• Home »
  • Cities-in-Germany »
  • বনঃ আন্তর্জাতিকতার সাথে স্থানীয় সংস্কৃতির মিলন!

বনঃ আন্তর্জাতিকতার সাথে স্থানীয় সংস্কৃতির মিলন!

 

বন শহর ভিন্ন ভিন্ন শিশুদের সমন্বয়ে একটি বড় পরিবারের মত – বিখ্যাত সব শিল্পী, পাগলাটে উৎসব প্রেমী , আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদ এবং তাদের সবার মধ্যে প্রায় ৪৩,৬০০ শিক্ষার্থী। এটি সেই জায়গা যেখানে শতবর্ষের ইতিহাস জীবিত হয়ে রয়েছে এবং যেখানে প্রত্যেক গুরুগম্ভীর ব্যবসায়ী প্রফুল্ল কার্নিভ্যাল হুল্লোড়বাজে পরিনত হয়।

Bonn Minster

Bonn Minster© Bauz/DAAD

বন শহরের তথ্য এবং পরিসংখ্যানঃ

অধিবাসীঃ ৩০৮,০০০ জন

ছাত্রঃ ৪৩,৬০০ জন

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ৪টি

মাসিক ভাড়াঃ ৩০৯ ইউরো।

ওয়েবসাইটঃ www.bonn.de

বন শহরে আপনাকে স্বাগতম

জার্মান বিভাজনের সময় ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, বন ফেডারেল রিপাবলিক জার্মানির রাজধানী ছিল।এই কারনে বিভিন্ন ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর এখনও এখানে আছে। অনেক রাজনৈতিক ও সরকারী প্রতিষ্ঠান যেমন জাতিসংঘের ক্যাম্পাস এবং ১৫০টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), শহরটিকে তার আন্তর্জাতিক বিচারবুদ্ধি প্রদান করেছে। বন অনেক আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনের আবাস্থল, যেমন ডয়চে টেলিকম ও বৃহৎ পোস্টাল এবং সরবরাহ কোম্পানি ডয়চে পোস্ট ডিএইচএল।

বিটোফেন এর মূর্তি. © Bauz / DAAD

বিটোফেন এর মূর্তি. © Bauz / DAAD

বন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষটি হল সুরকার লুডউইগ ভ্যান বিটোফেন, যিনি ১৭৭০ সালে এখানে জন্মগ্রহণ করেন।Münsterplatz এ ওনার মূর্তি বন শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের উপর নজর রাখে। এটির ঠিক ডান পাশে, আপনি বৃহৎ গির্জা দেখতে পাবেন, এটি একটি মধ্যযুগীও ক্যাথলিক গির্জা। এখান থেকে, আপনি Remigiusstrasse থেকে বাজার পর্যন্ত দেখতে পারবেন, যেখানে আপনি পুরানো সিটি হল টিকে তার সুন্দর সুসজ্জিত সদরের সাথে আবিষ্কার করবেন।

কার্নিভ্যাল বন শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট যা প্রতি বছর এখানে হয়ে থাকে। কার্নিভ্যালের দিনগুলিকে কখনও কখনও “বছরের পঞ্চম ঋতু” হিসেবে অভিহিত করা হয়, ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে ছয় দিন এটি হয়ে থাকে। তাই হটাত করে বিস্মিত হবেন না, যদি আপনি গাভীর কস্টিউম পড়া কারও পিছনে বেকারির লাইনে দাড়িয়ে থাকেন।তাই নিজে একটা কস্টিউম পড়ে ফেলুন এবং উৎসবে যোগদান করুন! Rhenish কার্নিভ্যালের আয়োজকরা তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ, উন্মুক্ত ব্যাবহারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

Old town hall . © Bauz/DAAD

Old town hall . © Bauz/DAAD

Carnival

Carnival . © Horschig/DAAD

বন শহরে বসবাস

যদিও বন খুব একটা বড় শহর নয়,তবে উপভোগ করার মত প্রচুর সাংস্কৃতিক ইভেন্ট এখানে হয়ে থাকে। “Museum Mile” এর সাথে আপনি Haus der Geschichte ও পরিদর্শন করতে পারেন, এবং এখানে আপনি ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে জার্মান ইতিহাসের উত্তেজনাপূর্ণ সকল ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অন্যান্য জনপ্রিয় জাদুঘরের সাথে Art and Exhibition Hall of the Federal Republic of Germany এবং Kunstmuseum Bonn ও পরিদর্শন করতে পারেন, এরা নিয়মিত বড় বড় শিল্প ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাক।

আপনি Siebengebirge এ হাইকিং যেতে পারেন।আমরা আপনাকে Drachenfels দুর্গের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করার পরামর্শ দিব, যা প্রায় মাইলখানেক জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে।উঁচু থেকে আপনি বন শহর এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের চমৎকার একটি দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

