• Home »
  • BSAAG-Bangladesh »
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পেরেছে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পারবে…

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পেরেছে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পারবে…

 

1501193_617127501720981_332998299233834282_o

তারিখটা সঠিক মনে করতে পারছি না। ফেসবুকে দেখলাম জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক এক সেমিনারের কথা যা আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়) হবে। খুব আগ্রহ সহকারে পড়লাম পুরো স্ট্যাটাসটা। তার পূর্বে একটু বলে রাখি ছোট থেকেই আমার (ইমন;অর্থনীতি বিভাগ) দেশ ভ্রমন এর প্রতি একটু অন্যরকম আগ্রহ ছিল। তারপর দেশের বাইরে যাওয়ার আগ্রহ আসলো যখন শুনলাম একটু ভালো করে পড়লে আব্বু আমাকে দেশের বাইরে ঊচ্চশিক্ষার জনা পাঠাবে। অর্থাৎ এক কাজে দুই কাজ; ঘোরাঘুরি সাথে পড়ালেখা। তার কিছুদিন পর ৬ডিসেম্বর, সেদিন ঘটনাক্রমে হাসান ভাইয়ের (বাংলা বিভাগ) সাথে কথায় কথায় শুনলাম যে উনি এই সেমিনার আয়োজনের সাথে জড়িত। তখন আমার আগ্রহ আরও বেড়ে গেলো এইজন্য যে আমিও শিখবো সাথে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলেই জানবে।


৫ই জানুয়ারি ২০১৫, সেমিনারের দিন নির্ধারন করা হলো। শুরু হলো আমাদের পরিকল্পনা,  কিভাবে এই প্রোগ্রাম সফলভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করা যায়। তারপর থেকেই শুরু হাসান ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম। ফেইসবুকের প্রতিটি গ্রুপ, পেইজ, ইভেন্টে তিনি সর্বোচ্চ পরিসরে প্রচার-প্রচারনা করা শুরু করলেন যেনো যারা ইচ্ছুক তারা সবাই যেনো অংশগ্রহনের সুযোগ পায়। হাসান ভাইয়ের উদ্যম দেখে আমিও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার কাছের লোকদের এবং যাদের পারলাম দাও্য়াত দিতে থাকলাম। হাসান ভাই আদনান ভাইয়ের সাথে কথা বলে সেমিনারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিস প্রস্তুত করতে লাগলো। তার মাঝেই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হাসান ভাই ঢাকায় বিসাগের বড় পরিসরের এক সেমিনারে অংশ নিল এবং আদনান ভাইয়ের নির্দেশনা নিয়ে আসলো কিভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার সম্পন্ন করা যায়। পূর্বপ্রস্তুতি যথানিয়মে চলতে থাকলো এবং আমাদের ব্যস্ততাও যথানিয়মে বাড়তে থাকলো কারন ৫ই জানুয়ারি খুব দ্রুত ঘনিয়ে আসছিল। আর এদিকে ভার্সিটি বন্ধ ছিল এবং সারা দেশের পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। যার ফলস্বরুপ আমরা সেমিনারের আয়োজন এবং উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু তারপরও আমরা থেমে থাকি নি। হাসান ভাইয়ের প্রচারনা বলা যায় আগের থেকে আরও বেড়ে গেলো।
দেশের খারাপ অবস্থার মাঝেও যখন আমরা নিশ্চিত হতে পারলাম যে আমাদের সেমিনারের দিন অর্থাৎ ৫ই জানুয়ারি দেশে কোন অস্থিতিশীল প্রোগ্রাম নেই তখন আমরা অনেকাংশে নিশ্চিন্ত হলাম এবং অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে কয়েকধাপ এগিয়ে গেলাম। এদিকে ডিসেম্বরের শেষ দিকেই আদনান ভাই দেশে পৌছালেন যা ছিল আমাদের জন্য এক সুসংবাদ। আর সেখানেই মনে হলো আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে বুঝি আর দূরে নেই কারণ আদনান ভাই ছিলেন আমাদের এই সেমিনারের মধ্যমনি। আর তার দেশে পদার্পণ আমদের করলো আরও বেগবান।

