধারনা থাকে। তাই আজ এই বিষয়ে আমি কিছু কথা লিখবো আশা করি আপনারা অল্প হলেও এই বিষয়ে জানতে পারবেন। তাহলে প্রথম থেকে শুরু করি।

>> পাসপোর্ট বানানোর জন্য আপনি সাধারণ ভাবে ফরম পূরন কিংবা অনলাইনের ফরম পূরন করে সেটি প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
★★পাসপোর্ট বানাতে যা যা লাগবে: ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ সাদা ব্রেগ্রাউন্ড এর ছবি,ভোটার আইডি কার্ড /জন্মনিবনধন পত্র এর ফটোকপি। সাধারণ ভাবে পূরন করা ফর্মের মূল কপি এবং ফটোকপি অথবা অনলাইনের মাধ্যমে পূরন করা ফরমের প্রিন্ট এবং ফটোকপি।
★★পাসপোর্ট বানাতে ফি বা টাকারপরিমানঃ
> সাধারন ভিত্তিতে পাসপোর্ট বানাতে সরকারিভাবে নির্ধারিত ৩০০০ টাকা (কার্যদিবস এর ৩০ দিনের মধ্যে এই পাসপোর্ট পাওয়া যাবে)
> জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট বানাতে সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি ৬০০০ টাকা। (কার্যদিবসের ১৫ দিনের মধ্যে এই পাসপোর্ট পাওয়া যাবে)
★★ কিভাবে কি করবেনঃ প্রথমত আপনার জেনে নিতে হবে আপনার নিজ শহর,জেলা,এলাকার আওতাভুক্ত পাসপোর্ট অফিস কোনটি।তারপর আপনি সাধারন ভাবে ফরম পূরনের জন্য ঐ অফিস হতে ফরমটি বিনামূল্যে নিতে পারবেন।অথবা অনলাইন থেকে ফরম ডাউনলোড
বা অনলাইন ফরম পূরনের জন্য যেতে হবে এই ঠিকানায়
http://www.passport.gov.bd/default.aspx
সঠিক ভাবে ফরম পূরনের পর আপনাকে এর এক কপি ফটোকপি করে নেয়া ভালো। তাহলে অনেক সময় সমস্যা হলে এটি আপনার কাজে আসতে পারে। অতঃপর যুক্ত করুন আপনার ভোটার আইডি কার্ড কিংবা জন্মনিবন্ধন পত্র। তারপর আপনার কাজ হল সেই ফর্মের
সাথে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট ফি এর ব্যাংক / মানি রিসিট যুক্ত করে নিতে হবে। (ব্যাংক/মানি রিসিট এর নাম্বার ও টাকা জমা দেয়ার তারিখ ফরমে লিখতে ভুলবেনা) এখন প্রশ্ন করতে পারেন এই ব্যাংক রিসিট বা মানি রিসিট কেমন করে পাবো। আপনি যে কোন সোনালী ব্যাংকে পাসপোর্ট টাকা জমা প্রদান হিসাবে পাসপোর্ট ফি জমা দিলে তারাই আপনাকে এই মানি রিসিট বা ব্যাংক রিসিট প্রদান করবে।
প্রথম ধাপের কাজ শেষ। এখন আসলো ২য় ধাপ এর কাজ মানে ফরম জমা দেয়ার  কাজ।আপনি যে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফরম তুলেছেন সেখানে গিয়ে আপনার সব কিছু সংযুক্ত ফরম জমা দিন সব ঠিক থাক্লে তারা আপনাকে ফিংগার প্রিন্ট এবং ছবি তোলার জন্য নির্দিষ্ট রুমে যেতে বলবে। তারপর সব কাজ শেষ হলে তারা আপনাকে পাসপোর্ট তুলার জন্য একটি ডেলেভারি স্লিপ দিবে। তারপর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য
আপনার দেয়া ঠিকানায় পুলিশ যাবে অথবা আপনাকে ফোন করে তথ্য নিবে। হইছে কাজ পুলিশ এর কথা শুনে ভয় পাইলেন? ভয় পাবার কিছু নাই। আপনি আপনার পাসপোর্ট এর যেসব তথ্য দিয়েছেন ঐ গুলোই জিজ্ঞাস করবে আর সব তথ্য ঠিক নাকি যাচাই করে চলে যাবে।আপনি পুলিশ এর ভয়ে আবার সব কিছু গুলিয়ে ফেলবেন না।তারপর কাজ শেষ। এখন শুধু অপেক্ষা।
আপনার পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার দেয়া মোবাইল নাম্বারে মেসেজ যাবে এবং আপনাকে এরপর পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনার পাসপোর্ট তুলতে হবে। শেষ ধাপ পড়ে নিন জলদি নাহলে বিপদ সংকেত। এই কথা না লিখলে হয়তো সবাই পাসপোর্ট তোলা পর্যন্ত পড়ে আর
পড়বে না। কিন্তু ভাই একটু শুনেন। দালালের অভাব নাই। আপনি যে কোনপাসপোর্ট অফিস এর সামনে যান সেখানেই দালালের অভাব হবে না। অনেক কথা বলে আপনাকে পটানোর চেষ্টা করবে আর টাকা খাওয়ার অনেক চেষ্টা করতে পারে।সুতরাং সাবধান। আর পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যপারে কিছু বলি। বাংলাদেশে পুলিশের কাজ মানেই টাকা দিলে কাজ জলদি হয়।পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ
মামাকে খুশি না করলে আপনার ফাইল জমা হতে অনেক দেরি হবে।তাই অবৈধ হলেও উনাকে কিছু টাকা দিতে হবে। সুতরাং স্থায়ী এবং অস্থায়ী ঠিকানা দিকে দুই বার টাকা দিতে হবে। তাই শুধু স্থায়ী ঠিকানা দিবেন তাইলে একবার টাকা দিতে হবে।(৮০০-১০০০টাকা এর বেশি দিবেন না।)
আর কিছু কথা জেনে রাখুন।
**ফরমে ছবি লাগানোর পর তা অবশ্যই সত্যায়িত করে নিবেন সঠিক ভাবে।
**মানি/ব্যাংক রিসিট নাম্বার এবং টাকা জমার তারিখ  ফরমে লিখতে ভুলবেনা।
** সঠিক ভাবে সব তথ্য দিবেন।
**ফরম জমা দেয়ার দিন একটু স্মার্ট ভাবে যাবেন কারন পাসপোর্টের ছবি তারাই তোলবে।
**দীর্ঘ সময় ফরম জমা দিতে লাগবে সুতরাং সেই প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন।
**পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় চারিত্রিক পত্র চাইতে পারে তাই নিজের এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার এর কাছ থেকে চারিত্রিক পত্র এনে রাখা ভালো।
**সচ্চল মোবাইল নাম্বার ফরমে দিবেন।
** দালালের খপ্পরে পরবেন না। দালাল মুক্ত ভাবে কাজ করুন, প্রতারনা মুক্ত থাকুন। পাসপোর্ট বানানোর বিষয়ে সাহায্য এর জন্য ও বিস্তারিত জানতে কিছু ওয়েব লিংক আর ঠিকানা দিলাম।
For any enquiry, please call this number:
02-8123788
Or visit at:
Department of Immigration and Passport
7-E Agargaon
Shere-E-Bangla Nagor
Dhaka-1207, Bangladesh
Email Address: inquiry@passport.gov.bd

www.passport.gov.bd/Default.aspx

লেখকঃ Dhruvo Hasan Sharif

 

 

 

 

 

#BSAAG_Passport

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded
জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

Print Friendly, PDF & Email