• Home »
  • BSAAG »
  • কর্পোরেট লীগের সেমিতে হেরেও জিতেছে বিসাগের ক্রিকেট

কর্পোরেট লীগের সেমিতে হেরেও জিতেছে বিসাগের ক্রিকেট

 

শুরুর কথাঃগত ৭ই সেপ্টেম্বর শনিবারে অনুষ্ঠিত ডিসিবি ঈগলস কর্পোরেট লীগের ১ম সেমিফাইনালে সিমেন্স নূরেনবার্গারের কাছে ১ উইকেটের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বিসাগ। এর ফলে  সেমিফাইনাল ও ফাইনালে জিতে  কর্পোরেট লীগের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হবার আশা এবারের মত অধরাই থেকে গেছে বিসাগের। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে লীগ শেষ করলেও সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট  থেকে বিসাগের এভাবে বিদায় নেওয়াটা বলা যায় একরকম অপ্রত্যাশিতই ছিল সবার কাছে। আর এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ান হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ক্রিকেট ক্লাব আর রানারাপ হয়েছে সিমেন্স নূরেনবার্গ।

সেমির দলঃ সেদিনের সেমিফাইনালে বিসাগের দলঃ আদনান ভাই (অধিনায়ক), মাইনুল (সহ-অধিনায়ক), তৌফিক, মামুন, হারূন, বোরহান, জুবেন, আহমেদ, বাহাদুর।

খেলার সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ  বলা যায় এই টুর্নামেন্টে বিসাগ বরাবরই ভালো ছিল। সেদিন সেমিফাইনালেও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি। সেদিনও  টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় বিসাগ। ফিল্ডিং এ পাঠায় সিমেন্স নূরেনবার্গকে।ব্যাটিং এ খুব একটা খারাপ করেনি বিসাগ। যদিও তারা ১৪.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায় তারপরেও আউট হবার আগে স্কোরবোর্ডে ৯২ রান তুলে যায়। বিসাগের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্কোরঃ মামুন(৬), আদনান ভাই(২৩), হারূন (৯), জুবেন(৯), বাহাদুর(১), আহমেদ(১৯), মাইনুল (২), তৌফিক (১০) এবং বোরহান ভাই( অপরাজিত ১)।

উদ্বোধনী জুটি; বামে মামুন ও ডানে আদনান

উদ্বোধনী জুটি বাঁ থেকে ; মামুন ও আদনান ভাই

IMG_6003

বিসাগের ব্যাটিংএর একটি মুহূর্ত

বোলিং এ নেমে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে প্রচন্ড চাপে ফেলে দেয় বিসাগ। প্রথম ওভারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান আদেশ কে এলবি ডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে শুন্য (০) রানে তাকে প্যাভেলিয়নে ফেরত পাঠান বিসাগের বোলার মাইনুল। সেই পথ ধরে পরের ওভারে  অনিকেত কে ও শুন্য (০) রানে আউট করে প্যাভেলিয়নের পথ দেখান বিসাগ বোলার তৌফিক।  পরের ওভারে পুনরায় আঘাত হানেন মাইনুল। এবারে তার শিকার তুষার (০)। এভাবেই বিসাগের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংএ  কোনঠাসা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ সিমেন্স। এক পর্যায়ে ৮ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান করে ধুঁকতে থাকে তারা। বলা যায় খেলা তখন পুরোপুরিভাবে বিসাগের নিয়ন্ত্রনে।

হারূন ও বাহাদুর

( বাঁ দিক থেকে ) হারূন,বাহাদুর ও তৌফিক

IMG_6010

স্কোরিং টেন্ট ( বাঁ থেকে) সিমেন্স নূরেনবার্গের দলের একজন, তালেব ও রনী

কিন্তু কথায় আছে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা এই ক্রিকেট। সে কথাকে সত্য প্রমাণ করতেই যেন ৯ম ওভার থেকে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে সিমেন্স। সেই ধারবাহিকতায় পরবর্তী ৪ ওভারে তারা আরো ২টি উইকেট হারালেও স্কোরের সাথে যোগ করে নেয় কিন্তু মূল্যবান ৪৭ টি  রান যা পরবর্তীতে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে বিবেচিত হবে। আর এর ফলে ১২ ওভার শেষে ম্যাচের জয়-পরাজয়ের সমীকরনটি দাঁড়ায় এরকমঃ জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে  সিমেন্সের প্রয়োজন ১৮ রান আর বিসাগের প্রয়োজন ৩ টি উইকেট।

