• Home »
  • Cities-in-Germany »
  • ডুইসেলডর্ফ: মার্জিত স্পন্দনশীল এবং বৈপরীত্য পূর্ণ শহর

ডুইসেলডর্ফ: মার্জিত স্পন্দনশীল এবং বৈপরীত্য পূর্ণ শহর

Contents

 

ডুইসেলডর্ফকে ‘রাইন নদীর মুক্তা’ বলা হয়। এই শহরের বেশ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন চেহারা রয়েছে। এটা সেই জায়গা যার ‘Kö’ এবং Medienhafen তে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীবৃন্দ এবং মার্জিত মডেলদের সমাগম দেখা যায়। রাইন নদীর ধারে সৃজনশীল পরিবেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা বেশ উপভোগ করে এবং তারা ‘বিশ্বের দীর্ঘতম বারে’ তাদের মুহূর্তগুলো উপভোগ করে।

Bridge over the Rhine River

Bridge over the Rhine River

ডুইসেলডর্ফ শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যান:

অধিবাসী: ৫৯০,০০০ জন

শিক্ষার্থী: ৩৮,৯০০ জন

বিশ্ববিদ্যালয়: ৬টি

মাসিক ভাড়া: ৩৩৮ ইউরো।

ওয়েবসাইট: www.duesseldorf.de

ডুইসেলডর্ফ শহরে আপনাকে স্বাগতম

আপনি ডুইসেলডর্ফ সম্পর্কে একটা কথা বলতেই পারেন, তা হল- এটা আন্তর্জাতিক এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। কিন্তু মার্জিত এবং ফ্যাশনেবলও বটে। North Rhine-Westphalia রাজ্যের রাজধানী বৈপরীত্য পূর্ণ একটি শহর। অনেক আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন এখানে তাদের সদর দপ্তর স্থাপন করেছেন। দূর প্রাচ্যের ব্যবসায়ীরা ডুইসেলডর্ফকে বিশেষভাবে পছন্দ করে, এটি শুধুমাত্র জাপানেরই প্রায় ১০,০০০ মানুষ এবং ৪০০ কোম্পানির আবাসস্থল। এই শহর প্রতি বছর Japan Day তে তাদের ফুজিয়ামা’র দেশের অতিথিদের সম্মানে বিশাল আতশবাজির আয়োজন করে যা দেখার জন্য পুরো ডুইসেলডর্ফবাসী মুখিয়ে থাকে।

Media Harbour

Media Harbour

ডুইসেলডর্ফ  কিন্তু শুধুমাত্র একটি ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত না, এটি জার্মানির ফ্যাশন শহর হিসেবেও পরিচিত। এটি ভোক্তা স্বর্গ হিসাবে তার খ্যাতি রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। পাশাপাশি  Königsallee বা সংক্ষেপে ‘Kö’-তে আপনি একের পর এক উত্কৃষ্ট সর্বাধুনিক ফ্যাশনের জিনিসপত্র পাবেন। এছাড়াও ডুইসেলডর্ফের  সৃজনশীল পরিবেশ এখানে অনেক বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং শিল্পীদের আকৃষ্ট করেছে।

আপনি শহরের পুরাতন অংশে হাঁটার সময় অনায়াসে শহরের বহুমুখী চরিত্র লক্ষ্য করতে পারবেন যদিও ডুইসেলডর্ফ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারী ক্ষতির শিকার হয়, পরে এর অনেক পুরাতন ভবন ভালভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে অথবা যত্নসহকারে পুনর্নির্মিত করা হয়েছে। বিশেষ করে Oberkassel এবং Lörick জেলায়, আপনি রাস্তা সম্বলিত অনেক সুন্দর বাড়ি এবং জমকালো সব ভিলাগুলো দেখতে পাবেন। এছাড়াও শ্রমিকশ্রেণীর জেলা Flingern এবং Bilk এরও তাদের নিজস্ব এবং খুবই বিশেষ ধরণের সৌন্দর্য রয়েছে।

আপনি উৎসবের সময় ডুইসেলডর্ফের বাসিন্দাদের প্রাণোচ্ছলতা সম্পর্কে ভাল ধারণা পাবেন। ১১ নভেম্বর সকাল ১১টা ১১ মিনিটে স্ট্রম সিটি হল ‘Jecken’ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বছরের পঞ্চম ঋতুর’ (কার্নিভ্যালের) উদ্বোধন করা হয়। ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে শহরটি উৎসবের ঘাঁটি হয়ে উঠে, যখন সব মানুষ বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারে নানা রকমের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ‘Altweiber’ থেকে রাস্তায় নামে। উৎসবের হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীরা প্যারেড রুট বরাবর গোলাপ নিয়ে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকে এবং Kamelle (মিষ্টির) জন্য চিৎকার করে

