ডেসাউ: স্থাপত্যশৈলী প্রেমীদের শহর

 

ডেসাউ তার Bauhaus স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্ববিখ্যাত এবং বিশ্বের সব জায়গার নকশা এবং স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। বনভূমি ও নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত ডেসাউ শহর অধ্যয়ন করার জন্য আরামদায়ক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ একটি জায়গা।

Bauhaus Glass Screen . © Stadt Dessau-Roßlau

Bauhaus Glass Screen . © Stadt Dessau-Roßlau

ডেসাউ শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যানঃ

অধিবাসী: ৮৫,০০০ জন

শিক্ষার্থী: ৭,৪০০ জন

বিশ্ববিদ্যালয়: ১টি

মাসিক ভাড়া: ২৪৪ ইউরো।

ওয়েবসাইট: www.dessau-rosslau-tourismus.de

 

ডেসাউ শহরে আপনাকে স্বাগতম

প্রথম দেখায় ডেসাউ শহরকে অনুল্লেখ্য মনে হবে। শহরের কেন্দ্র ছোট এবং আরামদায়ক। ৮০,০০০ বাসিন্দার অধিকাংশ শহরের অন্তর্গত অনেক ছোট গ্রামে বাস করে। কিন্তু আপনি শীঘ্রই শহরের আকর্ষণীয় সব জায়গা আবিষ্কার করবেন এবং এর চিত্তাকর্ষক স্থাপত্যশৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত হবেন।

Panorama of Halle . © Jörg Weitzenberg

শহরের আধুনিক সব ঘরবাড়ি ছাড়াও আপনি অষ্টাদশ, ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর অনেক পুরনো ভবন দেখতে পাবেন। Alter Räucherturm এর দেখার প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনি শহরের চমৎকার একটি দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। উপরে উঠতে হলে আপনাকে ১৩১টি সিঁড়ির ধাপ আরোহণ করতে হবে, তবে ডেসাউ শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চল এবং এলবে নদীর সুন্দর রূপ দেখে আপনার কষ্ট সার্থক হবে।

ডেসাউ তার Bauhaus স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। আপনি যখন প্রথমবার ভবনগুলো দেখবেন, তখন এর স্থাপত্যশৈলীর মান আপনার কাছে বর্তমানের স্থাপত্যশৈলীর তুলনায় খুব একটা উদ্ভাবনী মনে নাও হতে পারে। কিন্তু ১৯২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে, যখন এই স্থাপত্যশৈলীর বিকাশ ঘটে তখন এটি খুব জনপ্রিয় ছিল। Bauhaus প্রতিষ্ঠাতা ওয়াল্টার গ্রোপিয়াস প্রথম স্থপতি ছিলেন যিনি একটি ভবনের জটিল বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পূর্ণ আলাদা করেছিলেন। এই শৈলীর উদাহরণ হল Meisterhäuser , যা আপনি পুরো শহরজুড়ে দেখতে পাবেন। নকশা এবং স্থাপত্য শিক্ষার্থীরা এখনও ডেসাউ আসে এর অনন্য ভবনসমূহ দেখার জন্য এবং স্থাপত্যশৈলী বিষয়ে পড়ার জন্য।

ডেসাউ শহরে বসবাস

ধন্যবাদ সেসব শিক্ষার্থীকে যারা এখানে বিদেশ থেকে পড়তে আসে, ডেসাউ তার আকারের তুলনায় খুবই স্পন্দনশীল একটি শহর। এখানে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত থাকার জায়গায় বা “Unikomplex” এ পার্টি অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানকার আবহাওয়া খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। ডেসাউ শহরে আপনি সাইকেলে করেই প্রায় সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারবেন।

Meisterhäuser . © Stadt Dessau-Roßlau

সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য ডেসাউ এ শুধু শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যশৈলীর তুলনায় আরো অনেক কিছু আছে। আপনি সপ্তাহান্তে Johannbau এ গিয়ে ছুটির দিনটি কাটাতে পারেন এবং সেখানে ডেসাউ এবং এর পারিপার্শ্বিক অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।

