• Home »
  • BSAAG »
  • কার্নিভাল শুধু উৎসব নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও

কার্নিভাল শুধু উৎসব নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও

 

বন, কোলোন, ড্যুসেলডর্ফ মেতে উঠেছে কার্নিভাল উৎসবে৷ চারিদিকে রঙবেরঙের সাজগোজে সঙেদের সমাবেশ, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়৷ আর তাদের কারণে চলছে বিশাল অঙ্গের আর্থিক লেনদেন৷

বারো মাসে তেরো পার্বণের মতো জার্মানির কিছু অংশে কার্নিভাল উৎসবকে বলা হয় পঞ্চম ঋতু৷ অর্থাৎ শীত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও বসন্তের বাইরেও আলাদা একটা সময়৷ কোলোন, ড্যুসেলডর্ফ, বন, মাইনৎস শহর ও সংলগ্ন অঞ্চল এবং দক্ষিণের কিছু এলাকায় চল আছে এই উৎসবের৷ কিন্তু উৎসব মানে তো শুধু উৎসব নয়, বিশাল টাকার খেলাও৷ বোখুম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক হিসেব করে দেখেছেন, জার্মানিতে অন্য কোনো উৎসবে এত বেশি অর্থ ব্যয় করা হয় না৷

[youtube_sc url=”https://www.youtube.com/watch?v=TXAMEmfdgeE”]

জার্মানির কেন্দ্রীয় কার্নিভাল সংগঠনের সূত্র অনুযায়ী বছরে এই উৎসবে প্রায় ২০০ কোটি ইউরোর লেনদেন হয়৷ এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৬ লক্ষ৷ তারা প্রায় ৪,৭০০টি সংঘের মাধ্যমে কার্নিভাল পালন করে৷ তবে কার্নিভালের পেছনে সব টাকা যে তারাই ঢালে তা নয়৷ কোলোন, ড্যুসেলডর্ফ বা মাইনৎস-এর মতো শহরে উৎসব দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসে৷ তারা হোটেলে থাকে, রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া করে৷ পর্যটকদের এই আগ্রহের ফলেও স্থানীয় অর্থনীতি উৎসবের দিনগুলিতে ফুলেফেঁপে ওঠে৷ পর্যটকদের থেকে আয়ের আরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷

কার্নিভালের সময়ে মানুষ সঙ সাজতে ভালোভাসে৷ কত রকমের পোশাক ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তারা নিজেদের সাজায়৷ শুধু কোলোন শহরেই এ সব কস্টিউম বা সাজপোশাক ও মেকআপ কিনতে প্রায় সাড়ে আট কোটি ইউরো ব্যয় করে তারা৷ কোলোন ও আশেপাশের অঞ্চলের নগর কর্তৃপক্ষ কার্নিভালের সময়ে কর বাবদ বাড়তি প্রায় ৫০ লক্ষ ইউরো আয় করে৷

কার্নিভালের আকর্ষণে বিশাল ভিড়

আর আছে মিষ্টি৷ উৎসব মানেই রকমারি মিষ্টি কেনার হিড়িক৷ ‘রোজেন মোনটাগ’ বা গোলাপি সোমবারের মিছিলে টন টন চকোলেট, টফি ও অন্যান্য মিষ্টি দর্শকদের দিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দেওয়া হয়৷ এত বড় কর্মকাণ্ডের জন্য চাই অনেক কর্মী৷ ফলে কর্মসংস্থানেও জোয়ার আসে৷ বছরে প্রায় ৪০,০০০ মানুষের রুজিরুটি এই কার্নিভালের উপর নির্ভরশীল৷ মোটকথা, বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী কার্নিভালের সঙেরা বছরে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো অঙ্কের লেনদেনের জন্য দায়ী৷ কারণ শুধু উৎসবের সময়ে নয়, তার আগে ও পরেও ব্যবস্থাপনা, প্রস্তুতি ইত্যাদির কাজেও অনেক মানুষের প্রয়োজন পড়ে৷ অনেক সংস্থা সারা বছর ধরেই কার্নিভালের উপকরণ তৈরি করে, যাতে উৎসবের দিনগুলির বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়৷

রাজ্য হিসেবে নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া কার্নিভাল নিয়ে সবচেয়ে বেশি মেতে ওঠে৷ শুধু কোলোন ও ড্যুসেলডর্ফ শহরের উৎসবের মাত্রাই বাকিদের পিছনে ফেলে দিতে পারে৷ জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা সীমাবদ্ধ না রেখে আরও মানুষের কাছে কার্নিভালের সঠিক বিপণন করতে পারলে এই উৎসব আরও বড় কর্মযজ্ঞ হয়ে উঠতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন৷ কারণ এই উৎসব ধরাবাঁধা নিয়ম ভাঙার উৎসব৷ ফলে অনেকেই কিছু সময়ের জন্য বাস্তব ভুলে এই জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিতে উৎসাহিত হতে পারে৷

Source: DW.de

Print Friendly, PDF & Email