• Home »
  • Cities-in-Germany »
  • ড্রেসডেনঃ আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহাসিক শিল্পকলায় প্রযুক্ত শৈলী

ড্রেসডেনঃ আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহাসিক শিল্পকলায় প্রযুক্ত শৈলী

 

আপনি যেখানেই তাকান, আপনি ড্রেসডেনের ঘটনাবহুল ইতিহাসের প্রমান দেখতে পাবেন। ঐতিহাসিক শিল্পকলায় প্রযুক্ত স্থাপত্য ও শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এলবে নদী ড্রেসডেন শহরকে অপরূপ সৌন্দর্যে সজ্জিত করেছে। শহরটি বিশ্ববিখ্যাত বিস্তৃত দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দেয় যা আপনি অন্য কোথাও পাবেন না।স্বনামধন্য  বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে লেখাপড়ার আদর্শ এক পরিবেশ তৈরি করেছে।

Skyline with the Frauenkirche

Skyline with the Frauenkirche

ড্রেসডেন শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যানঃ

অধিবাসীঃ ৫১৮,০০০ জন
শিক্ষার্থীঃ ৪৩,১০০ জন
বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ৯ টি
মাসিক ভাড়াঃ ২৪৭ ইউরো
ওয়েবসাইটঃ www.dresden.de

ড্রেসডেন শহরে আপনাকে স্বাগতমঃ

ড্রেসডেন কে প্রায়ই “Elb Florence” নামে ডাকা হয়। আপনি যখন শহরের নতুন অংশ থেকে এলব নদী পার হয়ে ঐতিহাসিক শহরের কেন্দ্রে যাবেন, তখন এর অনন্য বিস্তৃত সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেনই এবং এটি আরও বেশী উত্তেজনাকর হয়ে উঠে সূর্যাস্তের সময় সময়। শহরের প্রাচীন সব ভবনগুলো সূর্যের শেষ কিরণমালায় বিশেষভাবে সুন্দর দেখায়। তারপর আপনি জানতে পারবেন কেন ড্রেসডেন অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজকীয় আসনের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং কেন একে “Elb Florence” বলা হয়। এলবে নদী এবং একে ঘিরে থাকা শহরের দৃশ্য আসলেই অনন্য এবং বিশ্ববিখ্যাত।

The baroque Old Town

The baroque Old Town

ড্রেসডেন হল পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি প্রদেশের রাজধানী। এখানে উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও সমৃদ্ধ প্রযুক্তির শাখা রয়েছে। অনেক বড় বড় কর্পোরেশন যেমন চিপ প্রস্তুতকারক AMD এবং Infineon অথবা ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি ZMD তাদের সদর দপ্তর এখানে প্রতিস্থাপিত করেছে। শহরটি মোটরগাড়ি শিল্পে সরবরাহকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের আবাস্থল, Transparent Factory আকর্ষণীয় ডিজাইন সম্বলিত ভক্স ওয়াগনের কারখানা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ড্রেসডেন শহর প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ঐতিহাসিক যেসব ভবনগুলোর জন্য শহরটি বিখ্যাত ছিল সেগুলো আবার নির্মাণ করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪০ বছর পরে, ১৯৯০ সালে জার্মানির পুনরেকত্রিকরণের পর। এটি সেই ঘটনাবহুল ইতিহাস যার ছাপ আপনি আজকে শহরটির প্রতিটি কোনায় কোনায় দেখতে পাবেন।

Semperoper

Semperoper

ড্রেসডেনের পুনঃনির্মিত অন্যতম সুন্দর ভবন হচ্ছে ফ্রাউএনকার্সে যেটি নগরের কেন্দ্রে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গির্জার শুধু কিছু ওয়াল অক্ষত ছিল। আজকে কালো পাথরগুলোই আপনাকে বলবে গির্জার কোন অংশটুকু আসল। গির্জাটি হালকা রঙের বেলেপাথরে তৈরি হয়েছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা অনেক গাড় রঙে পরিনত হয়েছে। এটির পুনর্গঠন ড্রেসডেনের বাসিন্দাদের কাছে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শান্তি ও পুনর্মিলনের প্রতীক।