সন্ধ্যায় আপনি Anhaltisches Theater এ একটি শো দেখতে পারেন, সেখানে অপেরা এবং সঙ্গীতানুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। আপনি যদি বিকল্প ধরনের প্রোগ্রামের খোঁজে থাকেন, তাহলে TheaterBurg Roßlau এ যেতে পারেন। এছাড়াও এই থিয়েটার জ্যাজ কনসার্ট এবং আধুনিক রিডিং এর আয়োজন করে থাকে এবং জন উলফগ্যাং ভন গ্যাটে এবং হাইনরিশ ভন ক্লেইস্ট এর ক্লাসিক সমূহ প্লে করে থাকে।

ডেসাউ তার হ্রদসমূহের জন্য বিখ্যাত যেখানে আপনি স্নান, ভ্রমণ এবং অবসর সময় কাটাতে পারেন। এলবে এবং মালডে নদী শহরে মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর আপনি নদীর তীরে বসে আরাম করতে পারেন এবং প্রকৃতির নিরবতা উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও সপ্তাহান্তে অদূরে শহরকে ঘিরে রাখা কাঠের সারির মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন। প্রকৃতি সংরক্ষিত Saalberghau উদ্যানে আপনি একটি দিন হাইকিং করে কাটাতে পারেন এবং তারপর Kühnauer See এর পানিতে একটি সতেজকারক ডুব দিতে পারেন।

Schloss Luisium এর বাগানের মধ্যে হাঁটার সময় আপনি এর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

বিকেলে কফি এবং কেক খাওয়ার জন্য  Café im Bauhaus অবশ্যই যাওয়ার মত একটি জায়গা, এখানে সুস্বাদু কেক এবং খাবার অবশ্যই আপনার খাওয়া উচিৎ। শহরে কেন্দ্রে Café Hilde তে আপনি কঞ্চির তৈরি সৈকত চেয়ারে বসে আরাম করতে পারেন এবং রোদ পোহাতে পারেন বা সন্ধ্যায় কনসার্ট শুনতে পারেন। সন্ধ্যাটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে আপনি Bar MAXXIM  ককটেল পান করতে পারেন।

ডেসাউ এ যদি আপনি যথেষ্ট ঘোরার জায়গা না খুঁজে পান তাহলে সংক্ষিপ্ত ট্রেন যাত্রা করে লাইপজিগ  এ ঘুরতে যেতে পারেন। প্রায়ই এটিকে “লিটল বার্লিন” বলে সম্বোধন করা হয়, ট্রেনে করে সেখানে যেতে শুধুমাত্র এক ঘন্টা সময় লাগে। এখান থেকে বার্লিনেও যেতে শুধুমাত্র দেড় ঘন্টা সময় লাগে।

জেনিন নোয়াখের  টিপস

ডেসাউ শহর আপনার অবশ্যই পায়ে হেঁটে দেখা উচিৎ। চমৎকার দর্শনীয় অনেক জায়গা শহরের বিভিন্ন কোণে লুকানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যাবে!

নাইজেরিয়ার  চাকওয়েমেকা ভিনসেন্টের সঙ্গে জেনিন নোয়াখের সাক্ষাৎকার

৩০ বছর বয়সী চাকওয়েমেকা ভিনসেন্ট নাইজেরিয়া থেকে এসেছেন এবং ডেসাউ  বিশ্ববিদ্যালয়ে International Architecture বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত।

নাইজেরিয়ার চাকওয়েমেকা। © Noack / DAAD

জেনিন: আপনি পড়াশোনা করার জন্য কেন ডেসাউ এ আসার সিদ্ধান্ত নিলেন?

চাকওয়েমেকা: আমি প্রধানত Bauhaus স্থাপত্যের কারণে ডেসাউ এ আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। Bauhaus একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক স্থাপত্য শৈলী এবং আমি অধিক গভীরতার সাথে এই শৈলীর বিষয়ে অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলাম।

জেনিন: আপনি কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি পছন্দ করেন?

চাকওয়েমেকা: বিশ্ববিদ্যালয়টি দারুণ, ছোট কিন্তু সত্যিই খুবই ভাল। এখানে ২,০০০ জনের মত শিক্ষার্থী আছে, এখানকার তত্ত্বাবধান খুব ভাল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্কও খুব ভালো। আমার কোর্সটি ইংরেজি ভাষায় পড়ানো হয় এবং ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ২০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কোর্সটিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং খোলামেলা। কিন্তু এখানে সুষ্ঠুভাবে বসবাসের জন্য আপনার ভাল সামাজিক দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। আমরা ডেসাউ এর মধ্যে অনেকটা একটি ছোট আন্তর্জাতিক দ্বীপের মত।

Johannbau . © Noack/DAAD

জেনিন: অধ্যয়নের স্থান হিসাবে ডেসাউ এর ব্যাপারে আপানার মতামত কি ?