IMG_6008

বাঁ থেকে, বোরহান ভাই, আদনান ভাই ও বাহাদুর

IMG_6006

বোলিং করছেন বোরহান ভাই

এমতবস্থায় খেলায় একধরনের টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। সমানে সমানে লড়ে যেতে থাকে উভয় দল। পরবর্তী ২ ওভারে তারা আরো ১টি উইকেট হারালেও যোগ করে নেয় ১৪টি মহামূল্যবান রান।  ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য সিমেন্স নূরনবার্গের প্রয়োজন ছিল ৪ রান আর বিসাগের প্রয়োজন ছিল ২ উইকেট। সেই ওভারে বিসাগ বোলার জুবেন একটি উইকেট ফেলেও দেন। কিন্তু ভাগ্যদেবী মনে হয় সেদিন বিসাগের প্রতি সুপ্রসন্ন ছিলেন না। যেখানে আর একটি উইকেট ফেলতে পারলেই বিসাগ জয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে পারত –  সেখানে সিমেন্সের ব্যাটসম্যান গোপাল,  জুবেনের করা শেষ ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারী হাকিয়ে তার দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। দূর্ভাগ্য বিসাগের; পুরো খেলায় ভালো খেলেও জয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে পারেনি তারা। বিসাগের পক্ষে মাইনুল ও জুবিন প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন আর তৌফিক,আদনান ও হারূন প্রত্যেকে নেন ১ টি করে উইকেট।

বাঁটয়ে জুবিন ও ডানে আহমেদ

(বাঁ থেকে) জুবিন ও আহমেদ

IMG_6004

(বাঁ থেকে) মাইনুল (সহ-অধিনায়ক) ও আদনান ভাই

বিসাগ হেরে গেলেও বিসাগের ক্রিকেট কিন্তু হারেনি। নিজেদের কাজ-কর্ম,  পড়ালেখা, পরীক্ষা ইত্যাদি শত ব্যস্ততার মধ্যেও বিসাগের প্লেয়াররা যেভাবে জার্মানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খেলার দিন মাঠে হাজির হয়ে বিসাগের পক্ষে খেলার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়েছেন তা এককথায় অভূতপূর্ব। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, টিটু ভাই গাড়ি চালিয়ে আসতেন ২৫০ কিমি দূরের শহর বেম্বার্গ থেকে। মামুন নূর্নবার্গ (২১০ কি.মি) থেকে, তৌফিক ফ্রাংকফুর্ট (২০০ কি.মি) থেকে, মাইনুল ও বোরহান হাইডেলবার্গ (১২০ কি.মি ) থেকে। এমন আরো অনেকেরই নাম করা যায়। তারপরও বলা যায় একদম খালি হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়নি বিসাগ। বিসাগের খেলোয়াড় আহমেদ জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডারের পুরষ্কার।

IMG_6116

বিসাগের আহমেদ নিচ্ছেন সেরা ফিল্ডারের পুরষ্কার

পরিশেষেঃ বলা যায়, সেমিফাইনালের এই পরাজয় যেন আরো কাছে নিয়ে এসেছে বিসাগের প্রতিটি সদস্যকে। সবাই যেন নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে সামনের বার আরো ভালো করার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়চেতা। জয় হোক বিসাগের, জয় হোক বিসাগের ক্রিকেটের।

খেলার আরো ছবি

সেদিনের খেলার লাইভ স্কোর আপডেট

পুরষ্কার বিতরনী উৎসবের ভিডিও (পার্ট-১)

Print Friendly