Theaterplatz এ আপনি ড্রেসডেনের বিখ্যাত অপেরা হাউস Semperoper পাবেন। এটির পাশেই বড় ক্রীড়োদ্যান এবং ছোট বড় ঐতিহাসিক দালান সমৃদ্ধ Zwinger অবস্থিত। বিভিন্ন সুপরিচিত জাদুঘরও এখানে রয়েছে। আপনার অবশ্যই “Old Masters Picture Gallery” এবং “Green Vault” জাদুঘর দুইটি প্রদর্শন করা উচিত।
বড়দিনের সময় বিশ্ববিখ্যাত বড়দিনের বাজার “Striezelmarkt” তাদের দরজা খুলে দেয়। এটি আপনার জন্য একটি বিশেষ সুযোগ হতে পারে ড্রেসডেনের বিশেষ পেস্ট্রি “Christstollen” খাওয়ার যেটি শুধু বড়দিন উপলক্ষে পাওয়া যায়।

ড্রেসডেন শহরে বসবাসঃ

এলবে নদী ড্রেসডেন শহরকে দুটি অংশে ভাগ করেছে। একটিকে বলা হয় নতুন শহর(Neustadt) অন্যটিকে বলা হয় ঐতিহাসিক শহর(Altstadt)। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা নতুন অংশে থাকে। এখানেই আপনি সব জনপ্রিয় বার ও ক্লাব গুলো খুজে পাবেন। যদি আপনি Scheune অথবা ভাল জ্যাজ বার গুলায় জান তাহলে নিশ্চিত থাকুন যে আপনি সেখানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের দেখা পাবেন।

Dresden Neustadt

Dresden Neustadt

Bunte Republik Neustadt হচ্ছে একটি উৎসব যেটি প্রত্যেক গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিল্পীরা তাদের কলা প্রদর্শন করার সময়, আপনি ক্ষণস্থায়ী মার্কেটটির ভিতরে ঘুরে বেড়াতে পারেন, এবং দাড়িয়ে ড্রেসডেনের গ্রীষ্মটা উপভোগ করতে পারেন।

Altstadt জেলার Weisse Gasse তে অনেক মনোরম রেস্তোরা এবং কক্টেল বার আছে। যেখানে আপনি ভাগ্যবান হলে বাহিরে একটি বসার জায়গা পাবেন ও পুরনো শহরের পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

আপনি Brühlschen Terrasse এর উপর দিয়ে হেঁটে শহরের তাড়াহুড়ো ও ছুটোছুটি থেকে নিস্তার পেতে পারেন। আপনি অবশ্যই সঙ্গীতজ্ঞ ও শিল্পীদের দেখা পাবেন, যাদের থেকে গান শুনতে পাবেন এবং একদৃষ্টে এলবে নদীর পানে চেয়ে থাকতে পারেন।

 

শহরের কেন্দ্রস্থলের প্রান্তে যে বিরাট বাগানটি রয়েছে সেটি সপ্তদশ বা অষ্টাদশ শতকে ডিজাইন করা এবং এটি এখনও এর ঐতিহাসিক সময়ের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। বৃক্ষরাজি ও তৃণভূমির মধ্যে আপনি অনায়াসেই পুরো একটি দিন শুধুমাত্র বিশ্রাম করে কাটিয়ে দিতে পারেন।

আপনি “Elb Florence”সৌন্দর্য পানিতে থেকেও উপভোগ করতে পারেন একটি নৌকা ভাড়া করে। এছাড়া আপনি পাশ্ববর্তী Saxon Switzerland এ হাইকিং যেতে পারেন। চেক প্রজাতন্ত্র ড্রেসডেন থেকে খুব একটা দূরে না এবং এটি অবশ্যই ভ্রমণ করার মত একটি জায়গা।

আপনি কাছাকাছি অবস্থিত Pillnitz Castle এ ট্যুরে যেতে পারেন। Elbhangfest উৎসব যেটি প্রতিবার গ্রীষ্মে হয়ে থাকে, এর সাথে এলবে নদী, আঙুর ক্ষেত এবং বিস্তৃত তৃণভূমি সব একসাথে দেখে, আপনার মনে হবে যেন আপনি দক্ষিণের সমুদ্রপাড়ে ছুটি কাটাতে এসেছেন।

জেনিন নোয়াকের টিপসঃ

আপনার অবশ্যই এলবে নদীতে নৌকা ভ্রমণে যাওয়া উচিৎ এবং Meissen শহর ভ্রমন করা উচিৎ। Meissen শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রটি ছোট, কিন্তু জমকালো। শহরের দুর্গ অভিমুখে হাঁটার সময় আপনি এলবে নদী এবং এর আশে-পাশের আঙুর ক্ষেতগুলোর সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