 

10923795_617127608387637_9113548840533039763_o
৪ঠা জানুয়ারি ২০১৫, সারা দেশে অবরোধ। আদনান ভাই এবং তাঁর টিম ঢাকায়। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম কারন আদনান ভাই ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসে পৌঁছবেন কিনা তখনও অনিশ্চয়তার ব্যাপার ছিল। এদিকে আমি, হাসান ভাই, মারুফ ভাই (অর্থনীতি বিভাগ), তাজবীদ ভাই (অর্থনীতি বিভাগ), সাদ্দাম ভাই (ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) আমরা সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে লাগলাম পরের দিন প্রোগ্রামের আয়োজন নিয়ে। ঠিক তখনই রাতে আদনান ভাইয়ের একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস আমাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করলো। আদনান ভাইয়ের লেখাটির মূলভাব সহজভাবে বললে দাঁড়ায় “অবরোধে কোন সমস্যা নেই, ট্রেন চললেই আমি এবং আমার টিম কুমিল্লার সেমিনারে অংশ নিব।” সত্যি বলতে কি আদনান ভাইয়ের এই কথাটি আমাদের একজন সচেতন মানুষ হওয়ার এবং অনুষ্ঠান সফল করার নতুন প্রেরণা জাগালো।
৫ই জানুয়ারি ২০১৫, সকালেই আমরা সকলে ক্যাম্পাসে সেমিনারের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্নের কাজে ব্যস্ত। মারুফ এবং তাজবীদ ভাই টিকিট বিক্রিতে, আমি সেমিনার রুমের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আর হাসান ভাই পুরো প্রোগ্রামের তদারকিতে ছিলেন। সেমিনার যেহেতু দুপুর ২টায় ছিল, তাই ২টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলল। আমরা আমাদের সেমিনারে আশাতীত সাড়া পেলাম সবার কাছ থেকে। দুপুর ২টায় আমাদের প্রিয় আদনান ভাই কুমিল্লায় পা রাখলেন এবং ভার্সিটিতে এসেই সেমিনার রুমে ঢুকে পড়লেন। প্রায় ৩ঘন্টা যাবত চললো সেমিনার। আদনান ভাইয়ের প্রেজেন্টেশন এবং সকলের মনের অজানা প্রশ্নের জবাবে পুরো সেমিনার এক অসাধারন রুপ নিল। সেমিনারে সবাইকে একটি করে বুকলেট দেওয়া হলো এবং সেখানে অনেক সাংবাদিক ও গুনী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার সমাপ্ত করেই আমি আদনান ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাই ঘুরিয়ে দেখালাম খুবই কম সময়ে। অবরোধ থাকার দরুন সেদিন রাতেই আদনান ভাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেন।
তবে সবশেষে এই কথাটা না বলেই পারলাম না যে দেশের এই খারাপ অবস্থার মধ্যেই আমাদের সকলে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সেমিনার সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করলো তার অনূভুতি ভাষায় বোঝাবার নয়। আদনান ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় সবাই যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তার সার্থকতা তখনই আসবে যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আমরা দেশের বাইরে যেয়ে দেশের সুনাম তুলে ধরতে পারবো। সামান্য এক ট্যাক্সি চালকের মনের কষ্ট বুঝে আদনান ভাইয়ের মত ট্যাক্সি চালকের সহায়তায় কিছু টাকা তার হাতে তুলে দিবে। দেশের পরিবর্তনের ভার নিজ কাধে তুলে নিবে। এভাবেই পরিবর্তন হতে পারে সমাজের আর তা থেকেই এই প্রিয় বাংলাদেশের।

লিখেছেন: ইমন (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়)

Print Friendly, PDF & Email