ক্যারিয়ার চাই – কিন্তু যে কোনো মূল্যে নয়

 

জার্মানিতে আজকের তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে মোটামুটি একটি ভাল চাকরি চান৷ যাতে খেয়ে-পরে ভালভাবে থাকা যায়৷ কিন্তু তাতে মন-প্রাণ সঁপে দিতে রাজি নন তারা৷ পরিবার ও অবসর সময় কাটানোও তাদের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়৷

বাবা আগে বেশির ভাগ সময়ই অফিসে থাকতেন৷ বাড়িতে খুব কমই দেখা যেত তাঁকে৷ প্রায় একই ধরনের উত্তর পাওয়া যায় আজকের ৩০ বছরের যুবকদের কাছ থেকে৷ কেরিয়ার ও পরিবারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে সন্তানদের কীরকম অবস্থা হয়, তা তারা ভালভাবেই জানেন৷

এখনকার তরুণদের চাহিদাটা কোনো কোনো দিক দিয়ে একটু বেশি৷ বাবা-মা কিংবা আগের প্রজন্মের চাইতে তারা বেশ আদর যত্নে বড় হয়েছেন৷ তবে সব কিছুই যে অনায়াসে তাদের হাতের মুঠোয় এসে যাচ্ছে, তা কিন্তু নয়৷ তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গবেষণা করছেন হুরেলমান৷ তাঁর মতে, এই সব তরুণরা এমন এক সময় বড় হয়েছেন, যেখানে নিরাপত্তাহীনতা একটা বড় সমস্যা৷ ৮০-এর দশকের প্রথম দিকে যাদের জন্ম, তারা কমিউনিস্ট দুনিয়ার ভেঙে পড়া দেখেছেন৷ দেখেছেন দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ৷ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারের ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তাদের চোখের সামনে৷

Klaus Hurrelmann, Soziologe, aufgenommen am 09.02.2010 während der Aufzeichnung der RBB-Talksendung Im Palais zum Thema: Superweib und Supermann - Wie gleich(berechtigt) wollen wir sein? in Berlin. Sendung am 04.03.2010 Foto: Karlheinz Schindler<br /><br />
ক্লাউস হুরেলমান

চাকরির বাজারে পরিবর্তন

অন্যদিকে চাকরির বাজারেও দেখা দিয়েছে আমূল পরিবর্তন৷ আগের প্রজন্মের মত পেনশন পর্যন্ত কোনো এক জায়গায় চাকরি করে যাওয়ার মত অবস্থা আর নেই৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করতে হয় বিভিন্ন ধরনের কাজ৷ কোথাও কোনো প্র্যাকটিকাল, কোথাও সীমিত চুক্তির কাজ, কিছুদিন বেকার থাকা এইসব মিলিয়েই জীবন কাটাতে হয় আজকের তরুণদের৷

হুরেলমানের এই বিশ্লেষণের বিপরীতে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, আজকের তরুণদের মত আরাম-আয়াসে বড় হয়ে ওঠার মত সৌভাগ্য আগের কোনো প্রজন্মের হয়নি৷ অনেক কিছু তারা অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছেন৷

২০১০ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনকার তরুণরা ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদী দৃষ্টি দিতে পারেন৷ আজকের ৩০ বছর বয়সিরা একদিকে অধ্যবসায়ী অন্যদিকে সামাজিকও৷ জীবদরদী এবং পরিবেশ সচেতন৷ পরিবার ও বন্ধুবান্ধব তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ তারা কাজ করতে পছন্দ করেন কিন্তু যে কোনো মূল্যে নয়৷ অর্থ বা বেতন তাদের কাছে মুখ্য নয়৷

তরুণদের আশা আকাঙ্ক্ষা

হুরেলমান বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘আজকের তরুণরা নিজের কাছে স্বচ্ছ থাকতে চান৷ পেশাগত ক্ষেত্রে এমন কাজ করতে আগ্রহী নন, যেখানে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়৷ প্রতিষ্ঠানগুলিরও এদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে৷”

People hold banners during a Occupy movement protest against capitalism and economic inequality in Berlin, January 15, 2012. REUTERS/Thomas Peter (GERMANY - Tags: POLITICS CIVIL UNREST)২০১০ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনকার তরুণরা ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদী দৃষ্টি দিতে পারেন

অন্য দিকে বিভিন্ন কর্মদাতা প্রতিষ্ঠানও থেমে থাকেনি৷ সমীক্ষার মাধ্যমে তরুণদের মনোভাব জানার চেষ্টা করেছে তারা৷ ৩০ বছর বয়সি ৪৪০০০ তরুণকে প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে চাকরি সম্পর্কে তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, নয় বছরের মধ্যে তারা বর্তমান চাকরিটা ছেড়ে ‘অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে’ যেতে চান৷ এছাড়া কর্মক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য চান তারা৷

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠানগুলির নিজেদের স্বার্থেই কর্মীদের চাওয়া পাওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে৷ তৈরি করতে হবে এক মুক্ত পরিবেশ৷ কর্মীদের সৃজনশীলতার সুযোগ করে দিলে উত্পাদনের গুণগত মান বৃদ্ধি হবে, বইবে নতুন হাওয়া৷

Source: DW.de

Print Friendly