যখন আবহাওয়া চমৎকার থাকবে,তখন আপনি বন শহরের সর্ববৃহৎ পার্ক Rheinaue তে আপনার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারেন, এবং আপনি এখানে শুয়ে রোদ পোহাতে পারেন অথবা একসাথে খেলাধুলা করতে পারেন। Hofgarten এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আকর্ষণীও মূল ভবনের সামনে বিস্তৃত সবুজ মাঠ আড্ডা দেওয়ার জন্য দারুন একটি জায়গা। আবহাওয়া ভাল হলে সবসময় সেখানে প্রচুর শিক্ষার্থী বসে আড্ডা দেয়।

আপনি Franziskanerstrasse এর Café Blau অথবা Riesstrasse এর KostBar এ সুস্বাদু খাবার খেতে পারেন।খাবার জন্য আরও অনেক বেশ ভাল রেস্টুরেন্ট এবং জায়গা আছে Poppelsdorf জেলার Clemens-August-Strasse তে।

বন শহরের ঐতিহাসিক সব জায়গাগুলো শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় মিলনস্থন। আপনি অসংখ্য পাব খুঁজে পাবেন যেগুলোর খরচ শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে,অন্যভাবে বলতে গেলে পানীয় তুলনামূলকভাবে সস্তা।এছাড়াও আপনি যদি নাচতে যেতে চান, তাহলে Vorgebirgsstrasse এর Nyx এ যেতে পারেন। Mauspfad এর James Joyce আইরিশ পাবে আপনি সুন্দর আরামদায়ক একটা সন্ধ্যা কাটাবেন তা নিশ্চিত, এখানে আপনি মনোরম পরিবেশের সাথে আসল আইরিশ বীয়ার পাবেন।

মার্লিন বাউজ এর টিপ

কোন এক উষ্ণ গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় বসে আছেন এবং আপনার হাতে যথেষ্ট সময় আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্ম পেপার এর জন্য।তাহলে কিছু বন্ধুদের সাথে একত্র হয়ে Alter Zoll এ বিয়ার খেতে পারেন! Alter Zoll এর বিস্তৃত সবুজ মাঠ আর রাইন নদীর সুন্দর দৃশ্যপটের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান।

ব্রাজিলের হিউগোর সাথে মার্লিন বাউজ এর সাক্ষাৎকার

হিউগো রোজা দা কনসিসাও ব্রাজিল থেকে এসেছেন এবং বন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউটে Politics & Environment at the Centre for Development Research বিষয়ে তার গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখছেন। তিনি ৩১ বছর বয়সী এবং ইতিমধ্যেই ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ব্রাজিলের হিউগো. © Schultes / DAAD

ব্রাজিলের হিউগো. © Schultes / DAAD

মার্লিনঃ আপনি ডক্টরেট করার জন্য বন শহরকেই কেন বেছে নিলেন ?

হিউগোঃ আমি যখন ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মাস্টার্স সম্পন্ন করলাম, তখন আমি ভাবলাম যে ডক্টরেট টা করে ফেললে মন্দ হয় না, কিন্তু আমি ঠিকভাবে সবকিছু জানতাম না যে কিভাবে করবো। তারপর আমি এখানে একটি উন্মুক্ত পিএইচডি পজিশনের খোঁজ পাই এবং আমি যেমনটা চেয়েছিলাম ঠিক তেমনি ছিল এটি। আমি আগে থেকেই আমার সুপারভাইজারকে চিনতাম,কারণ আমি ইতিমধ্যেই তার অনেক নিবন্ধ পড়েছি এবং তিনি ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের জন্য কাজ করেছেন।

মার্লিনঃ কিভাবে সহজে বাড়ির মায়া ত্যাগ করা যায়, এই ব্যাপারে কি আপনার কোনো পরামর্শ আছে? বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার ব্যাপারটা আপনার ক্ষেত্রে কেমন ছিল?

