• Home »
  • Application »
  • জার্মানিতে এসে কোর্স বদলানোঃ সুবিধা ও অসুবিধা

জার্মানিতে এসে কোর্স বদলানোঃ সুবিধা ও অসুবিধা

 

জার্মানিতে আসার পর কোর্স পছন্দ হয়নি, কিংবা কোন একটা কোর্স খুব কঠিন লাগছে এমন সমস্যা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি এই নিয়ে বেশি কয়েকজনের থেকে প্রাইভেটে মেসেজ পেয়েছি। কোর্স বদলানো খুব একটা কঠিন কিছুই নয়। তবে কোর্স বদলালেই নতুন কোর্সেরও সবকিছু মনমত হবে, এমনটা আশা করা যাবে না। একইসাথে নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান ১-২ টা সেমিস্টার, অনেক সময় তারও বেশী। ভাল মন্দ মিশিয়েই এই লেখা। অনেকেই এখনো অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তারা নিজেদের মতন করে উপযুক্ত সিদ্ধান্তটি নিতে পারবে।

জার্মানিতে আসার পরে কোর্স বদলের  সম্ভাব্য ভাল ও মন্দ দিকগুলো লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করিঃ

ভাল দিকগুলিঃ

১ এডমিশন পাওয়া বাংলাদেশের থেকে আবেদন করার তুলনায় অপেক্ষাকৃত সহজ। আবেদনকারী জার্মানিতে আছে, এটা ইউনিভার্সিটি গুলো অগ্রাধিকার দেয়। ভিসা পাবার ঝক্কি এদের সবারই কম বেশী জানা।
২ বেশীরভাগ ছেলে মেয়েরাই বাংলাদেশে বসে ভিসা পাওয়াটাকে বেশি বড় বলে মনে করে। আগে জার্মানিতে যেয়ে নেই, তারপর দেখা যাবে- এমন মনোভাব। জার্মানিতে আসার পর এদের ঘোর কেটে যায়, তখন কোন কোর্স কেমন – এই নিয়ে ভাবার সময় পায়। সুতরাং দ্বিতীয় বিবাহের মতন, দ্বিতীয় কোর্সে সফল হবার সম্ভাবনা কিছুটা বেশী।

৩ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেবার চ্যালেঞ্জটা সয়ে আসে। ভাষা ও লোকজনের সাথে চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য আসে। নতুন জায়গার ভয় কমে আসে।

মন্দ দিকগুলিঃ

১ সময়ের ব্যাপক অপচয়। ছাত্র অবস্থায় সবাই তাদের জীবনের সেরা সময়টা পার করে। এই মূল্যবান সময়ের ১-২ বছর শুধুমাত্র নতুন কোর্স বদলানোর জন্য খরচ হয়ে যায়।

২ একটা বিরাট টেনশনে দুই কুলের এক কূলও ঠিক মতন না হবার একতা সম্ভাবন তৈরি হয়। একদিকে আগের কোর্স ছেড়ে দেব – এই ভেবে পড়া বন্ধ করে বসে থাকা, অন্যদিকে নতুন আডমিশন হবেই এই গ্যারান্টি যেমন থাকে না, তেমনি ভয় থাকে যদি নতুন কোর্সে যদি চান্স না পাই এই ভাবনার।

৩ ফাইন্যান্স ভুলে গেলে হবে না। ১-২ বছর সময় বেশী লাগছে, মানে টাকাও বেশী লাগবে।

৪ পরবর্তিতে ইন্টারভিউ বা সিভির জন্য এই নষ্ট হওয়া সময়টুকু একটু নেগেটিভ ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্মানিতে আসার পর কোর্স বদলানোর একটি অভিজ্ঞতা বর্ননা করেছে ড্রেসডেন থেকে শাওনঃ

“এখানে আসার পর মাস্টার প্রোগ্রাম চেঞ্জ করা নিয়া যতটা আশঙ্কায় ছিলাম, বেপারটা আসলে অতটা কঠিন কিছু না। শুধু মাত্র পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়া নতুন করে আবার শুরু করলেই হয়।  সব কিছুই একই, বরং এখানে থেকে নতুন করে এপলাই করা, কাগজ পাঠানো, যোগাযোগ করা অনেক সহজ। আর যেহেতু অন্তত এখানে ২ সেমিস্টার পার করে ফেলেছি, প্রসিজার গুলো বুজতে অতটা সমস্যা হওয়ার কথা না।

প্রোগ্রাম চেঞ্জ করব ডিসিশন নিয়াছিলাম ২০১১ এর ডিসেম্বর এ। জার্মানিতে আসার ২ মাস পর। যখন বুঝতে পারলাম আগের কোর্স আসলেই আমার জন্য উপযুক্ত নয়, আর কিছুতেই মন বসাতে পারছিলাম না। চেষ্টা করলে হয়ত পারা যেত কিন্তু কোনভাবে পার করে দেওয়ার জন্যতো জার্মানি আসিনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়া ফেললাম কোর্স চেঞ্জ করে ফেলবো।