ভারতের সাহিলের সাথে জেনিন নোয়াকের সাক্ষাৎকারঃ

২১ বছর বয়সী সাহিল লুম্বা ভারত থেকে এসেছেন। তিনি এখন বর্তমানে ড্রেসডেনের Max Planck Institute এ প্রকৌশল অনুষদে একটি সেমিস্টারের জন্য অধ্যয়ন করছেন

ভারতের সাহিল লুম্বা

জেনিনঃ আপনি কেন জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন?
সাহিলঃ আমি মনে করি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে পুরো ইউরোপের মধ্যে জার্মানিই সেরা। আর আমি অবশ্যই একটি সেমিস্টার দেশের বাইরে ইউরোপে পড়তে চেয়েছিলাম আর জার্মানিই ছিল পছন্দের শীর্ষে। আর সবচেয়ে বড় কথা জার্মান সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনেক সুযোগ সুবিধা প্রদান করে।

জেনিনঃ আপনি কেন ড্রেসডেন এ পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ?
সাহিলঃ প্রথমত এই চমৎকার প্রোগ্রামটির জন্য। আমি জার্মানির অন্য যেকোনো শহরেই যেতে পারতাম, কিন্তু Max Planck Institute অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল। এখন আমি এই শহরটিকে ভালবাসি। ড্রেসডেন চমৎকার মানুষে ভরা একটি অপূর্ব শহর। আমি এখানের কাজ করার পরিবেশও অনেক পছন্দ করি। এখানকার শিক্ষার্থীরা অনেক চমৎকার এবং এখানে অনেক সক্রিয় গ্রুপ আছে যেখানে আপনি যোগদান করতে পারেন। আমি নতুন শহরে অনেক সময় কাটিয়েছি এবং আমি পুরনো শহরকেও অনেক পছন্দ করি।

জেনিনঃ ড্রেসডেন পড়াশোনার জন্য কি ভাল জায়গা?
সাহিলঃ অবশ্যই। Max Planck Institute এর সবাই অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ । তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অনেক যৌথ প্রকল্প পরিচালনা করে এবং আপনি তাড়াতাড়ি অন্যান্য মানুষের সাথে যোগাযোগে এসে পড়বেন। এখানে অনেক অন্তর্বর্তী নিয়মকানুন আছে যেগুলো আমাকে দ্রুত নতুন অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করেছে। আমি তাদের আরেকটি ব্যাপার খুবই পছন্দ করি সেটি হল বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজকে ভালোবেসে করে। তারা গবেষণা করে কারণ তারা নতুন কিছু আবিষ্কার করতে চায় অথচ তারা দিন-রাত কাজ করে না। জার্মানির এইসব ব্যাপারগুলোই আমি ভালোবাসি।

জেনিনঃ আপনি কীভাবে থাকার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
সাহিলঃ প্রথম যে কাজটি আমি করেছিলাম সেটি হল জার্মান ভাষা শেখা। আমি মানুষের সাথে যোগাযোগ করার সক্ষমতা অর্জন করতে চেয়েছিলাম। সবচেয়ে বড় সমস্যায় আমি পরেছিলাম আমি জার্মানিতে শীতের কাপড় নাকি গরমের কাপড় নিয়ে যাব সেটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। খবরে সবসময় বলে যে জার্মানি সত্যিই অনেক ঠাণ্ডা। জার্মানির গরম মানে আমার ভারতের বাসার শীতকালের মত ঠাণ্ডা। তুলনামুলকভাবে জার্মানির ভিসা পাওয়া সহজ-সেটি অনেক ভাল ছিল।

জেনিনঃ জার্মান ভাষায় কথা বলাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ?
সাহিলঃ আমি অতটা ভাল জার্মান বলতে পারি না কারণ আমি জার্মান ভাষা ভালমত শেখার জন্য খুব বেশি সময় পাইনি, কিন্তু আমি মনে করি কিছু ক্ষেত্রে ভাষা বোঝাটা অনেক প্রয়োজনীয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই ইংরেজিতে কথা বলে, কিন্তু ক্যাম্পাসের বাইরে, বাজারে, সুপারমার্কেটে অথবা কোন পার্টিতে লোকজন জার্মান ভাষায় কথা বলে এবং আপনি এসব থেকে বাদ পরবেন যদি আপনি জার্মান ভাষা না জানেন। আমি এটাও মনে করি আপনি যখন তাদের ভাষা শিখেন তখন তারা এটি পছন্দ করে।
সূত্রঃ study-in.de

অনুবাদকঃ আকিব রেজওয়ান অয়ন, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email