 

ডুইসেলডর্ফ শহরে বসবাস

Königsallee

Königsallee

ডুইসেলডর্ফকে অনেক মানুষ ভালবাসে এবং এখানকার জীবনযাত্রা বেশ উচ্চ মানের। ঠিক এই কারণে এখানে জীবনযাত্রার খরচ পাশাপাশি অবস্থিত Ruhr অঞ্চলের অন্যান্য জায়গা থেকে একটু বেশি। অনেক শিক্ষার্থী Flingern বা Bilk এর মত বিকল্প জেলার বায়ুমণ্ডল এবং সেখানকার সাশ্রয়ী মূল্যের শেয়ার ফ্ল্যাটে বাস করতে পছন্দ করে। কিন্তু আপনার যদি আরো টাকা থাকে, তাহলে আপনি Pempelfort জেলায় বাস করতে পারেন। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় আবাসস্থল আছে তবে এর ভাড়া তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি।

আপনি যেখানেই বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন না কেন, আপনি ডুইসেলডর্ফের ঐতিহাসিক শহরের কেন্দ্র ‘Altstadt’ এ অনেক সময় কাটাবেন। এই না যে এখানে শুধুমাত্র অনেক দোকান এবং শপিং মল আছে, পাশাপাশি অনেক জাদুঘর, গ্যালারী এবং থিয়েটার ও রয়েছে। আপনি যদি রাতে বাইরে যেতে চান, তাহলে ‘Altstadt’ হল যাওয়ার মত উপযুক্ত একটি জায়গা কারণ ডুইসেলডর্ফেই রয়েছে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম বার’। Bolkerstrasse এর সাথে পাশাপাশি প্রায় ৫০টির মত বার এবং রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেগুলো প্রতি সন্ধ্যায় সমভাবে শহরের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

Carnival

Carnival

‘Kurze Strasse’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ‘Schaukelstühlchen’, ‘Kürzer’ এবং ‘Chez Cherie’ এই পাবগুলো অন্যতম যেখানে অনেক অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা আড্ডা দিতে পছন্দ করে। সম্পূর্ণ রাস্তায় সারিবদ্ধ অনেক বার এবং পাব রয়েছে যেখানে আপনি উষ্ণ গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় একটি ঠান্ডা বিয়ার সঙ্গে নিয়ে বাইরে বসতে পারেন। স্থানীয় বিয়ারকে ‘Alt’ বলা হয়, তবে এটা যদি আপনার কাছে খুব তেতোও লাগে, তারপরও কখনও ‘Kolsch’ বিয়ার অর্ডার করবেন না কারণ এটি কোলন শহর থেকে আসে (দুই শহরের মধ্যেই কিন্তু একটি সমান প্রতিযোগিতা সবসময়ই বিদ্যমান)।

আপনি দ্রুত শহরের ‘আরামদায়ক অবস্থা’ বুঝতে পারবেন, মানুষ তাদের লাঞ্চ ব্রেক এবং সপ্তাহান্তে  Volksgarten বা Hofgarten এ বসে তাদের সময় কাটায়। ডুইসেলডর্ফের অনেক বাসিন্দারা রাইন নদীর তীরে বসে অধ্যয়ন করে, ব্যায়াম করে অথবা নিরবে বসে থাকে। নদীর তীরে বনভোজন এবং বার্বিকিউ করা বিশেষভাবে জনপ্রিয়। Medienhafen এর কাছাকাছি আপনি কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। রাইনের পাড়ে দাঁড়ালে মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মনে হবে আপনি কোন উপকূলীয় দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছেন।

বাস্তিয়ান রথের  টিপস

‘Use-It’ সিটি গাইড সিরিজের উপর নজর রাখুন। আপনি প্রধান ট্রেন স্টেশনে এবং পাবের ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন অফিস থেকে এর একটি কপি সংগ্রহ করতে পারেন। সিটি গাইডটি ‘তরুণ ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় তরুণদের’ দ্বারা তৈরি করা এবং এতে শহরের অনেক লুকায়িত সৌন্দর্যের তথ্য দেয়া রয়েছে ।

আজারবাইজানের জুলফিয়ার সঙ্গে বাস্তিয়ান রথের সাক্ষাৎকার

৩০ বছর বয়সী জুলফিয়া আব্দুরাহিমোভা আজারবাইজান থেকে এসেছেন এবং ডুইসেলডর্ফ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার ডক্টরেট সম্পন্ন করছেন।

আজারবাইজানের জুলফিয়া

আজারবাইজানের জুলফিয়া

 

 

 

 

 

 

 

বাস্তিয়ান: কেন আপনি ডুইসেলডর্ফে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নেন?

