জার্মানিঃ “Das Beste, oder nichts”

 

জার্মানির কোন শহরে যাব!? কিভাবে ভাল শহর খুঁজে পাব। কিভাবে বুঝব কোনটা বেশী ভাল ইউনিভার্সিটি!

বাংলাদেশের সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক। রাজধানী মানেই সব ধরণের নাগরিক সুযোগ সুবিধা। ঢাকা বাদ দিলে বড় জোড় বিভাগীয় শহরগুলো তাও কিছুটা চলে। এইসব বাদ দিলে, বাকি সব মফঃস্বল শহরকে গ্রামের কাছাকাছি গন্য করা যায়। ঢাকাতে জ্যামে জীবনের অর্ধেক সময় চলে যায়। তারপরেও দেশের বেশীরভাগ মানুষ শিক্ষা হোক বা চিকিৎসা হোক, ঢাকামুখী। আমাদের চিন্তা ভাবনাও অনেকটা বড় শহরমুখী হয়ে গেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়। ইংল্যান্ডে দেখা যাবে সবকিছু লন্ডন কেন্দ্রিক। জাপানের সিংহভাগ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চলে টোকিও তে। বিশাল দেশ আমেরিকা। সেখানেও সব প্রদেশে দুই একটা হাতে গোনা বড় শহর কেন্দ্রিক সব কিছু চলে। অস্ট্রেলিয়া বা কানাডাতেও এই চিত্র অভিন্ন নয়।

পৃথিবীর পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে জার্মানিতে টিউশন ফি নেই, শুধু এটিই একমাত্র পার্থক্য নয়। পার্থক্য শহর এবং শহরকেন্দ্রিকতাকে নিয়েও।

মাঝারি আকারের শহর

জার্মানি দুই একটা বড় শহর ছাড়া মূলত কয়েকশত মাঝারি এবং ছোট আকারের শহর নিয়ে গড়া। শিক্ষা জার্মানিতে কোন পণ্য হিসেবে গন্য হয় না। বরং একটি নাগরিক এবং মানবিক অধিকার হিসেবে দেখা হয়। এবং সেই অধিকার সব ছোট বড় শহরে সমান।Ähnliches Foto

সুতরাং প্রতিটি রাজ্যের মোট বাজেট প্রতিটি ছোট বড় মাঝারি শহরে চাহিদার অনুপাতে সমবন্টন করা হয়। এতে করে যেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেখানেই মূল সুবিধাদি, যেমন গবেষণাগার, ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত, হোস্টেলের সংখ্যা ইত্যাদি খুবই কাছাকাছি। একই ব্যাপার নানাবিধ কল কারখানার বেলাতেও প্রযোজ্য। শুধু বড় শহর মানেই বেশী কাজের সুবিধে, এটা ঠিক নয়। (যারা কাজ বলতে বাসন মাজা বা হোটেলের ময়লা পরিষ্কার বুঝে, তাদের জার্মানিতে না আসাই ভাল) ছোট বড় মাঝারি সব শহরেই কম বেশী কল কারখানা আছে। সেখানে জার্মান ভাষা জানা থাকলে ভাল মানের শিক্ষিত মানুষের যোগ্য কাজের কোন অভাব নেই। বরং যোগ্য লোকের অভাবটাই প্রকট।

Das Beste, oder nichts

Image may contain: text

একটা উদাহরণ দেই। আমি কাজ করি মার্সিডিজ বেঞ্জের সাথে। নামটা নিশ্চয়ই সবাই শুনেছে। এদের সবচেয়ে বড় ডিজাইন সেন্টার, যা কিনা পৃথিবীর গাড়ির জগতের দক্ষতম ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মশালা হিসেবে দেখা হয়। যেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের (এদের মধ্যে ১০ হাজার ইঞ্জিনিয়ার) কর্মসংস্থান আছে, সেটা কোন শহরে জান? নাম বললেও অনেকে চিনবে না। আমার ধারণা জার্মানিতে অনেক বছর আছে তারাও জানে না। তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ এমন অসংখ্য ছোট ও মাঝারি শহরে এই দেশ সমৃদ্ধ। ভাল কথা, এই শহরের মোট জনসংখ্যা ৬৫ হাজার।

মার্সিডিজের মটোটা আমার বেশ লাগে। এরা বলে, “Das Beste, oder nichts”। হয় সেরাটা হব, নইলে কিছুই না।

আমার ধারণা, এই একটি কথা দিয়ে জার্মানিকে পরিচয় করিয়া দেয়া যায়। মোটামুটি বলে এই দেশে কোন বিষয় হয় না। মোটামুটি, চলে ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় বা শহর এই দেশে হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। হয় খুব ভাল, অথবা একদম বাদ। এখানে সমস্যা একটাই। সবাই জার্মানি আসতে চায়। কিন্তু বেশীরভাগই শর্টকাট খুঁজতে ব্যস্ত, কোনমতে ভিসা পেলেই সব খালাস! এই ধরণের ছেলেমেয়েদের প্রথম লক্ষ্য থাকে সহজে কোন শহরে কাজ পাওয়া যাবে, কোন শহরে বেশী বাংলায় কথা বলা যাবে, কোন শহরে জার্মান না বললেও পার পাওয়া যাবে, কোন শহরে সহজে ভিসা বাড়ানো যাবে, কোথায় ব্লক ছাড়াই চলবে – এমন শহরের তালিকা খোঁজা। এরা মোটামুটি কোনভাবে জীবনটা পার করে দিতে পারলেই বাঁচে। এরা কোন কিছু যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করতে চায় না। এরা কুড়িতেই বুড়ো এবং বুড়ি।

Ähnliches Foto

যারা নিজেদের সেরাটা দিতে চায়, নিজেদেরকে মোটামুটি মনে করে না, যারা নিজেদের মাথা উঁচু করে বড় মানুষ ভাবতে পারে, যারা যুদ্ধ শুরুর আগেই দুই হাত মাথায় তুলে পরাজয় স্বীকার করে নেয় না, তাদেরই জার্মানিতে আসা উচিত। এবং আমি নিশ্চিত, এরা যেকোনো বেনামী শহর বা নাম না জানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাদের নিজস্ব যোগ্যতার উজ্জ্বলতা চারদিকে ছড়িয়ে দেবে।

মার্সিডিজ বেঞ্জ ডিজাইন সেন্টার, সিনডেলফিঙ্গেন। ১০ই নভেম্বর, ২০১৭।

 

আদনান সাদেক, ২০১৭

 

#BSAAG_Finding_the_Right_University
#BSAAG_Finding_the_Right_Study_Programme
#BSAAG_why_Germany

#BSAAG_Inspirational_Writings

অন্যান্য পর্ব ও লেখকের কথা

Print Friendly, PDF & Email
Adnan Sadeque
Follow me

Adnan Sadeque

লেখকের কথাঃ
http://bsaagweb.de/germany-diary-adnan-sadeque

লেখক পরিচয়ঃ
http://bsaagweb.de/adnan-sadeque
Adnan Sadeque
Follow me