হিউগোঃ ব্যাপারটা আমার কাছে অপেক্ষাকৃত ঠিকঠাক ছিল, কারণ আমি যখন ব্রাজিলে ছিলাম তখনও আমার পরিবার থেকে খুব দূরে থাকতাম। আমার বন্ধুদের অনেকেই বিদেশে চলে গেছিল। সবসময় কাউকে না কাউকে যেতেই হয়, সে হিসাবে ভাবতে গেলে এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এই ব্যাপারগুলো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, কারণ যোগাযোগ ব্যাবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত।এক্ষেত্রে স্কাইপি খুবই ভাল,আর আপনি যদি চান, তাহলে আপনি হোয়াটস্যাপের মাধ্যমেও চ্যাট করতে পারেন।এতে করে আপনি যদিও শারীরিকভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন না, কিন্তু এভাবে সহজে সবার সাথে কথা বলতে পারবেন এবং আপনার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করতে পারবেন। আমার পরামর্শ হবে নতুন মানুষদের সাথে খোলাখুলি ভাবে মেশা এবং যত দ্রুত সম্ভব জার্মান শিখে ফেলা।

Hofgarten and university.© Bauz/DAAD

Hofgarten and university.© Bauz/DAAD

মার্লিনঃ আপনার এমন কিছু মনে পড়ে যা শুরু শুরুতে আপনার কাছে বেশ কঠিন ছিল ?

হিউগোঃ আমি খুব দ্রুত বুঝতে পারলাম যে এখানকার মানুষ ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে না,যা বলার সরাসরি বলে। তারা সাধারণত তারা যা বলে, তা ই বোঝাতে চায়।যেমন, ব্রাজিলে আপনি যদি বলেন “চলো কোন এক সময় কফি খেতে যাই,” এর মানে আপনি সত্যি সত্যি যাচ্ছেন তা না, আর যাকে বলছেন সেও এটা আপনার কাছ থেকে আশা করে না। এটা বলার মানে হল সেই মানুষটার সাথে আপনার কথা বলে ভালো লেগেছে এটা তাকে বোঝানোর জন্যই শুধু বলা। কিন্তু জার্মানিতে, আপনি যদি এমন ভাবে বলেন, তাহলে অপর মানুষটি কথাটা সিরিয়াস ভাবে নিবে এবং আপনাকে বলবে “ঠিক আছে কখন তুমি কফির জন্য দেখা করতে চাও?” কথার মধ্যে এই স্পষ্টতা প্রথমদিকে আমার জন্য একটু কঠিন ছিল।

মার্লিনঃ জার্মানির এমন কিছু কি ছিল যা আপনাকে সত্যি বিস্মিত করেছিল ?

হিউগোঃ এখানকার মানুষ যতটা না আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশী খোলামেলা এবং অনেকে স্প্যানিশে কথা বলতে পারে,যা বড় আশ্চর্যের বিষয় ছিল।আমি আরও আশ্চর্য হয়েছিলাম তাদেরকে নিয়মিত খেলাধুলা করতে দেখে এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে বসবাস করতে দেখে।এক টুকরা পাউরুটি আর একটু পনির-এটাই দুপুরের খাবার!পুরা পাগলের মত কারবার!

Alter Zoll . © Bauz/DAAD

Alter Zoll . © Bauz/DAAD

মার্লিনঃ বন শহরের কি আপনি সবচেয়ে বেশী পছন্দ করেন ? আপনার কোন পছন্দের জায়গা আছে, যদি থাকে তাহলে কোথায় ?

হিউগোঃআমি Poppelsdorfer ক্যাসেল এর পাশেই থাকি, এবং ক্যাসেলের সামনে একটি বড় তৃণভূমি আছে। আমি প্রায়ই সেখানে গিয়ে পড়ি অথবা আড্ডা দিই,আমার Alter Zoll এবং Hofgarten ও বেশ পছন্দ। আমি রাইন নদীর ধারে আমার ফ্ল্যাটমেট দের সাথে জগিং করতে পছন্দ করি এবং ছোট্ট এক কোনায় অবস্থিত আমাদের সবার প্রিয় পাব “Spleen” এ যেতে পছন্দ করি।এটা বলতে গেলে আসলে বয়স্ক মানুষদের জন্য যারা বিয়ার ও Schnapps পান করে, যেহেতু এটা Poppelsdorf এ বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব কাছেই অবস্থিত,তাই সেখানে অনেক শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখা যায়।

 

 

মার্লিনঃ আপনি কি বলবেন বন শহর পড়াশোনা করার জন্য ভাল একটি  জায়গা ?

হিউগোঃ ডক্টরেট করার জন্য এটি খুবই ভালো জায়গা।যেহেতু সেখানে আমাকে খুব একটা বেশী কিছু করতে হয় না, তাই আমি আমার কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাই, তবে যখনই একটু ফাঁকা সময় পাই তখন সবসময়ই কিছু না কিছু করার থাকে।আর এটা Cologne শহরের খুবই পাশে অবস্থিত, তাই যদি আপনার বড় শহরে ঘোরার ইচ্ছা হয় তাহলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে।বন উচ্চ মানের জীবনযাত্রার সঙ্গে বসবাস করার জন্য শান্তিপূর্ণ একটা শহর।

সুত্রঃ study-in.de

অনুবাদকঃ সাজেদুর রহমান, রাজশাহী।

Print Friendly, PDF & Email