জুলফিয়া: আমি Münster এ আমার মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলাম এবং পাশাপাশি জার্মানিতে আমার পিএইচডি করতে চেয়েছিলাম। আমি ডুইসেলডর্ফে একটি ডক্টরেট পজিশনের কথা শুনতে পাই এবং আবেদন করি আর এখানে ডক্টরেট করার সুযোগ পেয়ে যাই।

বাস্তিয়ান: কিভাবে আপনি জার্মানিতে আপনার পড়াশোনা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

জুলফিয়া: আমি আজারবাইজানে ইউরোপীয় স্টাডিজ নিয়ে পড়েছি এবং তা জার্মানির উপর ফোকাসড ছিল। তখনই আমাকে জার্মান ভাষা শেখা শুরু করতে হয়েছিল। আমি জার্মান খবরও দেখতাম কিন্তু আমি খুব কমই বুঝতে পারতাম। সৌভাগ্যবশত আমি এর মধ্যে Münster এ একটা চমৎকার পরিবারের জন্য একজন au-pair  হিসাবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এভাবেই আমি অনেক জার্মান রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠি।

Old Town Kreuzherreneckবাস্তিয়ান: শুরুর দিকে আপনার কী কী অসুবিধা হয়েছিল?

জুলফিয়া: একটাই জিনিস, তা হল জার্মানদের সময়নিষ্ঠা। আপনি কাজে পাঁচ মিনিট দেরি করে পৌঁছেছেন, এর জন্য অবশ্যই আপনার একটি অজুহাত থাকতে হবে। তবে আপনাকে এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে। আমার আরেকটি জিনিস কঠিন মনে হয়েছে, তা হল সব ছোট ছোট ব্যাপারে কিভাবে আপনাকে সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ডিঙ্গিয়ে পার হতে হয়। আমাকে সময়সীমার উপর খুব গুরুত্বের সাথে নজর রাখতে হয়েছিল যেন সময়মত আবেদন করা এবং সময়ের মধ্যে সব কাগজপত্র পাঠাতে পারি। এ কারণে আমি নিজের জন্য একটি ক্যালেন্ডারও কিনেছিলাম। আজারবাইজান হলে আমার ক্যালেন্ডারের কোন প্রয়োজনই হত না।

বাস্তিয়ান: কিভাবে আপনি আপনার পড়াশোনার জন্য টাকা পরিশোধ করেছিলেন?

জুলফিয়া: আমি একটি স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। আমাকে নিয়মিত আমার গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করতে হত এবং এর উপর তারা বিবেচনা করতো আমার স্কলারশিপ বাড়ানো হবে কিনা।

Beach at the Rhine River

Beach at the Rhine River

বাস্তিয়ান: ডুইসেলডর্ফের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কোন জিনিসটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছিল?

জুলফিয়া: এখানকার মানুষ খুব খোলামেলা স্বভাবের। যখন আমি বাস স্টপেজে যেতাম, আমি বলতাম “হ্যালো” কোন ব্যাপার না কে বা কতজন লোক আছে দাঁড়িয়ে আছে এবং আমি সবসময়ই কারো না কারো সাড়া পেতাম। একটা কথোপকথন আরম্ভ করা খুব সহজ। ডুইসেলডর্ফ  খুব আনন্দময় একটি শহর। শহরে প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকেই, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একদিন আমি রাষ্ট্র সংসদে ছিলাম এবং হঠাৎ করে আমি সেখানে একটি ট্যাঙ্গো কর্মশালা আবিষ্কার করি ।

 

বাস্তিয়ান: ডুইসেলডর্ফে আপনার প্রিয় জায়গা কোনটি?

জুলফিয়া: এটা অবশ্যই Medienhafen, তার রঙিন পুরনো, নতুন ভবন এবং চমৎকার পার্কের সাথে ।

 

সুত্র: study-in.de

অনুবাদক: সাজেদুর রহমান, রাজশাহী।

Print Friendly