শুরু করলাম খোঁজ করা।  খুঁজতে খুঁজতে আমার ভার্সিটি তেই পেয়ে গেলাম আমার জন্য উপযুক্ত কোর্স যেখানে বর্তমানে আছি। এছাড়া অন্যান্য ভার্সিটি গুলো ও দেখলাম।  ২/ ১ টা সিলেক্টও করে ফেললাম। মোটামুটি আগের মতই সব প্রসিজার। এছাড়া সব চেয়ে বড় সুবিধাটা ছিল ঐসব কোর্স এর পরিচিতদের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারা। কোর্স কারিকুলাম সম্পর্কে ভালো করে যাচাই করা, ভবিষ্যত কেমন, রিসার্চ বেসড নাকি জব পার্সপেক্টিভ ভালো। মোটামুটি সব।। আমার ভাগ্যটা আরো সুপ্রস্সন্ন হলো যখন পেয়ে গেলাম আমার ২ জন বিদেশী বন্ধুকে যারা ওই কোর্স এ আছে। ওদের সাথে কথা বললাম, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড ওদের বললাম। ওরা আমাকে ফোর্স করলো যে এই কোর্স আমার জন্য পারফেক্ট। আবার চলে গেলাম কোর্স Coordinator এর সাথে কথা বলতে। তাকে সব কিছু খুলে বললাম, আমার পেপারস গুলো তাকে দেখালাম। সে সব কিছু দেখে আমাকে বলল তুমি এপলাই কর, তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত এই কোর্স এপলাই করে দিলাম জানুয়ারীতে।

একটা কোর্স এ এপলাই করে তো আর বসে থাকা যায় না। তাই অন্য যে ভার্সিটি গুলো সিলেক্ট করেছিলাম ওগুলোতেও এপলাই করব ডিসিশন নিলাম। ভাগ্য টা ভালো ছিল কারণ দেশ থেকে আসার সময় কিছু attested করা পেপার নিয়া আসছিলাম সাথে LOR। ঐগুলাই পাঠিয়া দিলাম। যদিও আমার কনফিডেন্স ছিল আমার বর্তমান ভার্সিটি এর এই কোর্স এ আমি চান্স পাব এবং ড্রেসডেন ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছাটাও আসলে ছিল না। কারণ শহর চেঞ্জ করাটা এত সহজ বেপার না। অনেক পরিশ্রম এবং টাকা পয়সার বেপার।

এখন শুধু অপেক্ষা,  এই সময় টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করলাম। আগের মাস্টার প্রোগ্রাম এর কিছু মডিউলে যেইগুলা ভালো লাগত ঐগুলা শেষ করার চেষ্টা করলাম। কিছু প্রাকটিক্যাল ল্যাব এবং প্রজেক্ট ছিল ওই গুলা কন্টিনিউ করলাম, কোনো কিছুতেই যাতে কোনো রিস্ক না আসে।

জুন এর মাঝামাঝি সময় এ কনফার্মেশন মেইল পেলাম যে আমার বর্তমান কোর্স এ admission হয়েছে। যাই হোক মাথার উপর থেকে অনেক বড় বোঝা সরে গেল। এর মাঝে জানতে পারলাম অন্য যে ২ তা ভার্সিটি তে এপলাই করেছিলাম তারাও admission দিয়াছে। কিন্তু যেহেতু Dresden ছাড়ব না তাই ঐগুলা আর দেখলাম না। আমার প্রথম পছন্দের কোর্স পেয়ে গিয়াছি এটাই বড়।

যাই হোক প্রাথমিক পর্যায় তো পার হলো। এখন admission পরবর্তী কর্মুশুচি, কিভাবে কি করতে হবে, ওই বিষয় গুলা না হয় কাল বা পরশু আলোচনা করি। কিন্তু বিশ্বাস করুন খুব সহজ এবং নির্ভেজাল পরবর্তী ধাপ গুলো।

যারা কোর্স চেঞ্জ করার চিন্তা করছেন তাদের অনুরোধ করব ভালো ভাবে চিন্তা করুন তারপর ডিসিশন নিন। আর চেষ্টা করবেন আপনি যেই শহরে আছেন সেই শহরের অন্য কোনো ভার্সিটি অথবা আপনার নিজের ভার্সিটি তেই আপনার পছন্দের কোনো কোর্স আছে কিনা। আমি খুঁজে আমার ভার্সিটি তে আমার পছন্দের এবং উপযুক্ত ২ টা কোর্স পেয়েছিলাম। admission পূর্ববর্তী কোনো বিষয় জানতে চাইলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”

লিখেছেনঃ আদনান সাদেক


#BSAAG_Finding_the_Right_Study_Programme

জার্মান ভাষা অনুশীলন এবং প্রশ্নোত্তের জন্য যোগ দিন ফেসবুকে বিসাগের জার্মান ভাষা শিক্ষা গ্রুপেঃ www.facebook.com/groups/deutsch.bsaag

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য যোগদিন বিসাগের ফেসবুক ফোরামেঃ www.facebook.com/groups/bsaag.reloaded

Print Friendly, PDF & Email