চাকওয়েমেকা: খুবই ভালো , আমি ডেসাউ শহরকে ভালোবাসি,বিশেষ করে তার আর্কিটেকচারের জন্য। শহরটি সত্যিই খুবই উদ্দীপক এবং পড়াশোনার অবস্থা খুব ভাল। আমি ডেসাউ এ খুব আনন্দের সাথে থাকি, আর যদি কখনও নতুন কিছু করার ইচ্ছা হয় তাহলে খুব সহজে বার্লিন যেতে পারি। আমি সাইকেলে করে সব জায়গায় যেতে পারি, যা খুবই ভালো। আরেকটা জিনিস হল, এখানে রাতের বেলায় প্রাণচঞ্চলতা কমে আসে , আপনার রাতে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস থাকলে সে জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে। আপনি যদি বড় শহরে বসবাস করে থাকেন, তাহলে আপনার ডেসাউ এর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট হতে পারে। এই কারণে কিছু শিক্ষার্থী বার্লিনে বসবাস করে এবং তারা শুধু সপ্তাহে একবার এখানে আসে।

জেনিন: শহর কি বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ?

চাকওয়েমেকা: বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই উন্মুক্ত। আমার কখনও কোনো সমস্যা হয়নি, শহরের মধ্যেও না, অন্তত দিনের বেলায় দোকান ও ক্যাফেগুলোতেও না। সন্ধ্যায় এবং রাতে আপনাকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তাছাড়া সবকিছু বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে চলে। একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসাবে আপনি ডেসাউ এ রাতে অগত্যা কোনো মাতালের সাথে ঝামেলায় জড়াতে চাইবেন না। কিন্তু এসব নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।

Kühnauer See . © Lutz Bittag

জেনিন: আপনি কি ডেসাউ-এ আসার প্রস্তুতি হিসেবে জার্মান ভাষা শিখেছিলেন?

চাকওয়েমেকা: আমি যখন ডেসাউ-এ আসলাম, তখন আমি জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারতাম না। দুর্ভাগ্যবশত, আমি শেখার জন্য যথেষ্ট সময় পাইনি। জার্মানিতে আমার ফ্লাইটের সময় এবং প্রথমবার এটি কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু আমি কখনো কখনো জায়গার নামের ভুল উচ্চারণ করি। প্রথমবার আমি বার্লিন থেকে ডেসাউ-এ ট্রেনে করে আসার সময় ডেসাউ-এর নাম ভুল উচ্চারণ করি এবং শেষ পর্যন্ত পটসডাম-এ এসে পৌঁছাই, এতে মোটামুটি হারিয়ে গিয়েছিলাম বলা যেতে পারে।বার্লিন থেকে ডেসাউ-এ যেতে আমার দশ ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু এখন আমি একটু একটু জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারি যাতে আমি ঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারি। আমার এখন অনেক জার্মান বন্ধু আছে। আমি সবসময় আমার জার্মান বন্ধুদের আমার ভুলগুলো ধরতে বলি এবং আমাকে শিখতে সাহায্য করার জন্য বলি। এটি আমার বাহ্যিক উন্নতি করতে সাহায্য করে।

জেনিন: বিদেশ থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থী সম্পর্কে আপনার পরামর্শ কি?

চাকওয়েমেকা: আমার আসলে সবকিছু গুছাতে কোন সমস্যা হয়নি, সবকিছু সহজে হয়ে গিয়েছিল।আপনি যদি নাইজেরিয়া থেকে এখানে আসেন, তাহলে আপনার ভিসা পেতে কিছু সময়  লাগবে। আমাকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমি সবাইকে জার্মান শিখতে পরামর্শ দেই, যাতে সবাই সাধারণ আলাপ চালাতে পারে। অন্যথায় ,আপনাকে এখানে থাকার ব্যাপারে ভাবতে হবে। জার্মানি খুবই খোলামেলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ একটি দেশ।

সুত্র: study-in.de

অনুবাদক: সাজেদুর রহমান, রাজশাহী।

Print Friendly